স্টাফ রিপোর্টার।।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ভোজপাতিয়া ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি গ্রামে মৎস্য ঘের থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপি নেতার ছেলেসহ ৫ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। গত ২৭ মে দুপুরে সংঘটিত এই বর্বরোচিত হামলায় আহতদের খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন-সজিব খান, অপু আকন, নাইম খান, মোহতাদি খান, জুবায়ের তালুকদার, নাজমুল খান ও সালমান খান। এদের মধ্যে মল্লিকের বেড় ইউনিয়ন তাঁতী দলের সভাপতির ছেলে সজিব খান ও অপু আকনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। বাকিদের বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মে দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ভোজপাতিয়া ইউনিয়নের কালিকা বাড়ি গ্রামের একটি মৎস্য ঘের থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন সজিব ও তাঁর সহযোগীরা। এ সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা স্থানীয় আওয়ামী লীগের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র, রামদা, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ওপর আচমকা হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাঁদের ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি কোপাতে ও পিটাতে থাকে।

ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারী সন্ত্রাসীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় সজিব খান, অপু আকনসহ ৫ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
আহতদের স্বজনরা জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ঘের সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় সজিব ও অপুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এই ঘটনার পর থেকে কালিকা বাড়ি ও আশেপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে হামলায় জড়িত চিহ্নিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে রামপাল থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অপরাধীদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।










































