স্টাফ রিপোর্টার।।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হচ্ছে। আজ সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। গতকাল রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৩০০ আসন থেকে ৩ হাজার ১৪৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। আর জমা দিয়েছেন ১৬৬ জন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানিয়েছেন।
এরমধ্যে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৩৬টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৩৪৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। রবিবার সন্ধ্যায় খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফোকাল পার্সন রাজু আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে নির্বাচনী কার্যক্রমের এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটের কাজে কর্মকর্তা নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে ইসি।
এর আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের তাগিদ দিয়ে গতকাল শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠি দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবকে পাঠানো চিঠিতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা ও এ জন্য বাজেট প্রণয়ন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রস্তুত করা, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধ এবং বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের অনুমোদন ও নিরাপত্তা দেওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়।
এদিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচন-সংক্রান্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত অফিস, প্রতিষ্ঠান এবং প্রয়োজনে বেসরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচন উপলক্ষে আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গণমাধ্যমের বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক আসবেন। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকের বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে ভিসা প্রসেসিংসহ সব বিষয়ে সচিবের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগকে দেওয়া চিঠিতে বিগত সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য যেভাবে নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছিল, এবারও তা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ব্যাপকভাবে প্রচার ও প্রচারণা চালানো ও জনসচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবকে পাঠানো চিঠিতে পোস্টাল ভোটের বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ডাক বিভাগকে সমন্বয় ও গোপনীয়তা বজায় রেখে পোস্টাল ব্যালট দ্রুত ও নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া এবং ফেরত আনার কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে হবে।
এ ছাড়া আজ স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে দেওয়া চিঠিতে ইসি জানায়, ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে এমন প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার, কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, সংস্কার এবং কেন্দ্রে যাতায়াতের ভাঙা ও সংকীর্ণ রাস্তা মেরামতের প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে ইসির সম্মতির প্রয়োজন হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগের জেলাভিত্তিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহের চিত্রে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছেন যশোর জেলায়। যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৬৮ প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর পরই রয়েছে খুলনা জেলা। এ জেলার ছয়টি আসনে ৫৩ প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
এ ছাড়া বাগেরহাট জেলার ৪টি আসনে ৪১ জন, কুষ্টিয়া জেলার ৪টি আসনে ৪৪ জন, সাতক্ষীরার ৪টি আসনে ৩৩ জন এবং ঝিনাইদহ জেলার ৪টি আসনে ৩২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে কম আসনসংখ্যার জেলাগুলোতেও উল্লেখযোগ্য প্রার্থী মাঠে নেমেছেন।
নড়াইলের ২টি আসনে ২৫ জন, মেহেরপুরের ২টি আসনে ২০ জন, মাগুরার ২টি আসনে ২০ জন এবং চুয়াডাঙ্গার ২টি আসনে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
এদিকে, খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৩৬টি আসনের মধ্যে রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) মোট ২০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বলে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের ফোকাল পার্সন রাজু আহমেদ জানিয়েছেন।
খুলনা-১ এ তিনজন, খুলনা-৩, কুষ্টিয়া-৩, ঝিনাইদহ-১, ঝিনাইদহ-২, ঝিনাইদহ-৩, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-৪, মাগুরা-২, বাগেরহাট-১, বাগেরহাট-৩, সাতক্ষীরা-১, সাতক্ষীরা-৩ ও সাতক্ষীরা-৪ এ একজন করে এবং যশোর-২ ও সাতক্ষীরা-২ এ দুজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।










































