Home Lead গুলশানের সরকারি বাড়ি তিন মাসে ছাড়তে হবে সালাম মুর্শেদীকে

গুলশানের সরকারি বাড়ি তিন মাসে ছাড়তে হবে সালাম মুর্শেদীকে

14

স্টাফ রিপোর্টার।।

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার বহুল আলোচিত একটি বাড়ি সরকারের সম্পত্তি বলে ঘোষণা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে বাড়িটি সরকারের কাছে বুঝিয়ে দিতে সাবেক জাতীয় ফুটবলার, ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালত বলেন, গুলশানের সিইএন (ডি)-২৭ নম্বর বাড়িটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল। আইনগতভাবে অবমুক্ত না হওয়ায় এর সেই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, তা বৈধ নয়।

রায়ে বলা হয়, পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরও বাড়িটির মালিকানা পরিবর্তনের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এসব পদক্ষেপ সম্পত্তির আইনগত অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেনি। তাই বাড়িটি সরকারের মালিকানাধীন বলেই গণ্য হবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর বাড়িটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দলিল, নামজারি ও মালিকানা হস্তান্তরের মাধ্যমে ব্যক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়। পরে এসব প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক এ বিষয়ে রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট বাড়ি-সংক্রান্ত নথিপত্র তলব করেন এবং অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশে দুদক অনুসন্ধান চালিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে মালিকানা হস্তান্তরের বিভিন্ন ধাপে অসংগতি ও জালিয়াতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। পরে চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত আরও বলেন, যথাযথ আদালতের মাধ্যমে অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তিটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবেই গণ্য হবে। তাই পরবর্তী সময়ে এর মালিকানা হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়া বেআইনি।

হাইকোর্ট গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির কাছে তিন মাসের মধ্যে সম্পত্তির দখল বুঝিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দখল গ্রহণের ১৫ দিনের মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিবকে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত অভিযোগে দুদকের চলমান তদন্ত অব্যাহত রাখতে হবে। তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার জালিয়াতি বা অনিয়মে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

১৯৯৭ সাল থেকে বাড়িটি সালাম মুর্শেদীর ভোগদখলে রয়েছে।