ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি।।
খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী রংপুর ইউনিয়নের বটবেড়া-মুজারখুটা খালের ওপর সাড়ে ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি কালভার্ট দুই বছরেও জনসাধারণের কাজে আসেনি। মূল কাঠামোর কাজ শেষ হলেও দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচ বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখ মানুষ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর কালভার্টটির নির্মাণকাজ শুরু করে খুলনার ‘আলী ট্রেডার্স কনস্ট্রাকশন’। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুই বছর পার হতে চললেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় কালভার্টটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাময়িকভাবে চলাচলের জন্য গ্রামবাসীর উদ্যোগে কালভার্টের দুই পাশে বাঁশের চালা বসানো হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে ভ্যান, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও শিক্ষার্থীরা চলাচল করছে। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়ে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নৌকায় পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। অসুস্থ রোগীদেরও নৌকায় করে হাসপাতালে নিতে হয়।
রংপুর, ধামালিয়া, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা ও ফুলতলার জামিরা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে কৃষক, মাছ চাষি ও ব্যবসায়ীদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস ও তপন মণ্ডল জানান, এই এলাকাকে ঘিরে রয়েছে দুটি ডিগ্রি কলেজ, চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি মাদ্রাসা, ছয়টি হাট-বাজার, পাঁচটি ভূমি অফিস, তিনটি ব্যাংক ও দুটি পুলিশ ক্যাম্প। অথচ সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
মাছ চাষি সঞ্জয় মণ্ডল ও কৃষক কানাইলাল মণ্ডল বলেন, এ অঞ্চল মাছ ও সবজি উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। আগে একটি বাঁশের সাঁকো থাকলেও বর্তমানে সেটিও নেই। ফলে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাছ, দুধ ও কৃষিপণ্য পরিবহনে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে ঠিকাদার মো. রমজান আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে তৃতীয় সাব-ঠিকাদার মোস্তাফিজুর রহমান শেখ বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে কাজ বিলম্বিত হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
রংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সমারেশ মণ্ডল বলেন, একাধিক সাব-ঠিকাদারের হাতবদলের কারণে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। এতে এলাকার মানুষ, বিশেষ করে দুধ ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা বলেন, সরেজমিনে কাজের মান যাচাই করে বিল দেওয়া হবে। ঠিকাদারকে চলতি জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার লবি বলেন, গ্রামবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কালভার্টের দুই পাশে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে।









































