স্পোর্টস ডেস্ক।।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ আগের দিন মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ-পাকিস্তান। ম্যাচটি জিততে পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের প্রয়োজন ছিল ১২৪ রানের।
সেই লক্ষ্যে দলটি উদ্বোধনী জুটিতেই ৪৯ রান তুলে ফেলে। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ থেকে বেশ ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ।
কিন্তু দুই বাঁহাতি স্পিনার সানজিদা আক্তার মেঘলা ও নাহিদা আক্তারের দারুণ বোলিংয়ে ছোট পুঁজিতেই প্রত্যাবর্তনের গল্প রচনা করে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে হারানোর আনন্দটা যে একটু বিশেষ, সেটাও ম্যাচ শেষে মনে করিয়ে দিলেন নাহিদা আক্তার।
ম্যাচ শেষে নাহিদা বলেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামলেই বাড়তি আবেগ কাজ করে, ‘যখনই পাকিস্তানের সঙ্গে খেলি বাড়তি অনুভূতি কাজ করে। মাঠে আসলেই আমরা একে অপরের শত্রু, আমরা কেউ কারও বন্ধু না।
এটা শুধু আমাদের ক্ষেত্রে নয়, বাংলাদেশের সব মানুষেরই এটা কাজ করে, যেন আমরা ভালো ক্রিকেটটা খেলতে পারি। আলহামদুলিল্লাহ আজকে ভালো ক্রিকেট খেলতে পেরেছি।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি নাহিদার জন্য ছিল বিশেষ এক উপলক্ষ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করার দিনে দলকে জেতাতেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। অনেকদিন পর নিজের সেরা ছন্দে বোলিং করতে পেরে স্বস্তি পেয়েছেন নাহিদা, ‘হ্যাঁ, অনেক দিন পর আমি ভালো বল করলাম। এটা আমার দলের জন্য। আসলে আমি নিজের শক্তি সম্পর্কে জানি। টিমমেটরাও জানে। আগের কিছু ম্যাচে ভালো বল করতে না পারলেও কোচিং স্টাফসহ সবাই আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছে। আমি বোলিংয়ের সময় পরিস্থিতি বুঝে বল করার চেষ্টা করেছি। আমার অধিনায়ক আমাকে বলেছে, তুমি হচ্ছো সেরা বোলার, তুমি যেকোনো কিছু করতে পারো। এটাই আমার শক্তি।’
আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ ১২৩ রান করেছে। তবুও ম্যাচ জেতার আত্মবিশ্বাস ছিল দলের মধ্যে। এ ব্যাপারে সহ-অধিনায়ক নাহিদা বলেন, ‘সবাই আমাদের বোলিংয়ে বিশ্বাস রেখেছে। এটা আমাদের শক্তি। মারুফা অনেক ভালো বল করেছে। প্রথম ওভারেই ভালো করেছে। ফলে আমরা মোমেন্টাম পেয়েছি। পাওয়ারপ্লে শেষে অধিনায়ক বলেছে আমরা যেকোনো কিছু করতে পারি, সবাই এটাই বিশ্বাস করেছি।’
নাহিদার মতে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় হারের পর দলের ভেতরে হওয়া আলোচনাও ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে, ‘আলহামদুলিল্লাহ ম্যাচ জিততে পেরেছি। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ব্যাটিং বা বোলিং দুই বিভাগেই ভালো করতে পারিনি। পরে আমাদের ভালো গেট টুগেদার হয়, আমরা বসে কথা বলি। যে আমাদের এখান থেকে কী কী উন্নতি করে পরের ম্যাচে আগাতে পারি। এটাই প্ল্যান ছিল। আলহামদুলিল্লাহ ম্যাচ জিততে পেরেছি। আমরা আত্মবিশ্বাস নিয়েই পরের ম্যাচে যেতে চাই।’
সামনে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে। তবে প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের খেলাতেই বেশি মনোযোগ দিতে চান বাংলাদেশের এই স্পিনার, ‘বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচই কঠিন। এখানে কাউকে ছোট করতে পারবেন না। আয়ারল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচও অনেক ক্লোজ খেলা হয়েছে। এখানে কাউকে ছোট করে দেখার কিছু নেই। আমরা আমাদের শক্তি, বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিংয়ে যে শক্তি আছে, এটাই কাজে লাগাতে চাই। আগামী ম্যাচেও চাইব নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার।’











































