স্পোর্টস ডেস্ক।।
ফ্রান্সের জার্সিতে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন তিনি।
এবার ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আরকেটি মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে এমবাপ্পে। আজ রাতে নিজের ১০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামবেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। এ নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত তিনি।
ফিলাডেলফিয়ায় ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এমবাপ্পে বলেছেন, ‘দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়া সব সময়ই আনন্দের।
এর চেয়ে বড় কিছু নেই। ১০০ একটি ঐতিহাসিক সংখ্যা। আর বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এই মাইলফলকে পৌঁছাতে পারা আমার জন্য বিশেষ ব্যাপার।’
ফ্রান্সের ইতিহাসে কমপক্ষে ১০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা দশম ফুটবলার হতে যাচ্ছেন এমবাপ্পে।
তবে সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক উগো লরিসের রেকর্ড থেকে এখনো অনেক দূরে আছেন। লরিস জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ১৪৫ ম্যাচ।
তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এমবাপ্পে, ‘ম্যাচের ফলই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জিততে হবে। কারণ, জয় পেলেই আমরা পরের পর্বে উঠব। ’
২০১৭ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফ্রান্সের হয়ে অভিষেক হয় এমবাপ্পের। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যেন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার নাম হয়ে উঠেছেন তিনি। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে অলিভিয়ে জিরুর ৫৭ গোলের রেকর্ড ভেঙে এখন তার নামের পাশে ৫৮টি আন্তর্জাতিক গোল।
বিশ্বকাপই মূলত এমবাপ্পের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় পরিচয় তৈরি করেছে। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম তারকা ছিলেন তিনি। সেই আসরে করেছিলেন ৪ গোল।
এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে করেন ৮ গোল, যার মধ্যে ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্মরণীয় হ্যাটট্রিকও ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে শিরোপা হারাতে হয়েছিল ফরাসিদের।
নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে অধিনায়ক এমবাপ্পে বলেছেন, ‘আমি জানি বিশ্বকাপে খেলতে গিয়ে আমি ৬ কোটি ৭০ লাখের বেশি ফরাসির প্রতিনিধিত্ব করছি। আমি শুধু দেশের ইতিহাসের অংশ হতে চাই।’
বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড নিয়েও কথা বলেছেন এমবাপ্পে। বর্তমানে বিশ্বকাপে তার গোল সংখ্যা ১৪। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড এবার ছুঁয়েছেন লিওনেল মেসি। সেই রেকর্ড থেকে মাত্র দুই গোল দূরে রয়েছেন এমবাপ্পে।
এ প্রসঙ্গে ফরাসি অধিনায়ক বলেছেন, ‘জানতাম, লিও (মেসি) গোল করবে, সে সবসময়ই করে। রেকর্ড এখন তার দখলে। আমি তার ঠিক পেছনে আছি এবং গোল করার চেষ্টা চালিয়ে যাব। এতে আমি রেকর্ডের আরো কাছে পৌঁছাব। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দলকে যত দূর সম্ভব, এগিয়ে নেওয়া।’
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা রসিকতা করেছেন এমবাপ্পে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো চল্লিশের ঘরে গিয়েও বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, এমন প্রশ্নে হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘আমি ৪০ বছর বয়সেও বিশ্বকাপে খেলব না। এর আগেই আপনারা আমাকে বিদায় করে দেবেন।’









































