স্টাফ রিপোর্টার।।
তথ্য ফাঁস করলে অধীনস্থ ইন্সপেক্টরকে ‘গাছে ঝুলিয়ে পিটিয়ে মারার’ বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মাথায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে অবশেষে স্ট্যান্ড রিলিজ (তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার) করা হয়েছে। তাকে খুলনা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকায় রিপোর্ট করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন, ২০২৬) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখা থেকে প্রকাশিত এক জরুরি অফিস আদেশে এই তথ্য জানা গেছে।
আইজিপির পক্ষে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত ওই সরকারি আদেশে (স্মারক নং-৪৪.০১.০০০০.০১১.০১৯.০১৮.২৬-২৫৪০) বলা হয় “ মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, বিপিএম-সেবা, পিপিএম (বার), অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, কেএমপি, খুলনা-কে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ করে আগামী ২১/০৬/২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকায় রিপোর্ট করার নির্দেশ করা হলো।”
২০ জুন স্বাক্ষরিত এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দিয়ে অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, অ্যাডিশনাল আইজিপি (প্রশাসন) এবং ডিআইজি (গোপনীয়/অপারেশনস) সহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
যে বক্তব্য ঘিরে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে খুলনার লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় স্থানীয় জনগণের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এই ঘটনার সূত্রপাত। সভায় স্থানীয় নাগরিকরা অভিযোগ করেন যে, পুলিশকে গোপন তথ্য দিলে পুলিশের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা তা সন্ত্রাসীদের কাছে ফাঁস করে দেয়।
জনগণের এই তীব্র ক্ষোভের মুখে তাদের আশ্বস্ত করতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাশিদুল ইসলাম খান চরম আইনবহির্ভূত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। ২৫ সেকেন্ডের একটি ভাইরাল ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “কোনো ইনফরমেশন ইন্সপেক্টরকে বলার পর যদি ফাঁস হয়, তবে মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি, আমি নিজে ঐ ইন্সপেক্টরকে এই গাছের সাথে ঝুলিয়ে দিব, আপনারা নিজে পিটাইয়া মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দিবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সঙ্গে ঝুলাইয়া পিটাবো।”
পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের ক্ষোভ ও সদরদপ্তরের তাৎক্ষণিক অ্যাকশন: একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার মুখে এমন ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার’ এবং জনসমক্ষে অধীনস্থদের ‘পিটিয়ে মারার’ উসকানি দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ২০ জুন সকালেই বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়।
বাহিনীর অভ্যন্তরে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়া এবং তীব্র অসন্তোষের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় একই দিন বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে তাকে খুলনা থেকে প্রত্যাহারের এই কঠোর ও শাস্তিমূলক আদেশ জারি করা হলো।











































