Home Lead খুলনায় তিন মাসে ২৫ খুন, সক্রিয় চারটি গ্রুপ

খুলনায় তিন মাসে ২৫ খুন, সক্রিয় চারটি গ্রুপ

265
ছবি -এআই নির্মিত


স্টাফ রিপোর্টার।।


আগে সন্ধ্যা হলেই আতঙ্ক বাড়তে থাকতো খুলনায়| খুলনা নগরী ও জেলায় ২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে সন্ধ্যা নামলেই ঘটতো ছিনতাই, মারামারিসহ খুনের ঘটনা| আতঙ্কের নগরী ও জেলার বাসিন্দারা থাকতেন শংকিত| কিন্তু ২৬ সালের গত তিন মাসে এখন প্রকাশ্যদিবালোকে ঘটছে গুলি করে এবং কুপিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনা| গত তিন মাসে খুলনা জেলায় ২৫ জনকে গুলি করে এবং কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে| এর মধ্যে খুলনা নগরীতে ৮ জনকে এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে| অধিকাংশ খুনের ঘটনা ঘটেছে মাদককান্ডে এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে| শুধু নির্বাচন পরবর্তীতে খুলনা নগরীতেই ৭ টি খুনের ঘটনা ঘটেছে|


পুলিশ ও স্থানীয়দের সুত্রে জানাযায়, প্রায় প্রতি রাতেই খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ও নগরীর কোথাও না কোথাও সন্ত্রাসী হামলার খবর পাওয়া যায়| গুলি করে অথবা কুপিয়ে ফেলে যাওয়া হচ্ছে ছাত্র, রাজনীতিবিদ বা ব্যবসায়ীকে| গত ৩ মাসে খুলনা নগরী ও জেলায় অর্ধশত ছোটবড় সন্ত্রাসী হামলায় খুন হয়েছেন ২৫ জন| সর্বশেষ খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানার নয়াবাটি এলাকায় তঁতীদলের ওয়ার্ড সভাপতি ও মুদি দোকানদার সোনা মিয়াকে কুপিয়ে খুন করে প্রতিপক্ষের দুর্বৃত্তরা|

এর আগে নগরীর দৌলতপুর থানার কেডিএ মার্কেটে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে থানা যুবদল নেতা রাশিদুল ইসলাম রাশুকে মটরসাইকেল যোগে এসে একদল ৪/৫ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী উপুর্যুপরি তিন/ চারটি গুলি করে হত্যা করে চলে যায়| তার আগে রোজার প্রায় শেষে ঈদের কয়েকদিন আগে নগরীর ডাকবাংলা এলাকায় সন্ধ্যায় রুপসা উপজেলা শ্রমিকদল নেতা মাসুম বিল্লাহকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা|


বিভিন্ন সুত্রে জানাগেছে, এর আগে দৌলতপুরের আরেক যুবদলের সাবেক নেতা মাহাবুবুর রহমান মাহাবুবকে তার নিজ বাড়ির সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে ও গুলি করে নৃশংস্য ভাবে খুন করে প্রতিপক্ষের সনত্রাসীরা| তার আগে অর্ণব কুমার সরকার নামের খুলনাবিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা| এখন পর্যন্ত এ সকল হত্যাগুলোর সঠিক কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ|


কেএমপির এডিশনাল পুলিশ কমিশনার রাশিদুল ইসলাম বলেন, খুলনা নগরীতে চার-পাঁচটি সন্ত্রাসী গ্রুপ এ সকল হত্যা ও সন্ত্রাসের সাথে জড়িত রয়েছে| তাদের অনেক সদস্যকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে| কিন্ত কিছুদিন পর আবারো তারা জামিনে বের হয়ে এসে আবারো জড়িয়ে পড়ছে অপরাধের সাথে| খুলনার এই সকল হত্যা মিশনে খুলনার তিনটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে|


এদিকে কেএমপির মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার মো: আব্দুর রাজ্জাক জানান, কেএমপি পুলিশ তিনটি সম্ভাব্য কারণকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে| তা হচ্ছে মাদক বেচাকেনা ও ভাগবাটোয়ারা, স্থানীয় আধিপত্য এবং দলীয় কোন্দলের কারনে এ সকল হত্যাকান্ড গুলো ঘটছে বলে কেএমপির সহকারী কমিশনার দাবি করেন|


তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী খুলনা মহানগরীতে খুনের ঘটনা ঘটেছে ৭টি|


খুলনা জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেন শুভ জানান, অধিকাংশ হত্যার সাথে স্থানীয় ও পারিবারিক দন্দ, জমি-জমা সংক্রান্ত ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে| প্রায় সব গুলো হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের মধ্যে থেকে অধিকাংশ জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে| বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে|


খুলনার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত হত্যাকান্ডের ঘটনায় স্থানীয়রা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে আসা সন্ত্রাসীরা নিখুঁত ভাবে ও টার্গেটের ব্যাক্তিদের লক্ষ্য করে গুলি করে এবং কুপিয়ে হত্যা করে নির্বিঘ্নে চলে যায়| পুলিশ এ সকল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে প্রায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কেএমপি বিভিন্ন থানার পুলিশ| তবে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মুল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতা এবং মুল হত্যাকারীরা রয়েগেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে| এ নিয়ে খুলনার জনমানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে| কেএমপি পুলিশ এই তিন মাসে দেশী-বিদেশী প্রায় ১০ টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে|


খুলনার নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বাবুল হাওলাদার বলেন, পুলিশের নিষি&ক্রয়তার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে সন্ত্রাসীরা| এতে অস্ত্রের মহড়া ও হত্যাকাণ্ড বেড়েছে| মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে| খুলনার ৮ থানা এলাকায় মাদকের বিস্তার দিন দিন বেড়েই চলেছে| মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা| এক কথায় খুলনা এখন মাদকে ভাসছে বলে এই নাগরিক নেতা দাবি করেন|


খুলনা মহানগর পুলিশের কমিশনার জাহিদুর রহমান বলেন, ১২ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা ˆতরি করে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে| এর মধ্যে চারজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে|