Home কলাম তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক বহুমুখী নেতৃত্ব: সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটন

তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক বহুমুখী নেতৃত্ব: সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটন

3


মিলি রহমান।।


বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, দক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং আঞ্চলিক গণমাধ্যমের বিকাশে যে ক’জন মানুষ খুলনার মাটিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম মো. মিজানুর রহমান মিলটন। তিনি একাধারে খুলনার জনপ্রিয় আঞ্চলিক দৈনিক ‘দৈনিক খুলনাঞ্চল’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক বলিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।


জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতি>>
মো. মিজানুর রহমান মিলটন ১৯৭৬ সালের ৪ জুন বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পানগুছি নদীর তীরে অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত ভাটখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মো. সাইদুর রহমান হাওলাদার এবং মাতা রিজিয়া সাঈদ। চার ভাই-বোনের মধ্যে মিলটন দ্বিতীয় এবং তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। পারিবারিক জীবনে তিনি এক কন্যাসন্তানের জনক। শৈশব থেকেই পানগুছি নদীর কলতান আর গ্রামীণ পরিবেশ তাঁর ভেতরে এক উদার ও সংবেদনশীল মনন তৈরি করেছিল।


শিক্ষাজীবন>>

নিজ গ্রাম ও এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই তাঁর শিক্ষার হাতেখড়ি। তিনি মোরেলগঞ্জের পুটিখালী বিপিজিএম রহমানীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৯১ সালে সফলতার সাথে এসএসসি (SSC) পাস করেন। এরপর সরকারি সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজ থেকে ১৯৯৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক (HSC) সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি খুলনায় চলে আসেন এবং খুলনা সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ থেকে ১৯৯৫ সালে বিএসএস (BSS) ডিগ্রি অর্জন করেন।


সাংবাদিকতায় তিন দশকের পথচলা ও ‘দৈনিক খুলনাঞ্চল’>>
শিক্ষাজীবনেই, ১৯৯৪ সালে খুলনার ‘সাপ্তাহিক সেবক’ পত্রিকার মাধ্যমে মিজানুর রহমান মিলটনের সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা ঘটে। এরপর তিনি খুলনার শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘দৈনিক প্রবাহ’ এবং ‘দৈনিক অনির্বাণ’-এ অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে কাজ করেন। প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক মিডিয়াতেও তিনি তাঁর দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন; দেশের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘এশিয়ান টেলিভিশন’-এ তিনি দীর্ঘ সময় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।


দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকেই তিনি পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনা করেন খুলনাসহ গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গণমানুষের মুখপত্র ‘দৈনিক খুলনাঞ্চল’। তাঁর বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী সম্পাদনায় পত্রিকাটি খুব দ্রুতই সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়। মফস্বল সাংবাদিকতার নানাবিধ বাধা মোকাবিলা করে একটি দৈনিক পত্রিকাকে নিয়মিত, মানসম্মত ও জনপ্রিয় রাখা তাঁর আপসহীন সাংবাদিকতারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


গণমাধ্যম সংগঠক ও নেতৃত্বে অনন্য উচ্চতা>>

পেশাদার সাংবাদিকতার পাশাপাশি মিজানুর রহমান মিলটন খুলনার গণমাধ্যম সেক্টরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বে নিজের স্থান সুদৃঢ় করেছেন। তিনি ২০১৮ সালে খুলনার সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ খুলনা প্রেসক্লাব-এর নির্বাচনে অত্যন্ত জনপ্রিয়তার সাথে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
বর্তমানে তিনি খুলনার সংবাদপত্র মালিক ও সম্পাদকদের শীর্ষ সংগঠন খুলনা সংবাদপত্র পরিষদ -এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলতার সাথে পালন করছেন। এর পাশাপাশি সাংবাদিকদের কল্যাণ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গঠিত খুলনা প্রেসক্লাব মাল্টিপারপাস লিমিটেড-এর সম্মানজনক চেয়ারম্যান পদে আসীন রয়েছেন। এই সাংগঠনিক দায়িত্বগুলো তাঁর প্রতি খুলনার সাংবাদিক সমাজের গভীর আস্থা ও তাঁর অনন্য নেতৃত্বের কথাই প্রমাণ করে।


ছাত্ররাজনীতি থেকে মূল ধারার নেতৃত্বে: এক গৌরবময় অধ্যায়>>

সাংবাদিকতার পাশাপাশি ছাত্রজীবন থেকেই মিজানুর রহমান মিলটন যুক্ত হন দেশপ্রেমের রাজনীতিতে। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ ছাত্রদলে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি হয়। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার কারণে তিনি ১৯৯৪-৯৫ সেশনে সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে সদস্য নির্বাচিত হন।


পরবর্তীতে তিনি অত্যন্ত সুনামের সাথে খুলনা মহানগর ছাত্রদল এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তৃণমূল থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসে তিনি তাঁর সততা ও ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ খুলনা মহানগর বিএনপির ৭১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মনোনীত হন। বর্তমানে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে খুলনা মহানগর বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দলের প্রচার, প্রসারে ও গণমাধ্যমের সাথে সমন্বয় সাধনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন।


উপসংহার: পানগুছি নদীর তীর থেকে উঠে এসে মেধা, শ্রম ও সততার জোরে খুলনার সাংবাদিকতা, গণমাধ্যম সংগঠন এবং রাজনীতির মাঠে নিজের স্থান সুদৃঢ় করেছেন মো. মিজানুর রহমান মিলটন। প্রতিকূলতার মাঝেও সত্যের পথে অবিচল থেকে ‘দৈনিক খুলনাঞ্চল’কে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার এবং খুলনাবাসীর অধিকার আদায়ে আজীবন কাজ করে যাওয়ার এই প্রত্যয় তাঁকে আগামী দিনে আরও সম্মানের আসনে আসীন করবে। (লেখক: সংবাদকর্মী)