স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও নারী সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির অভিযোগে অভিযুক্ত কথিত সাংবাদিক আলমগীর কবিরকে গণধোলাই দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৩ মে শনিবার দুপুরে খুলনা রিপোর্টার্স ক্লাব চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ জুলাই খুলনার খালিশপুর থানার মজগুনী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা নাসরিন আক্তারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আলমগীর কবির। বিয়ের পর তিনি নগদ এক লাখ টাকা, প্রায় ১০ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং ৮ আনা ওজনের একটি আংটি নিয়ে নতুন বাসা খোঁজার কথা বলে আত্মগোপন করেন। এরপর থেকে স্ত্রীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার যোগাযোগ করলে উল্টো ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়া চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকেও তিনি মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
গত ২৩ মে শনিবার দুপুরে খুলনা রিপোর্টার্স ক্লাবে আলমগীর কবিরের উপস্থিতি টের পেয়ে স্ত্রী নাসরিন আক্তার তাঁকে হাতেনাতে আটক করেন। এ সময় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হলে খুলনা সদর থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ও উপস্থিত লোকজনের সামনে নাসরিনকে নিজের স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেন আলমগীর। পরে এক বছরের খোরপোশ বাবদ নিজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন স্ত্রীর জিম্মায় দেন এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ফেরত দেওয়ার জন্য এক মাস সময় চেয়ে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা (মুচলেকা) দেন।
পুলিশ আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরপরই, আলমগীরের পূর্বের চাঁদাবাজির শিকার ক্ষুব্ধ কয়েকজন ব্যক্তি ও স্থানীয় জনতা তাঁর ওপর চড়াও হয়ে গণধোলাই দেয়। পরে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নাসরিন আক্তার বলেন, “আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যদি আমার পাওনা ও অধিকারের সুষ্ঠু সমাধান না হয়, তাহলে আমি আইনের আশ্রয় নেব এবং নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করব।” অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আলমগীর কবির তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা কিছু অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
এদিকে এই ঘটনায় খুলনার সাংবাদিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পেশাদার সাংবাদিকরা বলছেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা প্রকৃত সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে কেউ যেন এমন প্রতারণা ও চাঁদাবাজি করতে না পারে, সেজন্য সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।










































