Home আঞ্চলিক খুলনায় এসে ১৮ দিন ধরে ‘খাবার খাচ্ছে না’ মাজারের সেই কুমির

খুলনায় এসে ১৮ দিন ধরে ‘খাবার খাচ্ছে না’ মাজারের সেই কুমির

4

স্টাফ রিপোর্টার।।

১ জুন সন্ধ্যায় বাগেরহাট জেলার ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলী মাজারের দীঘিতে ফাতেমা নামের এক শিশুকে টেনে নিয়ে যায় কুমির। এরপর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাজার কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের অনুরোধে গত ৩ জুন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ অনেক চেষ্টার পর কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনায় নিয়ে আসে।

তবে নতুন পরিবেশে এসে গত ১৮ দিন ধরে পুরোপুরি ‘খাবার বয়কট’ করে অভুক্ত রয়েছে খানজাহান আলী মাজারের এই কুমির।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনার (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল জানান, মানুষের নিরাপত্তা এবং কুমিরের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত সাপেক্ষে মাজার কমিটি চাইলে কুমিরটি আবারও দীঘিতে ফেরত যেতে পারে।

তিনি বলেন, মানুষ এবং কুমির উভয়ের নিরাপত্তাই আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। কুমিরটি মাঝেমধ্যেই দীঘি থেকে লোকালয়ে চলে যেত। এতে যেমন মানুষের ওপর আক্রমণের ঝুঁকি থাকে, তেমনি ক্ষুব্ধ জনতা কুমিরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলার আশঙ্কাও থাকে।

তিনি আরও বলেন, মাজার কমিটি যদি আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে উভয়পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আমাদের জানায়- তবে কুমিরটি ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যথায় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরও জানান, মিঠা পানির এই কুমিরটি অত্যন্ত মোটা (ফ্যাটি)। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি। বয়স প্রায় ৫০ বছর। অতিরিক্ত চর্বির কারণে প্রজননক্ষম হলেও এর কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বর্তমানে কুমিরটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। সরীসৃপ প্রাণী হওয়ায় এটি পানি ও ডাঙা উভয়স্থানে চলফেরা করলেও অতিরিক্ত মোটা হওয়ার কারণে মাটিতে বেশি হাঁটতে পারছে না। তবে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে কুমিরটি তার চেনা ও বৃহত্তর পরিবেশে ফেরার জন্য ছটফট করছে এবং প্রায়ই খাঁচার গেটে গিয়ে ধাক্কা দিচ্ছে।

১৮ দিন ধরে অনাহার

ডিএফও নির্মল কুমার আরও জানান, সরীসৃপ প্রাণী একবার খেলে দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকতে পারে। বাগেরহাট থেকে খুলনায় আনার পর থেকে এখন পর্যন্ত কুমিরটি কিছুই মুখে তোলেনি। তাকে খাওয়ানোর জন্য মুরগি ও সহজে শিকারের সুবিধার্থে পানিতে হাঁস বেঁধে দেওয়া হলেও সে তা খাচ্ছে না। এমনকি খাঁচায় দেওয়া মুরগি শিকার করে মেরে ফেললেও তা সাবাড় করেনি কুমিরটি।

খাবার না খেলেও কুমিরটির সুরক্ষায় কোনো কমতি রাখছে না বন বিভাগ। অ্যানিমেল কিপার ও জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউটরা বাঘের মতো করেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এর সেবা-যত্ন করছেন। কুমিরটির থাকার পানি প্রতিদিন পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং গরম লাগলে তার শরীরে ফ্রেশ পানি স্প্রে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, খানজাহান আলী মাজারের দীঘিতে একসময় ঐতিহ্যবাহী ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’ নামে দুটি বিখ্যাত কুমির ছিল। সেগুলো মারা যাওয়ার পর ভারতের মাদ্রাজ (চেন্নাই) থেকে কয়েকটি মিঠা পানির কুমির এনে দীঘিতে ছাড়া হয়। তবে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে বেশ কয়েকটি কুমির মারা যাওয়ার পর কেবল এই একটি কুমিরই বেঁচে ছিল, যা এখন খুলনায় বন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।