Home আঞ্চলিক মাইক বাজিয়ে পণ্য বিক্রি, নগরবাসির ক্ষোভ

মাইক বাজিয়ে পণ্য বিক্রি, নগরবাসির ক্ষোভ

73


স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা অলি-গলি থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সড়কে উচ্চ: শব্দে মাইক বাজিয়ে পণ্য বেচাকেনা ও পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শব্দদূষণের শিকার হচ্ছেন নগরীর বাসিন্দারা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন নগরবাসি। একাধিক সুত্র জানান, মাইকের উচ্চ আওয়াজে শব্দদূষণের শিকার হচ্ছেন তারা।


বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। শুধু পণ্য বিক্রয় নয়, মাইক বাজিয়ে প্রায়ই কখনো দোকান, হোটেল, বিরিয়ানি, শোরুম উদ্বোধন করা হয়। বিভিন্ন পণ্যের অফার, গরু-মহিষ জবাইয়ের খবর, মাছ, পোলট্রি মুরগির দাম হ্রাস ও নতুন সিমের অফারের খবর প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া ভ্যানে করে শাক সব্জিও বিক্রির দৃশ্য চোখে পড়ে প্রতিনিয়ত।


ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই মাছ, মাইক বাজিয়ে মাছ ও তরি-তরকারি বিক্রির করা হয় গলিতে গলিতে। ভ্রাম্যমাণ এসব পণ্য বিক্রেতারা অধিকাংশ বিক্রেতা ভ্যানে উচ্চ আওয়াজে মাইক বাজিয়ে পণ্য বিক্রি করছেন। তাদের মাইক দেখতে ছোট। কিন্তু আধুনিকমানের। আওয়াজ অনেক বেশি।
নিরালা এলাকার বাসিন্দা আজমল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসার পাশাপাশির মাংস ব্যবসায়ীর মাইকিং প্রচারণা চালানো হয়। এতে সড়কের পাশে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাসপাতাল, অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমার দাপ্তরিক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।


খুলনা সদরের একজন পরিবেশকর্মী বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিদিন উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে পণ্য বিক্রি, মলম-মাজন-ইঁদুরের ওষুধ বিক্রি, গরু-ছাগল জবাইসহ নানা প্রচারণা চালানো হয়। লাল শাক, মুলাও বিক্রি হয়। কী যে একটা অবস্থা! কেউ কখনও বাধা দেয়নি বা নিষেধ করেনি বলে এর মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে।


এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, সহনীয় মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত শব্দ মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ। শব্দদূষণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা। এটি তাদের মানসিক বিকাশের অন্তরায়। তিনি বলেন, ‘শ্রবণের জন্য সহনীয় মাত্রা ৪৫ ডেসিবেল। শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের ওপর হলে শ্রবণশক্তি কমে। মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণের মধ্যে বসবাসকারীদের শ্রবণশক্তি কমে যায়। উচ্চ রক্তচাপ, মাথাধরা, মেজাজ খিঁটখিঁটে, অনিদ্রা ও হৃদযন্ত্রের সমস্যাসহ নানা মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হয়।