বাগেরহাট প্রতিনিধি।।
বাগেরহাটে ‘দৈনিক খবরের কাগজ’ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি রিফাত আল মাহমুদকে (৪৬) সংবাদ প্রকাশের জেরে মুঠোফোনে হুমকি এবং পরবর্তীতে সশরীরে পথরোধ করে হেনস্তা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে আজ ২০ জুন (২০২৬) বাগেরহাট সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)ভুক্ত করেছেন ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক। যার জিডি নং- ১১২৯, তারিখ: ২০/০৬/২০২৬।
মুঠোফোনে হুমকি ও গালাগাল: জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুন ‘দৈনিক খবরের কাগজ’ পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর ওই দিন রাত ৮টা ৪৪ মিনিটে সাংবাদিক রিফাত আল মাহমুদের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একটি অপরিচিত নম্বর (০১৭১৩০০৪০৩১) থেকে কল আসে। ফোনে অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তি সংবাদ প্রকাশের কারণ জানতে চেয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং দেখে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট হুমকি প্রদান করে।
পথরোধ ও প্রাণনাশের চেষ্টা: এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর বাগেরহাট আগমন উপলক্ষে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সাংবাদিক রিফাত আল মাহমুদ তার চাচাতো ভাই মোঃ ইকবাল হোসেনকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পুটিখালী গ্রাম থেকে বাগেরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথিমধ্যে সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে বাগেরহাট সদর উপজেলার পিরোজপুর মহাসড়কের ফতেপুর বাজারের শ্মশানঘাট নামক স্থানে পৌঁছালে কালো রঙের একটি পালসার মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে। তারা মোটরসাইকেল থেকে সাংবাদিক রিফাতকে নামানোর চেষ্টা করে এবং অত্যন্ত অশালীন ভাষায় গালাগাল করে বলতে থাকে- “তুই ভাই এর বিরুদ্ধে খবর করেছিস কেন?” এ সময় কিছু পথচারী ও অন্যান্য মোটরসাইকেল আসতে দেখে হামলাকারীরা রিফাত আল মাহমুদকে “জীবনাশের হুমকি” দিয়ে দ্রুত গতিতে বাগেরহাটের দিকে চলে যায়।
চরম নিরাপত্তাহীনতায় সাংবাদিক পরিবার: এই আকস্মিক ও পরিকল্পিত হামলার চেষ্টার পর থেকে সাংবাদিক রিফাত আল মাহমুদ ও তার পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার পর তারা বাগেরহাটে না গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মোড়েলগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, উক্ত খবর প্রকাশের পর থেকে একটি নির্দিষ্ট মহল বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে অনবরত হয়রানি ও হুমকি দিয়ে আসছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: বাগেরহাট সদর থানা পুলিশ সাধারণ ডায়েরিটি গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই (নিরস্ত্র) শ্রী গোপাল চন্দ্র সাহাকে দায়িত্ব প্রদান করেছে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সামসুল আরেফিন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ডায়েরি সংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় সাংবাদিক মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।











































