খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
বাংলার আকাশ জুড়ে উৎসবের আমেজে মেতে ওঠার প্রস্তুতিু ঠিক তখনই চুয়াডাঙ্গার এক ক্লিনিকে কান্নার শব্দে জানান দিল এক নতুন প্রাণের আগমন| নববর্ষের প্রথম প্রহরে জাহিদুল ইসলাম ও আয়েশা খাতুন দম্পতির ঘর আলো করে আসলো দ্বিতীয় কন্যা সন্তান|
দামুড়হুদা উপজেলার উত্তর চাঁদপুর গ্রামের আয়েশা খাতুন ও নতিপোতা গ্রামের জাহিদুল ইসলামের বিয়ের বয়স সাত বছর| সোমবার মাগরিবের পর থেকেই প্রসব বেদনায় ছটফট করছিলেন আয়েশা| সারারাত কষ্টের পর মঙ্গলবার ভোর ৬টায় তাকে নিয়ে আসা হয় ক্লিনিকে| যাতায়াতের ভোগান্তিও কম ছিল না; উৎসবের সকালে গাড়ি না পেয়ে পাখিভ্যানে করেই মেয়েকে নিয়ে ক্লিনিকে দৌড়াতে হয়েছে নানী ফেরদৌসী খাতুনকে| অবশেষে সকাল ৭টায় ডা. হাসানুজ্জামান নুপুরের তত্ত্বাবধানে সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেয় সাড়ে তিন কেজি ওজনের ফুটফুটে এক শিশু| নবজাতকের আগমনে খুশির জোয়ার বইছে পুরো পরিবারজুড়ে| জন্মের পরপরই নানি ফেরদৌসী খাতুনের কেনা ছোট্ট একটি গোলাপী জামা পরিয়ে দেওয়া হয় তাকে| দাদা-দাদীর পছন্দে নাম রাখার অপেক্ষায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়নি, তবে ক্লিনিকের নার্সরা ভালোবেসে তাকে ডাকছেন ‘ˆবশাখী’ নামে| মা আয়েশা খাতুন বলেন, আজকে যে পহেলা ˆবশাখ, সেটা আমার মনে নেই| সন্তান প্রসবের পর নার্সরা যখন আমাকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন, তখন অন্যরকম এক ভালো লাগায় মনটা ভরে গেল| ডা. তাসনিম জারা আজকের সম্ভাব্য তারিখ দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু দিনটি যে উৎসবের দিন হবে তা ছিল ভাবনার বাইরে| এই শিশুই আমাদের পহেলা ˆবশাখের সেরা উপহার|
কৃষি শ্রমিক বাবা ও গৃহিণী মায়ের এই সন্তানকে নিয়ে আছে বড় ¯^প্ন| মা আয়েশা খাতুন নিজে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়লেও মেয়েকে মাদ্রাসায় উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন| লাইফ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মামুন অর রশিদ শাওন জানিয়েছেন, মা ও নবজাতক দুজনেই বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন|










































