Home Lead সোনাডাঙ্গায় ট্রিপল মার্ডার: ৩দিন লাশের সঙ্গেই ঘরে ছিল মা ও সৎ বাবা!

সোনাডাঙ্গায় ট্রিপল মার্ডার: ৩দিন লাশের সঙ্গেই ঘরে ছিল মা ও সৎ বাবা!

13


শরিফুল ইসলাম টিপু।।


খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গায় নানি ও দুই নাতিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার নেপথ্যে বেরিয়ে এসেছে গা শিউরে ওঠার মতো ভয়ংকর সব তথ্য। ট্রিপল মার্ডারের পর টানা তিন দিন তিনটি মরদেহ ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রেখেই পাশের কক্ষে অবস্থান করছিলেন নিহত দুই শিশুর মা ফাতেমা বেগম মেরি ও তার দ্বিতীয় স্বামী ঘাতক রফিকুল ইসলাম!


তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে (শুক্রবার) রাত ২টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে কোনো এক সময় এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যার আগে খাবারের সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে সবাইকে অচেতন করা হয়, যাতে কেউ চিৎকার করতে না পারে। পরে একে একে তিনজনকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।


মৃত ইঁদুরের গন্ধ বলে পালানোর চেষ্টা ঘাতকের: পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যার আগে নিহত বেবি বেগমের বোন রেনু বেগম বোন ও নাতিদের খোঁজ নিতে ওই বাসায় আসেন। ঘর তালাবদ্ধ দেখে তিনি মেরি ও রফিকুলকে ডাকাডাকি করেন। এ সময় ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে রফিকুল বাইরে এসে একে ‘মৃত ইঁদুরের গন্ধ’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। রেনু বেগমের সন্দেহ হলে তিনি জোরপূর্বক ঘরের তালা কাটার চেষ্টা করেন।

বেগতিক দেখে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় রফিকুল। পরে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরের খাটের নিচে নানি বেবি বেগম (৬৫) এবং ট্রাংকের ওপর থেকে বড় নাতি শামীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সিআইডি সদস্যরা এসে ঘরের ওয়ারড্রবের ভেতর থেকে ৪ বছরের শিশু মুস্তাকিমের লাশ উদ্ধার করেন।


হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মাদক ও সৎ সন্তানদের প্রতি ক্ষোভ: পেশায় আন্তঃজেলা ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম চরম মাদকাসক্ত ছিলেন। নিহত বেবি বেগমের বোন রেনু ও স্থানীয়রা জানান, রফিকুল নিয়মিত ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা সেবন করতেন। এমনকি মেরির সাথে মাসুম বেপারীর ডিভোর্সের আগেই রফিকুলের সাথে মেরির পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পর রফিকুল প্রায়ই শাশুড়ির বাসায় এসে থাকতেন এবং স্ত্রী মেরিকে সাথে নিয়েও মাদক সেবন করতেন। শাশুড়ি বেবি বেগম এই মাদকসেবন পছন্দ করতেন না এবং সৎ দুই সন্তান শামীম ও মুস্তাকীমকে রফিকুল অপছন্দ করায় ঘরে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকত।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মেরি বেগম স্বীকার করেছেন, শুক্রবার রাতে রফিকুল চরম মাতাল অবস্থায় ছিলেন এবং শাশুড়ির সাথে তাঁর তীব্র তর্কাতর্কি হয়। তবে ঘটনার পর থেকে রফিকুল পলাতক রয়েছেন।


সাবেক স্বামী ও শ্বশুরের দাবি: নিহত দুই শিশুর বাবা মাসুম বেপারী এবং দাদা কাশেম বেপারী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য মেরি ও রফিকুলকে সরাসরি দায়ী করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কাশেম বেপারী জানান, বিয়ের আগে থেকেই ফাতেমা মেরির চলাফেরা ভালো ছিল না। প্রথম ঘরের দুই সন্তানকে মূলত তাদের নানি বেবি বেগমই বুক দিয়ে আগলে রাখতেন।


পুলিশের বক্তব্য: খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে রফিকুলকেই প্রধান সন্দেহভাজন মনে করা হচ্ছে। শাশুড়ির সাথে বিরোধ এবং বাচ্চাদের অপছন্দ করার কারণেই চেতনানাশক খাইয়ে পরে গলায় ফাঁস দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত রফিকুলকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযান চালাচ্ছে।