স্টাফ রিপোর্টার।।
হাসপাতালের কাজ সমাপ্তের প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখনও চালু হয়নি ২০০ শয্যাবিশিষ্ট খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম। ফলে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছে না হাজারো শিশু।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর সোনাডাঙ্গা বাইপাস রোডের ময়ূরী আবাসিকের বিপরীতে প্রায় পাঁচ একর জমির ওপর ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ছয়তলা ভবনটির কাজ ২০২৪ সালের জুন মাসেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে সীমানা প্রাচীর ও প্রধান ফটক অসম্পূর্ণ রয়েছে। খুলনা বিভাগের ১০ জেলার শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা প্রসারের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
খুলনা নগরীর নিরালা এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল শেখ বলেন, ‘বর্তমানে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা পেতে ব্যাপক খরচ হয়। দ্রুত সময়ের ভেতর খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালটি চালু হলে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার শিশুরা স্বল্প খরচে পরিপূর্ণ সেবা পাবে। তবে মনে একটিই প্রশ্ন, খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালটি চালু হবে কবে?’
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘খুলনা বিভাগের ১০ জেলার শিশুদের জন্য হাসপাতালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখনও হাসপাতালটির যে সব কাজ বাকি রয়েছে, সেগুলো শেষ করে দ্রুত হাসপাতালটি চালু করা দরকার। তাহলে শিশুরা সুচিকিৎসা পাবে।’
খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, ‘হাসপাতালের চলমান প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। আমরা হাসপাতাল বুঝিয়ে দিতে প্রস্তুত। তবে হাসপাতালের প্রাচীর এবং প্রধান ফটক নির্মাণের জন্য চাহিদা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন হলে কাজ শুরু হবে।’
খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজা খাতুন বলেন, ‘কাগজ-কলমে প্রকল্প শেষ দেখানো হলেও কোনো প্রাচীর নেই এবং প্রধান একটি ফটক নেই, চারপাশ ফাঁকা রয়েছে। হাসপাতালের কার্যক্রম শুরুর জন্য আসবাবপত্র ও জনবলের ব্যবস্থাও নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ’খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালটি যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে অধিদফতরে জরুরি প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। আমি সরেজমিন হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছি।’










































