Home আঞ্চলিক সারা খুলনা অঞ্চলের খবর

সারা খুলনা অঞ্চলের খবর

49

নগরীতে দাদার মার তিরোধান দিবস পালিত

খবর বিজ্ঞপ্তি

“অবলা স্মৃতি কুটির” এর স্বত্ত্বাধিকারী অবলা বালা দেবী “দাদার মার” ২২তম তিরোধান দিবস পালিত হয়েছে (দিব্যান লোকান স গচ্ছুত)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায়  নগরীর ৬৪, স্যার ইকবাল রোডস্থ বাইতিপাড়ার জটাধারী বেদ আশ্রমের প্রধান কার্যালয়ে সম্পুর্ন ঘরোয়া পরিবেশে পালিত হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে তার স্মৃতিচারণসহ প্রভাতে মাঙ্গলিক ক্রিয়া, প্রভাতীয়া সুরে শিব কীর্ত্তন, সংকল্পের সঙ্গে শ্রী শ্রী বেদ, চন্ডী, শ্রী মদ্ভগবদ গীতা পাঠ করেন সমেন দেবনাথ। সন্ধ্যায় গুরু স্ত্রোত্রম ও সমবেত প্রার্থনা, মাতৃ বন্ধনা ও গুরু বন্ধনা করে কোকিল কন্ঠী উমা ও সোমা দেবনাথ।

আলোচনার মাঝে সমেন দেবনাথ বলেন “বিশ্ব মহাবিশ্ব থেকে ক্ষুদ্রাদি ক্ষুদ্র তৃণ পর্যন্ত তৃপ্তি/সুখি হোক আমার এই পরমান্নতে”। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভক্তরা হলেন

বীনা পানি দেবী, সৌমিত দেবনাথ, মিলন দেবনাথ, শিখা ভদ্র, আশুতোষ অধিকারী, শংকর, শংকরী, রূপ সনাতন, বর্ণী, হিরা রানী, কাকুলী, উষা দেবনাথ, শান্তি দেবনাথ, রঞ্জিতা দেবনাথ, নিতাই দেবনাথ, তমা. ছন্দা, সাবিত্রী, সবিতা, গণেশ, স্বপন প্রমুখ।

যশোরে র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ গ্রেফতার ১

স্টাফ রিপোর্টার

যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানাধীন গদখালী গ্রামে অভিযান চালিয়ে দেড়কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ী হলেন যশোর জেলার  বেনাপোল পোর্ট থানার গাজীপুর গ্রামের মৃত. জয়নাল আবেদিন এর ছেলে মো. উজ্জল হোসেন (৩৩)। 

র‌্যাব-৬ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানাধীন গদখালী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল। এসময় মেসার্স মেহরাব ফিলিং স্টেশনের সামনে যশোর টু বেনাপোল মহাসড়ক এর পাঁকা রাস্তার উপর থেকে  ১কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ

মো. উজ্জল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে  মামলা রুজু করা হয়েছে।

পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে শ্রমিক জনসভা

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার ইষ্টার্ণ জুট মিল গেটের সামনে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় শ্রমিক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইষ্টার্ণ জুট মিলের সিবিএ সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা মোজাম্মেল হক খানের সভাপতিত্বে এবং শ্রমিকনেতা মেহেদী হাসান বিল্লালের পরিচালনায় সভায় বক্তারা বলেন, করোনা মহামারীতে পুরো দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা বিপন্ন। ঠিক এ সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ব ২৫টি পাটকল বন্ধ করে স্থায়ী ও অস্থায়ী মোট প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক বেকার করে দিল আওয়ামী লীগ সরকার। এ দুর্যোগে সারা দুনিয়ার নানা প্রণোদনা দিয়ে মানুষের জীবিকা রক্ষার চেষ্টা চলছে। অথচ বাংলাদেশে করোনা মহামারীর সুযোগ নিয়ে সোনালী আঁশের ঐতিহ্যবাহী পাটকল বন্ধ করে দিল। জনগণের প্রতিবাদ ও প্রশ্নের মুখে বাধ্য হয়ে মুখরক্ষার তাগিদে একবার বলছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) পুনরায় চালু করা হবে, কখনো বলছে জি টু জি-তে চালু হবে, আবার বলছে লীজে চালানো হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল বন্ধের পিছনে সরকারের বড় অজুহাত হলো লোকসান। কিন্তু কাদের কারণে লোকসান, লোকসান কাটাতে কি কি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলÑতার কোনো উত্তর নেই। নি¤œমানের পাট বেশি দামে কেনা, ৫০ দশকের পুরনো তাঁত দিয়ে উৎপাদন করা, মাথাভারী প্রশাসনের ব্যয়সহ সরকারি ভুলনীতি ও প্রশাসনের দুর্নীতি লোকসানের প্রধান কারণ। ২৫টি পাটকলের ১০ হাজার তাঁতের অর্ধেক অচল রেখে পাটকল লাভজনক করা যাবে না। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ হিসেব করে দেখিয়েছিলেন ১২শ কোটি টাকা খরচ করে আধুনিক তাঁত স্থাপন করলে উৎপাদন বাড়বে ৩ গুণ, শ্রমিকদের গড়ে ২৫ হাজার টাকা বেতন দিয়েও পাটকল লাভজনক করা সম্ভব। কিন্তু সরকার সে পথে না গিয়ে ৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করে শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডসেক পদক্ষেপ নিয়েছে। তাই সরকারকে অবিলম্বে পাটকলগুলোকে চালু করে আধুনিকায়ন করতে হবে এবং অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সকল শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা এককালীন প্রদান করতে হবে। শ্রমিক জনসভায় বক্তব্য রাখেনÑপরিষদের আহ্বায়ক এড. কুদরত-ই-খুদা, যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), কেন্দ্রীয় উপদেষ্টাম-লীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এড. আ ফ ম মহসিন, যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ খুলনা জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নাণ্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিপিবি খুলনা মহানগর সাধারণ সম্পাদক এড. মোঃ বাবুল হাওলাদার, গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ খুলনা জেলা সম্পাদকম-লীর সদস্য আনিসুর রহমান মিঠু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় বিকল্প সদস্য গাজী নওশের আলী, সিপিবি নেতা মিজানুর রহমান বাবু, নাগরিক পরিষদ নেতা এস এম চন্দন, ক্ষুধামুক্ত আন্দোলনের আহসান হাবিব, গণসংহতি আন্দোলন ফুলতলা উপজেলা আহ্বায়ক শ্রমিকনেতা অলিয়ার রহমান, শ্রমিকনেতা মোঃ নূরুল ইসলাম, মোঃ কামরুজ্জামান, সামশেদ আলম শমশের, জাকির হোসেন চুন্নু, নজরুল ইসলাম মল্লিক, যুব ইউনিয়ন নেতা গাজী আফজাল হোসেন, ছাত্র ফেডারেশন খুলনা মহানগর আহ্বায়ক আল আমিন শেখ, ছাত্র ইউনিয়ন বিএল কলেজ শাখার সভাপতি সোমনাথ দে প্রমুখ। সভায় আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় ডিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি সফলের জন্য শ্রমিকসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানান হয়।

মোড়েলগঞ্জে প্রতিবন্ধীবান্ধব অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে বৃহস্পতিবার ইএইচডি প্রকল্প অফিসে কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে যুক্তরাজ্যের দাতা সংস্থা এফসিডিও-এর আর্থিক সহযোগিতায় খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা (কেএমএসএস) কর্তৃক বাস্তবায়নকৃত সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা (ইএইচডি) প্রকল্পের আওতায় “প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য প্রতিবন্ধীবান্ধব অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ”-এর আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ দিলদার হোসেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছিলেন কেএমএসএস-র নির্বাহী অফিসার আফরোজা আক্তার মঞ্জু। মোড়েলগঞ্জ উপজেলার কমিউনিটি কিনিকের ১৬ জন্য সিএসসিপি সফলভাবে উক্ত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

মোড়েলগঞ্জে খুলনা সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষর ইন্তেকাল

 মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ফুলহাতা গ্রামের বাসিন্দা ও খুলনা সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. সেকান্দার আলী শিকদার (৮০) বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি……..রাজিউন)। তিনি স্ত্রী,৩ ছেলে রেখে গেছেন। তিনি দির্ঘ দিন ধরে বার্ধক্য জনিত রোগে ভুগছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ আছর জানাজা শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

ফকিরহাটে পিকআপ ও গরু সহ দুই সদস্য জনতার হাতে আটক

ফকিরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মডেল থানা পুলিশ পিকআপ ও দুইটি গরুসহ সিন্ডিকেটের দুই সদস্যকে আটক করেছে। বুধবার সন্ধ্যায় তাদেরকে বেতাগার মাসকাটা এলাকা থেকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো পাগলা শ্যামনগর গ্রামের সৈয়দ মোল্লার পুত্র পিকআপ চালক ও সিন্ডিকেটের সদস্য সুমন মোল্লা (২৮) ও দক্ষিণ খানপুর এলাকার আলাল সরদারের পুত্র রাসেল সরদার (২২)। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ব্যাপারে ফকিরহাট মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। মডেল থানা পুলিশের উপ-পুলিশ পরির্দশক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, চক্রটি যশোর এলাকা থেকে দুইটি গরু চুরি করে বেতাগার মাসকাটা মল্লিশখা এলাকায় এনে রাখে। স্থানীয়দের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় তারা রাত ৭টার দিকে পিকাপে করে গরু ও মটর সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা তাদেরকে আটক করে পুলিশের নিকট সোর্পদ করে। এদের সাথে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে। পুলিশ তাদেরকে আটকের জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। গরু চুরি চক্রের মোট ৫জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হবে পুলিশ জানিয়েছে। তবে কোন এলাকা থেকে গরু দুটি চুরি করা হয়েছে তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরি করে আসছিল। উল্লেখ্য, ফকিরহাট সহআশপাশ অঞ্চল সমূহে সম্প্রতিক সময়ে অর্ধশতাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এবিষয়ে থানায় অভিযোগ বা মামলা দায়ের হলেও পুলিশ চুরি হওয়া গরু বা চোরদের আটক করতে পারেনী।

বাগেরহাটে কমদামে টিসিবির পন্য ক্রয়ে খুশি নিম্ন আয়ের মানুষ

মাসুম হাওলাদার, বাগেরহাট

করোনা পরিস্থিতিতে বাজার দরের থেকে কমদামে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)র পন্য ক্রয় করতে পেরে খুশি বাগেরহাটের নিম্ন আয়ের মানুষ।সপ্তাহে চার দিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমান গাড়ির মাধ্যমে তেল, ডাল, চিনি ও পেয়াজ বিক্রি করেন টিসিবির ডিলাররা।নিম্ন আয়ের মানুষেরা নির্দিষ্ট দূরত্বে দাড়িয়ে স্বাস্থ্য বিধি মেনে এসব পন্য ক্রয় করেন।

বৃহস্পতিবার(২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাগেরহাট শহরের স্বাধীনতা উদ্যানে টিসিবির গাড়িতে পন্য বিক্রি করতে দেখা যায়। পন্য ক্রয়ের জন্য সাধারণ মানুষের ভীড়ও ছিল।ডিলারের নিজস্ব লোকেরা টাকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে পন্য সরবরাহ করছেন। পন্য বিক্রিতে কোন প্রকার অনিয়ম রোধ করতে রয়েছেন সরকারি ট্যাগ অফিসার।

টিসিবির পন্য ক্রয় করতে আসা রাহিলা বেগম ও সোহবান সরদার বলেন, বাজারে পেয়াজের দাম অনেক বেশি। টিসিবির পন্য বিক্রি হবে তাই শুনে এখানে এসেছি। এখান থেকে লাইনে দাড়িয়ে কম দামে তেল, ডাল, চিনি ও পেয়াজ কিনেছে। সরকারের এ উদ্যোগ অনেক ভাল লেগেছে আমাদের।

টিসিবির পন্য বিক্রয়ের ট্যাগ অফিসার খান আবুল হাসান বলেন, করোনা পরিস্থিতি ও নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পন্য বিশেষ করে পেয়াজের মূল্যের উর্দ্ধগতির কারণে মানুষ এক ধরণের বিপাকে পড়েছে। তাই সরকার বাজার দরের থেকে অনেক কম দামে টিসিবির পন্য ক্রয়ের সুযোগ দিয়েছে। টিসিবির ডিলাররা যাতে পন্য বিক্রির ক্ষেত্রে কোন রকম অনিয়ম না করে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা তদারকি করে থাকি।

টিসিবির ডিলার মেসার্স সোনিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধীকারী রাসেল বলেন, সরকার নির্ধারিত ৮০ টাকা লিটারে তেল, ৩০ টাকা কেজিতে পেয়াজ, ৫০ টাকা কেজিতে ডাল ও চিনি বিক্রি করছি। সাধারণ মানুষ ভালই ক্রয় করছেন।

বরগুনায় দুস্থ পরিবারের মাঝে নৌবাহিনীর সহায়তা প্রদান

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা, ২৪ সেপ্টে¤¦র ২০২০ বৃহস্পতিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে দরিদ্র, অসহায়, ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় কমান্ডার খুলনা নেভাল এরিয়ার তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট বরগুনা সদর উপজেলায় ৭০টি দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে। ত্রাণের মধ্যে ছিল শাড়ি, লুঙ্গি এবং থ্রি পিছ। দরিদ্র জনগণ এসব সহায়তা পেয়ে নৌবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

রামপালে বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা

রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

রামপালের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বন পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার। বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় রামপাল উপজেলা অডিটোরিয়ামে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি জনপ্রতিনিধি এবং সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাপ্তরিক কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার নির্দেশনা দেন। জনপ্রতিনিধি ও সরকারী কর্মকর্তাদের দূর্নিতীমুক্ত থেকে কাজ করার জন্য আহব্বান জানান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রামপাল উপজেলা চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাধন কুমার বিশ্বাস, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল হক লিপন, রামপাল থানার ওসি মনজুরুল আলম, ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল আমিন, গাজী গিয়াস উদ্দিন, গাজী আকতারুজ্জামান, ছাত্রলীগ সভাপতি হাফিজুর রহমান সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী দুই দিনের সফরে খুলনা আসছেন

তথ্য বিবরণী

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন দুই দিনের সফরে আগামী শনিবার খুলনা আসছেন। সফরসূচি অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সকাল ১১টায় প্রধান অতিথি হিসেবে বয়রাস্থ খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নতুন কার্যালয় ভবন এবং অডিটোরিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এবং জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

নগরীর পুকুরগুলো লিজ দেওয়া হবে না: সিটি মেয়র

তথ্য বিবরণী

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, নগরীর পুকুরগুলো লিজ দেওয়া হবে না। এগুলো দৃশ্যমান ও খননের জন্য জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে তিন কোটি টাকা বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। অনেকে পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষসহ বিভিন্নভাবে ব্যবসা শুরু করেন। এই কাজগুলো আর করতে দেওয়া হবে না। মেয়র বৃহস্পতিবার সকালে নগরভবন সম্মেলনকক্ষে জার্মান সরকারের অধীন উন্নয়ন সহযোগী কঋড কর্তৃক অর্থায়নকৃত ঈষরসধঃব ঈযধহমব অফধঢ়ঃপফ টৎনধহ উবাষড়ঢ়সবহফ চৎড়লৎপঃ এর চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত প্রকল্প উপস্থাপন এবং স্টেকহোল্ডারদের মতামত গ্রহণ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। সিটি মেয়র বলেন, নগরীতে ৩১টি পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে কেসিসির আওতায় ১১টি। নগরবাসীর স্বার্থরক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সবকিছু করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে রূপসা ও ভৈরব নদ খননের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ড্রেনব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনার উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। ইত্যেমধ্যে শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনে একনেক সভায় অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পের অর্থ সঠিকপথে ব্যয় করতে মেয়র সংশ্লিষ্টদের নিদের্শ দেন। কর্মশালয় কেসিসি’র প্যানেল মেয়র মোঃ আমিনুল ইসলাম মুন্না ও মোঃ আলী আকবার এবং ১৭টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা, কেসিসি’র কর্মকর্তা, ওয়ার্ড সচিব, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশিলসমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের স্থাপত্য অনুষদের প্রফেসর ড. সিরাজুল হাকিম। পরে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক নগরভবন সম্মেলনকক্ষে রোটারি জেলা ৩২৮১ বাংলাদেশ গভর্ণরের সাথে মতবিনিময় করেন এবং নগরভবন চত্ত্বরে রোটারি জেলা ৩২৮১ বাংলাদেশ গভর্ণর মোঃ রুবায়েত হোসেন বর্জ্যব্যবস্থাপনার জন্য ২০টি ভ্যান মেয়রের কাছে হস্তান্তর করেন। এসময় খুলনা প্রেসকাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতিত্ব মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, খুলনা চেম্বারের পরিচালক মোঃ মফিজুল ইসলাম টুটুলসহ খুলনা ও ঢাকা জেলার রোটারি ৩২৮১ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্টসহ রোটারিয়ানরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি নগর বিএনপির

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা মহানগর বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক ও খানজাহান আলি থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মিজানুর রহমানের নামে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি। এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, হামল-মামলা করে গণতন্ত্রের যাত্রাকে রুদ্ধ করা যাবে না। দিনের ভোট রাতে করে জনগণের ভোটের অধিকারকে হরণ করেছে বর্তমান সরকার। জেল-জুলুম, হামল-মামলাকে উপেক্ষা করে জাতীয়তাবাদী শক্তির সকল সৈনিক গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধার কাজে সামনের দিকে যাবে। কাজী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতারের নিন্দা এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দরা হলেন নেতৃবৃন্দরা হলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ভাষাসৈনিক এম নুরুল ইসলাম, নগর বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্তুজা, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশাররফ হোসেন, জাফরউলাহ খান সাচ্চু, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, এড. ফজলে হালিম লিটন, স ম আব্দুর রহমান, শেখ ইকবাল হোসেন, শেখ জাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, মোঃ মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এসএম আরিফুর রহমান মিঠু ও ইকবাল হোসেন খোকন প্রমুখ।

রিজিয়া নাসের এবং বাহাউদ্দিন নাসিমের সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় আ’লীগের দোয়া মাহফিল

খবর বিজ্ঞপ্তি

প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি’র চাচী ও শেখ হেলালউদ্দিন এমপি ও শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল এমপি’র মা রিজিয়া নাসের এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কৃষিবিদ বাহাউদ্দিন নাসিম এর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া মাহফিল করেছে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ। গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব দলীয় কার্যালয়ে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এর সভাপতিত্বে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময়ে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনা এখনও শেষ হয়নি। এই মহামারীকে অবহেলা করা যাবে না। সবাইকে সর্তক থেকে এই করোনাকে মোকাবেলা করতে হবে। একই সাথে অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে স্ব স্ব স্থানে থেকে কাজ করে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা’র ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন করতে সকল দুর্যোগকে উপেক্ষা করে কাজ করে যেতে হবে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের কঠিন দু:সময়ে রিজিয়া নাসের দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে নেপথ্যে থেকে দিক নিদের্শনা দিয়েছেন। অপরদিকে বাহাউদ্দিন নাসিম নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে চট্টগ্রামে নেত্রীকে রক্ষা করতে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। আজ আওয়ামী লীগের দু’জন ত্যাগী নেতা অসুস্থ। অনুষ্ঠান থেকে তাদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

এ সময়ে দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাবেক সহ-সভাপতি চিশতি সোহরাব হোসেন, বেগ লিয়াকত আলী, মল্লিক আবিদ হোসেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, নুর ইসলাম বন্দ, আবুল কালাম আজাদ কামাল, শ্যামল সিংহ রায়, ফেরদৌস আলম চাঁন ফরাজি, এ্যাড. অলোকা নন্দা দাস, অধ্যক্ষ শহিদুল হক মিন্টু, অধ্যাপক আলমগীর কবির, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, প্যানেল মেয়র আলী আকবর টিপু, হাফেজ শামীম, মোজাম্মেল হক হাওলাদার, সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস, তসলিম আহমেদ আশা, কাউন্সিলর শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন রনজিত কুমার ঘোষ, সফিকুর রহমান পলাশ, শেখ ফার”ক হাসান হিটলু, মীর বরকত আলী, শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজন, আসাদুজ্জামান রাসেল, চ. ম. মুজিবর রহমান, শেখ জাহিদ হোসেন, হাসান ইফতেখার চালু, শেখ মো. র”হুল আমিন, মো. জাকির হোসেন, অহিদুল ইসলাম পলাশ, এস এম হাফিজুর রহমান হাফিজ, অভিজিৎ চক্রবর্তী দেবু, কাজী কামাল হোসেন, অভিজিৎ পাল সহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে রিজিয়া নাসের ও বাহাউদ্দিন নাসিমের সুস্থতা কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

রিজিয়া নাসের এর সুস্থ্যতা কামনায় যুবলীগের বিবৃতি

খবর বিজ্ঞপ্তি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহোদর শ্রদ্ধেয় শহীদ শেখ আবু নাসের এর সহধর্মিনী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচী, জননেতা শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, সেখ সালাউদ্দিন জুয়েল এমপি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শেখ সোহেল, নৌ পরিবহন ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি শেখ জালাল উদ্দিন রুবেল ও শেখ বেলালউদ্দিন বাবু’র মা রিজিয়া নাসের বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁর সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিবৃতি দিয়েছে খুলনা মহানগর যুবলীগ।

বিবৃতিদাতা নেতৃবৃন্দরা হলেন নগর যুবলীগের আহবায়ক সফিকুর রহমান পলাশ, যুগ্ম আহবায়ক শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজন,  এস এম হাফিজুর রহমান হাফিজ, রোজি ইসলাম নদী, কামরুল ইসলাম, আব্দুল কাদের শেখ, এ্যাডঃ আল আমিন উকিল, আবুল হোসেন, কাজী কামাল হোসেন, নজরুল ইসলাম দুলু, শওকত হোসেন, শেখ মোহাম্মদ আলী,  অভিজিৎ চক্রবর্তী দেবু, কবির পাঠান, তাজুল ইসলাম, মোস্তফা শিকদার, কাজী ইব্রাহিম মার্শাল, জুয়েল হাসান দিপু, সাজ্জাদুর রহমান লিংকন, মহিদুল ইসলাম মিলন, মশিউর রহমান সুমন, মেহেদী মোড়ল, কে এম শাহীন, ইয়াসিন আরাফাত, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। বিবৃতিতে তার সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় সকলের নিকট দোয়া ও প্রার্থনা কামনা করা হয়েছে।

চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে নির্যাতন!

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরায় সুপারি চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে নির্যাতন শেষে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে তালা উপজেলায়। ২৩ সেপ্টেম্বর ভোর ৩টার দিকে ওই দুই কিশোরকে আটক করা হয়। এরপর তাদের হাত পিছমোড়া দিয়ে বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়। এলাকাবাসী জানায়, কয়েকদিন আগে উপজেলার একজন কাচামাল ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ভ্যান, সাইকেল ও টর্চ লাইট চুরি হয়। এ ঘটনায় ওই ব্যবসায়ী পাটকেলঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ভ্যান, সাইকেল ও টর্চ লাইট চুরির ঘটনায় আটক দুই কিশোরকে নির্যাতন চালিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়। বাড়ির পিলার ও মেহগনি গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের পর কিশোরদ্বয় সুপারি চুরির কথা স্বীকার করে। তবে ভ্যান, সাইকেল ও টর্চ লাইট চুরির কথা অস্বীকার করে। এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদে। সেখানে হাজির করলে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় এলাকাবাসী তাদের ভ্যানে করে গ্রাম ঘুরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পাটকেলঘাটা থানার বিট অফিসার এসআই সুব্রত বলেন, ‘বাদীর অভিযোগ না থাকায় এবং ধৃতরা কিশোর হওয়ায় তাদের অভিভাবকদের ডেকে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।’

পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এসে যুবক ধরা

মাগুরা প্রতিনিধি

পরকীয়ার টানে রাতের আঁধারে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এসে গ্রামবাসীর হাতে ধরা খেলেন জিহাদ (২৮) নামের এক যুবক। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামে বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরকীয়া প্রেমিক জিহাদ মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা গ্রামের ফেলু মোল্যার ছেলে। স্থানীয়রা জানান, জিহাদ বুধবার দিবাগত রাতে তার পরকীয়া প্রেমিকা চৌবাড়িয়া গ্রামের হাসানের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এ সময় স্থানীয়রা টের পেয়ে জিহাদকে আটকে রাখে। এ ব্যাপারে হাসানের স্ত্রী বলেন, জিহাদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছে। গত ২৩ তারিখ রাতে জিহাদ তাকে তার স্বামীর খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়াতে বলে এবং একপ্রকার চাপে পড়েই তিনি কাজটি করতে বাধ্য হন বলে জানিয়েছেন।

মহম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিহাদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। জিহাদ নাগড়া বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নওয়াপাড়া পৌর ছাত্র লীগের উদ্দ্যেগে বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি-

প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে যশোর অভয়নগরের নওয়াপাড়া পৌর ছাত্র লীগের উদ্দ্যেগে বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধায় নওয়াপাড়া পৌর সভার ৪,৫,৬ ও ৭ নং ওয়ার্ড বাসির মাঝে তিন শতাধিক ফলদ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধনি অনুষ্ঠানের উপন্থিত ছিলেন, উপজেলা যুবলীগ নেতা আব্দুল মুকিত মোল্ল্যা, নুর ইসলাম মনি, মনির হোসেন, আজিম চেšধরী, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহম্মেদ শান্ত, ছাত্রলীগ নেতা আল মামুন আকাশ, শরিফুল ইসলাম, শান্ত শেখ, মুরাদ হোসেন, রাব্বি খান, জয় হলদার, হাসিবুল, আল আমিন, জীবন, ইমন সাকিব প্রমুখ। বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির আওতায় অভয়নগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও নওয়াপাড়া পৌর সভার ৯টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে গাছের চারা রোপন ও বিতরণ করা হবে।

দেবহাটা প্রেসকাব কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে ১৬ জন প্রার্থী রিটার্নিং অফিসারের কাছে তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা (সাতক্ষীরা)

দেবহাটা প্রেসকাব কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে ১৩টি পদের বিপরীতে ১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বৃহষ্পতিবার উৎসব মুখর পরিবেশে দেবহাটা প্রেসকাব ভবনে উপস্থিত হয়ে রিটার্নিং অফিসার সরকারী খানবাহাদুর আহছানউল্লা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের কাছে মনোনয়ণপত্র দাখিল করেন প্রার্থীরা। উল্লেখ্য, আহ্বায়ক কমিটি ঘোষিত নির্বাচনী তফশিল মোতাবেক ২৫ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের দাখিলকৃত মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। ওই দিনই আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে দাখিলকৃত মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই এবং ২৬ সেপ্টেম্বর প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের প্রতিক বরাদ্দ করবে নির্বাচন কমিশন। সর্বশেষ ১লা অক্টোবর উৎসব মুখর পরিবেশে প্রেসকাব ভবনে কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আশাশুনিতে ইউনিসেফ সিপি প্রজেক্টের অবহিতকরণ সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনিতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আশাশুনি এপি’র ইউনিসেফ সিপি প্রজেক্টের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০.৩০ টায় এতিম ছেলেমেয়েদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মিলনায়তনে এ অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসবিআর ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আশাশুনি এপি’র ইউনিসেফ সিপি প্রজেক্টের অয়োজনে সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা। সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদের অংশ গ্রহনে সভায় মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রজেক্টের পরিচিতি ও কার্যক্রম সম্পর্কে মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন, এপি’র প্রজেক্ট অফিসার স্বপন ডেভিট সাহা। সিপি প্রজেক্ট অফিসার সুজিত হালদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার রফিকুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম, বুধহাটা ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ আ ব ম মোছাদ্দেক, কাদাকাটি ইউপি চেয়ারম্যান দীপঙ্কর কুমার সরকার দীপ, সদর প্যানেল চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম শাহীন, শিক্ষক মঞ্জুরুল আমিন শেখর প্রমুখ। আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের নিয়ে প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন প্রকার কাজ করা হবে। ৬ মাসের জন্য ইউনিসেফ ওয়ার্ল্ড ভিশনের সাথে এ প্রজেক্ট নিয়ে উপজেলার ৬ ইউনিয়নে কাজ করবে।

আশাশুনিতে অপুষ্ট বাচ্চাদের অর্থ সহায়তা প্রদান

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনিত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া অপুষ্ট বাচ্চাদের পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানোয় সহায়তার জন্য অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আশাশুনি হাসপাতালে এ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। ইউনিসেফের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ৫ জন বাচ্চাকে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেয়। এসব বাচ্চাকে যখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তখন পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানো নিশ্চিত করতে প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। যেদিন ব্চ্চাাদের রিলিজ দেওয়া হয়েছিল সেদিন প্রত্যেককে আবার ১০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। রিলিজের পর ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানোর জন্য আবারও ১০০০ টাকা করে প্রদানের নিয়ম থাকায় বৃহস্পতিবার এমন ৫ জনকে ১০০০ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। নগদ টাকা প্রদান করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুদেষ্ণা সরকার। এসময় সিনিঃ স্টাফ নার্স কল্পনা রানী মন্ডল, সিনিঃ স্টাফ নার্স রমা সেন, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ মাহবুবর রহমান ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোক্তারুজ্জামান স্বপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আশাশুনিতে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনিতে জাতীয় ভিটামিন এ+ ক্যাম্পেইন- ২০২০ উপলক্ষে অবগিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুদেষ্ণা সরকারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ দীপন বিশ^াস, সেনেটারী ইন্সপেক্টর জি এম গোলাম মোস্তফা ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান। সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোক্তারুজ্জামান স্বপনের সঞ্চালনায় সভায় উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ইনামুল হক, স্বাস্থ্য পরিদর্শক রমেশ চন্দ্র মন্ডল প্রমুখ আলোচনা রাখেন। সভায় আগামী ৪ঠা অক্টোবর হতে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৬ মাস বয়স হতে ৫৯ মাস বয়স পর্যন্ত সকল শিশুকে একটি করে ভিটামিন এ+ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ কার্যক্রম সফল করতে সভায় গৃহীত কার্যক্রম অবহিত করা হয় এবং পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়।

হাড়ীভাঙ্গা নাটানা বাজার কমিটি থেকে পদত্যাগ

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনি উপজেলার হাড়ীভাঙ্গা নাটানা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি থেকে ৩ জন পদত্যাগ করেছেন। বাজারের ব্যবসায়ী নূর ইসলাম সরদার, আতিয়ার রহমান গাজী ও মহাসিন গাজী লিখিত ভাবে জানান, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠনের পক্ষে তারা। কমিটি গঠনের দিন অধিকাংশ ব্যবসায়ীর অনুপস্থিতিতে কমিটি গঠন করা হয়। তারা নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু নির্বাচন না করে সকল ব্যবসায়ীকে না নিয়ে গঠিত কমিটিতে তাদের মতামত ছাড়াই অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ফলে তারা কমিটি থেকে পদত্যাগ করছেন এবং নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবী জানিয়েছেন।

দরগাহপুরে বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক করে ঠকানোর অভিযোগে থানায় অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুরের হাফিজুলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ঠকানোর অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পাইকগাছার দেবদুয়ার গ্রামের মহসিন মিস্ত্রীর কন্যা সিরিনা খাতুন থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগে ও সাংবাদিকদের কাছে জানান, দরগাহপুরের রামনগর গ্রামের আলীম উদ্দীন গাজীর পুত্র হাফিজুল একই গ্রামের লতিফের পুত্র লাচ্চুর মাধ্যমে পরিচিত হন। এরপর থেকে মোবাইলে তাদের মধ্যে যোগাযোগের এক পর্যায়ে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে কাছে পেতে চকুরতার আশ্রয় নেয় হাফিজুল। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হাফিজুল তাকে দরগাহপুর বসাস্ট্যন্ডে ডেকে নিয়ে সেখান থেকে যশোরে রওয়ানা হয় এবং খাজুরায় তার পরিচিত জনৈক হক এর বাড়িতে নিয়ে ওঠে। সেখানে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। তিন দিন সেখানে থাকার পর হাফিজুলের ভাই নূর ইসলাম ও লাচ্চু মোবাইলে কথা বলে বাড়ি ফিরতে বলে। তিনদিন পর তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়ে দরগাহপুরে আসলে ভাই ও লাচ্চুর কুপরামর্শে নিজের বাড়িতে না নিয়ে লাচ্চুর বাড়িতে নিয়ে তোলে। এরপর তারা ষড়যন্ত্র করে খুব শীঘ্রই বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে ওয়াদা করে সিরিনাকে তার পিতার বাড়িতে পাঠায়। কিন্তু পরে আর তার ফোন না ধরাসহ যোগাযোগ না রাখায় অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সিরিনা। বাধ্য হয়ে সিরিনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এব্যাপারে বিবাদী হাফিজুলসহ তার সহায়তাকারীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী অভিযুক্ত হাফিজুলসহ তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের জোর দাবি জানিয়েছেন।

কাদাকাটি প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বিভাগীয় মামলায় শাস্তি

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম কামরুল ইসলামকে বিভাগীয় মামলায় শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। স্কুল ছাত্রীকে নির্মম ভাবে বেত্রাঘাত করার অপরাধে তাকে শাস্তি প্রদান করা হয়। প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম স্কুলের শিক্ষার্থী জিবাকে নির্মমভাবে বেত্রাঘাত করেন। এছাড়া আরও অনেককে বেত্রাঘাত ও শিক্ষক সুলভ বহির্ভূত আচরণ করেন। শিশু শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করার দায়ে সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ ্এর বিধি ৩ এর (খ) ধারা অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে ২৮ জুলাই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু পূর্বক কারণ দর্শানো নোটিশ জারী করা হয়। প্রধান শিক্ষক ১২ আগষ্ট লিখিত জবাব এবং ১৬  সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত শুনানীতে লিখিত জবাবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ফলে তাকে লঘু দন্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত হয় এবং বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৪ এর উপবিধি (২) (খ) অনুযায়ী একটি বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি স্থগিত করা হয়। ২১ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা খুলনার উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) নাসরিন সুলতানা স্বাক্ষরিত পত্রে এ আদেশ প্রদান করা হয়। ভুক্তভোগিরা শাস্তির কথা জানতে পেরে লঘু শাস্তিতে খুশি না হলেও শাস্তি প্রদান করায় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন এবং ভবিষ্যতে তার আচার আচরণে পরিবর্তন আসবে সে প্রত্যাশা করেছেন। 

কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে কৃষক লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

আলমগীর হোসেন, কেশবপুর প্রতিনিধি

কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে কৃষক লীগের বর্ধিত সভা বৃহস্পতিবার আবু শরাফ সাদেক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৈয়দ নাসির হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রমেশচন্দ্র দত্তের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষক লীগের খুলনা বিভাগীয সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোঃ নাজমুল ইসলাম পানু। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমিন।  বিশেষ অতিথি হিসেবে  বক্তব্য দেন যশোর জেলা কৃষকলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ শামসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আমির হোসেন,ও পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম।

তালায় ৩৭ জন মহিলার মাঝে ক্ষুদ্র ঋণের চেক বিতরণ

ইলিয়াস হোসেন,তালাঃ

জাতীয় মহিলা সংস্থা তালা উপজেলা শাখার উদ্যোগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৩৭ জন মহিলার মাঝে ক্ষুদ্র ঋণের চেক বিতরণ করা হয়ছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসের কক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় মহিলা সংস্থা পরিচালিত মহিলাদের আতœকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের চেক বিতরণ করেন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকবাল হোসেন। এ সময় জাতীয় মহিলা সংস্থা তালা উপজেলা শাখার চেয়ারম্যান প্রভাষক সুতপা রাহা, জাতীয় মহিলা সংস্থা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান উপস্থিত ছিলেন।

তালায় শিশু পাচার প্রতিরোধ ও সুরক্ষায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত

তালা প্রতিনিধি

তালায় শিশু পাচার প্রতিরোধ ও সুরক্ষায় এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা নিরসনে শিশু অধিকার ও মানবাধিকার নেটওয়ার্কভূক্ত এনজিও প্রতিনিধিদের সাথে কৌশলগত পরিকল্পনা ও যৌথ কার্যক্রম বিষয়ক দুইদিনব্যাপী উপজেলা পর্যায়ের কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তালা উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে ইনসিডিন বাংলাদেশ আয়োজিত উক্ত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন তালা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার। ইনসিডিন বাংলাদেশ এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মোঃ সাকিবুর রহমানের পরিচালনায় কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের  সাতক্ষীরা জেলার উপ-পরিচালক মোঃ রোকনুজ্জামান। এ সময় তালা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুরশিদা পারভীন পাঁপড়ী, তালা থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শেখ আব্দুল আউয়াল, তালা প্রেসকাবের সভাপতি প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন কমান্ডার মোঃ মফিজ উদ্দীন, তালা থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি এ ময়নুল ইসলাম, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অচিন্ত্য সাহা, উপজেলা মহিলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক সুতপা রাহা টুম্পা, সাংবাদিক গাজী জাহিদুর রহমান, বিএম জুলফিকার রায়হান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক স্মরণে প্রার্থনা সভা

খবর বিজ্ঞপ্তি

 সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক সুনীল কুমার চক্রবর্তী স্মরণে শোক ও  প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাজার কালিবাড়ি মন্দিরে এর আয়োজন করা হয়। সভাপতিত্ব করেন উজ্জল ব্যানার্জী। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সুব্রত হালদার তপা ও সুশান্ত ব্যানার্জী। এ সময় মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েত শিবচন্দ্র ব্যানার্জী, নগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল হালদার, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুন্ডু, ভোলানাথ ভট্টচার্য, গোপী কিষান মুন্ধাড়া, প্রশান্ত ব্যানার্জী, আশোক চক্রবর্তী, বিকাশ সাহা মদন, তোতন হালদার, রতন দেবনাথ, তপন সাহা, আকাশ চক্রবর্তী, কিংকর সাহা, শংকর ঘোষ, স্বপন সরকার, মনোজ রায়, বাবলু বিশ্বাস, ইন্দ্রজিৎ কুন্ডু গোপাল, বিশ্বরুপ সরকার, ভবেশ সাহা, অনিক ব্যানার্জী, বাবলু রায়, প্রদীপ সাহা, তরুন রায় শিবু , সৌরভ হাজরা ও বিধান রায়সহ ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কেশবপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বেকারির মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

কেশবপুর প্রতিনিধি

কেশবপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আমেনা ফুডস্ এন্ড তৃপ্তি হোমমেড বেকারির মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর পৌর শহরের উপজেলা বিআরডিপি অফিসের পেছনে অবস্থিত আমেনা ফুডস্ এন্ড তৃপ্তি হোমমেড বেকারির কারখানায় বুধবার বিকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আমেনা ফুডস্ এন্ড তৃপ্তি হোমমেড বেকারির কারখানার শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসম্মত পোশাক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট না থাকায় এবং খাদ্যদ্রব্যের প্যাকেটে নির্দিষ্ট তারিখ না থাকার অপরাধে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার ইমাম হুসাইনকে ভোক্তা সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারা মোতাবেক ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ সময় এক মাসের মধ্যে সকল প্রকার বৈধ কাগজপত্র ও স্বাস্থ্য বিধি মেনেই খাদ্য সামগ্রী তৈরির নির্দেশ দেন।

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নবনির্বাচিত দুই নেতাকে অভয়নগর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের ফুলেল শুভেচ্ছা

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সংসদের সদ্য ঘোষিত কমিটির নবনির্বাচিত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার সেলিম অগ্নী ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক   মোঃ রবিউল ইসলাম কে অভয়নগর থানা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। গতকাল বুধবার যশোর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে উক্ত ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাঃ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সাল,  সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল কুমার বিট, সাংগঠনিক সম্পাদক আলি হায়দার রানা, যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ও অভয়নগর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মোল্যা হাবিবুর রহমান (হাবিব), নওয়াপাড়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহবায়ক রিয়াজ উদ্দিন মিঠু, সিদ্ধিপাশা ইউনিয়ন কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রেজোয়ান হোসেন, চলিশিয়া ইউনিয়ন কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ সাগর শেখ, প্রেমবাগ ইউনিয়ন কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ সোহাগ হোসেন সহ  জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

বাগেরহাটে বাঁধনের উদ্যোগে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন

বাগেরহাট  প্রতিনিধি                        

করোনা পরিস্থিতে বাগেরহাটে বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে। একশন এইড এর সহযোগীতায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় দশানীস্থ বাঁধনের অফিস চত্বরে এ খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসাবে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মোঃ কামরুল ইসলাম এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন ,বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোছাব্বেরুল ইসলাম। বাগেরহাট সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীন এর সভাপতিতে, বক্তব্য রাখেন ষাটগম্বুজ ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা  শেখ আক্তারুজ্জামান বাচ্চ,কাড়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা  শেখ বশিরুল ইসলাম, শহর সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ নাজমুস সাকিব। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাঁধনের নির্বাহী পরিচালক মঞ্জুরুল হাসান মিলন। পরিচালনা করেন বাঁধনের এফোরআই প্রকল্পের সমন্বয়কারী খোন্দকার মুশফিকুল ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বাঁধনের বিভিন্ন ইয়ূথ গ্রুপের ২০জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বাঁধনের এফোরআই প্রকল্পের সমন্বয়কারী খোন্দকার মুশফিকুল ইসলাম বলেন, দাতা সংস্থা একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগীতায় ও বাঁধনের বাস্তবায়নে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাগেরহাট সদর ও ফকিরহাট উপজেলার ২৭৫টি পরিবারের মাঝে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন করা হচ্ছে। আমরা প্রতিটি পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল, ডাল, আলু, লবন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, স্যানিটারী ন্যাপকিনসহ নানা সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। এ মাসের মধ্যেই আমরা করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ৩৫০টি পরিবারে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হবে।

কালিগঞ্জে নবযাত্রা প্রকল্পের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

খবর বিজ্ঞািপ্ত

কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এর আয়োজনে ’ইউএসএআইডি’ এর” খাদ্য নিরাপত্তা উন্নয়ন কার্যক্রম” নবযাত্রা প্রকল্প, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ত্রৈমাসিক সমন্বয় অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর সভাপতিত্ত্বে সভায় সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, সকল ইউপি সচিবগন, কালিগঞ্জ প্রেসকাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি;র কালিগঞ্জ শাখার সভাপতি ও ইউপি সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তৃতায় সভাপতি বলেন  ”নবযাত্রা” প্রকল্প একটি বিশাল কাজের কেন্দ্র বিন্দু যার কাজের ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি এবং প্রকল্পটি কালিগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। ”নবযাত্রা” প্রকল্পকে আমাদের সংযুক্ত রেখে প্রকল্পের গৃহিত কাজগুলোকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, নবযাত্রা প্রকল্প এর ফিল্ড অফিস ম্যানেজার প্রকল্পের ছয়টি কম্পোনেন্ট যথা প্রকল্পের মা ও শিশু স্বাস্থ্য, ওয়াস, দূর্যোগ, কৃষি, জেন্ডার এবং সুশাসন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা এর বিগত পাঁচ বছরের অগ্রগতি এবং সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয় তুলে ধরেন এবং সকল অংশগ্রহনকারীগন আলোচনায় অংশগ্রকন করে প্রকল্পের কাজের প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য যে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর অনুরোধে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, নবযাত্রা প্রকল্প আগামী মাসে বারটি ইউনিয়ন পরিষদ এর সচিব এবং উদোক্তাগণকে দক্ষতা উন্নয়ণ এর জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করতে কারিগরী সহায়তা প্রদান করবে। সরকারী সকল দপ্তর তাদের সহযোগিতা অব্যহত রাখবেন মর্মে একমত পোষণ করেন।

মানসম্মত পুষ্টি সেবা প্রদান করতে কিশোর-কিশোরীদের সম্পৃক্তকরণে জেলা পর্যায়ে কিশোর-কিশোরী ফোরাম গঠন সভা

খবর বিজ্ঞপ্তি

বৃহস্পতিবার বাগেরহাটের ধানসিঁড়ি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কিশোর-কিশোরীদের সমন্বয়ে মানসম্মত পুষ্টি সেবা প্রদানের জন্য সরকার, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের সম্পৃক্তকরণ এবং তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জেলা পর্যায়ে কিশোর-কিশোরী ফোরাম গঠন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ হাফিজ আল-আসাদ। প্রধান অতিথি তার ভাষণে বলেন, আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ হলো কিশোর-কিশোরী। তাদেরকে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করা জরুরী। তাদের মাধমে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পুষ্টির সার্বিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। কিশোর-কিশোরীরাই বর্তমান সমাজে চেঞ্জমেকার হিসেবে কাজ করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর অর্থায়নে পুষ্টি উন্নয়নে অংশগ্রহণমূলক সমন্বিত প্রকল্প-(ক্রেইন) এর আওতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তর অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের নেতৃত্বে এবং ওয়াটার এইড-এর কারিগরী সহায়তায়, বাগেরহাটের কচুয়া, মোংলা, মোল্লাহাট ও শরণখোলা উপজেলায় রূপান্তর ও জেজেএস পুষ্টি উন্নয়নে প্রকল্পের অন্যান্য সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর- উপ-পরিচালক এর  উপ-পরিচালক হাসনা হেনা, বাগেরহাট জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা শেখ আসাদুর রহমান, বাগেরহাট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভিন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড, বাগেরহাট-এর পুষ্টি সমন্বয়কারী হোসনেয়ারা বেগম, রূপান্তর-এর ক্রেইন প্রকল্প সমন্বয়কারী খালেদা হোসেন মুন, মনিটরিং অফিসার, ত্রিদ্বীপ বিশ^াস। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলা সিএসও মোবিলাইজার শরিফুল বাসার।

শরণখোলায় বসত ঘর সহ কৃষকের সম্পত্তি দখল

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এক কৃষকের বসত ঘর সহ তার ভোগদখলীয় প্রায় দশ লাখ টাকার সম্পত্তি জবর দখল করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের ধানসাগর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আশ্রাব আলী মাতুব্বরের ছেলে কৃষক মোঃ ফরিদ হোসেন মাতুব্বর এমন অভিযোগ করেন। অভিযোগে ফরিদ দাবী করেন, ২নং ধানসাগর মৌজার প্রায় ৩৩ শতক সম্পত্তি তিনি কবলা সুত্রে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ বছর ধরে শান্তি পুর্ন ভাবে ভোগ দখল করে আসছিলেন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা মোকসেদ শেখ সহ একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধোনে একই এলাকার বাসিন্দা প্রতিপক্ষ মোঃ আবুল হোসেন তালুকদার নিজেকে ভুমিহীন দাবি করে (বুধবার) সকালে কৃষক ফরিদের ভোগ দখলীয় ওই সম্পত্তি সহ তার মধ্যে তুলে রাখা ঘরটি ও উক্ত জমি জোর পুর্বক দখল করে নেয়। এ সময় ফরিদ সহ তার পরিবারের সদস্যরা তাতে বাঁধা দিলে আবুল ও তার সহযোগীরা ফরিদ (৩৮) ও তার স্ত্রী রুনু বেগম (৩২) কে মারধর করে আহত করেন।  আহতদের মধ্যে রুনু বেগমকে (বৃহস্পতিবার)  সকালে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ফরিদ আরো বলেন,  জমি দখলের পর শরনণখালা থানায় অভিযোগ করেছি কিন্তু কোন ফল পাইনি। এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েক জন বাসিন্দা জানান, আবুল হোসেনের এলাকায় ৩টি বাড়ী রয়েছে। ভুমিহীন দাবী করার বিষয়টি সঠিক নয় । তবে, এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ আবুল হোসেন তালুকদার বলেন, ফরিদের কোন জমি আমি দখল করি নাই। উক্ত জমি আমি চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান দুলালের আমলে ভুমিহীন হিসেবে পেয়ে ছিলাম। কয়েক বছর আমি এলাকায় না থাকায় ফরিদরা ওই জমিতে একটি ঘর তুলেছিল।  এখন পরিবার পরিজন নিয়ে সেই ঘরে আমি আশ্রয় নিয়েছি। এছাড়া মাপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি।  ওরা আমাকে জব্দ করার জন্য নাটক সাজিয়েছে। এ ব্যাপারে শরনখোলা থানার (ওসি) এস কে আব্দুল্লাহ আল সাইদ জানান, উভয় পক্ষকের কাগজ পত্র দেখে আইনী ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

শরণখোলায় বসত ঘর সহ কৃষকের সম্পত্তি দখল

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এক কৃষকের বসত ঘর সহ তার ভোগদখলীয় প্রায় দশ লাখ টাকার সম্পত্তি জবর দখল করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের ধানসাগর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আশ্রাব আলী মাতুব্বরের ছেলে কৃষক মোঃ ফরিদ হোসেন মাতুব্বর এমন অভিযোগ করেন। অভিযোগে ফরিদ দাবী করেন, ২নং ধানসাগর মৌজার প্রায় ৩৩ শতক সম্পত্তি তিনি কবলা সুত্রে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ বছর ধরে শান্তি পুর্ন ভাবে ভোগ দখল করে আসছিলেন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা মোকসেদ শেখ সহ একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধোনে একই এলাকার বাসিন্দা প্রতিপক্ষ মোঃ আবুল হোসেন তালুকদার নিজেকে ভুমিহীন দাবি করে (বুধবার) সকালে কৃষক ফরিদের ভোগ দখলীয় ওই সম্পত্তি সহ তার মধ্যে তুলে রাখা ঘরটি ও উক্ত জমি জোর পুর্বক দখল করে নেয়। এ সময় ফরিদ সহ তার পরিবারের সদস্যরা তাতে বাঁধা দিলে আবুল ও তার সহযোগীরা ফরিদ (৩৮) ও তার স্ত্রী রুনু বেগম (৩২) কে মারধর করে আহত করেন।  আহতদের মধ্যে রুনু বেগমকে (বৃহস্পতিবার)  সকালে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ফরিদ আরো বলেন,  জমি দখলের পর শরনণখালা থানায় অভিযোগ করেছি কিন্তু কোন ফল পাইনি। এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েক জন বাসিন্দা জানান, আবুল হোসেনের এলাকায় ৩টি বাড়ী রয়েছে। ভুমিহীন দাবী করার বিষয়টি সঠিক নয় । তবে, এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ আবুল হোসেন তালুকদার বলেন, ফরিদের কোন জমি আমি দখল করি নাই। উক্ত জমি আমি চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান দুলালের আমলে ভুমিহীন হিসেবে পেয়ে ছিলাম। কয়েক বছর আমি এলাকায় না থাকায় ফরিদরা ওই জমিতে একটি ঘর তুলেছিল।  এখন পরিবার পরিজন নিয়ে সেই ঘরে আমি আশ্রয় নিয়েছি। এছাড়া মাপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি।  ওরা আমাকে জব্দ করার জন্য নাটক সাজিয়েছে। এ ব্যাপারে শরনখোলা থানার (ওসি) এস কে আব্দুল্লাহ আল সাইদ জানান, উভয় পক্ষকের কাগজ পত্র দেখে আইনী ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

যশোরের ধর্মতলা কাঁচা বাজারে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা: আটক ৩

যশোর অফিস

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার কারণে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা বুধবার সন্ধ্যারাতে শহরতলী ধর্মতলা কাঁচা বাজার এলাকায় পরপর শক্তিশালী কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে থানায়। পুলিশ বোমা বিস্ফোরনের সাথে জড়িত অভিযোগে এজাহার নামীয় তিন আসামীকে গ্রেফতার দেখিয়েছে। তাদেরকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করেছে। পুলিশ  ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত বোমার সরাঞ্জাম আলামত হিসেবে উদ্ধার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে,যশোর শহরতলী ধর্মতলা গাজীপাড়ার রবিউল ইসলামের ছেলে রাসেল,সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা ব্রাক অফিসের পিছনে দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে রেদোয়ান ওরফে রেজোয়ান  হোসেন ওরফে নাহিদ ও ধর্মতলা গাজীপাড়ার আব্দুল আলীম ওরফে বোবা আলীমের ছেলে সুজন ওরফে জিসান।

যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা গাজীপাড়ার মনির আহম্মেদ এর ছেলে তারেক হাসান বুধবার দিবাগত গভীর রাতে চিহ্নিত ৯ সন্ত্রাসীর নাম ও অজ্ঞাতনামা ৪/৫জন উল্লেখ করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামীরা হচ্ছে,ধর্মতলা গাজীপাড়ার রবিউল ইসলামের ছেলে রাসেল,ধর্মতলা খ্রিষ্টান কবরস্থানের পাশের্^ তবিবরের ছেলে সোহেল, লিটনের ছেলে আরাফাত রাজু,

খোলাডাঙ্গা ব্রাক অফিসের পিছনে রেজোয়ান ওরফে রেদোয়ান হোসেন নাহিদ,ধর্মতলা গাজী পাড়ার আব্দুল আলীম ওরফে বোমা আলীমের ছেলে জিসান, বারান্দী মোল্যাপাড়ার শুভ,সুজলপুরের মোতাচ্ছিন হাওলাদারের ছেলে সজল, কারবালা পুকুরের উত্তর পাড়ের সোলাব ও ধর্মতলা কাঁচাবাজার এলাকার আসারের ছেলে আব্দুল্লাহআল- মামুনসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫জন।

এামলায় বাদি তারেক হাসান মামলায় উল্লেখ করেন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার সংক্রান্তে আসামীদের সাথে তার পূর্ব শত্রুতা চলে আসছিল। তারা বাদীসহ তার আত্মীয়স্বজনদে খুন জখমের হুমকী দিয়ে আসছিল। গত বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬ বেজে ২০ মিনিটের সময় তারেক হাসানসহ প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম, হাসান কবির সাগর,আব্দুল্লাহ  আল মামুন, শাকিল গাজী টগর শেখ ধর্মতলা কাঁচা বাজারস্থ আজিম ফার্মেসীর সামনে ফাঁকা স্থানে দাঁড়িয়ে কথা বার্তা বলছিল। ওই সময় আসামীরা স্থানীয় আধিপত্য  ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরিয়া পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তারেক হাসানসহ সেখানে থাকা সকলকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে সোহেলের নেতৃত্বে ও হুকুমে উক্ত আসামীরা পরপর ৩/৪টি  হাত বোমা নিক্ষেপ করে। বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এলাকায় আতংক বিরাজ করে। বোমার স্প্রিন্টারে ২/৩ জন আহতর খবর পাওয়া যায়। বোমা বিস্ফোরণের পর স্থানীয় জনগন বোমা বিস্ফোরণকারীদের মধ্যে রাসেল নামে এক সন্ত্রাসীকের ধরে গণপিটুনী দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ রাতে রাসেলের স্বীকারোক্তি মোতাবেক সহযোগী রেদোয়ান ওরফে রেজোয়ান হোসেন ওরফে নাহিদ ও সুজন ওরফে জিসানকে গ্রেফতার করে।

যশোরে ছোট বোনকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ

যশোর অফিস

বড় বোনের কাছে ধারের ও সুদের টাকা না পেয়ে ছোট বোনের কাছে দাবি করলে দিতে অপারগতা প্রকাশ  করলে জোরপূর্বক মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা চালানোও ঠেকাতে এসে স্বামীকে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার কোতয়ালি মডেল থানায় আসামীদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হচ্ছে, বালিয়া ডাঙ্গা পূর্ব পাড়ার সোহাগের স্ত্রী পারুল,হাফিজুর রহমানের ছেলে সোহাগ, সোহাগ ও হাফিজুর রহমানের ছেলে অন্তুুসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩জন।

যশোর সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা পূর্ব পাড়ার মৃত এলাহী বক্সের ছেলে রফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার কোতয়ালি মডেল থানায় উক্ত আসামীদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগে বলেছেন,তার স্ত্রী মোছাঃ লিপি বেগমের বড় বোন সায়েমের স্ত্রী মোছাঃ মুন্নী উক্ত আসামীদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার স্বরুপ গ্রহন করে। মুন্নী তার স্বামীর সাথে গোলযোগ করে তার বাড়ি হতে পুলিশ লাইন টালী খোলাস্থ তার পিতার বাড়িতে চলে যায়। উক্ত আসামীরা তাদের পাওনা টাকা নিতে এসে মুন্নীকে না পেয়ে উক্ত টাকা পরিশোধের জন্য রফিকুল ইসলামের  উপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬ টায়  উক্ত আসামীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রফিকুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে স্ত্রী  লিপি বেগমকে টাকা পরিশোধ করতে বলে। লিপি বেগম উক্ত টাকার বিষয়ে কিছুই জানেনা বলে জানান। এমনকি লিপি বেগম জানান যে টাকা নিয়েছে তার কাছে গিয়ে চাইতে বলিলে আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে লিপি বেগমকে এলোপাতাড়ীভাবে মারপিট করলে পড়ে যায়। পরে তার মুখের মধ্যে বিষয় ঢেলে হত্যার চেষ্টা চালায়। রফিকুল ইসলাম বাইরে থেকে ঘরে ঢুকে স্ত্রীর অবস্থা দেখে উদ্ধারের চেষ্টা করলে আসামীরা লিপি বেগমে ছেড়ে দিয়ে রফিকুল ইসলামকে এলোপাতাড়ীভাবে মারপিট করে জখম করে। স্বামীর স্ত্রীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা উক্ত টাকা পরিশোধ না করলে হত্যার হুমকী দিয়ে চলে যায়। মূমূর্ষ অবস্থায় লিপি বেগমকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। রফিকুল ইসলাম নিজেও প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন করে। পরে কিছুটা সুস্থ্য হয়ে কোতয়ালি মডেল থানায় আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ তদন্তে নেমেছেন কোতয়ালি মডেল থানার এসআই ফজলুর রহমান বলে জানা গেছে।

যশোর উপশহরে গাঁজাসহ বিক্রেতা আটক

যশোর অফিস

গাঁজা বিক্রির সময় সুমন হোসেন নামে এক গাঁজা বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে যশোর সদর উপজেলার বড় হৈবতপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে। উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা বুধবার রাতে উপশহর ট্রাকস্ট্যান্ডের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

উপশহর পুলিশ ক্যাম্প সূত্রে জানাগেছে,উক্ত ক্যাম্পে কর্মরত একজন এএসআই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক পৌনে ৯ টায় ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনে গাঁজা বিক্রিকালে সুমন হোসেনকে গ্রেফতার করে। পরে তার দখল হতে ২শ’ গ্রাম ওজনের গাঁজা উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে রাতেই মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সুমন হোসেনকে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

নগরীর ডাচবাংলা ব্যাংক অভ্যন্তরে পুলিশ সদস্যর দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি মামলার আসামি নিটুল মাহমুদের আদালতে স্বীকারোক্তি

স্টাফ রিপোর্টার 

নগরীর শেখপাড়া তেতুলতলা মোড়স্থ ডাচবাংলা ব্যাংক অভ্যন্তরে ৩ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্য ধীরেন চন্দ্র দেবনাথ এর ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি মামলার আসামি নিটুল মাহমুদ (২৬) আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক দিনের রিমা- শেষে দু’আসামিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. খালিদ উদ্দিন। এসময় নিটুল মাহমুদের দেয়া ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম রেকর্ড করেছেন। নিটুল মাহমুদ পিরোজপুর জেলার কাউখালি থানার আইরন বাজার এলাকার মৃত. আবু জাফরের ছেলে। অপর আসামি হলেন বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার গৌরম্ভা গ্রামের মো. হুমায়ুন শেখের ছেলে মো. তরিকুল ইসলাম (৩৫)।  গত ২১ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. খালিদ উদ্দিন আসামিদের আদালতে হাজির করে ৭দিনের রিমা-ের অবেদন করেছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ৩ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্য ধীরেন চন্দ্র দেবনাথ কমিউনিটি ব্যাংক থেকে ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা লোন নেয়। ওই টাকা থেকে ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নগরীর শেখপাড়া তেতুলতলা মোড়স্থ ডাচবাংলা ব্যাংকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঠাকুরগাঁও ফাঠানোর জন্য আসেন।    তিনি টেবিলের পাশে টাকার ব্যাগটি রেখে ব্যাংকের জমা ফরম পূরণ করছিলেন। এসময় একজন টাকার ব্যাগটি একটু আড়াল করে তার মোবাইল চাপছিলেন। হঠাৎ দেখেন টাকা ভর্তি ব্যাগটি নেই। তিনি সাথে সাথে চিৎকার দিলে ব্যাংকের দারোয়ান গেট বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ততোক্ষণে টাকার ব্যাগ নিয়ে প্রতারক চক্রটি সরে পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে ব্যাংকের সিসি ফুটেজ দেখে প্রতারক সন্দেহে নিটুল মাহমুদ আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তিতে পরে তরিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এঘটনায় ধীরেন চন্দ্র দেবনাথ বাদী হয়ে ৪জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন যার নং-৩১। মামলার অপর দু’আসামি হলেন বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার  গৌরম্ভা গ্রামের মৃত. মোসলেম শেখের ছেলে আলামিন শেখ মনির (৩৬) ও জালাল (৩৫)।  

খালিশপুরে আলোচিত স্কুলছাত্র বাপ্পী হত্যা মামলার রায় ৩০ সেপ্টেম্বর

স্টাফ রিপোর্টার

দীর্ঘ ১০ বছর পর খালিশপুর প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল স্কুলের ছাত্র মফিজুল ইসলাম বাপ্পী (১৬) কে পিটিয়ে হত্যা মামলার রায়ের দিন ধার্য হয়েছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। গত ২২ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস এম আশিকুর রহমানের আদালতে যুক্তি-তর্ক শুরু হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে এ হত্যা মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন এপিপি এ্যাড. কাজী সাব্বির আহম্মেদ। আসামি রকির পক্ষে এ্যাড. নিরঞ্জন কুমার ঘোষ ও আসামি হাসানের পক্ষে এ্যাড. শফিকুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এর আগে এ হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ জনের মধ্যে ১৬জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। ওই সময় তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস মোহাম্মদ আলীর আদালতে আসামি রকি ও নজরুল ঘটনার বিবরণ দিয়ে এ হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং অন্যান্য আসামিদের জড়িত থাকার বিবরণ দেন।

মামলায় আসামিরা হলেন খালিশপুর প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল এলাকার মান্নানের ছেলে রকি, আবু সাঈদের ছেলে আল-আমিন, মৃত. শামসুল হকের ছেলে হাসান ও আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. নজরুল। এছাড়াও পলাতক আসামিরা হলেন একই এলাকার মোমরেজের ছেলে রবিউল, নিছার ওরফে আনছার আলীর ছেলে মিলন, আজিজুর রহমান হাওলাদারের ছেলে মুজিবর হাওলাদার ও আনসার আলীর ছেলে ইব্রাহিম ওরফে বাহাদুর।

আদালতের এপিপি এ্যাড. কাজী সাব্বির আহম্মেদ জানান, ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় প্লাটিনাম স্কুল মাঠে স্কুলছাত্র বাপ্পী ও তার বন্ধু রাজু একসাথে বসে গল্প করছিলো। ওই সময় পুর্ব শত্রুতার জেরে হকিস্টিক ও লোহার রড নিয়ে বন্ধু রাজুকে মারতে আসে আসামিরা। তখন বাপ্পী বন্ধু রাজুকে বাঁচানোর জন্য ঠেকাতে আসলে আসামিরা বাপ্পীর মাথায় হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করে। বাপ্পী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এই সুযোগে বন্ধু রাজু পালিয়ে যায়। এরপর আসামিরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারতে থাকে। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসারত ডা. ইসমাইল শেখ ও ডা. সহদেব কুমার দাসের কাছে মৃত্যুকালীন জবানবন্দী দেয় ভিকটিম বাপ্পী। ওই দিন রাত ১১টার দিকে বাপ্পী মারা যায়। এঘটনার পরদিন নিহতের বড় ভাই হাফিজুর রহমান খালিশপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন যার নং-১১। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ৩১ মার্চ খালিশপুর থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ২০১৪ সালের ২ জানুয়ারী এ হত্যা মামলাটির চার্জ গঠন করা হয়।

নগরীতে দাদার মার তিরোধান দিবস পালিত

খবর বিজ্ঞপ্তি

“অবলা স্মৃতি কুটির” এর স্বত্ত্বাধিকারী অবলা বালা দেবী “দাদার মার” ২২তম তিরোধান দিবস পালিত হয়েছে (দিব্যান লোকান স গচ্ছুত)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায়  নগরীর ৬৪, স্যার ইকবাল রোডস্থ বাইতিপাড়ার জটাধারী বেদ আশ্রমের প্রধান কার্যালয়ে সম্পুর্ন ঘরোয়া পরিবেশে পালিত হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে তার স্মৃতিচারণসহ প্রভাতে মাঙ্গলিক ক্রিয়া, প্রভাতীয়া সুরে শিব কীর্ত্তন, সংকল্পের সঙ্গে শ্রী শ্রী বেদ, চন্ডী, শ্রী মদ্ভগবদ গীতা পাঠ করেন সমেন দেবনাথ। সন্ধ্যায় গুরু স্ত্রোত্রম ও সমবেত প্রার্থনা, মাতৃ বন্ধনা ও গুরু বন্ধনা করে কোকিল কন্ঠী উমা ও সোমা দেবনাথ।

আলোচনার মাঝে সমেন দেবনাথ বলেন “বিশ্ব মহাবিশ্ব থেকে ক্ষুদ্রাদি ক্ষুদ্র তৃণ পর্যন্ত তৃপ্তি/সুখি হোক আমার এই পরমান্নতে”। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভক্তরা হলেন

বীনা পানি দেবী, সৌমিত দেবনাথ, মিলন দেবনাথ, শিখা ভদ্র, আশুতোষ অধিকারী, শংকর, শংকরী, রূপ সনাতন, বর্ণী, হিরা রানী, কাকুলী, উষা দেবনাথ, শান্তি দেবনাথ, রঞ্জিতা দেবনাথ, নিতাই দেবনাথ, তমা. ছন্দা, সাবিত্রী, সবিতা, গণেশ, স্বপন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে সাহায্যের আকুতি পিতার

তেরখাদায় বসতভিটা জবর দখলের চেষ্টায় কিশোরীকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে ভূমিদস্যুরা

স্টাফ রিপোর্টার

খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার দক্ষিণ কুশলা এলাকায় পৈত্রিক বসতভিটা জবর দখলের চেষ্টায় কিশোরী কণ্যাকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। পুত্রসন্তান ও নিকট আত্মীয় না থাকায় ঠুনকো অযুহাতে প্রায়ই বয়োবৃদ্ধ অলিদ মোল্যাকে মারপিট করে তারা। প্রতিবেশীর অত্যাচারে বারবার থানায় যেয়েও আইনের আশ্রয় পাননি তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা প্রেসকাবে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তেরখাদার দক্ষিণ কুশলা গ্রামের মৃত. হালিম মোল্যার ছেলে অলিদ মোল্যা। তারপক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার জামাতা মো. সরোয়ার হোসাইন। এসব ঘটনায় গতকাল খুলনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত ‘চ’ (১৩) অঞ্চলে মামলা করেছেন অলিদ মোল্যা। এতে ৮জনকে আসামি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, স্থানীয় মৃত. মাজেদ খানের ছেলে সেলিম খাঁ (৪৫), মৃত. জালাল উদ্দিন খাঁর ছেলে আলী খাঁ (৫০), আবুল খাঁর ছেলে আকিজুর খাঁ (৪০), মৃত. নওশের খাঁর ছেলে টিটো খাঁ (৩০), লোয়ার খাঁর ছেলে মিজান খাঁ ও বাবলু খাঁ, মৃত. ইউছুফ খাঁর ছেলে নশু খাঁ দীর্ঘদিন ঠুনকো অযুহাতে অলিদ মোল্যার সাথে ঝগড়া বাঁধিয়ে তাকে ও তার স্ত্রী-কণ্যাকে বেদম মারপিট করে। প্রথমে বুঝতে না পারলেও, পরে বুঝতে পারেন ওই প্রতিবেশীরা তার পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখলের জন্যেই নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে। এসবের প্রতিকার পেতে একাধিকার থানায় গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। সর্বশেষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে কুশলা বাজারে প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে ওরা। কারণ জানতে চাইলে বেধড়ক মারপিট করে মৃত. ভেবে ফেলে রেখে যায়। পরে আমার মেয়ে আশামনি ও স্থানীয়রা এসে উদ্ধার করে। এসময়ে আমাকে ও আমার মেয়েকে জীবনে শেষ করে দেবার হুমকি দেয়। এঘটনায়ও থানায় গেলে মামলা নেয়নি। বরং মামলা করতে গেছি শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে তার মেয়ে আশামনিকে ধর্ষণ করে এলাকায় বদনাম রটিয়ে এলাকা ছাড়া করার চক্রান্ত করছে ভূমিদস্যুরা। এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে কিশোরী কণ্যাদের সম্ভ্রম ও মাথা গোঁজারঠাঁই পৈত্রিক বসতভিটা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

নগরীতে পুলিশের অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৭

স্টাফ রিপোর্টার

মহানগর পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ৮ লিটার দেশীয় তৈরী চোলাই মদ, ১০০ গ্রাম গাঁজা ও ১৭ পিস ইয়াবাসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন নগরীর গোবরচাকা মধ্যপাড়ার মৃত. হোসেন আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান (৬০), দেবেন বাবু রোডের মৃত. সোহেল আকন এর ছেলে মো. কাদের আকন (৫৫), খালিশপুর এন/এফ- ১২৩, বঙ্গবাসি ইমাম বাড়ীর পিছনের রাস্তার মৃত. আব্দুল হক এর ছেলে মো. মহাসিন (৩৪), মীরেরডাঙ্গা মোল্যা বাড়ীর মৃত. দেলোয়ার কাজীর ছেলে মো. আলমগীর কাজী (৪০), খালিশপুর পুরাতন ফেয়ার কিনিক সংলগ্ন রোড নং-১১৩, বাসা নং-২৩ এর সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. ইমাম হোসেন পিত্ত (৩২), বাস্তহারা রোড নং-১১ কাচা কলোনীর মৃত. শাহজাহান মোল্ল্যার ছেলে মো. রফিক মোল্ল্যা (৩০) ও পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থানার জুগিগঞ্জ গ্রামের মৃত. লুৎফর রহমানের ছেলে মো. রুস্তম আলী (৪৪)।

কেএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) কানাই লাল সরকার জানান, গত ২৪ ঘন্টায় নগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মহানগর পুলিশ। এসময় ৮ লিটার দেশীয় তৈরী চোলাই মদ, ১০০ গ্রাম গাঁজা ও ১৭ পিস ইয়াবাসহ ৭মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ৭টি থানায় মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে। 

ঝিনাইদহে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতে এক ব্যবসায়ীকে ৪০ টাকা জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার

ঝিনাইদহ জেলার সদর থানাধীন পায়রা চত্ত্বর এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে মেসার্স দিলীপ ষ্টোর এর মালিক দিলিপ বিশ্বাস (৫০) কে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত র‌্যাব ঝিনাইদহের একটি আভিযানিক দল এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রকিবুল হাসান এর সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ভেজাল কসমেটিকস এবং মেয়াদ উর্ত্তীণ কসমেটিকস মজুত করার অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী মেসার্স দিলীপ ষ্টোর এর মালিক দিলিপ বিশ্বাস (৫০) কে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দিলিপ বিশ্বাস ঝিনাইদহ জেলা সদরের আদর্শপাড়ার দিনবন্দু বিশ্বাসের ছেলে। 

ঝিনাইদহে র‌্যাবের অভিযানে ২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১

স্টাফ রিপোর্টার

ঝিনাইদহ জেলার সদর থানাধীন ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট এর সামনে অভিযান চালিয়ে ২ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যাবসয়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মাদক ব্যাবসয়ী হলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার জগনাথপুর গাংপাড়ার মৃত. কিতাব আলী মন্ডলের ছেলে  মো. মন্টু মন্ডল (৫০)। 

র‌্যাব-৬ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঝিনাইদহ জেলার সদর থানাধীন ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট এর সামনে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল। এসময় ২ কেজি গাঁজাসহ  মন্টু মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

যশোরে র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ গ্রেফতার ১

স্টাফ রিপোর্টার

যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানাধীন গদখালী গ্রামে অভিযান চালিয়ে দেড়কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ী হলেন যশোর জেলার  বেনাপোল পোর্ট থানার গাজীপুর গ্রামের মৃত. জয়নাল আবেদিন এর ছেলে মো. উজ্জল হোসেন (৩৩)। 

র‌্যাব-৬ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানাধীন গদখালী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল। এসময় মেসার্স মেহরাব ফিলিং স্টেশনের সামনে যশোর টু বেনাপোল মহাসড়ক এর পাঁকা রাস্তার উপর থেকে  ১কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ

মো. উজ্জল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে  মামলা রুজু করা হয়েছে।

পি-৪/২

পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে শ্রমিক জনসভা

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার ইষ্টার্ণ জুট মিল গেটের সামনে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় শ্রমিক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইষ্টার্ণ জুট মিলের সিবিএ সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা মোজাম্মেল হক খানের সভাপতিত্বে এবং শ্রমিকনেতা মেহেদী হাসান বিল্লালের পরিচালনায় সভায় বক্তারা বলেন, করোনা মহামারীতে পুরো দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা বিপন্ন। ঠিক এ সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ব ২৫টি পাটকল বন্ধ করে স্থায়ী ও অস্থায়ী মোট প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক বেকার করে দিল আওয়ামী লীগ সরকার। এ দুর্যোগে সারা দুনিয়ার নানা প্রণোদনা দিয়ে মানুষের জীবিকা রক্ষার চেষ্টা চলছে। অথচ বাংলাদেশে করোনা মহামারীর সুযোগ নিয়ে সোনালী আঁশের ঐতিহ্যবাহী পাটকল বন্ধ করে দিল। জনগণের প্রতিবাদ ও প্রশ্নের মুখে বাধ্য হয়ে মুখরক্ষার তাগিদে একবার বলছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) পুনরায় চালু করা হবে, কখনো বলছে জি টু জি-তে চালু হবে, আবার বলছে লীজে চালানো হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল বন্ধের পিছনে সরকারের বড় অজুহাত হলো লোকসান। কিন্তু কাদের কারণে লোকসান, লোকসান কাটাতে কি কি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলÑতার কোনো উত্তর নেই। নি¤œমানের পাট বেশি দামে কেনা, ৫০ দশকের পুরনো তাঁত দিয়ে উৎপাদন করা, মাথাভারী প্রশাসনের ব্যয়সহ সরকারি ভুলনীতি ও প্রশাসনের দুর্নীতি লোকসানের প্রধান কারণ। ২৫টি পাটকলের ১০ হাজার তাঁতের অর্ধেক অচল রেখে পাটকল লাভজনক করা যাবে না। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ হিসেব করে দেখিয়েছিলেন ১২শ কোটি টাকা খরচ করে আধুনিক তাঁত স্থাপন করলে উৎপাদন বাড়বে ৩ গুণ, শ্রমিকদের গড়ে ২৫ হাজার টাকা বেতন দিয়েও পাটকল লাভজনক করা সম্ভব। কিন্তু সরকার সে পথে না গিয়ে ৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করে শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডসেক পদক্ষেপ নিয়েছে। তাই সরকারকে অবিলম্বে পাটকলগুলোকে চালু করে আধুনিকায়ন করতে হবে এবং অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সকল শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা এককালীন প্রদান করতে হবে। শ্রমিক জনসভায় বক্তব্য রাখেনÑপরিষদের আহ্বায়ক এড. কুদরত-ই-খুদা, যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), কেন্দ্রীয় উপদেষ্টাম-লীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এড. আ ফ ম মহসিন, যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ খুলনা জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নাণ্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিপিবি খুলনা মহানগর সাধারণ সম্পাদক এড. মোঃ বাবুল হাওলাদার, গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ খুলনা জেলা সম্পাদকম-লীর সদস্য আনিসুর রহমান মিঠু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় বিকল্প সদস্য গাজী নওশের আলী, সিপিবি নেতা মিজানুর রহমান বাবু, নাগরিক পরিষদ নেতা এস এম চন্দন, ক্ষুধামুক্ত আন্দোলনের আহসান হাবিব, গণসংহতি আন্দোলন ফুলতলা উপজেলা আহ্বায়ক শ্রমিকনেতা অলিয়ার রহমান, শ্রমিকনেতা মোঃ নূরুল ইসলাম, মোঃ কামরুজ্জামান, সামশেদ আলম শমশের, জাকির হোসেন চুন্নু, নজরুল ইসলাম মল্লিক, যুব ইউনিয়ন নেতা গাজী আফজাল হোসেন, ছাত্র ফেডারেশন খুলনা মহানগর আহ্বায়ক আল আমিন শেখ, ছাত্র ইউনিয়ন বিএল কলেজ শাখার সভাপতি সোমনাথ দে প্রমুখ। সভায় আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় ডিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি সফলের জন্য শ্রমিকসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানান হয়।

পি-১/১

মেহেরপুরে আল্লাহ’র দলের সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

মেহেরপুর সদর উপজেলার বসন্তপুর এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দল’র এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঝিনাইদহ র‌্যাব। বৃহস্পতিবার ভোররাতে সদরের বসন্তপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার কামাল উদ্দিন জানান, ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদর থানার জঙ্গি মামলার অন্যতম পলাতক আসামী তারিক হোসেন বসন্তপুর এলাকায় অবস্থান করছে এমন খবরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তারিক হোসেন মেহেরপুর সদর উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের আব্দুল বারিকের ছেলে। সে আল্লাহর দলের মেহেরপুর সদর থানার “সহ থানা নির্বাহী” হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিল। সকালে চুয়াডাঙ্গা আদালতে তাকে সোপর্দ করা হয়।

পি-৪/১

ঝিনাইদহে ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসাধনী ব্যবসায়ীর জরিমানা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে নকল, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও আমদানী নিষিদ্ধ প্রসাধনী বিক্রির অভিযোগ এ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের গণিমাস্তান সড়কে র‌্যাবের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রকিবুল হাসান। র‌্যাব জানায়, মেসার্স দীলিপ স্টোর নামের এক দোকানে বিপুল পরিমান নকল, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও আমদানী নিষিদ্ধ প্রসাধনী মজুদ রেখে বিক্রয় করা হচ্ছে, র‌্যাবের এমন সংবাদে অভিযান চালানো হয়। এসময় আদালতের বিচারক বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী জব্দ করেন। পাশাপাশি দোকানের মালিক দীলিপ বিশ্বাসকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অভিযানে র‌্যাব-৬, সিপিসি-২ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামাল উদ্দিন এবং স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি এইচ এম শফিকুর রহমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পি-১/২

মহসেন জুট মিলস শ্রমিকদের চুড়ান্ত পাওনার দাবীতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা

ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি

খুলনার শিরোমণি শিল্পাঞ্চলের ব্যক্তিমালিকানাধীন মহসেন জুট মিলস শ্রমিক কর্মচারীদের চুড়ান্ত পাওনা পরিশোধের দাবীতে পুর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে, আন্দোলন রত বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রমিক সহ সাধারণ শ্রমিক কর্মচারীরা। ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় মহসেন জুট মিলের প্রধান ফটকের সামনে থেকে পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করে সোনালী জুট মিলের সামনে পথ সভা শেষ করে খুলনা যশোর মহাসড়কের ফুলবাড়ীগেট এর গুরুত্বপুর্নসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জনতা মার্কেট এর সামনে পথসভা করে । পথসভা চলাকালিন সময়ে  খুলনা বিভাগীয় শ্রম পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান শ্রমিক নেতাদের মুঠোফোনে বলেন শ্রমিকের পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে ইতিমধ্যে মহসেন জুট মিলের মালিকের বিরুদ্ধে আমি  বাদি হয়ে শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করেছি। এছাড়া মিলের শ্রমিক কলোনির ৩ একর জমি মিল মালিক বিক্রি করে  শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করার যে প্রতিশ্রতি দিয়েছে সে ব্যাপারে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা প্রশাসক বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছেন । সে সকল পক্রিয়া সম্পন্ন হলে অতিদ্রত শ্রমিকেরা তাদের নায্য পাওনা বুঝে পাবে । শ্রম পরিচালকের এ আশ্বাসে শ্রমিকরা তাদের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে বেলা ১ টার সময় শেষ করেন। ব্যক্তিমালিকানাধিন পাট, সুতা বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি ও সোনালী জুট মিল সিবিএ সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ  আমজাদ হোসেনের  সভাপতিত্বে ও ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিক পরিবারের সন্তান সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক এর পরিচালনায় পথসভায় বক্তব্য রাখেন ব্যক্তিমালিকানাধীন পাট সুতা বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও মহসেন জুট মিলের  সাবেক সিবিএ সাধারণ সম্পাদক খান গোলাম  রসুল , ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও এ্যাজাক্স্রজুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, শ্রমিকলীগ নেতা ও ফেডারেশনের সহ সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত মুন্সি, ওয়াহিদ মুরাদ,  আঃ সালাম গাজী, মোঃ কাবিল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিল কাজী , ক্বারী আছহাব উদ্দিন, মোঃ বখতিয়ার, শেখ এমরান, তোফাজ্জেল হোসেন, আঃ ওয়াদুদ , ওবায়দুর রহমান, আঃ ওহাব, আমির মুন্সি, এরশাদ আলী, সাংবাদিক মিহির রঞ্জন বিশ্বাস প্রমুখ । শ্রমিক নেতা গোলাম রসুল খান বলেন আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে মহসেন জুট মিলের শ্রমিকদের চুড়ান্ত পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে শ্রম পরিচালকের দপ্তর থেকে শ্রমিকদের পাওনার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তারিখ না দিলে লাগাতার রাজপথ রেলপথ অবরোধ সহ কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এছাড়া ২৫ সেপ্টেম¦র  শুক্রবার বিকাল ৪ টায় মহসেন জুট মিল শ্রমিক কলোনীতে শ্রমিক জনসভার মধ্য দিয়ে পরবর্তি কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।  

পি-৪/১

মোড়েলগঞ্জে প্রতিবন্ধীবান্ধব অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে বৃহস্পতিবার ইএইচডি প্রকল্প অফিসে কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে যুক্তরাজ্যের দাতা সংস্থা এফসিডিও-এর আর্থিক সহযোগিতায় খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা (কেএমএসএস) কর্তৃক বাস্তবায়নকৃত সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা (ইএইচডি) প্রকল্পের আওতায় “প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য প্রতিবন্ধীবান্ধব অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ”-এর আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ দিলদার হোসেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছিলেন কেএমএসএস-র নির্বাহী অফিসার আফরোজা আক্তার মঞ্জু। মোড়েলগঞ্জ উপজেলার কমিউনিটি কিনিকের ১৬ জন্য সিএসসিপি সফলভাবে উক্ত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

পি-৪/১

মোড়েলগঞ্জে খুলনা সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষর ইন্তেকাল

 মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ফুলহাতা গ্রামের বাসিন্দা ও খুলনা সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. সেকান্দার আলী শিকদার (৮০) বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি……..রাজিউন)। তিনি স্ত্রী,৩ ছেলে রেখে গেছেন। তিনি দির্ঘ দিন ধরে বার্ধক্য জনিত রোগে ভুগছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ আছর জানাজা শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

পি-১/১

ফকিরহাটে পিকআপ ও গরু সহ দুই সদস্য জনতার হাতে আটক

ফকিরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মডেল থানা পুলিশ পিকআপ ও দুইটি গরুসহ সিন্ডিকেটের দুই সদস্যকে আটক করেছে। বুধবার সন্ধ্যায় তাদেরকে বেতাগার মাসকাটা এলাকা থেকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো পাগলা শ্যামনগর গ্রামের সৈয়দ মোল্লার পুত্র পিকআপ চালক ও সিন্ডিকেটের সদস্য সুমন মোল্লা (২৮) ও দক্ষিণ খানপুর এলাকার আলাল সরদারের পুত্র রাসেল সরদার (২২)। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ব্যাপারে ফকিরহাট মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। মডেল থানা পুলিশের উপ-পুলিশ পরির্দশক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, চক্রটি যশোর এলাকা থেকে দুইটি গরু চুরি করে বেতাগার মাসকাটা মল্লিশখা এলাকায় এনে রাখে। স্থানীয়দের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় তারা রাত ৭টার দিকে পিকাপে করে গরু ও মটর সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা তাদেরকে আটক করে পুলিশের নিকট সোর্পদ করে। এদের সাথে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে। পুলিশ তাদেরকে আটকের জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। গরু চুরি চক্রের মোট ৫জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হবে পুলিশ জানিয়েছে। তবে কোন এলাকা থেকে গরু দুটি চুরি করা হয়েছে তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরি করে আসছিল। উল্লেখ্য, ফকিরহাট সহআশপাশ অঞ্চল সমূহে সম্প্রতিক সময়ে অর্ধশতাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এবিষয়ে থানায় অভিযোগ বা মামলা দায়ের হলেও পুলিশ চুরি হওয়া গরু বা চোরদের আটক করতে পারেনী।

পি-৪/২

বাগেরহাটে কমদামে টিসিবির পন্য ক্রয়ে খুশি নিম্ন আয়ের মানুষ

মাসুম হাওলাদার, বাগেরহাট

করোনা পরিস্থিতিতে বাজার দরের থেকে কমদামে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)র পন্য ক্রয় করতে পেরে খুশি বাগেরহাটের নিম্ন আয়ের মানুষ।সপ্তাহে চার দিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমান গাড়ির মাধ্যমে তেল, ডাল, চিনি ও পেয়াজ বিক্রি করেন টিসিবির ডিলাররা।নিম্ন আয়ের মানুষেরা নির্দিষ্ট দূরত্বে দাড়িয়ে স্বাস্থ্য বিধি মেনে এসব পন্য ক্রয় করেন।

বৃহস্পতিবার(২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাগেরহাট শহরের স্বাধীনতা উদ্যানে টিসিবির গাড়িতে পন্য বিক্রি করতে দেখা যায়। পন্য ক্রয়ের জন্য সাধারণ মানুষের ভীড়ও ছিল।ডিলারের নিজস্ব লোকেরা টাকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে পন্য সরবরাহ করছেন। পন্য বিক্রিতে কোন প্রকার অনিয়ম রোধ করতে রয়েছেন সরকারি ট্যাগ অফিসার।

টিসিবির পন্য ক্রয় করতে আসা রাহিলা বেগম ও সোহবান সরদার বলেন, বাজারে পেয়াজের দাম অনেক বেশি। টিসিবির পন্য বিক্রি হবে তাই শুনে এখানে এসেছি। এখান থেকে লাইনে দাড়িয়ে কম দামে তেল, ডাল, চিনি ও পেয়াজ কিনেছে। সরকারের এ উদ্যোগ অনেক ভাল লেগেছে আমাদের।

টিসিবির পন্য বিক্রয়ের ট্যাগ অফিসার খান আবুল হাসান বলেন, করোনা পরিস্থিতি ও নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পন্য বিশেষ করে পেয়াজের মূল্যের উর্দ্ধগতির কারণে মানুষ এক ধরণের বিপাকে পড়েছে। তাই সরকার বাজার দরের থেকে অনেক কম দামে টিসিবির পন্য ক্রয়ের সুযোগ দিয়েছে। টিসিবির ডিলাররা যাতে পন্য বিক্রির ক্ষেত্রে কোন রকম অনিয়ম না করে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা তদারকি করে থাকি।

টিসিবির ডিলার মেসার্স সোনিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধীকারী রাসেল বলেন, সরকার নির্ধারিত ৮০ টাকা লিটারে তেল, ৩০ টাকা কেজিতে পেয়াজ, ৫০ টাকা কেজিতে ডাল ও চিনি বিক্রি করছি। সাধারণ মানুষ ভালই ক্রয় করছেন।

পি-৪/৩

মহাসড়কের বেহাল দশা দেখার কেউ নেই

সম্রাট হোসেন, শৈলকুপা ( ঝিনাইদহ)

 ঝিনাইদহ কুষ্টিয়া মহাসড়কের শৈলকুপা উপজেলা অংশের আমতলা বাজার হইতে বড়দহ নতুন ব্রিজ পর্যন্ত ১০ কি.মি. মহাসড়কে চলাচলের অবস্থা খুবই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে ছোট-বড় প্রায় ৫০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। তবে রাস্তা ভেঙ্গে ছোটখাটো খানাখন্দের কারণে রাস্তায় চলাচল করা যানবাহন গুলো প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, এতে করে যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলে দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। রাস্তাটির ৬ মাস আগে আবেদন কনস্ট্রাকশন আমতলা তেল পাম্পের সামনের কিছু অংশ, ভাটই বাজার ৪০০মিটার গাড়াগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ৪০০  মিটার নতুন করে রাস্তা নির্মাণ করেন। নতুন তৈরি করা রাস্তাটুকুই  সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় আছে। সরোজমিনে দেখা যায়, রাস্তাটি চেনার কোন উপায় নেই যে এটি  পিচঢালা একটি মহাসড়ক। রাস্তায় কাদা আর পানি ছাড়া পিস বা খুয়ার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার  যেখানে  সেখানে খোয়া পড়ে আছে দেখলে মনে হয়  নতুন রাস্তা তৈরি করার জন্য হয়তো রাস্তার উপর এই খুয়া গুলো রাখা হয়েছে। আসলে এই রাস্তা নির্মাণের সময় ও সংস্কারের সময় পিচের বদলে পোড়া মবিল  ও নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের কারণে রাস্তার এই বেহাল দশা। রাস্তা সংস্কার করা হয় তবে সকালে সংস্কার করলে বিকালে রাস্তাটি ভেঙ্গে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। পরের দিন আর বোঝা যায়না রাস্তাটি কোথায় কিভাবে সংস্কার করা হয়েছিল। এলাকাবাসী ও পরিবহন শ্রমিকরা আমাদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে ও সরকার প্রধানের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে অতি দ্রুত এই রাস্তাটুকু সংস্কার করে যানবাহন চলাচলের  উপযোগী করে তোলার জন্য।

পি-৪/২

পাইকগাছার দেলুটি ইউনিয়নের চকরিবকরি বদ্ধ জলমহল ভেঙ্গে আবারো ৩ গ্রাম প্লাবিত : চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মান

পাইকগাছা প্রতিনিধি

অমাবস্যার প্রবল জোয়ারে পাইকগাছর দ্বীপবেষ্টিত দেলুটি ইউনিয়নের চকরিবকরি বদ্ধ জলমহালের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে আবারো গেউয়াবুনিয়া, চকরিবকরি, পারমধুখালী তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ী, গবাদী পশু, মৎস্য খামার, আমন ফসল ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় দুই শত পরিবার এখনো মানবেতর জীবন যাপন করছে।

পাইকগাছা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীর নির্দেশনায় সৃষ্টি ড্যাম কেয়ার টীম ও দেলুটি ইউনিয়ন-এর তত্ত্বাবধানে এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতা-স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় তিন শত নারী-পুরুষের দুই দিন স্বেচ্ছা-শ্রমে প্রতিরক্ষা বাঁধটি বুধবার দুপুরে নির্মান করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মানের সময় উপস্থিত ছিলেন দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান ও ড্যাম কেয়ার টীমের সভাপতি রিপন কুমার মন্ডল, ইউপি সদস্য রবীন্দ্র নাথ মন্ডল ও প্রীতিলতা ঢালী, আওয়ামীলীগ নেতা সুকৃতি মোহন সরকার, কুমুদ রায়, শ্যামল রায়, পরিতোষ মন্ডল, নিরোদ মল্লিক, জ্যোতিষ চন্দ্র ঢালী, বিধান চন্দ্র মন্ডল, যুবলীগের সুব্রত রায়, অতনু মন্ডল, তাপস মন্ডল, বিভূতি সরকার, বিধান রায়, অমল মন্ডল, বিজন মন্ডল, তাপস সরদার, কার্তিক সরদার, পবিত্র সরকার, দীপক সরকার, শশ্মান সরকার, বিশ্বজিৎ ঢালী, মিলটন মন্ডল, গোবিন্দ মন্ডল প্রমুখ।

পি-১/২

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির দাবীতে পানিবন্দী মানুষের মানববন্ধন ও অবস্থান

খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের পানিবন্দী মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি ও পানি নিষ্কাশনের দাবীতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগি পানিবন্দী সহস্্রাধিক মানুষ উক্ত মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী নাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, ইলিয়াস হোসেন, সোহাগ খান, আব্দুর রাজ্জাক ও বিকাশ দাস প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে প্রাণ সায়ের খাল খননের অনেক আগেই খালে বেঁড়িবাধ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেয়ায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন লাবসা, বল্লী, ঝাউডাঙ্গা ও আগরদাঁড়ি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষনে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি, মৎস্য ঘের ও পুকুর। গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগী রাখার জায়গা টুকু পর্যন্ত নেই। পানিতে তলিয়ে গেছে পাকা রাস্তাও। জলাবদ্ধতায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন ৪টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। বক্তারা বলেন, শুকনা মৌসুমের আগেই প্রাণ সায়ের খাল খননের টেন্ডার হলেও তখন খাল খনন করা হয়নি। বক্তারা এ সময় অনতিবিলম্বে সাতক্ষীরা প্রাণ সায়ের খালের উপর দেওয়া বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন করার জোর দাবী জানান। মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শেষে তারা জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

পি-৪/১

বরগুনায় দুস্থ পরিবারের মাঝে নৌবাহিনীর সহায়তা প্রদান

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা, ২৪ সেপ্টে¤¦র ২০২০ বৃহস্পতিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে দরিদ্র, অসহায়, ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় কমান্ডার খুলনা নেভাল এরিয়ার তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট বরগুনা সদর উপজেলায় ৭০টি দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে। ত্রাণের মধ্যে ছিল শাড়ি, লুঙ্গি এবং থ্রি পিছ। দরিদ্র জনগণ এসব সহায়তা পেয়ে নৌবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

পি-৪/২

সংবাদ সম্মেলনে সাহায্যের আকুতি পিতার

তেরখাদায় বসতভিটা জবর দখলের চেষ্টায় কিশোরীকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে ভূমিদস্যুরা

স্টাফ রিপোর্টার

জেলার তেরখাদা উপজেলার দক্ষিণ কুশলা এলাকায় পৈত্রিক বসতভিটা জবর দখলের চেষ্টায় কিশোরী কণ্যাকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। পুত্রসন্তান ও নিকট আত্মীয় না থাকায় ঠুনকো অযুহাতে প্রায়ই বয়োবৃদ্ধ অলিদ মোল্যাকে মারপিট করে তারা। প্রতিবেশীর অত্যাচারে বারবার থানায় যেয়েও আইনের আশ্রয় পাননি তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা প্রেসকাবে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তেরখাদার দক্ষিণ কুশলা গ্রামের মৃত হালিম মোল্যার ছেলে অলিদ মোল্যা। তারপক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার জামাতা মোঃ সরোয়ার হোসাইন। এসব ঘটনায় বৃহস্পতিবার খুলনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত ‘চ’ (১৩) অঞ্চলে মামলা করেছেন অলিদ মোল্যা। এতে ৮জনকে আসামী করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, স্থানীয় মৃত মাজেদ খানের ছেলে সেলিম খাঁ(৪৫), মৃত জালাল উদ্দিন খাঁর ছেলে আলী খাঁ (৫০), আবুল খাঁর ছেলে আকিজুর খাঁ(৪০), মৃত নওশের খাঁর ছেলে টিটো খাঁ(৩০), লোয়ার খাঁর ছেলে মিজান খাঁ ও বাবলু খাঁ, মৃত ইউছুফ খাঁর ছেলে নশু খাঁ দীর্ঘদিন ঠুনকো অযুহাতে অলিদ মোল্যার সাথে ঝগড়া বাঁধিয়ে তাকে ও তার স্ত্রী-কণ্যাকে বেদম মারপিট করে। প্রথমে বুঝতে না পারলেও, পরে বুঝতে পারেন ওই প্রতিবেশীরা তার পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখলের জন্যেই নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে। এসবের প্রতিকার পেতে একাধিকার থানায় গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। সর্বশেষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে কুশলা বাজারে প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে ওরা। কারণ জানতে চাইলে বেধড়ক মারপিট করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। পরে আমার মেয়ে আশামনি ও স্থানীয়রা এসে উদ্ধার করে। এসময়ে আমাকে ও আমার মেয়েকে জীবনে শেষ করে দেবার হুমকি দেয়। এঘটনায়ও থানায় গেলে মামলা নেয়নি। বরং মামলা করতে গেছি শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে তার মেয়ে আশামনিকে ধর্ষণ করে এলাকায় বদনাম রটিয়ে এলাকা ছাড়া করার চক্রান্ত করছে ভূমিদস্যুরা। এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে কিশোরী কণ্যাদের সম্ভ্রম ও মাথা গোঁজারঠাঁই পৈত্রিক বসতভিটা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

পি-৪/২

খুবিতে নবনির্মিত মন্দিরের উদ্বোধন

সবধর্মের মূলে রয়েছে সত্য, সুন্দর কল্যাণ ও আলোর পথের দিশা: উপাচার্য

খবর বিজ্ঞপ্তি

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় মন্দিরের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান মন্দিরের উদ্বোধন ফলক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। পরে এক আলোচনা সভায় উপাচার্য বলেন, সব ধর্মেই মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে। ধর্মের মূল কথাই সত্য, সুন্দর, ন্যায় ও কল্যাণ। এক ¯্রষ্টার কাছে সবাই আমরা যে যার ধর্ম মতে কল্যাণ চাই। পার্থিব জগতে মানব কল্যাণ, মানব সেবা মহত্তর কাজ। সকল মানুষকে এক ¯্রষ্টারই সৃষ্টি হিসেবে বিবেচনা করতে পারলে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করা সম্ভব। সমাজে ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে বৃহত্তর কল্যাণ সাধিত হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সে স্বপ্নই দেখেছিলেন বলেই সংবিধানে সে বিষয়ে মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করেন। তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা, মুক্তবুদ্ধি চর্চার পীঠস্থান। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে এখানে এমন একটি পরিবেশ গড়ে উঠেছে যেখানে সবাই মিলে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে সচেষ্ট। গত মাসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ উদ্বোধন হয়। আজ মন্দির উদ্বোধন হলো। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারি সবাই জ্ঞান চর্চা ও নিজ নিজ কর্তব্যের পাশাপাশি স্ব স্ব ধর্মের বিধিবিধান পালনের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে সকলের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো। তিনি এই মন্দির নির্মাণের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। মন্দির নির্মাণ কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. সমীর কুমার সাধুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মোঃ শরিফ হাসান লিমন, শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. আশিষ কুমার দাস, মন্দিরের প্রধান ডিজাইনার স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক গৌরী শংকর রায়, মন্দির নির্মাণ কমিটির সদস্য-সচিব উপ-রেজিস্ট্রার কৃষ্ণ পদ দাস এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পম্পি পাল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন রায় ও ফার্মেসী ডিসিপ্লিনের প্রভাষক সুস্মিতা পাল। বক্তারা এই মন্দির নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের আন্তরিকতা, পৃষ্ঠপোষকতা, প্রচেষ্টা এবং সার্বিক সহযোগিতার বিষয় কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। এর পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় ট্রেজারারের নেতৃত্বে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতাও পালন করা হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, প্রভোস্ট, বিভাগীয় প্রধানসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এই মন্দিরের মূল ভবনের আয়তন আনুমানিক ১১০০ বর্গফুট এবং মন্দির চত্বরের আয়তন আনুমানিক ৩০০০ বর্গফুট। এই মন্দির নির্মাণে মাটি ভরাটসহ এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৪৬ লাখ টাকা। মন্দিরের অপর ডিজাইনার স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক শিবু প্রসাদ বসু।

পি-৪/২

খুবি শিক্ষার্থীদের স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদানে গ্রামীণফোনের সাথে এমওইউ স্বাক্ষরিত

খবর বিজ্ঞপ্তি

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদানে গ্রামীনফোনের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে এমওইউ স্বাক্ষরের পর অনলাইনে উভয় পক্ষের মধ্যে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনাকালে উপাচার্য এই করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে স্বল্প মূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানে এগিয়ে আসার জন্য গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের যে, ক্ষতি হচ্ছে তা কাটিয়ে উঠতে এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা অনেক আগে থেকেই নানাভাবে চেষ্টা করছি। চলতি মাসের ১ তারিখ থেকেই আমরা পুরোদমে অনলাইনে কাস শুরু করেছি। কিন্তু উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক পাওয়ায় কিছু অসুবিধা দেখা দেয়।   গ্রামীণফোনের সাথে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা নিরসন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের অনলাইন শতভাগ কাসে যোগ দিয়ে শিক্ষাকার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে। তিনি আরও বলেন গ্রামীণফোন চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে ও সেবা সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আরও অনেক ক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারে। আমরা সে আশাবাদও ব্যক্ত করি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবে অতিঅল্প সময়ের মধ্যে সাড়া দেওয়ায় এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রামীণফোনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষসহ খুলনাঞ্চলে দায়িত্বেরত সকলকে ধন্যবাদ জানান।    অনলাইনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় আরও অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান কুদ্দুস, সংশ্লিষ্ট কমিটির আহবায়ক কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ আনিসুর রহমান। গ্রামীণফোনের পক্ষে ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ের চীফ বিজনেস অফিসার কাজী মাহবুব হাসান, হেড অব এমেজিং এম. শাওন আযাদ। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান কুদ্দুস এবং গ্রামীণফোনের পক্ষে খুলনা রিজিওনাল হেড এ. এম. এম. সালাহ উদ্দিন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ, সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য অর্থনীতি ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ নাসিফ আহসান, ইলেক্ট্রনিক এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ শামীম আহসান, খুলনা সার্কেল বিজনেস হেড মোহাম্মদ আউলাদ হোসেন, খুলনা সার্কেল এমেজিং হেড খন্দকার রিয়াজ রহমান, মার্কেট কম্যিউনিকেশন অফিসার বিপুল সাহা, খুলনা এরিয়া ম্যানেজার মলয় কান্তি মিত্র, জোন ম্যানেজার হাসান হাফিজুর রহমান, টেরিটোরি ম্যানেজার সৈয়দা তামান্না জাহান উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এ প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে কাসে যুক্ত হওয়ার সুবিধার্থে স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য গ্রামীণফোনের সাথে এমওইউ অনুযায়ী আগ্রহী শিক্ষার্থীদের গ্রামীণফোনের নিকট থেকে ১০ (দশ) টাকা মূল্যের একটি সিম ক্রয় করতে হবে। উক্ত সিম ব্যবহারকারী ২২৫ (দুইশত পঁচিশ) টাকার বিনিময়ে ত্রিশ দিনে ৩০ জিবি ডাটা ব্যবহার করতে পারবে। এই ডাটা শুধুমাত্র একাডেমিক কার্যক্রম সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা যাবে। এই সিম এর মাধ্যমে সরাসরি ডায়াল করে কথা বলা যাবে না। এই সিম ক্রয় করতে আগ্রহীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোড করা এড়ড়মষব ঋড়ৎস-এ প্রয়োজনীয় তথ্যাদি আইডি কার্ড/জন্মনিবন্ধনের স্ক্যান কপিসহ ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখের মধ্যে পূরণ করে অনলাইনে জমা দিতে বলা হয়েছে। যাদের মাসিক ডাটা ব্যবহারের পরও উদ্বৃত থাকবে তা পরবর্তী মাসে রিচার্জের পর উক্ত অব্যবহৃত ডাটাও তার সাথে যুক্ত হবে। শিক্ষার্থীরা যে সমস্ত সেবা পাবে তা হচ্ছে তড়ড়স, ঞবধসং, ঝশুঢ়ব, এড়ড়মষব গববঃ, ণড়ঁঃঁনব, ডযধঃংঅঢ়ঢ়, ঋধপবনড়ড়শ, শঁ.ধপ.নফ এড়ড়মষব ংবধৎপয ঋরষব ংঃড়ৎধমব ংবৎারপবং ষরশব এড়ড়মষব উৎরাব, উৎড়ঢ় ইড়ী, ঙহব উৎরাব ঊসধরষ: এসধরষ, ণধযড়ড়, ঐড়ঃসধরষ, শঁ.ধপ.নফ

১/১

রামপালে বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা

রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

রামপালের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বন পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার। বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় রামপাল উপজেলা অডিটোরিয়ামে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি জনপ্রতিনিধি এবং সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাপ্তরিক কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার নির্দেশনা দেন। জনপ্রতিনিধি ও সরকারী কর্মকর্তাদের দূর্নিতীমুক্ত থেকে কাজ করার জন্য আহব্বান জানান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রামপাল উপজেলা চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাধন কুমার বিশ্বাস, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল হক লিপন, রামপাল থানার ওসি মনজুরুল আলম, ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল আমিন, গাজী গিয়াস উদ্দিন, গাজী আকতারুজ্জামান, ছাত্রলীগ সভাপতি হাফিজুর রহমান সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ।

পি-১/১

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী দুই দিনের সফরে খুলনা আসছেন

তথ্য বিবরণী

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন দুই দিনের সফরে আগামী শনিবার খুলনা আসছেন। সফরসূচি অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সকাল ১১টায় প্রধান অতিথি হিসেবে বয়রাস্থ খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নতুন কার্যালয় ভবন এবং অডিটোরিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এবং জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

পি-১/২

নগরীর পুকুরগুলো লিজ দেওয়া হবে না: সিটি মেয়র

তথ্য বিবরণী

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, নগরীর পুকুরগুলো লিজ দেওয়া হবে না। এগুলো দৃশ্যমান ও খননের জন্য জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে তিন কোটি টাকা বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। অনেকে পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষসহ বিভিন্নভাবে ব্যবসা শুরু করেন। এই কাজগুলো আর করতে দেওয়া হবে না। মেয়র বৃহস্পতিবার সকালে নগরভবন সম্মেলনকক্ষে জার্মান সরকারের অধীন উন্নয়ন সহযোগী কঋড কর্তৃক অর্থায়নকৃত ঈষরসধঃব ঈযধহমব অফধঢ়ঃপফ টৎনধহ উবাষড়ঢ়সবহফ চৎড়লৎপঃ এর চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত প্রকল্প উপস্থাপন এবং স্টেকহোল্ডারদের মতামত গ্রহণ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। সিটি মেয়র বলেন, নগরীতে ৩১টি পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে কেসিসির আওতায় ১১টি। নগরবাসীর স্বার্থরক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সবকিছু করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে রূপসা ও ভৈরব নদ খননের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ড্রেনব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনার উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। ইত্যেমধ্যে শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনে একনেক সভায় অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পের অর্থ সঠিকপথে ব্যয় করতে মেয়র সংশ্লিষ্টদের নিদের্শ দেন। কর্মশালয় কেসিসি’র প্যানেল মেয়র মোঃ আমিনুল ইসলাম মুন্না ও মোঃ আলী আকবার এবং ১৭টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা, কেসিসি’র কর্মকর্তা, ওয়ার্ড সচিব, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশিলসমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের স্থাপত্য অনুষদের প্রফেসর ড. সিরাজুল হাকিম। পরে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক নগরভবন সম্মেলনকক্ষে রোটারি জেলা ৩২৮১ বাংলাদেশ গভর্ণরের সাথে মতবিনিময় করেন এবং নগরভবন চত্ত্বরে রোটারি জেলা ৩২৮১ বাংলাদেশ গভর্ণর মোঃ রুবায়েত হোসেন বর্জ্যব্যবস্থাপনার জন্য ২০টি ভ্যান মেয়রের কাছে হস্তান্তর করেন। এসময় খুলনা প্রেসকাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতিত্ব মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, খুলনা চেম্বারের পরিচালক মোঃ মফিজুল ইসলাম টুটুলসহ খুলনা ও ঢাকা জেলার রোটারি ৩২৮১ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্টসহ রোটারিয়ানরা উপস্থিত ছিলেন।

  স্টোরী===============

ছোট্ট বাপ্পিই প্রতিবন্ধি আম্বিয়ার বেঁচে থাকার শক্তি

সাবজাল হোসেন

মা তুমি হুইল চেয়ারে বসে সামনের দিকে নজর রাখো। একদম নড়াচড়া করনা। চাকায় হাত দিয়ে ঘোরানোর চেষ্টাও করনা। কেননা অচল দেহে আবার পড়ে গেলে আমার সব শেষ। তাই চেয়ারে বসে তুমি ঠিকমত হ্যান্ডেল ধরে রাখো। আর মানুষের কাছে হাত এগিয়ে দাও। আমি চেয়ারের পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমার তেমন কষ্ট হচ্ছেনা মা। বরং পড়ে গেলেই তোমার ক্ষতি হবে। তখন আমাকে কে দেখবে ? প্রতিবন্ধি মায়ের হুইল চেয়ারের পেছনে ধাক্কা দিয়ে পথচলার সময় কথাগুলো বলছে ১০ বছরের শিশু সন্তান রাব্বি। আর জীবনের একমাত্র অবলম্বন শিশু সন্তানের এমন কথায় মা আম্বিয়া বেগমের চোখ বেয়ে বেয়ে পানি ঝরছে। হৃদয় বিদারক এমন ঘটনা ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের ছিন্নমুল এক প্রতিবন্ধি মাকে ঘিরে শিশু সন্তানের।

আম্বিয়া বেগম জানান, আমি সাতক্ষীরা জেলার বলাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রশিদ সর্দারের মেয়ে। প্রায় ১২ বছর আগে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বাকাশপুর গ্রামের আক্তার হোসেনের সাথে আমার বিয়ে হয়। একমাত্র সন্তান রাব্বির বয়স যখন মাত্র ৩ মাস মাদকাসক্ত স্বামী নির্মমভাবে আমাদের ফেলে চলে যায়। এরপর গতি হয় আমার এক খালার বাড়িতে। সেখানে কাজ করে কোন রকমে মা ছেলের দিন কাটতো। পরে সেখানে থেকেই ছেলে রাব্বিকে খুলনার শিরোমনির গিলেতলার মোহম্মদিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করি। আমি কাজ করতাম আর চলতাম। কিন্ত বছর দেড়েক আগে আমি টাইফয়েডে আক্রান্ত হই। অভাবের কারনে ঠিকমত চিকিৎসাসেবা না নিতে পারায় অবশেষে পঙ্গুত্ব হয়েছে আমার জীবনসঙ্গী। আমার পায়ের নিচের অংশ সরু হয়ে গেছে। এখন ভর দিয়ে দাঁড়াতেও পারি না। ফলে চলাচলের জন্য হুইল চেয়ার হয়েছে সম্বল। আমি জানি মানুষের কাছে হাত পাতাটা অসম্মানের। কিন্ত আমার উপায় নেই।  আপন বলতে কেউ না থাকায় প্রতিবন্ধি জীবনে বাধ্য হয়ে মানুষের কাছে হাত পাততে হচ্ছে। এখন একমাত্র শিশুপুত্র রাব্বিকে নিয়ে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের মোবারকগঞ্জ রেলষ্টেশন পাড়ায় একটি ঝুপড়ি বাসায় ভাড়ায় বসবাস করছি।

তিনি আরও বলেন,সাহায্যের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে হুইল চেয়ারে করে যেতে হয়। এ কাজে তার শারিরিক অক্ষমতার জন্য শিশুপুত্র রাব্বির সাহায্য নেয়া লাগে। সে হুইল চেয়ারের পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ে চলে। এভাবে সারাদিন ঘুরে মানুষের করুনার টাকা দিয়ে সন্ধ্যায় মাছ ছেলের খাবার কিনে বাসায় ফিরি। আবার সকাল হলেই মা ছেলে বের হই মানুষের দ্বারে দ্বারে। এভাবে বেঁচে আছি দুটি প্রাণ।

আম্বিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, শরীরের কর্মক্ষমতা হারিয়ে এখন আমি বড্ড অসহায়। শিশু বাচ্চা হুইল চেয়ার ঠেলে প্রতিদিন বিকালে কান্ত হয়ে পড়ে। তখন কলিজার টুকরা সন্তানের মুখের দিকে তাকালে খারাপ লাগে। কেননা এখন বাপ্পির খেলার বয়স। তারপরও মায়ের কষ্ট দিতে চায় না সে। তিনি আরো বলেন, সব সময় ভাবি কবে বাপ্পি বড় হয়ে রোজগার করবে। হাত পাততে হবে না মানুষের কাছে।

কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহানাজ পারভীন জানান, প্রতিবন্ধি আম্বিয়া বেগম তার ছোট্ট ছেলেটাকে নিয়ে খুব কষ্ট করে। মানুষের কাছে হাত পেতেই তাদের বাঁচতে হয়। কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ জানান, সমাজে অসহায় প্রতিবন্ধি অনেক অসহায় মানুষ আছে। তবে প্রতিবন্ধি মা আম্বিয়াকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে ছোট্র শিশুটি যেভাবে সারাদিন ধাক্কা দিয়ে নিয়ে বেড়ায় তা দেখলেও কষ্ট লাগে। তিনি বলেন,আম্বিয়া বেগম এ এলাকার নাগরিক নয়। ফলে এখানে তার কোন ভাতাদির ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে। তারপরও তার অসহায়ত্ব দেখে মানবিক সাহায্য তিনি প্রতিনিয়তই করে থাকেন।

পি-১/২

মোড়েলগঞ্জে চা বিক্রেতাকে কুপিয়ে হত্যা, লাশ মিলল জালে

এম.পলাশ শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের পূর্ব খারইখালী গ্রামের এক চা বিক্রেতা আবু হানিফ ফকিরকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করে খালে ফেলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ বৃহস্পতিবার বিকেলে খাল থেকে কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে।  বুধবার মধ্যরাতে এবি গজালিয়া বাজারের চা বিক্রেতা মৃত. হোসেন আলী ফকিরের ছেলে আবু হানিফ কে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাটখালী খালে মাছ ধরার সময় স্থানীয় শিশু কিশোরদের জালে আবু হানিফের মরদেহ উঠে আসে। আবু হানিফের ভাই সালাম ফকির বলেন, পরিকল্পিতভাবে আবু হানিফকে রাতে ডেকে নিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার মাথাসহ শরীরে ১০-১২ গুরুতর কোপের চিহ্ন দেখা গেছে। তার স্ত্রী ও ৫ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, বিকেল আবু হানিফের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। জড়িতদের আটকের জন্য এলাকায় পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে।

পি-৪/১

বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি নগর বিএনপির

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা মহানগর বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক ও খানজাহান আলি থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মিজানুর রহমানের নামে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি। এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, হামল-মামলা করে গণতন্ত্রের যাত্রাকে রুদ্ধ করা যাবে না। দিনের ভোট রাতে করে জনগণের ভোটের অধিকারকে হরণ করেছে বর্তমান সরকার। জেল-জুলুম, হামল-মামলাকে উপেক্ষা করে জাতীয়তাবাদী শক্তির সকল সৈনিক গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধার কাজে সামনের দিকে যাবে। কাজী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতারের নিন্দা এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দরা হলেন নেতৃবৃন্দরা হলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ভাষাসৈনিক এম নুরুল ইসলাম, নগর বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্তুজা, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশাররফ হোসেন, জাফরউলাহ খান সাচ্চু, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, এড. ফজলে হালিম লিটন, স ম আব্দুর রহমান, শেখ ইকবাল হোসেন, শেখ জাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, মোঃ মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এসএম আরিফুর রহমান মিঠু ও ইকবাল হোসেন খোকন প্রমুখ।

পি-৪/২

বিএনপি সবসময় অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকে: মনা

ফুলতলা প্রতিনিধি

খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, বর্তমান ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে জনগন সকল প্রকার অধিকার থেকে বঞ্চিত। গরীব ও খেেেট খাওয়া মানুষের কাজ নেই, শ্রমজীবিদের মিল কলকারখানা বন্ধ হওয়ায় খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছে। বিএনপি সবসময় অসুস্থ, নির্যাতিত, নিপীড়িত, অসহায় ও গরিব মানুষের পাশে থেকে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে । করোনাকালে এলাকার মানুষের জন্য ত্রান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এবং প্রকৌশলী আব্দুস সালামের সহযোগিতায় করোনাকালীন পরিস্থিতিতে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য ফুলতলার জামিরা রোডস্থ ফৌজি এন্টারপ্রাইজে হেল্প সেন্টারের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক এমপি অধ্যাপক ডা: গাজী আব্দুল হকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ খান, জেলা সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মন্টু, এস,এ রহমান বাবুল, জেলা বিএনপি নেতা মোঃ খাইরুল ইসলাম, আবু হোসেন বাবু, মোঃ কামরান হাসান, হাফেজ আবুল বাশার। বিএনপি নেতা শেখ আঃ সালামের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফুলতলা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ সেলিম সরদার, মনির হাসান টিটো, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার, শেখ লুৎফর রহমান, এস এম হারুন অর রশিদ, অহিদুজ্জামান নান্না, নওশাদ হোসেন লালু, আনোয়ার হোসেন বাবু, গাজী ফজলুল হক, জিএম শফিকুল ইসলাম, মোঃ ফিরোজ জমাদ্দার, জামাল হোসেন ভূঁইয়া, শেখ বকতিয়ার হোসেন, মশিয়ার রহমান বিপ্লব, মোঃ ইদ্রিস মোল্যা, মোঃ আকতার হোসেন, নজরুল ইসলাম মোল্যা, ফকির রবিউল ইসলাম, ডাঃ আঃ গনি, শেখ আঃ হালিম, মোঃ শহিদুল ইসলাম, আঃ হালিম সরদার, মিনা মুরাদ, মোঃ হাফিজুর রহমান, মোঃ মাসুদুর রহমান, আরজব ফকির, মোঃ ইয়ার আলী, আকতারুজ্জামান কচি, ইকবাল খান, মোঃ মাসুদ করিম প্রমুখ। প্রসংগতঃ উপজেলার সর্বশ্রেনীর মানুষ এ অক্সিজেন সিলিন্ডারের সুবিধা পাবে ।

পি-৪/২

রিজিয়া নাসের এবং বাহাউদ্দিন নাসিমের সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় আ’লীগের দোয়া মাহফিল

খবর বিজ্ঞপ্তি

প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি’র চাচী ও শেখ হেলালউদ্দিন এমপি ও শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল এমপি’র মা রিজিয়া নাসের এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কৃষিবিদ বাহাউদ্দিন নাসিম এর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া মাহফিল করেছে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ। গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব দলীয় কার্যালয়ে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এর সভাপতিত্বে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময়ে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনা এখনও শেষ হয়নি। এই মহামারীকে অবহেলা করা যাবে না। সবাইকে সর্তক থেকে এই করোনাকে মোকাবেলা করতে হবে। একই সাথে অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে স্ব স্ব স্থানে থেকে কাজ করে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা’র ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন করতে সকল দুর্যোগকে উপেক্ষা করে কাজ করে যেতে হবে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের কঠিন দু:সময়ে রিজিয়া নাসের দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে নেপথ্যে থেকে দিক নিদের্শনা দিয়েছেন। অপরদিকে বাহাউদ্দিন নাসিম নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে চট্টগ্রামে নেত্রীকে রক্ষা করতে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। আজ আওয়ামী লীগের দু’জন ত্যাগী নেতা অসুস্থ। অনুষ্ঠান থেকে তাদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

এ সময়ে দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাবেক সহ-সভাপতি চিশতি সোহরাব হোসেন, বেগ লিয়াকত আলী, মল্লিক আবিদ হোসেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, নুর ইসলাম বন্দ, আবুল কালাম আজাদ কামাল, শ্যামল সিংহ রায়, ফেরদৌস আলম চাঁন ফরাজি, এ্যাড. অলোকা নন্দা দাস, অধ্যক্ষ শহিদুল হক মিন্টু, অধ্যাপক আলমগীর কবির, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, প্যানেল মেয়র আলী আকবর টিপু, হাফেজ শামীম, মোজাম্মেল হক হাওলাদার, সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস, তসলিম আহমেদ আশা, কাউন্সিলর শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন রনজিত কুমার ঘোষ, সফিকুর রহমান পলাশ, শেখ ফার”ক হাসান হিটলু, মীর বরকত আলী, শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজন, আসাদুজ্জামান রাসেল, চ. ম. মুজিবর রহমান, শেখ জাহিদ হোসেন, হাসান ইফতেখার চালু, শেখ মো. র”হুল আমিন, মো. জাকির হোসেন, অহিদুল ইসলাম পলাশ, এস এম হাফিজুর রহমান হাফিজ, অভিজিৎ চক্রবর্তী দেবু, কাজী কামাল হোসেন, অভিজিৎ পাল সহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে রিজিয়া নাসের ও বাহাউদ্দিন নাসিমের সুস্থতা কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

পি-৪/১

রিজিয়া নাসের এর সুস্থ্যতা কামনায় যুবলীগের বিবৃতি

খবর বিজ্ঞপ্তি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহোদর শ্রদ্ধেয় শহীদ শেখ আবু নাসের এর সহধর্মিনী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচী, জননেতা শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, সেখ সালাউদ্দিন জুয়েল এমপি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শেখ সোহেল, নৌ পরিবহন ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি শেখ জালাল উদ্দিন রুবেল ও শেখ বেলালউদ্দিন বাবু’র মা রিজিয়া নাসের বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁর সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিবৃতি দিয়েছে খুলনা মহানগর যুবলীগ।

বিবৃতিদাতা নেতৃবৃন্দরা হলেন নগর যুবলীগের আহবায়ক সফিকুর রহমান পলাশ, যুগ্ম আহবায়ক শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজন,  এস এম হাফিজুর রহমান হাফিজ, রোজি ইসলাম নদী, কামরুল ইসলাম, আব্দুল কাদের শেখ, এ্যাডঃ আল আমিন উকিল, আবুল হোসেন, কাজী কামাল হোসেন, নজরুল ইসলাম দুলু, শওকত হোসেন, শেখ মোহাম্মদ আলী,  অভিজিৎ চক্রবর্তী দেবু, কবির পাঠান, তাজুল ইসলাম, মোস্তফা শিকদার, কাজী ইব্রাহিম মার্শাল, জুয়েল হাসান দিপু, সাজ্জাদুর রহমান লিংকন, মহিদুল ইসলাম মিলন, মশিউর রহমান সুমন, মেহেদী মোড়ল, কে এম শাহীন, ইয়াসিন আরাফাত, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। বিবৃতিতে তার সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় সকলের নিকট দোয়া ও প্রার্থনা কামনা করা হয়েছে।

পি-১/২

ক্রেডিট কার্ডে সুদ ২০ শতাংশ পর্যন্ত

ঢাকা অফিস

ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট কার্ডে সুদহারের সীমা বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী ১ অক্টোবর থেকে ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডে ২০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিতে পারবে। বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে কোনো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডে ১৪ শতাংশের বেশি সুদ নেওয়ার সুযোগ নেই। যদিও কোনো ব্যাংক সুদহারের এই নির্দেশনা মানে না। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অন্য সব ঋণে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদহারের সীমা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ক্রেডিট কার্ড পরিচালনার নীতিমালার আলোকে ব্যাংকগুলো অন্য যেকোনো ঋণের তুলনায় ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদ নিতে পারবে। ফলে ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ সুদ হওয়ার কথা ১৪ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আগস্টে ব্যাংকগুলো যে ঘোষণা দিয়েছে সেখানেই ২৭ শতাংশ সুদ নির্ধারিত আছে কোনো কোনো ব্যাংকের। আর অধিকাংশ ব্যাংকের সুদহার রয়েছে ২০ থেকে ২৪ শতাংশ। কোনো কোনো ব্যাংক ১৪ শতাংশ সুদের ঘোষণা দিলেও তা নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। এরকম প্রেক্ষাপটে জারি করা সার্কুলারের শুরুতে ক্রেডিট কার্ড পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালার কথা উল্লেখ করে বলা আছে, নীতিমালার অনুচ্ছেদ ১২(সি) অনুযায়ী- অন্য ঋণের সর্বোচ্চ সুদহারের চেয়ে ক্রেডিট কার্ডে ৫ শতাংশের বেশি নির্ধারণ করা যাবে না। আর ক্রেডিট কার্ডের এই সুদ কেবল অপরিশোধিত বকেয়া স্থিতির ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কোনো কোনো ব্যাংক অযৌক্তিকভাবে বেশি সুদ আদায় করছে যা গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষুন্ন করছে। এছাড়া ক্রেডিট কার্ডের অপরিশোধিত বকেয়া বিলের ওপর লেনদেনের তারিখ থেকেই সুদ আরোপ এবং অপরিশোধিত বিলের বিপরীতে অতিরিক্ত বিলম্ব ফি আদায় করছে। এছাড়া মোট সীমার ৫০ শতাংশের বেশি নগদ উত্তোলন না করার নির্দেশনা থাকলেও অনেক ব্যাংক তা মানছে না বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, আগামী ১ অক্টোবর থেকে ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ২০ শতাংশের বেশি সুদ নেওয়া যাবে না। ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের জন্য নির্ধারিত সর্বশেষ তারিখের পরের দিন থেকে অপরিশোধিত বিলের ওপর সুদ আরোপযোগ্য হবে। কোনোভাবেই লেনদেনের তারিখ থেকে সুদ আরোপ করা যাবে না। বিদ্যমান নীতিমলার আলোকে ক্রেডিট কার্ডের নির্ধারিত সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদ উত্তোলন করা যাবে। অন্য কোনো নামেও গ্রাহককে এর চেয়ে বেশি নগদে উত্তোলন সুবিধা দেওয়া যাবে না। বিলম্বে পরিশোধিত কোনো বিলের বিপরীতে শুধু একবার বিলম্ব ফি আদায় করা যাবে। অন্য কোনো নামে বাড়তি ফি নেওয়া যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর ইস্যুকৃত মোট কার্ড রয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ। এর মধ্যে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা এক কোটি ৯৭ লাখ। আর ক্রেডিট কার্ড ১৬ লাখেরও কম। বাকি ৬ লাখের মতো রয়েছে প্রিপেইড কার্ড।

হাইটপ————১

টাইম ম্যাগাজিনের ৮২ বছর বয়সী নারী

খুলনাঞ্চল ডেস্ক

অশীতিপর বৃদ্ধা বিলকিস বানু। ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠা এক মুসলিম নারী। দিল্লির শাহিনবাগে বিক্ষোভের প্রতীক হয়ে ওঠা এই বিলকিস বানু হয়েছেন ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে বর্ষসেরা নারী। অবশ্য টাইমের বর্ষসেরা ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ঠাঁই পেয়েছেন।

মঙ্গলবার টাইম ম্যাগাজিনের ২০২০ সালের বর্ষসেরা ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। চলতি বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছেন এমন ব্যক্তিদের এই তালিকায় কয়েকটি ক্যাটাগরিতে বর্ষসেরা নির্বাচিত করা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতা ক্যাটাগরিতে জায়গা পেয়েছেন। বিলকিস বানু তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন আইকন ক্যাটাগরিতে। নরেন্দ্র মোদি এর আগে ২০১৭ সালেও টাইম ম্যাগাজিনের বর্ষসেরার তালিকায় ছিলেন। গত বছর ভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস হয়ে যাওয়ার পর দেশ জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ-সহিংসতা শুরু হয়। এই আইনের বিরোধিতায় দিল্লির শাহীনবাগে ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তীব্র শীতের মাঝে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই ছিলেন নারী; যাদের নেতৃত্ব দেন ৮২ বছর বয়সী বিলকিস বানু।সূত্র : বিবিসি।

হাইটপ————২

হজম সহায়ক পেঁপে

মিলি রহমান

পেঁপের গুণের শেষ নেই। কাঁচা-পাকা দুইভাবেই এটি খাওয়া যায়। শরীরের জন্য পেঁপে খুবই উপকারী একটি ফল। প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁপেতে ৩৯ ক্যালরি থাকে। এছাড়াও এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন এ,বি,সি,ডি পাওয়া যায়। শত শত বছর ধরে বিভিন্ন রোগ সারাতে পেঁপে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। নিয়মিত পেঁপে খেলে আরও যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-

১. হজমের জন্য পেঁপে খুবই উপকারী। এই ফল খেলে শরীর সতেজ হয় ও জীবনী শক্তি ফিরে পাওয়া যায়। এটি পাকস্থলীর অতিরিক্তি অ্যাসিড দূর করে। এ কারণে যারা গ্যাস্ট্রিক ও বুক জ্বালা সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য পেঁপে খুব উপকারী।

২. পেঁপে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ফলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, পেঁপে গাছের মূল ও ফুল কিডনি রোগ, ব্রংকাইটিস ও জন্ডিস সারাতে ভূমিকা রাখে।

৩. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পেঁপের জুড়ি নেই। এতে প্রচুর ভিটামিন ই, সি ও ফলিক অ্যাসিড থাকায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। কাঁচা পেঁপে ও এর জুস হজমে সহায়তা করে।

৪. ব্রণ সারাতেও পেঁপে বেশ কার্যকর। বয়ঃসন্ধিকালে বা মুখে ময়লা জমার কারণে যে ব্রণ সৃষ্টি হয়, তা দূর করতে নিয়মিত পেঁপে খেতে পারেন। এতে ত্বক জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হবে। এছাড়া পাকা পেঁপে মাস্ক হিসাবে মুখে ব্যবহার করলেও ব্রণ দূর হয়।

হাইটপ———–৩

প্রমাণিত হলে অনুরাগের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করব: তাপসী

বিনোদন ডেস্ক

চিত্র পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী পায়েল ঘোষের তোলা যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে জোর আলোচনা, চর্চা চলছে। এবার পরিচালকের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন অনুরাগের ‘মনমর্জিয়া’ ছবির অভিনেত্রী তাপসী পান্নু। তার মতে এমন কিছু হতেই পারে না। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাপসী বলেন, অনুরাগের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে তার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। শনিবার একটি ট্যুইটে পায়েল লেখেন, অনুরাগ কাশ্যপ আমাকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন। নরেন্দ্র মোদিজি এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করুন এবং দেশকে দেখান যে এমন একজন সৃজনশীল মানুষ আসলে কতটা শয়তান। আমি জানি এরপর আমার নিরাপত্তায় টান পড়বে। দয়া করে সাহায্য করুন। এই অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পরই জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা ট্যুইট করেন। সেখানে পায়েলের ট্যুইটকে রেখে তাকে বিস্তারিত অভিযোগ জানানোর আবেদন করেন তিনি। একইসঙ্গে জাতীয় মহিলা কমিশনকে পদক্ষেপ করার কথাও বলেছেন। যদিও অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পরিচালক। তাপসী বলেন, যদি অনুরাগের দোষ প্রমাণ হয় তাহলে আমিই প্রথম ব্যক্তি হিসাবে ওর সঙ্গে আজীবনের জন্য সম্পর্ক ছিন্ন করব। কিন্তু তদন্তটা নিরপেক্ষ হতে হবে এবং শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে। তা হলে মিটু আন্দোলনের পবিত্রতাটাও রক্ষা করা কি সম্ভবপর হবে? তা না হলে বাস্তবেই হেনস্থার শিকার অনেকে সুবিচার পাবে না। মেয়েদের কখনই উচিত নয় এই আন্দোলনটা দিকভ্রষ্ট করে দেওয়া। কাউকে নিগ্রহ করবার ক্ষমতাটা আসলে লিঙ্গ নির্দিষ্ট হয় না। অনুরাগের পাশে দাঁড়িয়ে তাপসী বলেন, মহিলাদের প্রতি প্রচুর শ্রদ্ধা আছে অনুরাগের। তাকে কখনো খারাপ কথা বলতে শুনিনি। এমনকি যে ওর সঙ্গে প্রকাশ্যে খারাপ আচরণ করেছে, তাদের সঙ্গেও নয়। বিরল কয়েকটি ক্ষেত্রের মধ্যে তিনিও পড়েন, যার পুরুষ ও মহিলা ক্রু-এর সংখ্যা সমান। যদি কেউ হেনস্থা হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত হোক। প্রকৃত সামনে আসুক। শুধু তাপসীই নন, এই মামলায় অনুরাগের পাশে দাঁড়িয়েছেন তার দুই প্রাক্তন পতœী আরতি এবং কালকি কোয়েচলিনও। দুজনেই অনুরাগের সমর্থনে দীর্ঘ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন- মেয়েদের সম্মান দিতে খুব ভালোভাবে জানেন অনুরাগ। তিনি নিজে একজন নারীবাদী। এছাড়াও বলিউড অভিনেত্রী হুমা কুরেশি, স্বরা ভাস্কর, টিসকা চোপড়ারাও এই মামলায় অনুরাগের সমর্থনে সুর চড়িয়েছেন।

পি-১/৩

শতভাগ উপজেলা বিদ্যুতায়নের পথে, রইলো বাকি এক

সঞ্চিতা সীতু

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ভৌগলিক এলাকায় ৪৬২টি উপজেলার মধ্যে ৪৬১টির শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন করেছে। রইলো বাকি এক উপজেলা। নতুন করে আরও ১৭৩ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ করার পর আরইবি এই তথ্য জানিয়েছে। তবে উপজেলাগুলোকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে আরও ২৮৮টি উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে আরইবির সদস্য (পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন) অঞ্জন কান্তি দাশ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৪৬২টি উপজেলার মধ্যে ৪৬১টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন করতে পেরেছি। তবে এই বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে অনগ্রিড অর্থাৎ তার টানা যায় এমন এলাকায়। এখন বাকি আছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা। সেখানে সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে বলে আশা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন জেলার চরগুলোতে এক হাজার ৫৯টি গ্রাম আছে। সেখানে আগে সৌরবিদ্যুৎ হওয়ার কথা ছিল। স্রেডাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেখানে সোলার করার। কিন্তু তারা পারেনি। এখন দায়িত্ব নিয়ে সাবধানে মেরিন ক্যাবল দিয়ে অনগ্রিড বিদ্যুৎ দেওয়া হবে সেখানে। বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৮৫টি নদী আমাদের অতিক্রম করতে হবে। জামালপুর, ভোলা, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধাসহ বেশ কিছু উপজেলায় পড়েছে এসব গ্রাম। ফলে বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। তারপরও মুজিববর্ষের মধ্যেই এই কাজ শেষ করতে পারবো বলে আশা করছি।’ আরইবি সূত্র বলছে, তারা আরও ১৭৩ উপজেলায় ১০০ ভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে। তবে এখনও সেগুলো উদ্বোধন হয়নি। এসব উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসেবে ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে আরইবি। তারা জানায়, আরইবির ভৌগলিক এলাকার এক হাজার ৫৯টি গ্রাম রয়েছে। অফগ্রিড এলাকায় এসব গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়াই তাদের কাছে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিন ধাপে এসব গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবে আরইবি। প্রথম ধাপে ৬৪৬টি গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে আরইবি। এসব গ্রামকে চলমান কার্যক্রমের আওতায়ই বিদ্যুতায়িত করা সম্ভব। চলতি মাসের মধ্যেই গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। তবে ২৯টি অতি দুর্গম গ্রাম ছাড়া বাকি ৩৮৪টি গ্রামে আগামী অক্টোবরের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে। তবে ২৯টি অতি দুর্গম গ্রামের বেশিরভাগই পাহাড়ি এলাকায় হওয়াতে এসব গ্রামে চলতি বছরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবে আরইবি। সরকারের শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আরইবি এই কাজ করছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তাদের অধীন এলাকার সব মানুষকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট প্রথম ছয়টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেন। সব শেষ গত ২৭ আগস্ট তিনি আরও ২৭ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত হিসেবে ঘোষণা দেন।

পি-১/২

আরও ২৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৫৪০

ঢাকা অফিস

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৭২ জনের মৃত্যু হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৫৪০ জন। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৩৮৪ জন শনাক্ত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১৩৯ জন, এখন পর্যন্ত সুস্থ ২ লাখ ৬৫ হাজার ৯২ জন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১২ হাজার ৩৮২টি, নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৯০০টি। এখন পর্যন্ত ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৫৪০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং এখন পর্যন্ত ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৩ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ২১ জন পুরুষ এবং ৭ জন নারী। এখন পর্যন্ত পুরুষ ৩ হাজার ৯৩৫ জন এবং নারী মৃত্যুবরণ করেছেন এক হাজার ১৩৭ জন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃতদের মধ্যে ৬০ ঊর্ধ্ব ১৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। বিভাগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ জন, খুলনা বিভাগে ২ জন এবং রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। ২৮ জনই হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ২৪৩ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৫ হাজার ৯৮৬ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৪৩৮ জন, এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৭৩ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশন করা হয়েছে ৮০ হাজার ৫৯ জনকে। প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ৯১২ জনকে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়া পেয়েছেন এক হাজার ২৮৩ জন, এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৪ লাখ ৮২ হাজার ১৩০ জন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ৫ লাখ ২৮ হাজার ২৯৭ জনকে। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৬ হাজার ১৬৭ জন।

নিচের বক্স=============

কোথাও কিছু ঘটছে: রিজভী

ঢাকা অফিস

‘কোথাও কিছু ঘটছে’ বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ওয়েব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রীদের হঠাৎ করে বক্তব্য রহস্য ঘেরা। সরকারি তথ্য মতেও তো আমরা দেখছি, প্রতিদিন করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমছে। করোনা টেস্ট অর্ধেকে নামিয়ে দিয়েছে সরকার। অফিস-আদালতসহ সব কিছু খুলে দেওয়া হয়েছে। এমন অবস্থায় সরকারের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে-কোথাও কিছু ঘটছে।’ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভিডিও কনফারেন্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, ‘শেক্সপিয়র রচিত হ্যামলেট নাটকের একটি বিখ্যাত উক্তির কথা মনে পড়ছে-“সামথিং ইজ রটেন, ইন দি স্টেট অব ডেনমার্ক।” সরকার জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে ফেরাতে চায়। দেশজুড়ে বড় কিছু ঘটনা আড়াল করতেই করোনা ধেয়ে আসার জিগির তোলা হচ্ছে। মিথ্যা, অসত্য, অবৈধ সত্ত্বার পতন অবশ্যম্ভাবী।’

পি-৪/২

চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে নির্যাতন!

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরায় সুপারি চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে নির্যাতন শেষে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে তালা উপজেলায়। ২৩ সেপ্টেম্বর ভোর ৩টার দিকে ওই দুই কিশোরকে আটক করা হয়। এরপর তাদের হাত পিছমোড়া দিয়ে বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়। এলাকাবাসী জানায়, কয়েকদিন আগে উপজেলার একজন কাচামাল ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ভ্যান, সাইকেল ও টর্চ লাইট চুরি হয়। এ ঘটনায় ওই ব্যবসায়ী পাটকেলঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ভ্যান, সাইকেল ও টর্চ লাইট চুরির ঘটনায় আটক দুই কিশোরকে নির্যাতন চালিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়। বাড়ির পিলার ও মেহগনি গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের পর কিশোরদ্বয় সুপারি চুরির কথা স্বীকার করে। তবে ভ্যান, সাইকেল ও টর্চ লাইট চুরির কথা অস্বীকার করে। এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদে। সেখানে হাজির করলে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় এলাকাবাসী তাদের ভ্যানে করে গ্রাম ঘুরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পাটকেলঘাটা থানার বিট অফিসার এসআই সুব্রত বলেন, ‘বাদীর অভিযোগ না থাকায় এবং ধৃতরা কিশোর হওয়ায় তাদের অভিভাবকদের ডেকে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।’

পি-১/২

খুলনায় ৫৩ হাসপাতালকে রেড সিগন্যাল

স্টাফ রিপোর্টার

খুলনা জেলার ৫৩টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে রেড সিগন্যাল দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এগুলোর মালিককে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরে নবায়নের কাগজপত্র জমা না দিলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি পাঠিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা জানান, গত জুলাই মাসে খুলনা মহানগরীতে অবস্থিত কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে যে সব কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন নবায়ন নেই বা কোনও আবেদন করেনি, তাদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরে নবায়নের জন্য সময়সীমা বেঁধে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর কেউ ব্যর্থ হলে স্ব-স্ব কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিককে চিঠির মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হবে বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর ও খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুলাই থেকে অনিবন্ধিত হাসপাতাল-কিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিযানে খুলনা জেলায় ১৯ বেসরকারি হাসপাতাল ও ৩৪ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নবায়ন নেই বলে জানা যায়। এছাড়া খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন খুলনা মহানগরীতে ২৩২টি কিনিকের মধ্যে নবায়ন রয়েছে ৭০টি। লাইসেন্স নেই ৩৯টি কিনিকের। লাইসেন্স আছে কিন্তু নবায়নের জন্য অনলাইনে আবেদন করেনি এমন সংখ্যা রয়েছে ১৪টি। এছাড়া ৪৫টি কিনিক আবদন পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে। খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনার ৯ উপজেলায় লাইসেন্স নবায়নের আবেদন না করা ১৯টি কিনিকের মধ্যে রয়েছে- দিঘলিয়া উপজেলার মধ্যে ফুলবাড়ীগেটে অবস্থিত মৈত্রি নার্সিং হোম, পেসেন্ট নার্সিং হোম, তেরখাদা উপজেলার মধ্যে ইন্দুরহাটী এলাকার পাতলা কমিউনিটি হাসপাতাল, সাচিয়াদাহে কমিউনিটি হাসপাতাল, কাটেঙ্গা বাজার এলাকায় স্বপ্ন সিঁড়ি প্রাইভেট হাসপাতাল লিমিটেড অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রূপসা উপজেলার তিলক এলাকায় রেভা. আব্দুল ওয়াদুদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল (১০০ শয্যা), জাবুসা চৌরাস্তায় নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতাল, ডুমুরিয়া উপজেলার মিকশিল রোডে জনসেবা কিনিক, চুকনগর বাজার এলাকায় চুকনগর সার্জিক্যাল কিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, বটিয়াঘাটা উপজেলার জিরো পয়েন্টে সুন্দরবন কিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোম, এম আর সেন্ট্রাল হাসপাতাল, হাটবাঢী এলাকায় সোনালী কিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পাইকগাছা উপজেলার সরল এলাকায় (নতুন) পলক কিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাকা বাজার এলাকায় আশালতা কিনিক অ্যান্ড তুলি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এম মনোয়ারা হাসাপাতাল, মনোয়ারা কিনিক, কয়রা উপজেলার আমাদী এলাকায় পাইলট সার্জিক্যাল হাসপাতাল, মদিনাবাদ ১ নম্বর কয়রা এলাকায় সাগর নার্সিং হোম ও রায় কিনিক।

খুলনা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, খুলনা জেলায় অবস্থিত যেসব কিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নবায়ন নেই তাদের ৩০ সেপ্টেম্বর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কারও কাগজপত্র জমা না হলে সেই প্রতিষ্ঠান চিঠির মাধ্যমে বন্ধ ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস সংক্রমণকালে রিজেন্ট হাসপাতালের নানা অনিয়মের খবর প্রকাশ হওয়ার পর লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা। অভিযানে বেসরকারি হাসপাতাল, কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বড় অংশেরই নিবন্ধন না থাকার তথ্য প্রমাণ মেলে। আবার লাইসেন্স নবায়ন না করারও তথ্য পাওয়া যায়। এ সব প্রতিষ্ঠানের লাগাম টানতে লাইসেন্স নবায়ন ও নিবন্ধনের জন্য গত ৮ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত হাই পাওয়ার টাস্কফোর্সের সভায় সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনায় অভিযান শুরু হয়। ১৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া অভিযানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও কাগজপত্র না থাকায় নগরীর খানজাহান আলী রোডের মীম নার্সিং হোম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বেনাপোল দিয়ে আমদানি বন্ধ, ওপারে ট্রাকেই নষ্ট হচ্ছে পেঁয়াজ

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়ায় টানা ১১ দিন ধরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ। ফলে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় বিভিন্ন বেসরকারি পার্কিং আর সড়কে বেশকিছু পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক এখনও দাঁড়িয়ে আছে। এসব পেঁয়াজের বেশির ভাগ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত এসব ট্রাক ছাড় করাতে না পারলে আবারও নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়বেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। এদিকে বাংলাদেশি আমদানিকারকরা তাদের ভারতীয় রফতানিকারক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পুরোনো এলসির আটকেপড়া পেঁয়াজ ছাড়করণে বার বার আবেদন জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বেনাপোল বন্দরের স্থানীয় বাজারে সঙ্কট দেখা দেয়ায় পেয়াঁজের দাম আবারও বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাইকারি বাজারে ৬০-৬৫ টাকা আর খুচরা বাজারে ৭৫-৮০ টাকা দরে প্রতি কেজি পেয়াঁজ বিক্রি হয়েছে। ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ অর্ধেক নষ্ট হওয়ায় দাম বেড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। পেঁয়াজ আমদানিকারক শেখ ট্রেডার্সের শেখ মাহাবুব জানান, প্রতি বছর পেঁয়াজ নিয়ে লঙ্কাকা- হয়। ভারত কখনও উৎপাদন সঙ্কট কখনও রফতানি মূল্য তিনগুণ বাড়িয়ে আমদানি বন্ধ করতে বাধ্য করে। এ ক্ষেত্রে সঙ্কট মোকাবিলায় ভারত ছাড়াও বাইরের কিছু দেশের সঙ্গে সরকারের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা দরকার।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক আনু জানান, তারা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে এ পথে আমদানি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পেঁয়াজ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম রয়েল বলেন, বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের ওপারের বিভিন্ন পার্কিংয়ে তাদের বেশকিছু ট্রাক পেঁয়াজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক ট্রাকের পেঁয়াজে পচন ধরেছে। নিষেধাজ্ঞার আগেই এসব ট্রাক বন্দর এলাকায় পৌঁছেছিল। দ্রুত এসব ট্রাক না ছাড়লে আবারও নতুন করে তারা লোকসানের মুখে পড়বেন। বেনাপোল বন্দরের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা শুকর আলী জানান, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি কম হচ্ছে, যা আসছে তার অর্ধেক বস্তা পচা পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাজারে দাম কমছে না। বাইরে থেকে আমদানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ রকম বাজার অস্থিতিশীল থাকবে বলে মনে হচ্ছে। বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সঙ্কট দেখিয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। এ পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজের ট্রাক দেয়নি ভারত। দেবে কি-না তাও নিশ্চিত জানাতে পারেনি। এ পথে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে অন্যান্য পণ্যের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০ দিনে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে দুই হাজার ৫৪৪ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে কোনো পেঁয়াজের ট্রাক ছিল না। একই সময়ে ভারতে এক হাজার ২৭ ট্রাক বাংলাদেশি পণ্য রফতানি হয়েছে। এসব রফতানি পণ্যের মধ্যে ৬৭ ট্রাক পদ্মার ইলিশ ছিল।

বদ্ধ ঘরে শিক্ষক পদোন্নতি, খুলছে দ্বার

>> ২৬ বছর পর প্রাথমিকের শিক্ষক পদোন্নতির বদ্ধ দ্বার খুলছে

>> ৮০ শতাংশ প্রধান শিক্ষক পদ থেকে ‘এটিও’ হওয়ার সুযোগ

>> ‘বিভাগীয় প্রার্থী’ হিসেবে সুযোগ পাবেন না সহকারী শিক্ষকরা

বিশেষ প্রতিনিধি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থেকে পরবর্তী পদে পদোন্নতির বদ্ধ দ্বার যেন খুলছে। ১৯৯৪ সালে পদোন্নতির এই সিঁড়ি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ২৬ বছর পর আবারও প্রধান শিক্ষকদের সরাসরি পদোন্নতি দেয়ার কাজ শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ৮০ শতাংশ প্রধান শিক্ষক পদ থেকে উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) পদে পদোন্নতি দেয়া হলেও বাকি ২০ শতাংশ বাইরে থেকে উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে একটি সমন্বিত নিয়োগ বিধিমালার খসড়াও তৈরি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জানা গেছে, সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা বর্তমানে দুটি শর্ত পূরণ করে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে ‘উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার’ পদে পরীক্ষা দিতে পারেন। শর্ত দুটি হলো- শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর এবং বয়স ৪৫ বছরের মধ্যে। এভাবে অতীতে অনেক শিক্ষকই সুযোগ পেয়েছেন কর্মকর্তা হওয়ার। ১৯৮৫ সালের নিয়োগবিধি অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক, পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ ছিল। ১৯৯৪ সালে নিয়োগবিধি সংশোধনের পর শিক্ষকদের এভাবে কর্মকর্তা হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে ‘সমন্বিত নিয়োগবিধিমালা-২০২০’। এতে প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে শুধু প্রধান শিক্ষকদের জন্য এ সুযোগ রাখা হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে ‘উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার’ পদে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। খসড়া নিয়োগবিধি অনুযায়ী, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের দুই হাজার ৫৮৯টি পদে নিয়োগে ৮০ শতাংশ বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ২০ শতাংশ পদ উন্মুক্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণযোগ্য। বিভাগীয় প্রার্থী বলতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বোঝাবে। বিভাগীয় প্রার্থীদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে ন্যূনতম তিন বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত পদে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে পদগুলো উন্মুক্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণ করা হবে। সরাসরি নিয়োগে বয়স অনূর্ধ্ব ৩০ বছর। বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৪৫ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। অন্যদিকে উপজেলা/থানা রিসোর্স সেন্টারের ‘ইনস্ট্রাক্টরের ৫০৫টি পদে নিয়োগে মোট পদের ৩৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৬৫ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। পদোন্নতিযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার কথা রয়েছে। পদোন্নতির জন্য উপজেলা/থানা রিসোর্স সেন্টারের (ইউআরসি) সহকারী ইনস্ট্রাক্টর/পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে ন্যূনতম সাত বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা দ্বিতীয় শ্রেণির বিএডসহ দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রি চাওয়া হয়েছে। সরাসরি নিয়োগে বয়স ৩০ বছর, তবে বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো সীমা উল্লেখ নেই। ইউআরসি সহকারী ইনস্ট্রাক্টরের ৫০৫টি পদের নিয়োগও একই নিয়মে হবে। এখানে বিভাগীয় প্রার্থী বলতে শুধু প্রধান শিক্ষকদের বোঝানো হয়েছে। দেশের ৬৭টি প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) ইনস্ট্রাক্টর সাধারণ ও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ইনস্ট্রাক্টর পদেও প্রাথমিক শিক্ষকদের বিভাগীয় পদোন্নতির সুযোগ রাখা হয়নি। কর্মকর্তাদের অন্যান্য পদ, যেমন- ইউইও, টিইও, এডিপিইও, ডিপিইও পদে শতভাগ পদোন্নতির কথা প্রণীত খসড়ায় বলা হয়েছে। খসড়ার বিষয়ে সহকারী শিক্ষকরা বলছেন, এতদিন ‘উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার’ পদে পরীক্ষার সুযোগ দেয়া হলেও পিটিআই ইনস্ট্রাক্টর ও সহকারী ইনস্ট্রাক্টর পদে তাদের বিভাগীয় পরীক্ষার সুযোগ দেয়া হতো না। নতুন বিধিমালায় সব ধরনের কর্মকর্তার পদ থেকে সহকারী শিক্ষকদের বঞ্চিত করা হলো। বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক এবং পরবর্তীতে পদোন্নতি দিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। আগের নিয়োগবিধিতে সে সুযোগ থাকলেও বর্তমানে তা বাতিল করায় অধিকাংশ সহকারী শিক্ষক একই পদে থেকে অবসর গ্রহণ করবেন। চাকরি জীবনে তিনি কোনো পদোন্নতি পাবেন না। সম্প্রতি সহকারী শিক্ষক থেকে শতভাগ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী সব পদে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করলে আমাদের মধ্যে তৈরি হওয়া হতাশা কেটে যাবে। সকলে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করবেন।’ অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারি প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগে প্রধান শিক্ষকদের সব পদে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও নিয়োগবিধি সংশোধন করায় সেই পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। ফলে একই পদে থেকে চাকরিজীবন শেষ করতে হবে। প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির জন্য ৪৫ বছর জুড়ে দেয়ায় থানা শিক্ষা কর্মকর্তা হওয়ার পর তাদের অবসরে চলে যেতে হবে। এটা খুবই দুঃখজনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক থেকে শতভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক, একইভাবে প্রধান শিক্ষকের পরবর্তী পদগুলোতে শতভাগ পদোন্নতি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। এর বাইরে শিক্ষকদের মধ্য থেকে বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতি দিতে হবে। বাইরে থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হলে তারা আমাদের কাজকর্ম সেভাবে বুঝবেন না। ফলে তাদের সঙ্গে শিক্ষকদের কাজ করাটা জটিল হয়ে পড়বে।’ জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম আল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক থেকে পরবর্তী পদে পদোন্নতির সুযোগ থাকলেও ১৯৯৪ সাল থেকে এটি বন্ধ করে দেয়া হয়। কেন বন্ধ করা হয়, তার কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে সেটি আবার চালু হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘পদোন্নতির রাস্তা খুলতে কাজ শুরু হয়েছে। একটি সমন্বিত চাকরিবিধিমালা তৈরির মাধ্যমে আবারও সেটি চালু করা হবে। এক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকদের ৮০ শতাংশ জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি এবং ২০ শতাংশ সরাসরি প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দিতে একটি খসড়া বিধিমালা তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে এটি যাবে। সেখানে খুঁটিনাটি বিস্তারিত আলোচনা হবে। পরবর্তীতে এটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।’

সহকারী শিক্ষকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে কি-না, জানতে চাইলে আকরাম আল হোসেন বলেন, শিক্ষকদের বঞ্চিত করার কোনো প্রশ্নই আসে না। বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিয়ে নয়, পদোন্নতি পেয়েই প্রধান শিক্ষকরা ভবিষ্যতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (এটিও) হবেন। কেউ কোনো ব্লক পোস্টে আটকে থাকুক, সেটি চাই না। এতে কোনো প্রণোদনা থাকে না। শিক্ষকরাও ধাপে ধাপে উপরের পদে পদোন্নতি পাবেন। এজন্য পদোন্নতির সোপান তৈরি করা হচ্ছে।

পি-১/২

এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর প্রস্তুতি নেবে শিক্ষা বোর্ড

ঢাকা অফিস

স্বাস্থ্যবিধি মেনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করবে শিক্ষা বোর্ডগুলো। মন্ত্রণালয় থেকে পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত হলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু করতে চান শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ডের সভায় উপস্থিত হয়ে বোর্ড চেয়ারম্যানরা এমন সিদ্ধান্ত নেন। সভা শেষে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধাপক মো. আব্দুল আলীম জাগো নিউজকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কী কী পদ্ধতিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পরীক্ষা নেয়ার জন্য প্রশ্ন ও উত্তরপত্র প্রস্তুত রয়েছে। কবে পরীক্ষা নেয়া হবে সরকার সিদ্ধান্ত ঘোষণা দিলে আমরা পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করতে পারবো। তিনি আরও বলেন, এখন পাবলিক পরীক্ষা আগের মতো নেয়া সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক বেঞ্চে একজন বা দুজন করে পরীক্ষার্থী বসানো হবে। পরীক্ষা কেন্দ্র স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। সব শিক্ষা বোর্ডগুলোকে পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এদিকে সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউক হক বলেন, জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হলেও পরবর্তী কাসে কীভাবে উত্তীর্ণ করা হবে সে বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় পরবর্তী কাসে উন্নীত করবে। এটি করতে যাতে কোনো সমস্যা না হয় এ জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করা হবে। সেটি অনুসরণ করে পরবর্তী কাসে উন্নীত করা হবে। তিনি বলেন, স্কুলগুলোতে গত মার্চ মাস পর্যন্ত কাস হয়েছে। সংসদ টিভিতে পড়ালেখা করছে, অনলাইন কাস হচ্ছে। তার ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা হবে। নভেম্বরে স্কুল খোলা সম্ভব হলে একভাবে, আর কাস করানো সম্ভব না হলে সেখানে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এজন্য কিছু সময় লাগবে। যতটুকু পড়ানো হবে তার ওপর মূল্যায়ন করা হবে। ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, যদি নভেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব না হয়, তাহলে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরবর্তী কাসে তোলা হলেও পরবর্তী কাসের সিলেবাসের সঙ্গে বাদ পড়া অতি প্রয়োজনীয় নবম শ্রেণির জন্য কিছু বিষয় যুক্ত করা হবে। তবে সেটি বাড়তি চাপ তৈরি করা হবে না। মূল্যায়ন কেমন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূল্যায়ন যদি ‘ফেস টু ফেস’ করা সম্ভব হয় তবে সেটা এক রকম হবে, তা সম্ভব না হলে যতটুকু কাস করা হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে হবে। এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি আমরা নিশ্চিত করতে পারছি না, পরিস্থিতি ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। অটো প্রমোশন বলে কিছু নেই, সবকিছু হবে মূল্যায়নের ভিত্তিতে। নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬ষ্ঠ, ৭ম স্তরের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী কাসে উন্নীতের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর ও জাতীয় পাঠ্যক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ড থেকে নির্দেশনা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

মসজিদে বিস্ফোরণ : হতাহত ৩৫ জনের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান

ঢাকা অফিস

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ও আহত ৩৫ জনের পরিবার ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বমোট এক কোটি ৭৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগামী রোববার বা সোমবার ওই ৩৫ পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেয়া হবে। প্রসঙ্গত, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজের সময় ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে ৩৭ জনকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আমাদের এত ভারতপ্রীতি কেন, প্রশ্ন ডা. জাফরুল্লাহর

ঢাকা অফিস

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা তৈরি করেছে ভারত। কেননা চীনের সাথে বাংলাদেশের একটা চুক্তি হয়েছিল। এ চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বেইজিংয়ের সাথে দূরত্ব অনেক কমে যেত। আমরা চুক্তি করেও শেষ মুহূর্তে ভারতের কারণে পিছিয়ে এসেছি। আমাদের এত ভারতপ্রীতি কেন? ভারতের সাথে কীসের বন্ধুত্ব? তাকে আর কত দেব?’ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল মিলনায়তনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন পেশাজীবীসহ অন্যদের গ্রেফতার, হয়রানি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে মামলা ও সমসাময়িক বিষয় ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যখন প্রথম এসেছিল তখন তুরস্কের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী এসেছিলেন। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া সব মুসলমান রাষ্ট্র এসেছিল। তখন আমরা বলেছি ‘বাই লিটারেলি’ (আক্ষরিক অর্থে) করবো। ব্রাহ্মণ আর নমসুদ্রের মধ্যে ‘বাই লিটারেল’ হয় না। ভারত হচ্ছে একটা ব্রাহ্মণ নবাব, তারা অন্য কাউকে মানতে নারাজ। তারা মানতে পারে না যে, অন্য কেউ তাদের সমকক্ষ।’ তিনি আরও বলেন, তাদের আমরা ‘বাই লিটারেলে’র কথা বলে রোহিঙ্গারা আজকে আমাদের ঘাড়ে এসে পৌঁছেছে। আজকে আবার কী ভুল করছি, তাদের ভাসানচরে দিচ্ছিৃ। এদের রিলোকেট (স্থানান্তরিত) করতে হলে সিলেটে আসাম বর্ডারে বসাতে হবে। নুরুল হক নুরের বিষয়ে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমি খুব বেদনায় আছি যে, আমাদের ভিপি নুর, সে যদি অন্যায় করে থাকে তাহলে তার বিচার হবে। তাই বলে হয়রানি করা যাবে না। তাকে আপনি বের হতে দেবেন না, এটা হয় না। জনগণকে বের হতে দিচ্ছেন না এজন্য দেশে নৈরাজ্য চলছে।’

প্রবাসীদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের ঠাট-বাট, স্যুট-প্যান্ট, কোটৃ প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ দিয়েই আমরা চলমান আছি। আজকে তাদের যে ভোগান্তিৃ করোনার আসার সময়ও বলেছি আমাদের এক কোটি শ্রমিক ভাই বিদেশে আছেন। সরকারকেই তাদের চাকরি নিশ্চিত করতে বলেছি। এতদিন তারা আমাদের টাকা পাঠিয়েছে, এখন সরকারের উচিত কয়েক কোটি ডলার তাদের পাঠানো। ওসব দেশের সাথে সরকারকে সমঝোতা করতে হবে।’ গণস্বাস্থ্যের কীটের গবেষণা স্থগিত হয়ে গেছে কি-না জানতে চাইলে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘স্থগিত হয়ে যায়নি, তবে শ্লথ হয়ে গেছে। এ গবেষণাটা যদি জনসাধারণের কাছে না পৌঁছাতে পারি তাহলে কার জন্য এটা? আমার তো পেপারে নাম ছাপিয়ে লাভ নেই! আমাদের দরকার হলো, যেন জনগণের স্বার্থটা রক্ষা করতে পারি। সরকার অনুমোদন দিলে আমরা প্রত্যেকটা কীট বের করে ফেলতাম। ইভেন করেছি, শুধু বাজারজাত করাটা বাকি ছিল।’ তিনি বলেন, ‘হয়রানি কাকে বলে… ড. বিজন কুমার শীলকে ওখানে (সিঙ্গাপুরে) গিয়ে দরখাস্ত করতে হবে। আজকে ভারতীয় পাঁচ লাখ লোক বাংলাদেশে কাজ করে। ড. বিজন বাংলাদেশের লোক হয়েও কাজ করতে পারবে না। তার ওয়ার্ক পারমিটের জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়ে দরখাস্ত করতে হবে। এটার নাম হচ্ছে হয়রানি। দেবে না যে তা নয়। এখন তাকে পয়সা খরচ করতে হবে। তিনি চাকরি-বাকরি ছেড়ে দিয়ে এসেছিলেন। এ খরচটা কে দেবে?’ ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘সরকার কেন আমাদের এত হয়রানি করছে? আমরা একটি চ্যারিটেবল ট্রাস্ট। আমার সরকারের একটা রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে, ল্যাবরেটরির একটা রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে, এক্স-রে ডিপার্টমেন্টের নিতে হবে, ডেন্টালের নিতে হবে। বছরে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে আমাদের। তারপরও রেজিস্ট্রেশন হয় না।’

তিনি বলেন, ‘এখন এ আমলাতান্ত্রিকতার অবসান না হলে দেশের পাবলিককে শুধু হয়রানি করা হবে। আমাদের কীটে অনুমোদন না দেয়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে, আমরা কোনো জায়গায় টাকা দিইনি।’

টপলিড==========

হতাশ বিএনপির তৃণমূল

খালিদ হোসেন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির পর থেকে দলটির তৃণমূলে চরম হতাশা বিরাজ করছে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি। নির্বাচিত কয়েকজনের শপথ না নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পরও শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়া, পরবর্তী সময়ে কয়েকটি আসনে উপ-নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকাবস্থায় তার মুক্তির দাবিতে কোনো জোরদার আন্দোলন করতে না পারা এবং সরকারের কৃপায় খালেদা জিয়ার মুক্তির পর তারও নীরবতা, সেই হতাশা আরও ফিকে করেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের।

ক্ষুব্ধ কর্মীরা বলছেন, বিএনপি টানা ১২ বছর ক্ষমতার বাইরে। এমনিতে হতাশার শেষ নেই নেতাকর্মীদের মধ্যে, এর ওপর আবার হাইকমান্ড কোনো যুৎসই সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বা সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারেনি। বরং তারা দলের তৃণমূলের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করে যাচ্ছে নানাভাবে। তৃণমূল পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পরপরই অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচন বর্জন করলেও পরবর্তী সব উপ-নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। মূল নির্বাচনে মাঠ ছেড়ে দিয়ে উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণের এই দ্বিমুখী সিদ্ধান্ত তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রচ-ভাবে হতাশায় ফেলেছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশ সরকারের সঙ্গে আঁতাত করেছে। সরকারের মেয়াদ পূর্ণ করার জন্যই তারা এ ধরনের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

তৃণমূলের অনেক নেতা মনে করেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যানের পর নির্বাচিত চারজনের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিএনপি তার নৈতিক অবস্থান ও রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। নির্বাচিতদের যদি শপথই করতে বলা হবে, তাহলে বিএনপি নির্বাচন কেন বর্জন করল, সে প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছেন অনেকে। আবার নির্বাচিত পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে সংসদে পাঠিয়ে কেবল মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কেন শপথ করতে দেয়া হলো না, সে প্রশ্নের জবাবও খুঁজছেন অনেকে। কারও কারও মতে, নির্বাচিতদের শপথের মাধ্যমে সংসদে পাঠিয়ে মূলত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে বৈধতা দিয়ে দেয়া হয়েছে।

বিএনপির মধ্যম পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একাদশ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করলেও পরবর্তী যে ক’টি আসনে উপ-নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে কেবল মির্জা ফখরুলের ছেড়ে দেয়া আসন (বগুড়া-৬) ছাড়া আর কোনোটিতে কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি বিএনপি। হতাশ নেতাকর্মী ও ভোটারদের তারা ভোটকেন্দ্রমুখীও করতে পারেনি। মূল নির্বাচনে ভরাডুবির হতাশা আরও চেপে ধরছে এসব উপ-নির্বাচনের নেতিবাচক ফলাফল। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকলেও তার মুক্তির দাবিতে সারাদেশে কোনো কর্মসূচি পালন করতে না পারা, করোনা সঙ্কটকালে সরকারের অনুকম্পায় খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং পরবর্তীকালে তার নীরবতা দেখে তৃণমূলের কর্মীরা বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

উপ-নির্বাচন ঘিরে অসন্তোষ-অভিযোগ:

গত ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমাদের বরাবরই সিদ্ধান্ত ছিল নির্বাচনে অংশ নেয়ার। শুধু করোনার কারণে আমরা গত দুটি উপ-নির্বাচনে (যশোর ও বগুড়া) যোগ দিয়েও পরবর্তীতে প্রচারণায় যাইনি, সরে দাঁড়িয়েছি। আগামীতে আমরা উপজেলা নির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণ করব, সেই সিদ্ধান্তই আছে।

এদিকে উপ-নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, এসব উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণের আড়ালে মনোনয়ন বাণিজ্য চলছে, যা দলের জন্য আত্মঘাতী। এতে দলের চরম ক্ষতি হচ্ছে। যা থেকে বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর আশা আরও ক্ষীণ হচ্ছে। উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন সংক্রান্ত সর্বশেষ বৈঠক চলাকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনা নিয়েও তৃণমূলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মনোনয়ন গ্রহণকালে শোডাউনের সময় কর্মী-সমর্থকদের দেখা গেলেও আন্দোলনের মাঠে কেন তাদের পাওয়া যায় না, সে প্রশ্ন যেমন উঠেছে; তেমনি অনেকের প্রশ্ন, এই শোডাউনবাজদের মনোনয়ন দিয়ে দলের কী লাভ হবে? এ প্রসঙ্গে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণেই নির্বাচন এলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বেড়ে যায়। কখনও কখনও তা রূপ নেয় সংঘর্ষে। সুষ্ঠু রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখতে অনৈতিক পথ থেকে বের হয়ে আসতে হবে বিএনপিকে।’

‘অর্থের বিনিময়ে প্রার্থিতা দেয়ার সংস্কৃতি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে’ মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘যা রটে তার কিছু তো বটে। কিছু না হলে এটা রটবে কেন? গণতন্ত্রের চর্চা না থাকার কারণে এটা হচ্ছে।’ অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কমিশনার নবী উল্লাহ নবী একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসন থেকে নির্বাচন করেন। ঢাকায় বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি ভোট পান। তবে ওই আসনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান মোল্লা। সম্প্রতি তার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া এ আসনে আসন্ন উপ-নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাননি নবী। সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমদকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে বিএনপি। মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার তিনদিন পর নিজের ফেসবুক পোস্টে নবী উল্লাহ উল্লেখ করেন, ‘বিএনপির বড় সারির অনেক নেতা সরকারি এজেন্টদের ফাঁদে এমনভাবে পা দিয়েছেন, মনে হচ্ছে বিএনপির এসব এজেন্টের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কারণ একের পর এক সরকারের এজেন্ডা বিএনপিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে। তাহলে কি এটা দেখার কেউ নেই?’ তিনি আক্ষেপ করে আরও লেখেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের এত পরিশ্রম, জেল, জুলুম, নির্যাতন, হত্যা, গুম, ত্যাগ কি বৃথা যাবে? তাহলে কি আমরা বিএনপির বিজয় দেখে যেতে পারব না? হয়তো একদিন সরকারি এজেন্টদের পতন হবে, একদিন বিএনপির বিজয় হবে। ততদিনে আমরা অনেকেই বেঁচে নাও থাকতে পারি।’ অপরদিকে ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী এস এম জাহাঙ্গীরকে নিয়েও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। ওই এলাকা থেকে যারা বিএনপির হয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন এমন আটজন জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন না দেয়ার জন্য দলীয় হাইকমান্ডের কাছে লিখিত আবেদন করেন। এর কিছুদিন আগে ছাত্রদলের কর্মীরা জাহাঙ্গীরকে লাঞ্ছিতও করেন। অবশ্য, জাহাঙ্গীরের জন্য মনোনয়ন চেয়ে তারাও দলীয় হাইকমান্ডের কাছে আবেদন করেন।

পি-৪/২

চার বছর ধরে সরকারি চাল চুরি, চেয়ারম্যান-আ.লীগ নেতাসহ কারাগারে ৪

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

সরকারি চাল আত্মসাতের ঘটনায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাসসহ চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (দ্বিতীয়) আদালতের বিচারক মো. মহসিন হাসান। তারা হলেন- গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দবির উদ্দিন বিশ্বাস, একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মারুফুল ইসলাম, চালের ডিলার মন্টু হোসেন এবং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সরোয়ার হোসেন। আদালত সূত্র জানায়, দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাস তার সহযোগীদের নিয়ে চার বছর ধরে সরকারের ১০ টাকা কেজি দরের চাল উত্তোলন করে দুস্থদের না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। এরপর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত। মামলা দায়েরের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পি-১/১

পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এসে যুবক ধরা

মাগুরা প্রতিনিধি

পরকীয়ার টানে রাতের আঁধারে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এসে গ্রামবাসীর হাতে ধরা খেলেন জিহাদ (২৮) নামের এক যুবক। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামে বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরকীয়া প্রেমিক জিহাদ মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা গ্রামের ফেলু মোল্যার ছেলে। স্থানীয়রা জানান, জিহাদ বুধবার দিবাগত রাতে তার পরকীয়া প্রেমিকা চৌবাড়িয়া গ্রামের হাসানের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এ সময় স্থানীয়রা টের পেয়ে জিহাদকে আটকে রাখে। এ ব্যাপারে হাসানের স্ত্রী বলেন, জিহাদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছে। গত ২৩ তারিখ রাতে জিহাদ তাকে তার স্বামীর খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়াতে বলে এবং একপ্রকার চাপে পড়েই তিনি কাজটি করতে বাধ্য হন বলে জানিয়েছেন।

মহম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিহাদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। জিহাদ নাগড়া বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পি-১/২

ঢাবির সেই ছাত্রীর আরেক মামলা

ঢাকা অফিস

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ এনে নয়জনের নাম উল্লেখ আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সেই ছাত্রী। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগ থানায় ডিজিটাল অ্যাক্টে মামলাটি দায়ের করা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান জানান, ভূক্তভোগী ছাত্রী সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ৯ টি ইউজার নেইম উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ৯ নামের পেছনে কয়জন আসামি রয়েছে তা তদন্ত করে দেখবে পুলিশের সাইবার ক্রাইম এক্সপার্ট টিম। মামলাটি তদন্তের জন্য তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তথ্যমতে, মামলার অভিযুক্ত ফেসবুক ব্যবহারকারীরা হলেন, তামান্না ফেরদৌস শিখা, তামান্না আকতার, তাজুল ইমলাম আকাশ, শারমিন রিজিয়া, এইচ এম হোসাইন বিন নুর, মো. তুহিন মোল্লা হৃদয়, মেহেদী হাসান সুজন, রেজাউল করিম কাজল ও ফেসবুক গ্রুপ স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মামলায় ওই ছাত্রী অভিযোগ করেন, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরসহ ছাত্র অধিকার পরিষদের ৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর থেকে ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি এবং গ্রুপে আমার নামে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী মিথ্যা সংলাপ পাবলিক পোস্ট, কমেন্ট ও শেয়ারের মাধ্যমে প্রচার করে আমার ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদাহানি করে আসছে। এই ঘটনায় আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছি। এই ব্যাপারে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ শাস্তির দাবি জানান ওই ছাত্রী। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ধর্ষণের মামলা করার পর বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব থেকে হাসান আল মামুনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়ে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। বুধবার বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তদন্ত কমিটিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পরিষদের দুজন যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক রহমান ও রাফিয়া সুলতানাকে রাখা হয়েছে। তাদেরকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুপারিশসহ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগঠনের নির্বাহী পরিষদের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ছাত্র অধিকার পরিষদ গণমানুষের যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে। নারীর প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়ন দমন এবং নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ছাত্র অধিকার সব সময়ই সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে এবং সুষ্ঠু ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে ঐ ছাত্রী লালবাগ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে ও কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেন। অপহরণ, ধর্ষণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরিত্র হননের অভিযোগে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়েছে। গত সোমবার রাতে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন এক ছাত্রী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ঐ ছাত্রী এর আগে লালবাগ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেছিলেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, লালবাগ থানায় যে শিক্ষার্থী মামলা করেছিলেন, কোতোয়ালি থানার মামলাটি তিনিই করেছেন। তবে ঘটনা দুটি ভিন্ন। তিনি বলেন, কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরিত্র হননের অভিযোগ আনা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফরম বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগকে (২৮) এ মামলার ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে করা হয়েছে মামলার ২ নম্বর আসামি, যাকে লালবাগের মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। আর লালবাগের মতো কোতোয়ালির মামলায়ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নাম এসেছে আসামির তালিকার ৩ নম্বরে। নুরও ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক। অন্য তিন আসামি হলেন পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইফুল ইসলাম (২৮), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি নাজমুল হুদা (২৫) এবং কর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল্লাহ হিল বাকি (২৩)।

লালবাগ থানায় মামলার এজাহারে বাদী বলেছেন, একই বিভাগে পড়া এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের কাজে থাকার কারণে হাসান আল মামুনের সঙ্গে তার ‘প্রেমের সম্পর্ক’ গড়ে ওঠে। এর সুযোগ নিয়ে মামুন চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি তার লালবাগের বাসায় নিয়ে তাকে ‘ধর্ষণ’ করেন। আর কোতোয়ালি থানার মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনার পর ঐ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে সোহাগ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সুস্থ হওয়ার পর মামুনকে বিয়ের জন্য চাপ দেন ঐ তরুণী। তখন সোহাগ তাকে ‘সহযোগিতার আশ্বাস’ দেন এবং মামুনের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে সদরঘাট হয়ে লঞ্চে করে চাঁদপুরে নিয়ে যান। কিন্তু চাঁদপুরে মামুনকে না পেয়ে ঐ ছাত্রীর সন্দেহ হয়। সেখান থেকে ফেরার পথে লঞ্চে সোহাগ তাকে ‘ধর্ষণ’ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরো বলা হয়েছে, এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ঐ তরুণী নুরের সঙ্গে দেখা করেন। নুর তাকে প্রথমে ‘মীমাংসা’ করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে ‘বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানী করার’ হুমকি দেন। এরই মধ্যে মামলার বাকি তিন আসামি নানাভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঐ তরুণীর বিরুদ্ধে ‘কুত্সা’ রটাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়। লালবাগ থানায় ধর্ষণের মামলা হওয়ার পর তা ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে সোমবার রাতে বিক্ষোভ করছিল নুরের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। পুলিশ সেখান থেকে নুর ও তার সাত সহযোগীকে ধরে নিয়ে গেলেও পরে ছেড়ে দেয়। এ সময় নুরসহ অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কিছু ব্যক্তির নির্যাতনে আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

কোতোয়ালি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নারী নির্যাতন দমন আইনে নুরসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৩ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছে আদালত। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মামলার এজাহার আদালতে এলে তা গ্রহণ করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মাহমুদা আক্তার। এরপর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) নুর আলমকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

পি-১/২

এবার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস

চাকরির বাজার বিবেচনা করে দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ডিজিটালে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনের সাইডলাইনে ‘ডিজিটাল সহযোগিতা: ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অ্যাকশন টুডে’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট উদীয়মান চাকরির বাজার বিবেচনা করে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ডিজিটাল একাডেমি এবং সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে চান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে ডিজিটাল সহযোগিতায় বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের অপেক্ষায় রয়েছি।’ পূর্বে ধারণকৃত ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, কোভিড-১৯ মহামারি ডিজিটাল পরিসেবার শক্তিকে উন্মোচিত করেছে এবং ডিজিটাল বিভাজনকেও প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, দেশে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০৩ দশমিক ৪৮ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। আমাদের ডিজিটালাইজেশন জনগণকে পরিবর্তন-নির্মাতা হওয়ার বিশাল সুযোগ এনে দিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘ডিজিটাল কানেকটিভিটির ওপর আমাদের আলোকপাত অর্থনৈতিক বিকাশকে সহজতর করেছে এবং নারীর ক্ষমতায়নসহ সামাজিক পরিবর্তনকে অনুঘটক করেছে। এটি এসডিজিগুলোকে বাস্তবায়ন এবং কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করছে।’ তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা বাংলাদেশকে ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, কাজেই আমরা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে এই রূপান্তরিত যাত্রার কেন্দ্রে রাখতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট উদীয়মান চাকরির বাজার বিবেচনা করে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ডিজিটাল একাডেমি এবং সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে চান।

সম্পাদকীয়=======

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অশনিসংকেত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বাড়ছেই। মিয়ানমারে তাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসন না হওয়ায় রোহিঙ্গারা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এর সর্বশেষ প্রমাণ পাওয়া গেল বুধবার। ‘‘কক্সবাজারের টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অস্ত্রসহ মো: রবিউল ইসলাম (২৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে আর্মড ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্যরা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ) ভোর রাতে টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের আই ব্লকের পশ্চিমে পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ এ যুবককে আটক করা হয়। একপর্যায়ে আসামি রবিউল ইসলামের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি সাটারগান ও ৩৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। সে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী খালেক বাহিনীর সদস্য বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। রবিউল দীর্ঘদিন ধরে অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে পাহাড়ে অবস্থান করে ডাকাতি অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত রয়েছে।’’এ খবর নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য শঙ্কার। আমরা শুরু থেকেই এ বিষয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে আসছি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হলে স্বাভাবিকভাবেই সন্ত্রাসবাদের উত্থান হবে, যা কখনোই কাম্য নয়। আর এ সন্ত্রাসবাদের শিকার শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়াসহ পুরো বিশ্বই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্রের ঝনঝনানি এ অশনিসংকেতের বার্তা বহন করে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও গুরুত্ব সহকারে নজর দিতে হবে। কারণ, এ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বিশ্বের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। আমরা বরাবরের মতো আবারও বলতে চাই, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারের সৃষ্টি, এর সমাধানও মিয়ানমারকে করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানবিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার খেসারত বাংলাদেশের পক্ষে বছরের পর বহন করা সম্ভব নয়। বিশ্বব্যাপী এ ইস্যুকে সামনে রেখে সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আগেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

উপ-সম্পাদকীয়===========

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন

-পরীক্ষিৎ চৌধূরী

বাংলাদেশ পর্যটকদের মন কেড়েছে বহুকাল আগে থেকে। এদেশের প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসুদের মনের খোরাক মেটায়। কক্সবাজার, খাগড়াছড়ির সাজেক ভ্যালি, বান্দরবান,  কুয়াকাটা, সিলেট, সেন্টমার্টিন, সুন্দরবনে সারাবছর পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে। কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের হাওর সম্প্রতি সবার মনোমুগ্ধকর ভ্রমণ স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে, একটি গৌরবজ্জ্বল ইতিহাস আছে, আমাদের বিপুল জনবলও আছে। ট্যুরিজমের জন্য প্রয়োজনীয় এই তিনটি জিনিসই আমাদের আছে। জনবল তো ট্যুরিজমের প্রাণ। নি:সন্দেহে বলা যায়, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। ধীরগতিতে হলেও এ শিল্পের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার কারণে পর্যটন শিল্পের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কমপিটিটিভনেস রিপোর্টে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম দেখানো হয়েছে। যা ২০১৭ সালে ছিল ১২৫তম। পর্যটন বাংলাদেশের জিডিপিতে ২০১৯ সালে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থাৎ ৭৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকার অবদান রেখেছে, পর্যটন রপ্তানির মাধ্যমে একই বছর ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার সমমানের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে এবং এই সেক্টরে বর্তমানে নিয়োজিত আছে প্রায় ৪০ লাখ কর্মী। এই কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে হোটেল ও বিমান মিলে ১০ শতাংশ ব্যবসায়ী কর্পোরেট শ্রেণির, মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ৮০ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ প্রান্তিক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এখানে আমি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করতে চাই। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ভেতরে বিশ্বব্যাপী ৩০ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে ট্যুরিজম খাতে। বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় পর্যটন শিল্পের সংযোজন শুধু আর্থিক সফলতা বয়ে আনছে না, সেই সাথে স্থানীয়দের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে এর সুফল ছড়িয়ে দিচ্ছে। একথা অনস্বীকার্য, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে পর্যটন শিল্প বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠতে পারে অন্যতম হাতিয়ার হিসাবে। সরকার ২০০৯ সালে ট্যুরিজম সেক্টরকে এসএমই এবং পুনঃঅর্থায়নযোগ্য খাত হিসেবে নির্ধারণ করেছে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক সেবা ও অগ্রাধিকার খাত হিসেবে নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২৪টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এসএমই খাতের মধ্যে পর্যটনকে ৫ম স্থানে রেখেছে।। ২০১৮ সালের ওআইসির আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঢাকাকে ওআইসি পর্যটন শহর-২০১৯ হিসেবে ঘোষণা হয়েছিল। এতে মুসলিম দেশগুলোর অনেক পর্যটকের কাছে বাংলাদেশ নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করেছে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে এবছর স্থবির হয়ে পড়ে আমাদের পর্যটন শিল্প। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হচ্ছে, এ খাতে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪০ লাখ জনবল বেকার হয়ে পড়েছিল। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বেশির ভাগ হোটেলে অতিথির সংখ্যা নেমে এসেছে ২ থেকে ৩ শতাংশে। এটি স্মরণকালের মধ্যে সর্বনিম্ন। ‘৩০ জুন প্রকাশিত বিশ্ব ব্যাংকের ‘কোভিড-১৯ ও দক্ষিণ এশিয়ায় পর্যটন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, মহামারীতে পর্যটন খাতের ক্ষতির কারণে জিডিপি থেকে ২০৩ কোটি ডলার (প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা) হারাতে পারে বাংলাদেশ। এর ফলে সরাসরি ৪ লাখ ২০ হাজার কর্মসংস্থান ও খাতের সঙ্গে জড়িত প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কোভিডরোগের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার আলোকে  সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। যেমন, দেশের পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থানগুলোতে কেবল বিদেশিদের জন্য স্বতন্ত্র পর্যটন এলাকা স্থাপন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখে ইকো-ট্যুরিজম পার্ক, দ্বীপভিত্তিক পর্যটন পার্ক ও হোটেল নির্মাণ এবং পর্যটকদের বিনোদনসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। সম্প্রতি পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ায় আবার সবাই কর্মচঞ্চল হয়ে পড়েছে। ফলে পর্যটননির্ভর অর্থনীতি আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। একে আরো গতিশীল করতে এবারের বাজেটে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে ৩ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যেসব পণ্য পর্যটনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট, তাদের ওপর থেকে শুঙ্ক ও কর মওকুফ করে পর্যটন পুনরুদ্ধারে সরকার দৃঢ় প্রত্যয়ী। সঙ্কট  মোকাবিলার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে ১৪ সদস্যের ‘পর্যটন শিল্পের সংকট ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠন করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত উত্তরণের লক্ষ্যে সরকার একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যতিক্রমী এই সেবার নাম ‘হোম স্টে’।ভ্রমণে গেরে হোটেল, মোটেল কিংবা রিসোর্ট নয়, পারিবারিক পরিবেশে দিন-রাত যাপন করার সুযোগ পাবেন পর্যটক। কোভিড-১৯ পরবর্তী প্রেক্ষাপটে নিউ নরমাল অবস্থায় পর্যটকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ স্বল্প খরচে পর্যটন এলাকায় অবকাশ যাপনের জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সারাদেশে এই ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন খাতে স্থানীয়দের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে সামাজিক ইকোট্যুরিজমভিত্তিক এই উদ্যোগ ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করছে।। অধিকন্তু কমিউনিটি ট্যুরিজম-এর বিকাশ ঘটায় জনগণের সম্পৃক্ততাও অধিতহারে বাড়বে।

-২-

ট্যুরিজম বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট পর্যটন স্পট রয়েছে। একই এলাকায় একাধিক স্পটও রয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকায়ও রয়েছে পর্যটন স্পট। একাধিক পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে একটি ‘হোম স্টে’ সার্ভিস চালু করলে উদ্যোক্তারা করোনা পরিস্থিতি খুব দ্রুত সামাল দিতে পারবেন। পাশাপাশি পর্যটনে আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে মানুষের মধ্যে আস্থা গড়ে তোলারও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আস্থা পেলেই মানুষ নিশ্চিন্তে পর্যটনে আসবে। এ ক্ষেত্রে কান্ট্রি ব্র্যান্ডিং বড় মাপের ভূমিকা রাখতে পারে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পর্যটন নিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে সামাজিক মাধ্যমে প্রমোশন বাড়ানোর কাজও শুরু করা হয়েছে। যথাযথ ব্র্যান্ডিংই পারে বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে বিশ্বের সামনে নতুন করে তুলে ধরতে। ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য সরকার বেশ আগেই ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। সরকার প্রতি বছর পর্যটন মেলার আয়োজন করছে এই লক্ষ্য নিয়েই। পাশাপাশি জেলাভভিত্তিক ব্র্যান্ডিংও চলছে। দেশের সবকয়টি জেলার নানান দর্শনীয়, ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থানগুলোর বিবরণসহ ভ্রমণের সুযোগ-সুবিধা এই ব্র্যান্ডিং-এর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের জন্য সরকার এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে পর্যটনের ব্র্যান্ডিং বাড়ানোর পদক্ষেপও সরকার নিয়েছে। ঢেলে সাজানো হচ্ছে সরকারি ওয়েবসাইটগুলোকেও। দেশের পর্যটন শিল্পের জন্য আইকন তৈরি করে তার ব্র্যান্ডিং করা যেতে পারে। এই উদ্যোগকে নতুন গতি ও অভিনবত্ব যোগ করলে করোনা পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণ সম্ভব হবে। দেশের দর্শনীয় স্থানগুলো নিয়ে গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রচারণাও চলছে, টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছে ট্র্যাভেল শো। দেশের বাইরে দূতাবাসগুলো থেকেও পর্যটন বিষয়ক তথ্য পাওয়ার সুযোগ বেড়ে গেছে। সমগ্র বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের বিশ্বপর্যটন সংস্থা (টঘডঞঙ) এর উদ্যোগে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২০ যথাযোগ্য মর্যাদা ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘ঞড়ঁৎরংস ধহফ জঁৎধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ’ অর্থাৎ ‘গ্রামীণ উন্নয়নে পর্যটন’ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে পর্যটন শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। জাতিসংঘের মতে, বিশ্বজুড়ে পর্যটক সংখ্যা ১৯৫০ এর দশকে  ছিল ২৫ মিলিয়ন। তা আজ বেড়ে ২ বিলিয়নে পৌঁছৈছৈ।  পর্যটনকেন্দ্রগুলোর দ্বারা উপার্জিত আয় ৫০ এর দশকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০১৫ সালে ১২ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

গত কয়েক বছরে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন বৈপ্লবিক নীতির সুবাদে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় পর্যটনের মতো বৈচিত্র্যময় কাজে অংশ নেয়ার সুযোগও অনেক বেড়ে গেছে।

পর্যটন একটি বহুমাত্রিক এবং শ্রমঘন শিল্প। এ শিল্পে  সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়াও পরোক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। দেশের প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রের আশেপাশে বসবাসরত জনগোষ্ঠী তাদের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে উৎপাদিত পণ্য, তৈরি খাবার, বাড়িতে চাষ করা ফল বা সবজি পর্যটকদের নিকট বিক্রয় করছে, এ দৃশ্য অতি পরিচিত। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এর বিভিন্ন ইউনিটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণের  উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ডিউটি ফ্রি শপেও হস্ত ও কুটির শিল্পের বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় হয়। হোটেল ও মোটেলগুলোতে রিসিপশন, হাউজ কিপিং, কিচেন, এমনকি হোটেল ব্যবস্থাপক হিসেবেও বিপুল জনসংখ্যা কাজ করছেন। পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাকে বাস্তবে অনূদিত করতে বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে উৎসাহ যোগানোর ক্ষেত্রে সরকার  সক্রিয় রয়েছে। করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কাজটি সরকার ভালোভাবেই করছে। দেশের পর্যটন কেন্দ্রে প্রতি বছর ভ্রমণ করছে প্রায় ৯০-৯৫ লাখ পর্যটক। এই শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে জাতীয় হোটেল ও পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ অব্যাহত আছে। এখানে বছরব্যাপী পর্যটন বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির কম্প্রিহেনসিভ প্রাইভেট সেক্টর অ্যাসেসমেন্ট (সিপিএসএ) শীর্ষক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিয়ে আসে বিদেশিদের মাত্র পাঁচ শতাংশ।

অপার সম্ভবনাময় আমাদের এই বাংলাদেশ হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার একটি আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র, যা অর্থনৈতিক চাকাকে সচল করবে। সেই সাথে বিশ্ব পরিম-লে বাংলাদেশর ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে সাহায্য করবে। পর্যটন পুলিশের তথ্যমতে, বাংলাদেশে ছোট-বড় প্রায় ৮০০শ’র বেশি পর্যটন স্থান রয়েছে। এসব স্থানকে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যটনের সাথে যুক্ত করা গেলে তা এই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে।-  পিআইডি ফিচার

নওয়াপাড়া পৌর ছাত্র লীগের উদ্দ্যেগে বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি-

প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে যশোর অভয়নগরের নওয়াপাড়া পৌর ছাত্র লীগের উদ্দ্যেগে বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধায় নওয়াপাড়া পৌর সভার ৪,৫,৬ ও ৭ নং ওয়ার্ড বাসির মাঝে তিন শতাধিক ফলদ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধনি অনুষ্ঠানের উপন্থিত ছিলেন, উপজেলা যুবলীগ নেতা আব্দুল মুকিত মোল্ল্যা, নুর ইসলাম মনি, মনির হোসেন, আজিম চেšধরী, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহম্মেদ শান্ত, ছাত্রলীগ নেতা আল মামুন আকাশ, শরিফুল ইসলাম, শান্ত শেখ, মুরাদ হোসেন, রাব্বি খান, জয় হলদার, হাসিবুল, আল আমিন, জীবন, ইমন সাকিব প্রমুখ। বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির আওতায় অভয়নগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও নওয়াপাড়া পৌর সভার ৯টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে গাছের চারা রোপন ও বিতরণ করা হবে।

দেবহাটা প্রেসকাব কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে ১৬ জন প্রার্থী রিটার্নিং অফিসারের কাছে তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা (সাতক্ষীরা)

দেবহাটা প্রেসকাব কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে ১৩টি পদের বিপরীতে ১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বৃহষ্পতিবার উৎসব মুখর পরিবেশে দেবহাটা প্রেসকাব ভবনে উপস্থিত হয়ে রিটার্নিং অফিসার সরকারী খানবাহাদুর আহছানউল্লা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের কাছে মনোনয়ণপত্র দাখিল করেন প্রার্থীরা। উল্লেখ্য, আহ্বায়ক কমিটি ঘোষিত নির্বাচনী তফশিল মোতাবেক ২৫ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের দাখিলকৃত মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। ওই দিনই আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে দাখিলকৃত মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই এবং ২৬ সেপ্টেম্বর প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের প্রতিক বরাদ্দ করবে নির্বাচন কমিশন। সর্বশেষ ১লা অক্টোবর উৎসব মুখর পরিবেশে প্রেসকাব ভবনে কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আশাশুনিতে ইউনিসেফ সিপি প্রজেক্টের অবহিতকরণ সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনিতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আশাশুনি এপি’র ইউনিসেফ সিপি প্রজেক্টের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০.৩০ টায় এতিম ছেলেমেয়েদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মিলনায়তনে এ অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসবিআর ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আশাশুনি এপি’র ইউনিসেফ সিপি প্রজেক্টের অয়োজনে সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা। সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদের অংশ গ্রহনে সভায় মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রজেক্টের পরিচিতি ও কার্যক্রম সম্পর্কে মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন, এপি’র প্রজেক্ট অফিসার স্বপন ডেভিট সাহা। সিপি প্রজেক্ট অফিসার সুজিত হালদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার রফিকুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম, বুধহাটা ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ আ ব ম মোছাদ্দেক, কাদাকাটি ইউপি চেয়ারম্যান দীপঙ্কর কুমার সরকার দীপ, সদর প্যানেল চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম শাহীন, শিক্ষক মঞ্জুরুল আমিন শেখর প্রমুখ। আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের নিয়ে প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন প্রকার কাজ করা হবে। ৬ মাসের জন্য ইউনিসেফ ওয়ার্ল্ড ভিশনের সাথে এ প্রজেক্ট নিয়ে উপজেলার ৬ ইউনিয়নে কাজ করবে।

আশাশুনিতে অপুষ্ট বাচ্চাদের অর্থ সহায়তা প্রদান

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনিত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া অপুষ্ট বাচ্চাদের পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানোয় সহায়তার জন্য অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আশাশুনি হাসপাতালে এ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। ইউনিসেফের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ৫ জন বাচ্চাকে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেয়। এসব বাচ্চাকে যখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তখন পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানো নিশ্চিত করতে প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। যেদিন ব্চ্চাাদের রিলিজ দেওয়া হয়েছিল সেদিন প্রত্যেককে আবার ১০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। রিলিজের পর ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানোর জন্য আবারও ১০০০ টাকা করে প্রদানের নিয়ম থাকায় বৃহস্পতিবার এমন ৫ জনকে ১০০০ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। নগদ টাকা প্রদান করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুদেষ্ণা সরকার। এসময় সিনিঃ স্টাফ নার্স কল্পনা রানী মন্ডল, সিনিঃ স্টাফ নার্স রমা সেন, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ মাহবুবর রহমান ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোক্তারুজ্জামান স্বপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আশাশুনিতে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনিতে জাতীয় ভিটামিন এ+ ক্যাম্পেইন- ২০২০ উপলক্ষে অবগিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুদেষ্ণা সরকারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ দীপন বিশ^াস, সেনেটারী ইন্সপেক্টর জি এম গোলাম মোস্তফা ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান। সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোক্তারুজ্জামান স্বপনের সঞ্চালনায় সভায় উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ইনামুল হক, স্বাস্থ্য পরিদর্শক রমেশ চন্দ্র মন্ডল প্রমুখ আলোচনা রাখেন। সভায় আগামী ৪ঠা অক্টোবর হতে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৬ মাস বয়স হতে ৫৯ মাস বয়স পর্যন্ত সকল শিশুকে একটি করে ভিটামিন এ+ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ কার্যক্রম সফল করতে সভায় গৃহীত কার্যক্রম অবহিত করা হয় এবং পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়।

হাড়ীভাঙ্গা নাটানা বাজার কমিটি থেকে পদত্যাগ

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনি উপজেলার হাড়ীভাঙ্গা নাটানা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি থেকে ৩ জন পদত্যাগ করেছেন। বাজারের ব্যবসায়ী নূর ইসলাম সরদার, আতিয়ার রহমান গাজী ও মহাসিন গাজী লিখিত ভাবে জানান, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠনের পক্ষে তারা। কমিটি গঠনের দিন অধিকাংশ ব্যবসায়ীর অনুপস্থিতিতে কমিটি গঠন করা হয়। তারা নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু নির্বাচন না করে সকল ব্যবসায়ীকে না নিয়ে গঠিত কমিটিতে তাদের মতামত ছাড়াই অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ফলে তারা কমিটি থেকে পদত্যাগ করছেন এবং নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবী জানিয়েছেন।

দরগাহপুরে বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক করে ঠকানোর অভিযোগে থানায় অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুরের হাফিজুলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ঠকানোর অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পাইকগাছার দেবদুয়ার গ্রামের মহসিন মিস্ত্রীর কন্যা সিরিনা খাতুন থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগে ও সাংবাদিকদের কাছে জানান, দরগাহপুরের রামনগর গ্রামের আলীম উদ্দীন গাজীর পুত্র হাফিজুল একই গ্রামের লতিফের পুত্র লাচ্চুর মাধ্যমে পরিচিত হন। এরপর থেকে মোবাইলে তাদের মধ্যে যোগাযোগের এক পর্যায়ে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে কাছে পেতে চকুরতার আশ্রয় নেয় হাফিজুল। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হাফিজুল তাকে দরগাহপুর বসাস্ট্যন্ডে ডেকে নিয়ে সেখান থেকে যশোরে রওয়ানা হয় এবং খাজুরায় তার পরিচিত জনৈক হক এর বাড়িতে নিয়ে ওঠে। সেখানে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। তিন দিন সেখানে থাকার পর হাফিজুলের ভাই নূর ইসলাম ও লাচ্চু মোবাইলে কথা বলে বাড়ি ফিরতে বলে। তিনদিন পর তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়ে দরগাহপুরে আসলে ভাই ও লাচ্চুর কুপরামর্শে নিজের বাড়িতে না নিয়ে লাচ্চুর বাড়িতে নিয়ে তোলে। এরপর তারা ষড়যন্ত্র করে খুব শীঘ্রই বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে ওয়াদা করে সিরিনাকে তার পিতার বাড়িতে পাঠায়। কিন্তু পরে আর তার ফোন না ধরাসহ যোগাযোগ না রাখায় অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সিরিনা। বাধ্য হয়ে সিরিনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এব্যাপারে বিবাদী হাফিজুলসহ তার সহায়তাকারীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী অভিযুক্ত হাফিজুলসহ তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের জোর দাবি জানিয়েছেন।

কাদাকাটি প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বিভাগীয় মামলায় শাস্তি

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম কামরুল ইসলামকে বিভাগীয় মামলায় শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। স্কুল ছাত্রীকে নির্মম ভাবে বেত্রাঘাত করার অপরাধে তাকে শাস্তি প্রদান করা হয়। প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম স্কুলের শিক্ষার্থী জিবাকে নির্মমভাবে বেত্রাঘাত করেন। এছাড়া আরও অনেককে বেত্রাঘাত ও শিক্ষক সুলভ বহির্ভূত আচরণ করেন। শিশু শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করার দায়ে সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ ্এর বিধি ৩ এর (খ) ধারা অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে ২৮ জুলাই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু পূর্বক কারণ দর্শানো নোটিশ জারী করা হয়। প্রধান শিক্ষক ১২ আগষ্ট লিখিত জবাব এবং ১৬  সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত শুনানীতে লিখিত জবাবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ফলে তাকে লঘু দন্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত হয় এবং বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৪ এর উপবিধি (২) (খ) অনুযায়ী একটি বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি স্থগিত করা হয়। ২১ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা খুলনার উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) নাসরিন সুলতানা স্বাক্ষরিত পত্রে এ আদেশ প্রদান করা হয়। ভুক্তভোগিরা শাস্তির কথা জানতে পেরে লঘু শাস্তিতে খুশি না হলেও শাস্তি প্রদান করায় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন এবং ভবিষ্যতে তার আচার আচরণে পরিবর্তন আসবে সে প্রত্যাশা করেছেন। 

কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে কৃষক লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

আলমগীর হোসেন, কেশবপুর প্রতিনিধি

কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে কৃষক লীগের বর্ধিত সভা বৃহস্পতিবার আবু শরাফ সাদেক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৈয়দ নাসির হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রমেশচন্দ্র দত্তের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষক লীগের খুলনা বিভাগীয সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোঃ নাজমুল ইসলাম পানু। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমিন।  বিশেষ অতিথি হিসেবে  বক্তব্য দেন যশোর জেলা কৃষকলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ শামসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আমির হোসেন,ও পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম।

তালায় ৩৭ জন মহিলার মাঝে ক্ষুদ্র ঋণের চেক বিতরণ

ইলিয়াস হোসেন,তালাঃ

জাতীয় মহিলা সংস্থা তালা উপজেলা শাখার উদ্যোগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৩৭ জন মহিলার মাঝে ক্ষুদ্র ঋণের চেক বিতরণ করা হয়ছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসের কক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় মহিলা সংস্থা পরিচালিত মহিলাদের আতœকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের চেক বিতরণ করেন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকবাল হোসেন। এ সময় জাতীয় মহিলা সংস্থা তালা উপজেলা শাখার চেয়ারম্যান প্রভাষক সুতপা রাহা, জাতীয় মহিলা সংস্থা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান উপস্থিত ছিলেন।

তালায় শিশু পাচার প্রতিরোধ ও সুরক্ষায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত

তালা প্রতিনিধি

তালায় শিশু পাচার প্রতিরোধ ও সুরক্ষায় এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা নিরসনে শিশু অধিকার ও মানবাধিকার নেটওয়ার্কভূক্ত এনজিও প্রতিনিধিদের সাথে কৌশলগত পরিকল্পনা ও যৌথ কার্যক্রম বিষয়ক দুইদিনব্যাপী উপজেলা পর্যায়ের কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তালা উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে ইনসিডিন বাংলাদেশ আয়োজিত উক্ত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন তালা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার। ইনসিডিন বাংলাদেশ এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মোঃ সাকিবুর রহমানের পরিচালনায় কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের  সাতক্ষীরা জেলার উপ-পরিচালক মোঃ রোকনুজ্জামান। এ সময় তালা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুরশিদা পারভীন পাঁপড়ী, তালা থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শেখ আব্দুল আউয়াল, তালা প্রেসকাবের সভাপতি প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন কমান্ডার মোঃ মফিজ উদ্দীন, তালা থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি এ ময়নুল ইসলাম, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অচিন্ত্য সাহা, উপজেলা মহিলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক সুতপা রাহা টুম্পা, সাংবাদিক গাজী জাহিদুর রহমান, বিএম জুলফিকার রায়হান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক স্মরণে প্রার্থনা সভা

খবর বিজ্ঞপ্তি

 সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক সুনীল কুমার চক্রবর্তী স্মরণে শোক ও  প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাজার কালিবাড়ি মন্দিরে এর আয়োজন করা হয়। সভাপতিত্ব করেন উজ্জল ব্যানার্জী। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সুব্রত হালদার তপা ও সুশান্ত ব্যানার্জী। এ সময় মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েত শিবচন্দ্র ব্যানার্জী, নগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল হালদার, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুন্ডু, ভোলানাথ ভট্টচার্য, গোপী কিষান মুন্ধাড়া, প্রশান্ত ব্যানার্জী, আশোক চক্রবর্তী, বিকাশ সাহা মদন, তোতন হালদার, রতন দেবনাথ, তপন সাহা, আকাশ চক্রবর্তী, কিংকর সাহা, শংকর ঘোষ, স্বপন সরকার, মনোজ রায়, বাবলু বিশ্বাস, ইন্দ্রজিৎ কুন্ডু গোপাল, বিশ্বরুপ সরকার, ভবেশ সাহা, অনিক ব্যানার্জী, বাবলু রায়, প্রদীপ সাহা, তরুন রায় শিবু , সৌরভ হাজরা ও বিধান রায়সহ ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কেশবপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বেকারির মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

কেশবপুর প্রতিনিধি

কেশবপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আমেনা ফুডস্ এন্ড তৃপ্তি হোমমেড বেকারির মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর পৌর শহরের উপজেলা বিআরডিপি অফিসের পেছনে অবস্থিত আমেনা ফুডস্ এন্ড তৃপ্তি হোমমেড বেকারির কারখানায় বুধবার বিকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আমেনা ফুডস্ এন্ড তৃপ্তি হোমমেড বেকারির কারখানার শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসম্মত পোশাক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট না থাকায় এবং খাদ্যদ্রব্যের প্যাকেটে নির্দিষ্ট তারিখ না থাকার অপরাধে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার ইমাম হুসাইনকে ভোক্তা সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারা মোতাবেক ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ সময় এক মাসের মধ্যে সকল প্রকার বৈধ কাগজপত্র ও স্বাস্থ্য বিধি মেনেই খাদ্য সামগ্রী তৈরির নির্দেশ দেন।

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নবনির্বাচিত দুই নেতাকে অভয়নগর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের ফুলেল শুভেচ্ছা

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সংসদের সদ্য ঘোষিত কমিটির নবনির্বাচিত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার সেলিম অগ্নী ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক   মোঃ রবিউল ইসলাম কে অভয়নগর থানা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। গতকাল বুধবার যশোর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে উক্ত ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাঃ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সাল,  সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল কুমার বিট, সাংগঠনিক সম্পাদক আলি হায়দার রানা, যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ও অভয়নগর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মোল্যা হাবিবুর রহমান (হাবিব), নওয়াপাড়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহবায়ক রিয়াজ উদ্দিন মিঠু, সিদ্ধিপাশা ইউনিয়ন কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রেজোয়ান হোসেন, চলিশিয়া ইউনিয়ন কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ সাগর শেখ, প্রেমবাগ ইউনিয়ন কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ সোহাগ হোসেন সহ  জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

বাগেরহাটে বাঁধনের উদ্যোগে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন

বাগেরহাট  প্রতিনিধি                        

করোনা পরিস্থিতে বাগেরহাটে বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে। একশন এইড এর সহযোগীতায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় দশানীস্থ বাঁধনের অফিস চত্বরে এ খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসাবে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মোঃ কামরুল ইসলাম এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন ,বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোছাব্বেরুল ইসলাম। বাগেরহাট সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীন এর সভাপতিতে, বক্তব্য রাখেন ষাটগম্বুজ ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা  শেখ আক্তারুজ্জামান বাচ্চ,কাড়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা  শেখ বশিরুল ইসলাম, শহর সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ নাজমুস সাকিব। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাঁধনের নির্বাহী পরিচালক মঞ্জুরুল হাসান মিলন। পরিচালনা করেন বাঁধনের এফোরআই প্রকল্পের সমন্বয়কারী খোন্দকার মুশফিকুল ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বাঁধনের বিভিন্ন ইয়ূথ গ্রুপের ২০জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বাঁধনের এফোরআই প্রকল্পের সমন্বয়কারী খোন্দকার মুশফিকুল ইসলাম বলেন, দাতা সংস্থা একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগীতায় ও বাঁধনের বাস্তবায়নে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাগেরহাট সদর ও ফকিরহাট উপজেলার ২৭৫টি পরিবারের মাঝে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন করা হচ্ছে। আমরা প্রতিটি পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল, ডাল, আলু, লবন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, স্যানিটারী ন্যাপকিনসহ নানা সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। এ মাসের মধ্যেই আমরা করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ৩৫০টি পরিবারে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হবে।

কালিগঞ্জে নবযাত্রা প্রকল্পের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

খবর বিজ্ঞািপ্ত

কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এর আয়োজনে ’ইউএসএআইডি’ এর” খাদ্য নিরাপত্তা উন্নয়ন কার্যক্রম” নবযাত্রা প্রকল্প, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ত্রৈমাসিক সমন্বয় অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর সভাপতিত্ত্বে সভায় সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, সকল ইউপি সচিবগন, কালিগঞ্জ প্রেসকাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি;র কালিগঞ্জ শাখার সভাপতি ও ইউপি সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তৃতায় সভাপতি বলেন  ”নবযাত্রা” প্রকল্প একটি বিশাল কাজের কেন্দ্র বিন্দু যার কাজের ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি এবং প্রকল্পটি কালিগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। ”নবযাত্রা” প্রকল্পকে আমাদের সংযুক্ত রেখে প্রকল্পের গৃহিত কাজগুলোকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, নবযাত্রা প্রকল্প এর ফিল্ড অফিস ম্যানেজার প্রকল্পের ছয়টি কম্পোনেন্ট যথা প্রকল্পের মা ও শিশু স্বাস্থ্য, ওয়াস, দূর্যোগ, কৃষি, জেন্ডার এবং সুশাসন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা এর বিগত পাঁচ বছরের অগ্রগতি এবং সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয় তুলে ধরেন এবং সকল অংশগ্রহনকারীগন আলোচনায় অংশগ্রকন করে প্রকল্পের কাজের প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য যে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর অনুরোধে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, নবযাত্রা প্রকল্প আগামী মাসে বারটি ইউনিয়ন পরিষদ এর সচিব এবং উদোক্তাগণকে দক্ষতা উন্নয়ণ এর জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করতে কারিগরী সহায়তা প্রদান করবে। সরকারী সকল দপ্তর তাদের সহযোগিতা অব্যহত রাখবেন মর্মে একমত পোষণ করেন।

মানসম্মত পুষ্টি সেবা প্রদান করতে কিশোর-কিশোরীদের সম্পৃক্তকরণে জেলা পর্যায়ে কিশোর-কিশোরী ফোরাম গঠন সভা

খবর বিজ্ঞপ্তি

বৃহস্পতিবার বাগেরহাটের ধানসিঁড়ি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কিশোর-কিশোরীদের সমন্বয়ে মানসম্মত পুষ্টি সেবা প্রদানের জন্য সরকার, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের সম্পৃক্তকরণ এবং তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জেলা পর্যায়ে কিশোর-কিশোরী ফোরাম গঠন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ হাফিজ আল-আসাদ। প্রধান অতিথি তার ভাষণে বলেন, আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ হলো কিশোর-কিশোরী। তাদেরকে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করা জরুরী। তাদের মাধমে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পুষ্টির সার্বিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। কিশোর-কিশোরীরাই বর্তমান সমাজে চেঞ্জমেকার হিসেবে কাজ করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর অর্থায়নে পুষ্টি উন্নয়নে অংশগ্রহণমূলক সমন্বিত প্রকল্প-(ক্রেইন) এর আওতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তর অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের নেতৃত্বে এবং ওয়াটার এইড-এর কারিগরী সহায়তায়, বাগেরহাটের কচুয়া, মোংলা, মোল্লাহাট ও শরণখোলা উপজেলায় রূপান্তর ও জেজেএস পুষ্টি উন্নয়নে প্রকল্পের অন্যান্য সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর- উপ-পরিচালক এর  উপ-পরিচালক হাসনা হেনা, বাগেরহাট জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা শেখ আসাদুর রহমান, বাগেরহাট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভিন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড, বাগেরহাট-এর পুষ্টি সমন্বয়কারী হোসনেয়ারা বেগম, রূপান্তর-এর ক্রেইন প্রকল্প সমন্বয়কারী খালেদা হোসেন মুন, মনিটরিং অফিসার, ত্রিদ্বীপ বিশ^াস। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলা সিএসও মোবিলাইজার শরিফুল বাসার।

শরণখোলায় বসত ঘর সহ কৃষকের সম্পত্তি দখল

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এক কৃষকের বসত ঘর সহ তার ভোগদখলীয় প্রায় দশ লাখ টাকার সম্পত্তি জবর দখল করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের ধানসাগর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আশ্রাব আলী মাতুব্বরের ছেলে কৃষক মোঃ ফরিদ হোসেন মাতুব্বর এমন অভিযোগ করেন। অভিযোগে ফরিদ দাবী করেন, ২নং ধানসাগর মৌজার প্রায় ৩৩ শতক সম্পত্তি তিনি কবলা সুত্রে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ বছর ধরে শান্তি পুর্ন ভাবে ভোগ দখল করে আসছিলেন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা মোকসেদ শেখ সহ একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধোনে একই এলাকার বাসিন্দা প্রতিপক্ষ মোঃ আবুল হোসেন তালুকদার নিজেকে ভুমিহীন দাবি করে (বুধবার) সকালে কৃষক ফরিদের ভোগ দখলীয় ওই সম্পত্তি সহ তার মধ্যে তুলে রাখা ঘরটি ও উক্ত জমি জোর পুর্বক দখল করে নেয়। এ সময় ফরিদ সহ তার পরিবারের সদস্যরা তাতে বাঁধা দিলে আবুল ও তার সহযোগীরা ফরিদ (৩৮) ও তার স্ত্রী রুনু বেগম (৩২) কে মারধর করে আহত করেন।  আহতদের মধ্যে রুনু বেগমকে (বৃহস্পতিবার)  সকালে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ফরিদ আরো বলেন,  জমি দখলের পর শরনণখালা থানায় অভিযোগ করেছি কিন্তু কোন ফল পাইনি। এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েক জন বাসিন্দা জানান, আবুল হোসেনের এলাকায় ৩টি বাড়ী রয়েছে। ভুমিহীন দাবী করার বিষয়টি সঠিক নয় । তবে, এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ আবুল হোসেন তালুকদার বলেন, ফরিদের কোন জমি আমি দখল করি নাই। উক্ত জমি আমি চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান দুলালের আমলে ভুমিহীন হিসেবে পেয়ে ছিলাম। কয়েক বছর আমি এলাকায় না থাকায় ফরিদরা ওই জমিতে একটি ঘর তুলেছিল।  এখন পরিবার পরিজন নিয়ে সেই ঘরে আমি আশ্রয় নিয়েছি। এছাড়া মাপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি।  ওরা আমাকে জব্দ করার জন্য নাটক সাজিয়েছে। এ ব্যাপারে শরনখোলা থানার (ওসি) এস কে আব্দুল্লাহ আল সাইদ জানান, উভয় পক্ষকের কাগজ পত্র দেখে আইনী ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

শরণখোলায় বসত ঘর সহ কৃষকের সম্পত্তি দখল

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এক কৃষকের বসত ঘর সহ তার ভোগদখলীয় প্রায় দশ লাখ টাকার সম্পত্তি জবর দখল করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের ধানসাগর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আশ্রাব আলী মাতুব্বরের ছেলে কৃষক মোঃ ফরিদ হোসেন মাতুব্বর এমন অভিযোগ করেন। অভিযোগে ফরিদ দাবী করেন, ২নং ধানসাগর মৌজার প্রায় ৩৩ শতক সম্পত্তি তিনি কবলা সুত্রে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ বছর ধরে শান্তি পুর্ন ভাবে ভোগ দখল করে আসছিলেন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা মোকসেদ শেখ সহ একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধোনে একই এলাকার বাসিন্দা প্রতিপক্ষ মোঃ আবুল হোসেন তালুকদার নিজেকে ভুমিহীন দাবি করে (বুধবার) সকালে কৃষক ফরিদের ভোগ দখলীয় ওই সম্পত্তি সহ তার মধ্যে তুলে রাখা ঘরটি ও উক্ত জমি জোর পুর্বক দখল করে নেয়। এ সময় ফরিদ সহ তার পরিবারের সদস্যরা তাতে বাঁধা দিলে আবুল ও তার সহযোগীরা ফরিদ (৩৮) ও তার স্ত্রী রুনু বেগম (৩২) কে মারধর করে আহত করেন।  আহতদের মধ্যে রুনু বেগমকে (বৃহস্পতিবার)  সকালে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ফরিদ আরো বলেন,  জমি দখলের পর শরনণখালা থানায় অভিযোগ করেছি কিন্তু কোন ফল পাইনি। এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েক জন বাসিন্দা জানান, আবুল হোসেনের এলাকায় ৩টি বাড়ী রয়েছে। ভুমিহীন দাবী করার বিষয়টি সঠিক নয় । তবে, এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ আবুল হোসেন তালুকদার বলেন, ফরিদের কোন জমি আমি দখল করি নাই। উক্ত জমি আমি চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান দুলালের আমলে ভুমিহীন হিসেবে পেয়ে ছিলাম। কয়েক বছর আমি এলাকায় না থাকায় ফরিদরা ওই জমিতে একটি ঘর তুলেছিল।  এখন পরিবার পরিজন নিয়ে সেই ঘরে আমি আশ্রয় নিয়েছি। এছাড়া মাপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি।  ওরা আমাকে জব্দ করার জন্য নাটক সাজিয়েছে। এ ব্যাপারে শরনখোলা থানার (ওসি) এস কে আব্দুল্লাহ আল সাইদ জানান, উভয় পক্ষকের কাগজ পত্র দেখে আইনী ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

যশোরের ধর্মতলা কাঁচা বাজারে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা: আটক ৩

যশোর অফিস

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার কারণে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা বুধবার সন্ধ্যারাতে শহরতলী ধর্মতলা কাঁচা বাজার এলাকায় পরপর শক্তিশালী কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে থানায়। পুলিশ বোমা বিস্ফোরনের সাথে জড়িত অভিযোগে এজাহার নামীয় তিন আসামীকে গ্রেফতার দেখিয়েছে। তাদেরকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করেছে। পুলিশ  ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত বোমার সরাঞ্জাম আলামত হিসেবে উদ্ধার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে,যশোর শহরতলী ধর্মতলা গাজীপাড়ার রবিউল ইসলামের ছেলে রাসেল,সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা ব্রাক অফিসের পিছনে দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে রেদোয়ান ওরফে রেজোয়ান  হোসেন ওরফে নাহিদ ও ধর্মতলা গাজীপাড়ার আব্দুল আলীম ওরফে বোবা আলীমের ছেলে সুজন ওরফে জিসান।

যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা গাজীপাড়ার মনির আহম্মেদ এর ছেলে তারেক হাসান বুধবার দিবাগত গভীর রাতে চিহ্নিত ৯ সন্ত্রাসীর নাম ও অজ্ঞাতনামা ৪/৫জন উল্লেখ করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামীরা হচ্ছে,ধর্মতলা গাজীপাড়ার রবিউল ইসলামের ছেলে রাসেল,ধর্মতলা খ্রিষ্টান কবরস্থানের পাশের্^ তবিবরের ছেলে সোহেল, লিটনের ছেলে আরাফাত রাজু,

খোলাডাঙ্গা ব্রাক অফিসের পিছনে রেজোয়ান ওরফে রেদোয়ান হোসেন নাহিদ,ধর্মতলা গাজী পাড়ার আব্দুল আলীম ওরফে বোমা আলীমের ছেলে জিসান, বারান্দী মোল্যাপাড়ার শুভ,সুজলপুরের মোতাচ্ছিন হাওলাদারের ছেলে সজল, কারবালা পুকুরের উত্তর পাড়ের সোলাব ও ধর্মতলা কাঁচাবাজার এলাকার আসারের ছেলে আব্দুল্লাহআল- মামুনসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫জন।

এামলায় বাদি তারেক হাসান মামলায় উল্লেখ করেন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার সংক্রান্তে আসামীদের সাথে তার পূর্ব শত্রুতা চলে আসছিল। তারা বাদীসহ তার আত্মীয়স্বজনদে খুন জখমের হুমকী দিয়ে আসছিল। গত বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬ বেজে ২০ মিনিটের সময় তারেক হাসানসহ প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম, হাসান কবির সাগর,আব্দুল্লাহ  আল মামুন, শাকিল গাজী টগর শেখ ধর্মতলা কাঁচা বাজারস্থ আজিম ফার্মেসীর সামনে ফাঁকা স্থানে দাঁড়িয়ে কথা বার্তা বলছিল। ওই সময় আসামীরা স্থানীয় আধিপত্য  ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরিয়া পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তারেক হাসানসহ সেখানে থাকা সকলকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে সোহেলের নেতৃত্বে ও হুকুমে উক্ত আসামীরা পরপর ৩/৪টি  হাত বোমা নিক্ষেপ করে। বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এলাকায় আতংক বিরাজ করে। বোমার স্প্রিন্টারে ২/৩ জন আহতর খবর পাওয়া যায়। বোমা বিস্ফোরণের পর স্থানীয় জনগন বোমা বিস্ফোরণকারীদের মধ্যে রাসেল নামে এক সন্ত্রাসীকের ধরে গণপিটুনী দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ রাতে রাসেলের স্বীকারোক্তি মোতাবেক সহযোগী রেদোয়ান ওরফে রেজোয়ান হোসেন ওরফে নাহিদ ও সুজন ওরফে জিসানকে গ্রেফতার করে।

যশোরে ছোট বোনকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ

যশোর অফিস

বড় বোনের কাছে ধারের ও সুদের টাকা না পেয়ে ছোট বোনের কাছে দাবি করলে দিতে অপারগতা প্রকাশ  করলে জোরপূর্বক মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা চালানোও ঠেকাতে এসে স্বামীকে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার কোতয়ালি মডেল থানায় আসামীদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হচ্ছে, বালিয়া ডাঙ্গা পূর্ব পাড়ার সোহাগের স্ত্রী পারুল,হাফিজুর রহমানের ছেলে সোহাগ, সোহাগ ও হাফিজুর রহমানের ছেলে অন্তুুসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩জন।

যশোর সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা পূর্ব পাড়ার মৃত এলাহী বক্সের ছেলে রফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার কোতয়ালি মডেল থানায় উক্ত আসামীদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগে বলেছেন,তার স্ত্রী মোছাঃ লিপি বেগমের বড় বোন সায়েমের স্ত্রী মোছাঃ মুন্নী উক্ত আসামীদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার স্বরুপ গ্রহন করে। মুন্নী তার স্বামীর সাথে গোলযোগ করে তার বাড়ি হতে পুলিশ লাইন টালী খোলাস্থ তার পিতার বাড়িতে চলে যায়। উক্ত আসামীরা তাদের পাওনা টাকা নিতে এসে মুন্নীকে না পেয়ে উক্ত টাকা পরিশোধের জন্য রফিকুল ইসলামের  উপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬ টায়  উক্ত আসামীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রফিকুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে স্ত্রী  লিপি বেগমকে টাকা পরিশোধ করতে বলে। লিপি বেগম উক্ত টাকার বিষয়ে কিছুই জানেনা বলে জানান। এমনকি লিপি বেগম জানান যে টাকা নিয়েছে তার কাছে গিয়ে চাইতে বলিলে আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে লিপি বেগমকে এলোপাতাড়ীভাবে মারপিট করলে পড়ে যায়। পরে তার মুখের মধ্যে বিষয় ঢেলে হত্যার চেষ্টা চালায়। রফিকুল ইসলাম বাইরে থেকে ঘরে ঢুকে স্ত্রীর অবস্থা দেখে উদ্ধারের চেষ্টা করলে আসামীরা লিপি বেগমে ছেড়ে দিয়ে রফিকুল ইসলামকে এলোপাতাড়ীভাবে মারপিট করে জখম করে। স্বামীর স্ত্রীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা উক্ত টাকা পরিশোধ না করলে হত্যার হুমকী দিয়ে চলে যায়। মূমূর্ষ অবস্থায় লিপি বেগমকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। রফিকুল ইসলাম নিজেও প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন করে। পরে কিছুটা সুস্থ্য হয়ে কোতয়ালি মডেল থানায় আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ তদন্তে নেমেছেন কোতয়ালি মডেল থানার এসআই ফজলুর রহমান বলে জানা গেছে।

যশোর উপশহরে গাঁজাসহ বিক্রেতা আটক

যশোর অফিস

গাঁজা বিক্রির সময় সুমন হোসেন নামে এক গাঁজা বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে যশোর সদর উপজেলার বড় হৈবতপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে। উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা বুধবার রাতে উপশহর ট্রাকস্ট্যান্ডের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

উপশহর পুলিশ ক্যাম্প সূত্রে জানাগেছে,উক্ত ক্যাম্পে কর্মরত একজন এএসআই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক পৌনে ৯ টায় ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনে গাঁজা বিক্রিকালে সুমন হোসেনকে গ্রেফতার করে। পরে তার দখল হতে ২শ’ গ্রাম ওজনের গাঁজা উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে রাতেই মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সুমন হোসেনকে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মোড়স্থ ডাচবাংলা ব্যাংক অভ্যন্তরে ৩ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্য ধীরেন চন্দ্র দেবনাথ এর ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি মামলার আসামি নিটুল মাহমুদ (২৬) আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক দিনের রিমা- শেষে দু’আসামিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. খালিদ উদ্দিন। এসময় নিটুল মাহমুদের দেয়া ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম রেকর্ড করেছেন। নিটুল মাহমুদ পিরোজপুর জেলার কাউখালি থানার আইরন বাজার এলাকার মৃত. আবু জাফরের ছেলে। অপর আসামি হলেন বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার গৌরম্ভা গ্রামের মো. হুমায়ুন শেখের ছেলে মো. তরিকুল ইসলাম (৩৫)।  গত ২১ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. খালিদ উদ্দিন আসামিদের আদালতে হাজির করে ৭দিনের রিমা-ের অবেদন করেছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ৩ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্য ধীরেন চন্দ্র দেবনাথ কমিউনিটি ব্যাংক থেকে ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা লোন নেয়। ওই টাকা থেকে ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নগরীর শেখপাড়া তেতুলতলা মোড়স্থ ডাচবাংলা ব্যাংকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঠাকুরগাঁও ফাঠানোর জন্য আসেন।    তিনি টেবিলের পাশে টাকার ব্যাগটি রেখে ব্যাংকের জমা ফরম পূরণ করছিলেন। এসময় একজন টাকার ব্যাগটি একটু আড়াল করে তার মোবাইল চাপছিলেন। হঠাৎ দেখেন টাকা ভর্তি ব্যাগটি নেই। তিনি সাথে সাথে চিৎকার দিলে ব্যাংকের দারোয়ান গেট বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ততোক্ষণে টাকার ব্যাগ নিয়ে প্রতারক চক্রটি সরে পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে ব্যাংকের সিসি ফুটেজ দেখে প্রতারক সন্দেহে নিটুল মাহমুদ আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তিতে পরে তরিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এঘটনায় ধীরেন চন্দ্র দেবনাথ বাদী হয়ে ৪জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন যার নং-৩১। মামলার অপর দু’আসামি হলেন বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার  গৌরম্ভা গ্রামের মৃত. মোসলেম শেখের ছেলে আলামিন শেখ মনির (৩৬) ও জালাল (৩৫)।  

খালিশপুরে আলোচিত স্কুলছাত্র বাপ্পী হত্যা মামলার রায় ৩০ সেপ্টেম্বর

স্টাফ রিপোর্টার

দীর্ঘ ১০ বছর পর খালিশপুর প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল স্কুলের ছাত্র মফিজুল ইসলাম বাপ্পী (১৬) কে পিটিয়ে হত্যা মামলার রায়ের দিন ধার্য হয়েছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। গত ২২ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস এম আশিকুর রহমানের আদালতে যুক্তি-তর্ক শুরু হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে এ হত্যা মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন এপিপি এ্যাড. কাজী সাব্বির আহম্মেদ। আসামি রকির পক্ষে এ্যাড. নিরঞ্জন কুমার ঘোষ ও আসামি হাসানের পক্ষে এ্যাড. শফিকুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। এর আগে এ হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ জনের মধ্যে ১৬জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। ওই সময় তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস মোহাম্মদ আলীর আদালতে আসামি রকি ও নজরুল ঘটনার বিবরণ দিয়ে এ হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং অন্যান্য আসামিদের জড়িত থাকার বিবরণ দেন।

মামলায় আসামিরা হলেন খালিশপুর প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল এলাকার মান্নানের ছেলে রকি, আবু সাঈদের ছেলে আল-আমিন, মৃত. শামসুল হকের ছেলে হাসান ও আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. নজরুল। এছাড়াও পলাতক আসামিরা হলেন একই এলাকার মোমরেজের ছেলে রবিউল, নিছার ওরফে আনছার আলীর ছেলে মিলন, আজিজুর রহমান হাওলাদারের ছেলে মুজিবর হাওলাদার ও আনসার আলীর ছেলে ইব্রাহিম ওরফে বাহাদুর।

আদালতের এপিপি এ্যাড. কাজী সাব্বির আহম্মেদ জানান, ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় প্লাটিনাম স্কুল মাঠে স্কুলছাত্র বাপ্পী ও তার বন্ধু রাজু একসাথে বসে গল্প করছিলো। ওই সময় পুর্ব শত্রুতার জেরে হকিস্টিক ও লোহার রড নিয়ে বন্ধু রাজুকে মারতে আসে আসামিরা। তখন বাপ্পী বন্ধু রাজুকে বাঁচানোর জন্য ঠেকাতে আসলে আসামিরা বাপ্পীর মাথায় হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করে। বাপ্পী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এই সুযোগে বন্ধু রাজু পালিয়ে যায়। এরপর আসামিরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারতে থাকে। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসারত ডা. ইসমাইল শেখ ও ডা. সহদেব কুমার দাসের কাছে মৃত্যুকালীন জবানবন্দী দেয় ভিকটিম বাপ্পী। ওই দিন রাত ১১টার দিকে বাপ্পী মারা যায়। এঘটনার পরদিন নিহতের বড় ভাই হাফিজুর রহমান খালিশপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন যার নং-১১। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ৩১ মার্চ খালিশপুর থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ২০১৪ সালের ২ জানুয়ারী এ হত্যা মামলাটির চার্জ গঠন করা হয়।

নগরীতে দাদার মার তিরোধান দিবস পালিত

খবর বিজ্ঞপ্তি

“অবলা স্মৃতি কুটির” এর স্বত্ত্বাধিকারী অবলা বালা দেবী “দাদার মার” ২২তম তিরোধান দিবস পালিত হয়েছে (দিব্যান লোকান স গচ্ছুত)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায়  নগরীর ৬৪, স্যার ইকবাল রোডস্থ বাইতিপাড়ার জটাধারী বেদ আশ্রমের প্রধান কার্যালয়ে সম্পুর্ন ঘরোয়া পরিবেশে পালিত হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে তার স্মৃতিচারণসহ প্রভাতে মাঙ্গলিক ক্রিয়া, প্রভাতীয়া সুরে শিব কীর্ত্তন, সংকল্পের সঙ্গে শ্রী শ্রী বেদ, চন্ডী, শ্রী মদ্ভগবদ গীতা পাঠ করেন সমেন দেবনাথ। সন্ধ্যায় গুরু স্ত্রোত্রম ও সমবেত প্রার্থনা, মাতৃ বন্ধনা ও গুরু বন্ধনা করে কোকিল কন্ঠী উমা ও সোমা দেবনাথ।

আলোচনার মাঝে সমেন দেবনাথ বলেন “বিশ্ব মহাবিশ্ব থেকে ক্ষুদ্রাদি ক্ষুদ্র তৃণ পর্যন্ত তৃপ্তি/সুখি হোক আমার এই পরমান্নতে”। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভক্তরা হলেন

বীনা পানি দেবী, সৌমিত দেবনাথ, মিলন দেবনাথ, শিখা ভদ্র, আশুতোষ অধিকারী, শংকর, শংকরী, রূপ সনাতন, বর্ণী, হিরা রানী, কাকুলী, উষা দেবনাথ, শান্তি দেবনাথ, রঞ্জিতা দেবনাথ, নিতাই দেবনাথ, তমা. ছন্দা, সাবিত্রী, সবিতা, গণেশ, স্বপন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে সাহায্যের আকুতি পিতার

তেরখাদায় বসতভিটা জবর দখলের চেষ্টায় কিশোরীকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে ভূমিদস্যুরা

স্টাফ রিপোর্টার

খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার দক্ষিণ কুশলা এলাকায় পৈত্রিক বসতভিটা জবর দখলের চেষ্টায় কিশোরী কণ্যাকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। পুত্রসন্তান ও নিকট আত্মীয় না থাকায় ঠুনকো অযুহাতে প্রায়ই বয়োবৃদ্ধ অলিদ মোল্যাকে মারপিট করে তারা। প্রতিবেশীর অত্যাচারে বারবার থানায় যেয়েও আইনের আশ্রয় পাননি তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা প্রেসকাবে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তেরখাদার দক্ষিণ কুশলা গ্রামের মৃত. হালিম মোল্যার ছেলে অলিদ মোল্যা। তারপক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার জামাতা মো. সরোয়ার হোসাইন। এসব ঘটনায় গতকাল খুলনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত ‘চ’ (১৩) অঞ্চলে মামলা করেছেন অলিদ মোল্যা। এতে ৮জনকে আসামি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, স্থানীয় মৃত. মাজেদ খানের ছেলে সেলিম খাঁ (৪৫), মৃত. জালাল উদ্দিন খাঁর ছেলে আলী খাঁ (৫০), আবুল খাঁর ছেলে আকিজুর খাঁ (৪০), মৃত. নওশের খাঁর ছেলে টিটো খাঁ (৩০), লোয়ার খাঁর ছেলে মিজান খাঁ ও বাবলু খাঁ, মৃত. ইউছুফ খাঁর ছেলে নশু খাঁ দীর্ঘদিন ঠুনকো অযুহাতে অলিদ মোল্যার সাথে ঝগড়া বাঁধিয়ে তাকে ও তার স্ত্রী-কণ্যাকে বেদম মারপিট করে। প্রথমে বুঝতে না পারলেও, পরে বুঝতে পারেন ওই প্রতিবেশীরা তার পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখলের জন্যেই নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে। এসবের প্রতিকার পেতে একাধিকার থানায় গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। সর্বশেষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে কুশলা বাজারে প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে ওরা। কারণ জানতে চাইলে বেধড়ক মারপিট করে মৃত. ভেবে ফেলে রেখে যায়। পরে আমার মেয়ে আশামনি ও স্থানীয়রা এসে উদ্ধার করে। এসময়ে আমাকে ও আমার মেয়েকে জীবনে শেষ করে দেবার হুমকি দেয়। এঘটনায়ও থানায় গেলে মামলা নেয়নি। বরং মামলা করতে গেছি শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে তার মেয়ে আশামনিকে ধর্ষণ করে এলাকায় বদনাম রটিয়ে এলাকা ছাড়া করার চক্রান্ত করছে ভূমিদস্যুরা। এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে কিশোরী কণ্যাদের সম্ভ্রম ও মাথা গোঁজারঠাঁই পৈত্রিক বসতভিটা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

নগরীতে পুলিশের অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৭

স্টাফ রিপোর্টার

মহানগর পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ৮ লিটার দেশীয় তৈরী চোলাই মদ, ১০০ গ্রাম গাঁজা ও ১৭ পিস ইয়াবাসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন নগরীর গোবরচাকা মধ্যপাড়ার মৃত. হোসেন আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান (৬০), দেবেন বাবু রোডের মৃত. সোহেল আকন এর ছেলে মো. কাদের আকন (৫৫), খালিশপুর এন/এফ- ১২৩, বঙ্গবাসি ইমাম বাড়ীর পিছনের রাস্তার মৃত. আব্দুল হক এর ছেলে মো. মহাসিন (৩৪), মীরেরডাঙ্গা মোল্যা বাড়ীর মৃত. দেলোয়ার কাজীর ছেলে মো. আলমগীর কাজী (৪০), খালিশপুর পুরাতন ফেয়ার কিনিক সংলগ্ন রোড নং-১১৩, বাসা নং-২৩ এর সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. ইমাম হোসেন পিত্ত (৩২), বাস্তহারা রোড নং-১১ কাচা কলোনীর মৃত. শাহজাহান মোল্ল্যার ছেলে মো. রফিক মোল্ল্যা (৩০) ও পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থানার জুগিগঞ্জ গ্রামের মৃত. লুৎফর রহমানের ছেলে মো. রুস্তম আলী (৪৪)।

কেএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) কানাই লাল সরকার জানান, গত ২৪ ঘন্টায় নগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মহানগর পুলিশ। এসময় ৮ লিটার দেশীয় তৈরী চোলাই মদ, ১০০ গ্রাম গাঁজা ও ১৭ পিস ইয়াবাসহ ৭মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ৭টি থানায় মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে। 

ঝিনাইদহে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতে এক ব্যবসায়ীকে ৪০ টাকা জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার

ঝিনাইদহ জেলার সদর থানাধীন পায়রা চত্ত্বর এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে মেসার্স দিলীপ ষ্টোর এর মালিক দিলিপ বিশ্বাস (৫০) কে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত র‌্যাব ঝিনাইদহের একটি আভিযানিক দল এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রকিবুল হাসান এর সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ভেজাল কসমেটিকস এবং মেয়াদ উর্ত্তীণ কসমেটিকস মজুত করার অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী মেসার্স দিলীপ ষ্টোর এর মালিক দিলিপ বিশ্বাস (৫০) কে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দিলিপ বিশ্বাস ঝিনাইদহ জেলা সদরের আদর্শপাড়ার দিনবন্দু বিশ্বাসের ছেলে। 

ঝিনাইদহে র‌্যাবের অভিযানে ২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১

স্টাফ রিপোর্টার

ঝিনাইদহ জেলার সদর থানাধীন ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট এর সামনে অভিযান চালিয়ে ২ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যাবসয়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মাদক ব্যাবসয়ী হলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার জগনাথপুর গাংপাড়ার মৃত. কিতাব আলী মন্ডলের ছেলে  মো. মন্টু মন্ডল (৫০)। 

র‌্যাব-৬ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঝিনাইদহ জেলার সদর থানাধীন ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট এর সামনে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল। এসময় ২ কেজি গাঁজাসহ  মন্টু মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

যশোরে র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ গ্রেফতার ১

স্টাফ রিপোর্টার

যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানাধীন গদখালী গ্রামে অভিযান চালিয়ে দেড়কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মাদক ব্যবসায়ী হলেন যশোর জেলার  বেনাপোল পোর্ট থানার গাজীপুর গ্রামের মৃত. জয়নাল আবেদিন এর ছেলে মো. উজ্জল হোসেন (৩৩)। 

র‌্যাব-৬ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানাধীন গদখালী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল। এসময় মেসার্স মেহরাব ফিলিং স্টেশনের সামনে যশোর টু বেনাপোল মহাসড়ক এর পাঁকা রাস্তার উপর থেকে  ১কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ

মো. উজ্জল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে  মামলা রুজু করা হয়েছে।

পি-৪/২

পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে শ্রমিক জনসভা

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার ইষ্টার্ণ জুট মিল গেটের সামনে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় শ্রমিক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইষ্টার্ণ জুট মিলের সিবিএ সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা মোজাম্মেল হক খানের সভাপতিত্বে এবং শ্রমিকনেতা মেহেদী হাসান বিল্লালের পরিচালনায় সভায় বক্তারা বলেন, করোনা মহামারীতে পুরো দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা বিপন্ন। ঠিক এ সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ব ২৫টি পাটকল বন্ধ করে স্থায়ী ও অস্থায়ী মোট প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক বেকার করে দিল আওয়ামী লীগ সরকার। এ দুর্যোগে সারা দুনিয়ার নানা প্রণোদনা দিয়ে মানুষের জীবিকা রক্ষার চেষ্টা চলছে। অথচ বাংলাদেশে করোনা মহামারীর সুযোগ নিয়ে সোনালী আঁশের ঐতিহ্যবাহী পাটকল বন্ধ করে দিল। জনগণের প্রতিবাদ ও প্রশ্নের মুখে বাধ্য হয়ে মুখরক্ষার তাগিদে একবার বলছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) পুনরায় চালু করা হবে, কখনো বলছে জি টু জি-তে চালু হবে, আবার বলছে লীজে চালানো হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল বন্ধের পিছনে সরকারের বড় অজুহাত হলো লোকসান। কিন্তু কাদের কারণে লোকসান, লোকসান কাটাতে কি কি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলÑতার কোনো উত্তর নেই। নি¤œমানের পাট বেশি দামে কেনা, ৫০ দশকের পুরনো তাঁত দিয়ে উৎপাদন করা, মাথাভারী প্রশাসনের ব্যয়সহ সরকারি ভুলনীতি ও প্রশাসনের দুর্নীতি লোকসানের প্রধান কারণ। ২৫টি পাটকলের ১০ হাজার তাঁতের অর্ধেক অচল রেখে পাটকল লাভজনক করা যাবে না। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ হিসেব করে দেখিয়েছিলেন ১২শ কোটি টাকা খরচ করে আধুনিক তাঁত স্থাপন করলে উৎপাদন বাড়বে ৩ গুণ, শ্রমিকদের গড়ে ২৫ হাজার টাকা বেতন দিয়েও পাটকল লাভজনক করা সম্ভব। কিন্তু সরকার সে পথে না গিয়ে ৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করে শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডসেক পদক্ষেপ নিয়েছে। তাই সরকারকে অবিলম্বে পাটকলগুলোকে চালু করে আধুনিকায়ন করতে হবে এবং অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সকল শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা এককালীন প্রদান করতে হবে। শ্রমিক জনসভায় বক্তব্য রাখেনÑপরিষদের আহ্বায়ক এড. কুদরত-ই-খুদা, যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), কেন্দ্রীয় উপদেষ্টাম-লীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এড. আ ফ ম মহসিন, যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ খুলনা জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নাণ্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিপিবি খুলনা মহানগর সাধারণ সম্পাদক এড. মোঃ বাবুল হাওলাদার, গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ খুলনা জেলা সম্পাদকম-লীর সদস্য আনিসুর রহমান মিঠু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় বিকল্প সদস্য গাজী নওশের আলী, সিপিবি নেতা মিজানুর রহমান বাবু, নাগরিক পরিষদ নেতা এস এম চন্দন, ক্ষুধামুক্ত আন্দোলনের আহসান হাবিব, গণসংহতি আন্দোলন ফুলতলা উপজেলা আহ্বায়ক শ্রমিকনেতা অলিয়ার রহমান, শ্রমিকনেতা মোঃ নূরুল ইসলাম, মোঃ কামরুজ্জামান, সামশেদ আলম শমশের, জাকির হোসেন চুন্নু, নজরুল ইসলাম মল্লিক, যুব ইউনিয়ন নেতা গাজী আফজাল হোসেন, ছাত্র ফেডারেশন খুলনা মহানগর আহ্বায়ক আল আমিন শেখ, ছাত্র ইউনিয়ন বিএল কলেজ শাখার সভাপতি সোমনাথ দে প্রমুখ। সভায় আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় ডিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি সফলের জন্য শ্রমিকসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানান হয়।

পি-১/১

মেহেরপুরে আল্লাহ’র দলের সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

মেহেরপুর সদর উপজেলার বসন্তপুর এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহর দল’র এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঝিনাইদহ র‌্যাব। বৃহস্পতিবার ভোররাতে সদরের বসন্তপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার কামাল উদ্দিন জানান, ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদর থানার জঙ্গি মামলার অন্যতম পলাতক আসামী তারিক হোসেন বসন্তপুর এলাকায় অবস্থান করছে এমন খবরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তারিক হোসেন মেহেরপুর সদর উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের আব্দুল বারিকের ছেলে। সে আল্লাহর দলের মেহেরপুর সদর থানার “সহ থানা নির্বাহী” হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিল। সকালে চুয়াডাঙ্গা আদালতে তাকে সোপর্দ করা হয়।

পি-৪/১

ঝিনাইদহে ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসাধনী ব্যবসায়ীর জরিমানা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে নকল, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও আমদানী নিষিদ্ধ প্রসাধনী বিক্রির অভিযোগ এ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের গণিমাস্তান সড়কে র‌্যাবের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রকিবুল হাসান। র‌্যাব জানায়, মেসার্স দীলিপ স্টোর নামের এক দোকানে বিপুল পরিমান নকল, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও আমদানী নিষিদ্ধ প্রসাধনী মজুদ রেখে বিক্রয় করা হচ্ছে, র‌্যাবের এমন সংবাদে অভিযান চালানো হয়। এসময় আদালতের বিচারক বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী জব্দ করেন। পাশাপাশি দোকানের মালিক দীলিপ বিশ্বাসকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অভিযানে র‌্যাব-৬, সিপিসি-২ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামাল উদ্দিন এবং স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি এইচ এম শফিকুর রহমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পি-১/২

মহসেন জুট মিলস শ্রমিকদের চুড়ান্ত পাওনার দাবীতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা

ফুলবাড়ীগেট(খুলনা)প্রতিনিধি

খুলনার শিরোমণি শিল্পাঞ্চলের ব্যক্তিমালিকানাধীন মহসেন জুট মিলস শ্রমিক কর্মচারীদের চুড়ান্ত পাওনা পরিশোধের দাবীতে পুর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে, আন্দোলন রত বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রমিক সহ সাধারণ শ্রমিক কর্মচারীরা। ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় মহসেন জুট মিলের প্রধান ফটকের সামনে থেকে পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু করে সোনালী জুট মিলের সামনে পথ সভা শেষ করে খুলনা যশোর মহাসড়কের ফুলবাড়ীগেট এর গুরুত্বপুর্নসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জনতা মার্কেট এর সামনে পথসভা করে । পথসভা চলাকালিন সময়ে  খুলনা বিভাগীয় শ্রম পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান শ্রমিক নেতাদের মুঠোফোনে বলেন শ্রমিকের পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে ইতিমধ্যে মহসেন জুট মিলের মালিকের বিরুদ্ধে আমি  বাদি হয়ে শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করেছি। এছাড়া মিলের শ্রমিক কলোনির ৩ একর জমি মিল মালিক বিক্রি করে  শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করার যে প্রতিশ্রতি দিয়েছে সে ব্যাপারে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা প্রশাসক বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছেন । সে সকল পক্রিয়া সম্পন্ন হলে অতিদ্রত শ্রমিকেরা তাদের নায্য পাওনা বুঝে পাবে । শ্রম পরিচালকের এ আশ্বাসে শ্রমিকরা তাদের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে বেলা ১ টার সময় শেষ করেন। ব্যক্তিমালিকানাধিন পাট, সুতা বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি ও সোনালী জুট মিল সিবিএ সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ  আমজাদ হোসেনের  সভাপতিত্বে ও ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিক পরিবারের সন্তান সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক এর পরিচালনায় পথসভায় বক্তব্য রাখেন ব্যক্তিমালিকানাধীন পাট সুতা বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও মহসেন জুট মিলের  সাবেক সিবিএ সাধারণ সম্পাদক খান গোলাম  রসুল , ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও এ্যাজাক্স্রজুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, শ্রমিকলীগ নেতা ও ফেডারেশনের সহ সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত মুন্সি, ওয়াহিদ মুরাদ,  আঃ সালাম গাজী, মোঃ কাবিল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিল কাজী , ক্বারী আছহাব উদ্দিন, মোঃ বখতিয়ার, শেখ এমরান, তোফাজ্জেল হোসেন, আঃ ওয়াদুদ , ওবায়দুর রহমান, আঃ ওহাব, আমির মুন্সি, এরশাদ আলী, সাংবাদিক মিহির রঞ্জন বিশ্বাস প্রমুখ । শ্রমিক নেতা গোলাম রসুল খান বলেন আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে মহসেন জুট মিলের শ্রমিকদের চুড়ান্ত পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে শ্রম পরিচালকের দপ্তর থেকে শ্রমিকদের পাওনার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তারিখ না দিলে লাগাতার রাজপথ রেলপথ অবরোধ সহ কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এছাড়া ২৫ সেপ্টেম¦র  শুক্রবার বিকাল ৪ টায় মহসেন জুট মিল শ্রমিক কলোনীতে শ্রমিক জনসভার মধ্য দিয়ে পরবর্তি কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।  

পি-৪/১

মোড়েলগঞ্জে প্রতিবন্ধীবান্ধব অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে বৃহস্পতিবার ইএইচডি প্রকল্প অফিসে কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে যুক্তরাজ্যের দাতা সংস্থা এফসিডিও-এর আর্থিক সহযোগিতায় খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা (কেএমএসএস) কর্তৃক বাস্তবায়নকৃত সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা (ইএইচডি) প্রকল্পের আওতায় “প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য প্রতিবন্ধীবান্ধব অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ”-এর আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ দিলদার হোসেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছিলেন কেএমএসএস-র নির্বাহী অফিসার আফরোজা আক্তার মঞ্জু। মোড়েলগঞ্জ উপজেলার কমিউনিটি কিনিকের ১৬ জন্য সিএসসিপি সফলভাবে উক্ত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

পি-৪/১

মোড়েলগঞ্জে খুলনা সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষর ইন্তেকাল

 মোড়েলগঞ্জ প্রতিনিধি

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ফুলহাতা গ্রামের বাসিন্দা ও খুলনা সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. সেকান্দার আলী শিকদার (৮০) বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি……..রাজিউন)। তিনি স্ত্রী,৩ ছেলে রেখে গেছেন। তিনি দির্ঘ দিন ধরে বার্ধক্য জনিত রোগে ভুগছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ আছর জানাজা শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

পি-১/১

ফকিরহাটে পিকআপ ও গরু সহ দুই সদস্য জনতার হাতে আটক

ফকিরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মডেল থানা পুলিশ পিকআপ ও দুইটি গরুসহ সিন্ডিকেটের দুই সদস্যকে আটক করেছে। বুধবার সন্ধ্যায় তাদেরকে বেতাগার মাসকাটা এলাকা থেকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো পাগলা শ্যামনগর গ্রামের সৈয়দ মোল্লার পুত্র পিকআপ চালক ও সিন্ডিকেটের সদস্য সুমন মোল্লা (২৮) ও দক্ষিণ খানপুর এলাকার আলাল সরদারের পুত্র রাসেল সরদার (২২)। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ব্যাপারে ফকিরহাট মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। মডেল থানা পুলিশের উপ-পুলিশ পরির্দশক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, চক্রটি যশোর এলাকা থেকে দুইটি গরু চুরি করে বেতাগার মাসকাটা মল্লিশখা এলাকায় এনে রাখে। স্থানীয়দের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় তারা রাত ৭টার দিকে পিকাপে করে গরু ও মটর সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা তাদেরকে আটক করে পুলিশের নিকট সোর্পদ করে। এদের সাথে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে। পুলিশ তাদেরকে আটকের জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। গরু চুরি চক্রের মোট ৫জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হবে পুলিশ জানিয়েছে। তবে কোন এলাকা থেকে গরু দুটি চুরি করা হয়েছে তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরি করে আসছিল। উল্লেখ্য, ফকিরহাট সহআশপাশ অঞ্চল সমূহে সম্প্রতিক সময়ে অর্ধশতাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এবিষয়ে থানায় অভিযোগ বা মামলা দায়ের হলেও পুলিশ চুরি হওয়া গরু বা চোরদের আটক করতে পারেনী।

পি-৪/২

বাগেরহাটে কমদামে টিসিবির পন্য ক্রয়ে খুশি নিম্ন আয়ের মানুষ

মাসুম হাওলাদার, বাগেরহাট

করোনা পরিস্থিতিতে বাজার দরের থেকে কমদামে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)র পন্য ক্রয় করতে পেরে খুশি বাগেরহাটের নিম্ন আয়ের মানুষ।সপ্তাহে চার দিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমান গাড়ির মাধ্যমে তেল, ডাল, চিনি ও পেয়াজ বিক্রি করেন টিসিবির ডিলাররা।নিম্ন আয়ের মানুষেরা নির্দিষ্ট দূরত্বে দাড়িয়ে স্বাস্থ্য বিধি মেনে এসব পন্য ক্রয় করেন।

বৃহস্পতিবার(২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাগেরহাট শহরের স্বাধীনতা উদ্যানে টিসিবির গাড়িতে পন্য বিক্রি করতে দেখা যায়। পন্য ক্রয়ের জন্য সাধারণ মানুষের ভীড়ও ছিল।ডিলারের নিজস্ব লোকেরা টাকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে পন্য সরবরাহ করছেন। পন্য বিক্রিতে কোন প্রকার অনিয়ম রোধ করতে রয়েছেন সরকারি ট্যাগ অফিসার।

টিসিবির পন্য ক্রয় করতে আসা রাহিলা বেগম ও সোহবান সরদার বলেন, বাজারে পেয়াজের দাম অনেক বেশি। টিসিবির পন্য বিক্রি হবে তাই শুনে এখানে এসেছি। এখান থেকে লাইনে দাড়িয়ে কম দামে তেল, ডাল, চিনি ও পেয়াজ কিনেছে। সরকারের এ উদ্যোগ অনেক ভাল লেগেছে আমাদের।

টিসিবির পন্য বিক্রয়ের ট্যাগ অফিসার খান আবুল হাসান বলেন, করোনা পরিস্থিতি ও নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পন্য বিশেষ করে পেয়াজের মূল্যের উর্দ্ধগতির কারণে মানুষ এক ধরণের বিপাকে পড়েছে। তাই সরকার বাজার দরের থেকে অনেক কম দামে টিসিবির পন্য ক্রয়ের সুযোগ দিয়েছে। টিসিবির ডিলাররা যাতে পন্য বিক্রির ক্ষেত্রে কোন রকম অনিয়ম না করে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা তদারকি করে থাকি।

টিসিবির ডিলার মেসার্স সোনিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধীকারী রাসেল বলেন, সরকার নির্ধারিত ৮০ টাকা লিটারে তেল, ৩০ টাকা কেজিতে পেয়াজ, ৫০ টাকা কেজিতে ডাল ও চিনি বিক্রি করছি। সাধারণ মানুষ ভালই ক্রয় করছেন।

পি-৪/৩

মহাসড়কের বেহাল দশা দেখার কেউ নেই

সম্রাট হোসেন, শৈলকুপা ( ঝিনাইদহ)

 ঝিনাইদহ কুষ্টিয়া মহাসড়কের শৈলকুপা উপজেলা অংশের আমতলা বাজার হইতে বড়দহ নতুন ব্রিজ পর্যন্ত ১০ কি.মি. মহাসড়কে চলাচলের অবস্থা খুবই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে ছোট-বড় প্রায় ৫০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। তবে রাস্তা ভেঙ্গে ছোটখাটো খানাখন্দের কারণে রাস্তায় চলাচল করা যানবাহন গুলো প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, এতে করে যানবাহন ও জনসাধারনের চলাচলে দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। রাস্তাটির ৬ মাস আগে আবেদন কনস্ট্রাকশন আমতলা তেল পাম্পের সামনের কিছু অংশ, ভাটই বাজার ৪০০মিটার গাড়াগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ৪০০  মিটার নতুন করে রাস্তা নির্মাণ করেন। নতুন তৈরি করা রাস্তাটুকুই  সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় আছে। সরোজমিনে দেখা যায়, রাস্তাটি চেনার কোন উপায় নেই যে এটি  পিচঢালা একটি মহাসড়ক। রাস্তায় কাদা আর পানি ছাড়া পিস বা খুয়ার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার  যেখানে  সেখানে খোয়া পড়ে আছে দেখলে মনে হয়  নতুন রাস্তা তৈরি করার জন্য হয়তো রাস্তার উপর এই খুয়া গুলো রাখা হয়েছে। আসলে এই রাস্তা নির্মাণের সময় ও সংস্কারের সময় পিচের বদলে পোড়া মবিল  ও নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের কারণে রাস্তার এই বেহাল দশা। রাস্তা সংস্কার করা হয় তবে সকালে সংস্কার করলে বিকালে রাস্তাটি ভেঙ্গে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। পরের দিন আর বোঝা যায়না রাস্তাটি কোথায় কিভাবে সংস্কার করা হয়েছিল। এলাকাবাসী ও পরিবহন শ্রমিকরা আমাদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে ও সরকার প্রধানের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে অতি দ্রুত এই রাস্তাটুকু সংস্কার করে যানবাহন চলাচলের  উপযোগী করে তোলার জন্য।

পাইকগাছার দেলুটি ইউনিয়নের চকরিবকরি বদ্ধ জলমহল ভেঙ্গে আবারো ৩ গ্রাম প্লাবিত : চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মান

পাইকগাছা প্রতিনিধি

অমাবস্যার প্রবল জোয়ারে পাইকগাছর দ্বীপবেষ্টিত দেলুটি ইউনিয়নের চকরিবকরি বদ্ধ জলমহালের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে আবারো গেউয়াবুনিয়া, চকরিবকরি, পারমধুখালী তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ী, গবাদী পশু, মৎস্য খামার, আমন ফসল ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় দুই শত পরিবার এখনো মানবেতর জীবন যাপন করছে।

পাইকগাছা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীর নির্দেশনায় সৃষ্টি ড্যাম কেয়ার টীম ও দেলুটি ইউনিয়ন-এর তত্ত্বাবধানে এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতা-স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় তিন শত নারী-পুরুষের দুই দিন স্বেচ্ছা-শ্রমে প্রতিরক্ষা বাঁধটি বুধবার দুপুরে নির্মান করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মানের সময় উপস্থিত ছিলেন দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান ও ড্যাম কেয়ার টীমের সভাপতি রিপন কুমার মন্ডল, ইউপি সদস্য রবীন্দ্র নাথ মন্ডল ও প্রীতিলতা ঢালী, আওয়ামীলীগ নেতা সুকৃতি মোহন সরকার, কুমুদ রায়, শ্যামল রায়, পরিতোষ মন্ডল, নিরোদ মল্লিক, জ্যোতিষ চন্দ্র ঢালী, বিধান চন্দ্র মন্ডল, যুবলীগের সুব্রত রায়, অতনু মন্ডল, তাপস মন্ডল, বিভূতি সরকার, বিধান রায়, অমল মন্ডল, বিজন মন্ডল, তাপস সরদার, কার্তিক সরদার, পবিত্র সরকার, দীপক সরকার, শশ্মান সরকার, বিশ্বজিৎ ঢালী, মিলটন মন্ডল, গোবিন্দ মন্ডল প্রমুখ।

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির দাবীতে পানিবন্দী মানুষের মানববন্ধন ও অবস্থান

খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের পানিবন্দী মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি ও পানি নিষ্কাশনের দাবীতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগি পানিবন্দী সহস্্রাধিক মানুষ উক্ত মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী নাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, ইলিয়াস হোসেন, সোহাগ খান, আব্দুর রাজ্জাক ও বিকাশ দাস প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে প্রাণ সায়ের খাল খননের অনেক আগেই খালে বেঁড়িবাধ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেয়ায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন লাবসা, বল্লী, ঝাউডাঙ্গা ও আগরদাঁড়ি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষনে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি, মৎস্য ঘের ও পুকুর। গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগী রাখার জায়গা টুকু পর্যন্ত নেই। পানিতে তলিয়ে গেছে পাকা রাস্তাও। জলাবদ্ধতায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন ৪টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। বক্তারা বলেন, শুকনা মৌসুমের আগেই প্রাণ সায়ের খাল খননের টেন্ডার হলেও তখন খাল খনন করা হয়নি। বক্তারা এ সময় অনতিবিলম্বে সাতক্ষীরা প্রাণ সায়ের খালের উপর দেওয়া বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন করার জোর দাবী জানান। মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শেষে তারা জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

বরগুনায় দুস্থ পরিবারের মাঝে নৌবাহিনীর সহায়তা প্রদান

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা, ২৪ সেপ্টে¤¦র ২০২০ বৃহস্পতিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে দরিদ্র, অসহায়, ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় কমান্ডার খুলনা নেভাল এরিয়ার তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট বরগুনা সদর উপজেলায় ৭০টি দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে। ত্রাণের মধ্যে ছিল শাড়ি, লুঙ্গি এবং থ্রি পিছ। দরিদ্র জনগণ এসব সহায়তা পেয়ে নৌবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

সংবাদ সম্মেলনে সাহায্যের আকুতি পিতার

তেরখাদায় বসতভিটা জবর দখলের চেষ্টায় কিশোরীকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে ভূমিদস্যুরা

স্টাফ রিপোর্টার

জেলার তেরখাদা উপজেলার দক্ষিণ কুশলা এলাকায় পৈত্রিক বসতভিটা জবর দখলের চেষ্টায় কিশোরী কণ্যাকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। পুত্রসন্তান ও নিকট আত্মীয় না থাকায় ঠুনকো অযুহাতে প্রায়ই বয়োবৃদ্ধ অলিদ মোল্যাকে মারপিট করে তারা। প্রতিবেশীর অত্যাচারে বারবার থানায় যেয়েও আইনের আশ্রয় পাননি তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা প্রেসকাবে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তেরখাদার দক্ষিণ কুশলা গ্রামের মৃত হালিম মোল্যার ছেলে অলিদ মোল্যা। তারপক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার জামাতা মোঃ সরোয়ার হোসাইন। এসব ঘটনায় বৃহস্পতিবার খুলনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত ‘চ’ (১৩) অঞ্চলে মামলা করেছেন অলিদ মোল্যা। এতে ৮জনকে আসামী করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, স্থানীয় মৃত মাজেদ খানের ছেলে সেলিম খাঁ(৪৫), মৃত জালাল উদ্দিন খাঁর ছেলে আলী খাঁ (৫০), আবুল খাঁর ছেলে আকিজুর খাঁ(৪০), মৃত নওশের খাঁর ছেলে টিটো খাঁ(৩০), লোয়ার খাঁর ছেলে মিজান খাঁ ও বাবলু খাঁ, মৃত ইউছুফ খাঁর ছেলে নশু খাঁ দীর্ঘদিন ঠুনকো অযুহাতে অলিদ মোল্যার সাথে ঝগড়া বাঁধিয়ে তাকে ও তার স্ত্রী-কণ্যাকে বেদম মারপিট করে। প্রথমে বুঝতে না পারলেও, পরে বুঝতে পারেন ওই প্রতিবেশীরা তার পৈত্রিক সম্পত্তি জবর দখলের জন্যেই নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে। এসবের প্রতিকার পেতে একাধিকার থানায় গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। সর্বশেষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে কুশলা বাজারে প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে ওরা। কারণ জানতে চাইলে বেধড়ক মারপিট করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। পরে আমার মেয়ে আশামনি ও স্থানীয়রা এসে উদ্ধার করে। এসময়ে আমাকে ও আমার মেয়েকে জীবনে শেষ করে দেবার হুমকি দেয়। এঘটনায়ও থানায় গেলে মামলা নেয়নি। বরং মামলা করতে গেছি শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে তার মেয়ে আশামনিকে ধর্ষণ করে এলাকায় বদনাম রটিয়ে এলাকা ছাড়া করার চক্রান্ত করছে ভূমিদস্যুরা। এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে কিশোরী কণ্যাদের সম্ভ্রম ও মাথা গোঁজারঠাঁই পৈত্রিক বসতভিটা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

খুবিতে নবনির্মিত মন্দিরের উদ্বোধন

সবধর্মের মূলে রয়েছে সত্য, সুন্দর কল্যাণ ও আলোর পথের দিশা: উপাচার্য

খবর বিজ্ঞপ্তি

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় মন্দিরের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান মন্দিরের উদ্বোধন ফলক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। পরে এক আলোচনা সভায় উপাচার্য বলেন, সব ধর্মেই মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে। ধর্মের মূল কথাই সত্য, সুন্দর, ন্যায় ও কল্যাণ। এক ¯্রষ্টার কাছে সবাই আমরা যে যার ধর্ম মতে কল্যাণ চাই। পার্থিব জগতে মানব কল্যাণ, মানব সেবা মহত্তর কাজ। সকল মানুষকে এক ¯্রষ্টারই সৃষ্টি হিসেবে বিবেচনা করতে পারলে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করা সম্ভব। সমাজে ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে বৃহত্তর কল্যাণ সাধিত হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সে স্বপ্নই দেখেছিলেন বলেই সংবিধানে সে বিষয়ে মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করেন। তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা, মুক্তবুদ্ধি চর্চার পীঠস্থান। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে এখানে এমন একটি পরিবেশ গড়ে উঠেছে যেখানে সবাই মিলে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে সচেষ্ট। গত মাসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ উদ্বোধন হয়। আজ মন্দির উদ্বোধন হলো। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারি সবাই জ্ঞান চর্চা ও নিজ নিজ কর্তব্যের পাশাপাশি স্ব স্ব ধর্মের বিধিবিধান পালনের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে সকলের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো। তিনি এই মন্দির নির্মাণের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। মন্দির নির্মাণ কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. সমীর কুমার সাধুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মোঃ শরিফ হাসান লিমন, শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. আশিষ কুমার দাস, মন্দিরের প্রধান ডিজাইনার স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক গৌরী শংকর রায়, মন্দির নির্মাণ কমিটির সদস্য-সচিব উপ-রেজিস্ট্রার কৃষ্ণ পদ দাস এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পম্পি পাল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন রায় ও ফার্মেসী ডিসিপ্লিনের প্রভাষক সুস্মিতা পাল। বক্তারা এই মন্দির নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের আন্তরিকতা, পৃষ্ঠপোষকতা, প্রচেষ্টা এবং সার্বিক সহযোগিতার বিষয় কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। এর পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় ট্রেজারারের নেতৃত্বে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতাও পালন করা হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, প্রভোস্ট, বিভাগীয় প্রধানসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এই মন্দিরের মূল ভবনের আয়তন আনুমানিক ১১০০ বর্গফুট এবং মন্দির চত্বরের আয়তন আনুমানিক ৩০০০ বর্গফুট। এই মন্দির নির্মাণে মাটি ভরাটসহ এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৪৬ লাখ টাকা। মন্দিরের অপর ডিজাইনার স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক শিবু প্রসাদ বসু।

খুবি শিক্ষার্থীদের স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদানে গ্রামীণফোনের সাথে এমওইউ স্বাক্ষরিত

খবর বিজ্ঞপ্তি

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদানে গ্রামীনফোনের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে এমওইউ স্বাক্ষরের পর অনলাইনে উভয় পক্ষের মধ্যে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনাকালে উপাচার্য এই করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে স্বল্প মূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানে এগিয়ে আসার জন্য গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের যে, ক্ষতি হচ্ছে তা কাটিয়ে উঠতে এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা অনেক আগে থেকেই নানাভাবে চেষ্টা করছি। চলতি মাসের ১ তারিখ থেকেই আমরা পুরোদমে অনলাইনে কাস শুরু করেছি। কিন্তু উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক পাওয়ায় কিছু অসুবিধা দেখা দেয়।   গ্রামীণফোনের সাথে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা নিরসন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের অনলাইন শতভাগ কাসে যোগ দিয়ে শিক্ষাকার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে। তিনি আরও বলেন গ্রামীণফোন চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে ও সেবা সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আরও অনেক ক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারে। আমরা সে আশাবাদও ব্যক্ত করি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবে অতিঅল্প সময়ের মধ্যে সাড়া দেওয়ায় এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রামীণফোনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষসহ খুলনাঞ্চলে দায়িত্বেরত সকলকে ধন্যবাদ জানান।    অনলাইনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় আরও অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান কুদ্দুস, সংশ্লিষ্ট কমিটির আহবায়ক কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ আনিসুর রহমান। গ্রামীণফোনের পক্ষে ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ের চীফ বিজনেস অফিসার কাজী মাহবুব হাসান, হেড অব এমেজিং এম. শাওন আযাদ। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান কুদ্দুস এবং গ্রামীণফোনের পক্ষে খুলনা রিজিওনাল হেড এ. এম. এম. সালাহ উদ্দিন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ, সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য অর্থনীতি ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ নাসিফ আহসান, ইলেক্ট্রনিক এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ শামীম আহসান, খুলনা সার্কেল বিজনেস হেড মোহাম্মদ আউলাদ হোসেন, খুলনা সার্কেল এমেজিং হেড খন্দকার রিয়াজ রহমান, মার্কেট কম্যিউনিকেশন অফিসার বিপুল সাহা, খুলনা এরিয়া ম্যানেজার মলয় কান্তি মিত্র, জোন ম্যানেজার হাসান হাফিজুর রহমান, টেরিটোরি ম্যানেজার সৈয়দা তামান্না জাহান উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এ প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে কাসে যুক্ত হওয়ার সুবিধার্থে স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য গ্রামীণফোনের সাথে এমওইউ অনুযায়ী আগ্রহী শিক্ষার্থীদের গ্রামীণফোনের নিকট থেকে ১০ (দশ) টাকা মূল্যের একটি সিম ক্রয় করতে হবে। উক্ত সিম ব্যবহারকারী ২২৫ (দুইশত পঁচিশ) টাকার বিনিময়ে ত্রিশ দিনে ৩০ জিবি ডাটা ব্যবহার করতে পারবে। এই ডাটা শুধুমাত্র একাডেমিক কার্যক্রম সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা যাবে। এই সিম এর মাধ্যমে সরাসরি ডায়াল করে কথা বলা যাবে না। এই সিম ক্রয় করতে আগ্রহীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোড করা এড়ড়মষব ঋড়ৎস-এ প্রয়োজনীয় তথ্যাদি আইডি কার্ড/জন্মনিবন্ধনের স্ক্যান কপিসহ ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখের মধ্যে পূরণ করে অনলাইনে জমা দিতে বলা হয়েছে। যাদের মাসিক ডাটা ব্যবহারের পরও উদ্বৃত থাকবে তা পরবর্তী মাসে রিচার্জের পর উক্ত অব্যবহৃত ডাটাও তার সাথে যুক্ত হবে। শিক্ষার্থীরা যে সমস্ত সেবা পাবে তা হচ্ছে তড়ড়স, ঞবধসং, ঝশুঢ়ব, এড়ড়মষব গববঃ, ণড়ঁঃঁনব, ডযধঃংঅঢ়ঢ়, ঋধপবনড়ড়শ, শঁ.ধপ.নফ এড়ড়মষব ংবধৎপয ঋরষব ংঃড়ৎধমব ংবৎারপবং ষরশব এড়ড়মষব উৎরাব, উৎড়ঢ় ইড়ী, ঙহব উৎরাব ঊসধরষ: এসধরষ, ণধযড়ড়, ঐড়ঃসধরষ, শঁ.ধপ.নফ

রামপালে বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা

রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

রামপালের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বন পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার। বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় রামপাল উপজেলা অডিটোরিয়ামে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি জনপ্রতিনিধি এবং সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাপ্তরিক কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার নির্দেশনা দেন। জনপ্রতিনিধি ও সরকারী কর্মকর্তাদের দূর্নিতীমুক্ত থেকে কাজ করার জন্য আহব্বান জানান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রামপাল উপজেলা চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাধন কুমার বিশ্বাস, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল হক লিপন, রামপাল থানার ওসি মনজুরুল আলম, ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল আমিন, গাজী গিয়াস উদ্দিন, গাজী আকতারুজ্জামান, ছাত্রলীগ সভাপতি হাফিজুর রহমান সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী দুই দিনের সফরে খুলনা আসছেন

তথ্য বিবরণী

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন দুই দিনের সফরে আগামী শনিবার খুলনা আসছেন। সফরসূচি অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সকাল ১১টায় প্রধান অতিথি হিসেবে বয়রাস্থ খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নতুন কার্যালয় ভবন এবং অডিটোরিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এবং জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. মুঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

নগরীর পুকুরগুলো লিজ দেওয়া হবে না: সিটি মেয়র

তথ্য বিবরণী

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, নগরীর পুকুরগুলো লিজ দেওয়া হবে না। এগুলো দৃশ্যমান ও খননের জন্য জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে তিন কোটি টাকা বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। অনেকে পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষসহ বিভিন্নভাবে ব্যবসা শুরু করেন। এই কাজগুলো আর করতে দেওয়া হবে না। মেয়র বৃহস্পতিবার সকালে নগরভবন সম্মেলনকক্ষে জার্মান সরকারের অধীন উন্নয়ন সহযোগী কঋড কর্তৃক অর্থায়নকৃত ঈষরসধঃব ঈযধহমব অফধঢ়ঃপফ টৎনধহ উবাষড়ঢ়সবহফ চৎড়লৎপঃ এর চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত প্রকল্প উপস্থাপন এবং স্টেকহোল্ডারদের মতামত গ্রহণ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। সিটি মেয়র বলেন, নগরীতে ৩১টি পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে কেসিসির আওতায় ১১টি। নগরবাসীর স্বার্থরক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সবকিছু করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে রূপসা ও ভৈরব নদ খননের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ড্রেনব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনার উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। ইত্যেমধ্যে শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনে একনেক সভায় অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পের অর্থ সঠিকপথে ব্যয় করতে মেয়র সংশ্লিষ্টদের নিদের্শ দেন। কর্মশালয় কেসিসি’র প্যানেল মেয়র মোঃ আমিনুল ইসলাম মুন্না ও মোঃ আলী আকবার এবং ১৭টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা, কেসিসি’র কর্মকর্তা, ওয়ার্ড সচিব, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সুশিলসমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের স্থাপত্য অনুষদের প্রফেসর ড. সিরাজুল হাকিম। পরে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক নগরভবন সম্মেলনকক্ষে রোটারি জেলা ৩২৮১ বাংলাদেশ গভর্ণরের সাথে মতবিনিময় করেন এবং নগরভবন চত্ত্বরে রোটারি জেলা ৩২৮১ বাংলাদেশ গভর্ণর মোঃ রুবায়েত হোসেন বর্জ্যব্যবস্থাপনার জন্য ২০টি ভ্যান মেয়রের কাছে হস্তান্তর করেন। এসময় খুলনা প্রেসকাবের সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতিত্ব মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, খুলনা চেম্বারের পরিচালক মোঃ মফিজুল ইসলাম টুটুলসহ খুলনা ও ঢাকা জেলার রোটারি ৩২৮১ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্টসহ রোটারিয়ানরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ছোট্ট বাপ্পিই প্রতিবন্ধি আম্বিয়ার বেঁচে থাকার শক্তি

সাবজাল হোসেন

মা তুমি হুইল চেয়ারে বসে সামনের দিকে নজর রাখো। একদম নড়াচড়া করনা। চাকায় হাত দিয়ে ঘোরানোর চেষ্টাও করনা। কেননা অচল দেহে আবার পড়ে গেলে আমার সব শেষ। তাই চেয়ারে বসে তুমি ঠিকমত হ্যান্ডেল ধরে রাখো। আর মানুষের কাছে হাত এগিয়ে দাও। আমি চেয়ারের পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমার তেমন কষ্ট হচ্ছেনা মা। বরং পড়ে গেলেই তোমার ক্ষতি হবে। তখন আমাকে কে দেখবে ? প্রতিবন্ধি মায়ের হুইল চেয়ারের পেছনে ধাক্কা দিয়ে পথচলার সময় কথাগুলো বলছে ১০ বছরের শিশু সন্তান রাব্বি। আর জীবনের একমাত্র অবলম্বন শিশু সন্তানের এমন কথায় মা আম্বিয়া বেগমের চোখ বেয়ে বেয়ে পানি ঝরছে। হৃদয় বিদারক এমন ঘটনা ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের ছিন্নমুল এক প্রতিবন্ধি মাকে ঘিরে শিশু সন্তানের।

আম্বিয়া বেগম জানান, আমি সাতক্ষীরা জেলার বলাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রশিদ সর্দারের মেয়ে। প্রায় ১২ বছর আগে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বাকাশপুর গ্রামের আক্তার হোসেনের সাথে আমার বিয়ে হয়। একমাত্র সন্তান রাব্বির বয়স যখন মাত্র ৩ মাস মাদকাসক্ত স্বামী নির্মমভাবে আমাদের ফেলে চলে যায়। এরপর গতি হয় আমার এক খালার বাড়িতে। সেখানে কাজ করে কোন রকমে মা ছেলের দিন কাটতো। পরে সেখানে থেকেই ছেলে রাব্বিকে খুলনার শিরোমনির গিলেতলার মোহম্মদিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করি। আমি কাজ করতাম আর চলতাম। কিন্ত বছর দেড়েক আগে আমি টাইফয়েডে আক্রান্ত হই। অভাবের কারনে ঠিকমত চিকিৎসাসেবা না নিতে পারায় অবশেষে পঙ্গুত্ব হয়েছে আমার জীবনসঙ্গী। আমার পায়ের নিচের অংশ সরু হয়ে গেছে। এখন ভর দিয়ে দাঁড়াতেও পারি না। ফলে চলাচলের জন্য হুইল চেয়ার হয়েছে সম্বল। আমি জানি মানুষের কাছে হাত পাতাটা অসম্মানের। কিন্ত আমার উপায় নেই।  আপন বলতে কেউ না থাকায় প্রতিবন্ধি জীবনে বাধ্য হয়ে মানুষের কাছে হাত পাততে হচ্ছে। এখন একমাত্র শিশুপুত্র রাব্বিকে নিয়ে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের মোবারকগঞ্জ রেলষ্টেশন পাড়ায় একটি ঝুপড়ি বাসায় ভাড়ায় বসবাস করছি।

তিনি আরও বলেন,সাহায্যের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে হুইল চেয়ারে করে যেতে হয়। এ কাজে তার শারিরিক অক্ষমতার জন্য শিশুপুত্র রাব্বির সাহায্য নেয়া লাগে। সে হুইল চেয়ারের পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ে চলে। এভাবে সারাদিন ঘুরে মানুষের করুনার টাকা দিয়ে সন্ধ্যায় মাছ ছেলের খাবার কিনে বাসায় ফিরি। আবার সকাল হলেই মা ছেলে বের হই মানুষের দ্বারে দ্বারে। এভাবে বেঁচে আছি দুটি প্রাণ।

আম্বিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, শরীরের কর্মক্ষমতা হারিয়ে এখন আমি বড্ড অসহায়। শিশু বাচ্চা হুইল চেয়ার ঠেলে প্রতিদিন বিকালে কান্ত হয়ে পড়ে। তখন কলিজার টুকরা সন্তানের মুখের দিকে তাকালে খারাপ লাগে। কেননা এখন বাপ্পির খেলার বয়স। তারপরও মায়ের কষ্ট দিতে চায় না সে। তিনি আরো বলেন, সব সময় ভাবি কবে বাপ্পি বড় হয়ে রোজগার করবে। হাত পাততে হবে না মানুষের কাছে।

কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহানাজ পারভীন জানান, প্রতিবন্ধি আম্বিয়া বেগম তার ছোট্ট ছেলেটাকে নিয়ে খুব কষ্ট করে। মানুষের কাছে হাত পেতেই তাদের বাঁচতে হয়। কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ জানান, সমাজে অসহায় প্রতিবন্ধি অনেক অসহায় মানুষ আছে। তবে প্রতিবন্ধি মা আম্বিয়াকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে ছোট্র শিশুটি যেভাবে সারাদিন ধাক্কা দিয়ে নিয়ে বেড়ায় তা দেখলেও কষ্ট লাগে। তিনি বলেন,আম্বিয়া বেগম এ এলাকার নাগরিক নয়। ফলে এখানে তার কোন ভাতাদির ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে। তারপরও তার অসহায়ত্ব দেখে মানবিক সাহায্য তিনি প্রতিনিয়তই করে থাকেন।

মোড়েলগঞ্জে চা বিক্রেতাকে কুপিয়ে হত্যা, লাশ মিলল জালে

এম.পলাশ শরীফ, স্টাফ রিপোর্টার

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের পূর্ব খারইখালী গ্রামের এক চা বিক্রেতা আবু হানিফ ফকিরকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করে খালে ফেলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ বৃহস্পতিবার বিকেলে খাল থেকে কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে।  বুধবার মধ্যরাতে এবি গজালিয়া বাজারের চা বিক্রেতা মৃত. হোসেন আলী ফকিরের ছেলে আবু হানিফ কে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাটখালী খালে মাছ ধরার সময় স্থানীয় শিশু কিশোরদের জালে আবু হানিফের মরদেহ উঠে আসে। আবু হানিফের ভাই সালাম ফকির বলেন, পরিকল্পিতভাবে আবু হানিফকে রাতে ডেকে নিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার মাথাসহ শরীরে ১০-১২ গুরুতর কোপের চিহ্ন দেখা গেছে। তার স্ত্রী ও ৫ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, বিকেল আবু হানিফের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। জড়িতদের আটকের জন্য এলাকায় পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে।

বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি নগর বিএনপির

খবর বিজ্ঞপ্তি

খুলনা মহানগর বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক ও খানজাহান আলি থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মিজানুর রহমানের নামে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি। এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, হামল-মামলা করে গণতন্ত্রের যাত্রাকে রুদ্ধ করা যাবে না। দিনের ভোট রাতে করে জনগণের ভোটের অধিকারকে হরণ করেছে বর্তমান সরকার। জেল-জুলুম, হামল-মামলাকে উপেক্ষা করে জাতীয়তাবাদী শক্তির সকল সৈনিক গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধার কাজে সামনের দিকে যাবে। কাজী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতারের নিন্দা এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দরা হলেন নেতৃবৃন্দরা হলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ভাষাসৈনিক এম নুরুল ইসলাম, নগর বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্তুজা, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশাররফ হোসেন, জাফরউলাহ খান সাচ্চু, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, এড. ফজলে হালিম লিটন, স ম আব্দুর রহমান, শেখ ইকবাল হোসেন, শেখ জাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, মোঃ মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এসএম আরিফুর রহমান মিঠু ও ইকবাল হোসেন খোকন প্রমুখ।

বিএনপি সবসময় অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকে: মনা

ফুলতলা প্রতিনিধি

খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, বর্তমান ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে জনগন সকল প্রকার অধিকার থেকে বঞ্চিত। গরীব ও খেেেট খাওয়া মানুষের কাজ নেই, শ্রমজীবিদের মিল কলকারখানা বন্ধ হওয়ায় খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছে। বিএনপি সবসময় অসুস্থ, নির্যাতিত, নিপীড়িত, অসহায় ও গরিব মানুষের পাশে থেকে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে । করোনাকালে এলাকার মানুষের জন্য ত্রান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এবং প্রকৌশলী আব্দুস সালামের সহযোগিতায় করোনাকালীন পরিস্থিতিতে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য ফুলতলার জামিরা রোডস্থ ফৌজি এন্টারপ্রাইজে হেল্প সেন্টারের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক এমপি অধ্যাপক ডা: গাজী আব্দুল হকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ খান, জেলা সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মন্টু, এস,এ রহমান বাবুল, জেলা বিএনপি নেতা মোঃ খাইরুল ইসলাম, আবু হোসেন বাবু, মোঃ কামরান হাসান, হাফেজ আবুল বাশার। বিএনপি নেতা শেখ আঃ সালামের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফুলতলা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ সেলিম সরদার, মনির হাসান টিটো, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার, শেখ লুৎফর রহমান, এস এম হারুন অর রশিদ, অহিদুজ্জামান নান্না, নওশাদ হোসেন লালু, আনোয়ার হোসেন বাবু, গাজী ফজলুল হক, জিএম শফিকুল ইসলাম, মোঃ ফিরোজ জমাদ্দার, জামাল হোসেন ভূঁইয়া, শেখ বকতিয়ার হোসেন, মশিয়ার রহমান বিপ্লব, মোঃ ইদ্রিস মোল্যা, মোঃ আকতার হোসেন, নজরুল ইসলাম মোল্যা, ফকির রবিউল ইসলাম, ডাঃ আঃ গনি, শেখ আঃ হালিম, মোঃ শহিদুল ইসলাম, আঃ হালিম সরদার, মিনা মুরাদ, মোঃ হাফিজুর রহমান, মোঃ মাসুদুর রহমান, আরজব ফকির, মোঃ ইয়ার আলী, আকতারুজ্জামান কচি, ইকবাল খান, মোঃ মাসুদ করিম প্রমুখ। প্রসংগতঃ উপজেলার সর্বশ্রেনীর মানুষ এ অক্সিজেন সিলিন্ডারের সুবিধা পাবে ।

রিজিয়া নাসের এবং বাহাউদ্দিন নাসিমের সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় আ’লীগের দোয়া মাহফিল

খবর বিজ্ঞপ্তি

প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি’র চাচী ও শেখ হেলালউদ্দিন এমপি ও শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল এমপি’র মা রিজিয়া নাসের এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কৃষিবিদ বাহাউদ্দিন নাসিম এর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া মাহফিল করেছে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ। গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব দলীয় কার্যালয়ে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এর সভাপতিত্বে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময়ে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনা এখনও শেষ হয়নি। এই মহামারীকে অবহেলা করা যাবে না। সবাইকে সর্তক থেকে এই করোনাকে মোকাবেলা করতে হবে। একই সাথে অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে স্ব স্ব স্থানে থেকে কাজ করে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা’র ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন করতে সকল দুর্যোগকে উপেক্ষা করে কাজ করে যেতে হবে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের কঠিন দু:সময়ে রিজিয়া নাসের দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে নেপথ্যে থেকে দিক নিদের্শনা দিয়েছেন। অপরদিকে বাহাউদ্দিন নাসিম নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে চট্টগ্রামে নেত্রীকে রক্ষা করতে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। আজ আওয়ামী লীগের দু’জন ত্যাগী নেতা অসুস্থ। অনুষ্ঠান থেকে তাদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

এ সময়ে দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাবেক সহ-সভাপতি চিশতি সোহরাব হোসেন, বেগ লিয়াকত আলী, মল্লিক আবিদ হোসেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, নুর ইসলাম বন্দ, আবুল কালাম আজাদ কামাল, শ্যামল সিংহ রায়, ফেরদৌস আলম চাঁন ফরাজি, এ্যাড. অলোকা নন্দা দাস, অধ্যক্ষ শহিদুল হক মিন্টু, অধ্যাপক আলমগীর কবির, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, প্যানেল মেয়র আলী আকবর টিপু, হাফেজ শামীম, মোজাম্মেল হক হাওলাদার, সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস, তসলিম আহমেদ আশা, কাউন্সিলর শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন রনজিত কুমার ঘোষ, সফিকুর রহমান পলাশ, শেখ ফার”ক হাসান হিটলু, মীর বরকত আলী, শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজন, আসাদুজ্জামান রাসেল, চ. ম. মুজিবর রহমান, শেখ জাহিদ হোসেন, হাসান ইফতেখার চালু, শেখ মো. র”হুল আমিন, মো. জাকির হোসেন, অহিদুল ইসলাম পলাশ, এস এম হাফিজুর রহমান হাফিজ, অভিজিৎ চক্রবর্তী দেবু, কাজী কামাল হোসেন, অভিজিৎ পাল সহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে রিজিয়া নাসের ও বাহাউদ্দিন নাসিমের সুস্থতা কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

রিজিয়া নাসের এর সুস্থ্যতা কামনায় যুবলীগের বিবৃতি

খবর বিজ্ঞপ্তি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহোদর শ্রদ্ধেয় শহীদ শেখ আবু নাসের এর সহধর্মিনী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচী, জননেতা শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, সেখ সালাউদ্দিন জুয়েল এমপি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শেখ সোহেল, নৌ পরিবহন ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি শেখ জালাল উদ্দিন রুবেল ও শেখ বেলালউদ্দিন বাবু’র মা রিজিয়া নাসের বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁর সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিবৃতি দিয়েছে খুলনা মহানগর যুবলীগ।

বিবৃতিদাতা নেতৃবৃন্দরা হলেন নগর যুবলীগের আহবায়ক সফিকুর রহমান পলাশ, যুগ্ম আহবায়ক শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজন,  এস এম হাফিজুর রহমান হাফিজ, রোজি ইসলাম নদী, কামরুল ইসলাম, আব্দুল কাদের শেখ, এ্যাডঃ আল আমিন উকিল, আবুল হোসেন, কাজী কামাল হোসেন, নজরুল ইসলাম দুলু, শওকত হোসেন, শেখ মোহাম্মদ আলী,  অভিজিৎ চক্রবর্তী দেবু, কবির পাঠান, তাজুল ইসলাম, মোস্তফা শিকদার, কাজী ইব্রাহিম মার্শাল, জুয়েল হাসান দিপু, সাজ্জাদুর রহমান লিংকন, মহিদুল ইসলাম মিলন, মশিউর রহমান সুমন, মেহেদী মোড়ল, কে এম শাহীন, ইয়াসিন আরাফাত, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। বিবৃতিতে তার সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় সকলের নিকট দোয়া ও প্রার্থনা কামনা করা হয়েছে।

ক্রেডিট কার্ডে সুদ ২০ শতাংশ পর্যন্ত

ঢাকা অফিস

ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট কার্ডে সুদহারের সীমা বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী ১ অক্টোবর থেকে ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডে ২০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিতে পারবে। বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে কোনো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডে ১৪ শতাংশের বেশি সুদ নেওয়ার সুযোগ নেই। যদিও কোনো ব্যাংক সুদহারের এই নির্দেশনা মানে না। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অন্য সব ঋণে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদহারের সীমা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ক্রেডিট কার্ড পরিচালনার নীতিমালার আলোকে ব্যাংকগুলো অন্য যেকোনো ঋণের তুলনায় ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদ নিতে পারবে। ফলে ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ সুদ হওয়ার কথা ১৪ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আগস্টে ব্যাংকগুলো যে ঘোষণা দিয়েছে সেখানেই ২৭ শতাংশ সুদ নির্ধারিত আছে কোনো কোনো ব্যাংকের। আর অধিকাংশ ব্যাংকের সুদহার রয়েছে ২০ থেকে ২৪ শতাংশ। কোনো কোনো ব্যাংক ১৪ শতাংশ সুদের ঘোষণা দিলেও তা নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। এরকম প্রেক্ষাপটে জারি করা সার্কুলারের শুরুতে ক্রেডিট কার্ড পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালার কথা উল্লেখ করে বলা আছে, নীতিমালার অনুচ্ছেদ ১২(সি) অনুযায়ী- অন্য ঋণের সর্বোচ্চ সুদহারের চেয়ে ক্রেডিট কার্ডে ৫ শতাংশের বেশি নির্ধারণ করা যাবে না। আর ক্রেডিট কার্ডের এই সুদ কেবল অপরিশোধিত বকেয়া স্থিতির ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কোনো কোনো ব্যাংক অযৌক্তিকভাবে বেশি সুদ আদায় করছে যা গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষুন্ন করছে। এছাড়া ক্রেডিট কার্ডের অপরিশোধিত বকেয়া বিলের ওপর লেনদেনের তারিখ থেকেই সুদ আরোপ এবং অপরিশোধিত বিলের বিপরীতে অতিরিক্ত বিলম্ব ফি আদায় করছে। এছাড়া মোট সীমার ৫০ শতাংশের বেশি নগদ উত্তোলন না করার নির্দেশনা থাকলেও অনেক ব্যাংক তা মানছে না বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, আগামী ১ অক্টোবর থেকে ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে ২০ শতাংশের বেশি সুদ নেওয়া যাবে না। ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের জন্য নির্ধারিত সর্বশেষ তারিখের পরের দিন থেকে অপরিশোধিত বিলের ওপর সুদ আরোপযোগ্য হবে। কোনোভাবেই লেনদেনের তারিখ থেকে সুদ আরোপ করা যাবে না। বিদ্যমান নীতিমলার আলোকে ক্রেডিট কার্ডের নির্ধারিত সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদ উত্তোলন করা যাবে। অন্য কোনো নামেও গ্রাহককে এর চেয়ে বেশি নগদে উত্তোলন সুবিধা দেওয়া যাবে না। বিলম্বে পরিশোধিত কোনো বিলের বিপরীতে শুধু একবার বিলম্ব ফি আদায় করা যাবে। অন্য কোনো নামে বাড়তি ফি নেওয়া যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর ইস্যুকৃত মোট কার্ড রয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ। এর মধ্যে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা এক কোটি ৯৭ লাখ। আর ক্রেডিট কার্ড ১৬ লাখেরও কম। বাকি ৬ লাখের মতো রয়েছে প্রিপেইড কার্ড।

টাইম ম্যাগাজিনের ৮২ বছর বয়সী নারী

খুলনাঞ্চল ডেস্ক

অশীতিপর বৃদ্ধা বিলকিস বানু। ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠা এক মুসলিম নারী। দিল্লির শাহিনবাগে বিক্ষোভের প্রতীক হয়ে ওঠা এই বিলকিস বানু হয়েছেন ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে বর্ষসেরা নারী। অবশ্য টাইমের বর্ষসেরা ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ঠাঁই পেয়েছেন।

মঙ্গলবার টাইম ম্যাগাজিনের ২০২০ সালের বর্ষসেরা ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। চলতি বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছেন এমন ব্যক্তিদের এই তালিকায় কয়েকটি ক্যাটাগরিতে বর্ষসেরা নির্বাচিত করা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতা ক্যাটাগরিতে জায়গা পেয়েছেন। বিলকিস বানু তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন আইকন ক্যাটাগরিতে। নরেন্দ্র মোদি এর আগে ২০১৭ সালেও টাইম ম্যাগাজিনের বর্ষসেরার তালিকায় ছিলেন। গত বছর ভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস হয়ে যাওয়ার পর দেশ জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ-সহিংসতা শুরু হয়। এই আইনের বিরোধিতায় দিল্লির শাহীনবাগে ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তীব্র শীতের মাঝে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই ছিলেন নারী; যাদের নেতৃত্ব দেন ৮২ বছর বয়সী বিলকিস বানু।সূত্র : বিবিসি।

হজম সহায়ক পেঁপে

মিলি রহমান

পেঁপের গুণের শেষ নেই। কাঁচা-পাকা দুইভাবেই এটি খাওয়া যায়। শরীরের জন্য পেঁপে খুবই উপকারী একটি ফল। প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁপেতে ৩৯ ক্যালরি থাকে। এছাড়াও এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন এ,বি,সি,ডি পাওয়া যায়। শত শত বছর ধরে বিভিন্ন রোগ সারাতে পেঁপে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। নিয়মিত পেঁপে খেলে আরও যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-

১. হজমের জন্য পেঁপে খুবই উপকারী। এই ফল খেলে শরীর সতেজ হয় ও জীবনী শক্তি ফিরে পাওয়া যায়। এটি পাকস্থলীর অতিরিক্তি অ্যাসিড দূর করে। এ কারণে যারা গ্যাস্ট্রিক ও বুক জ্বালা সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য পেঁপে খুব উপকারী।

২. পেঁপে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ফলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, পেঁপে গাছের মূল ও ফুল কিডনি রোগ, ব্রংকাইটিস ও জন্ডিস সারাতে ভূমিকা রাখে।

৩. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পেঁপের জুড়ি নেই। এতে প্রচুর ভিটামিন ই, সি ও ফলিক অ্যাসিড থাকায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। কাঁচা পেঁপে ও এর জুস হজমে সহায়তা করে।

৪. ব্রণ সারাতেও পেঁপে বেশ কার্যকর। বয়ঃসন্ধিকালে বা মুখে ময়লা জমার কারণে যে ব্রণ সৃষ্টি হয়, তা দূর করতে নিয়মিত পেঁপে খেতে পারেন। এতে ত্বক জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হবে। এছাড়া পাকা পেঁপে মাস্ক হিসাবে মুখে ব্যবহার করলেও ব্রণ দূর হয়।

প্রমাণিত হলে অনুরাগের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করব: তাপসী

বিনোদন ডেস্ক

চিত্র পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী পায়েল ঘোষের তোলা যৌন হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে জোর আলোচনা, চর্চা চলছে। এবার পরিচালকের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন অনুরাগের ‘মনমর্জিয়া’ ছবির অভিনেত্রী তাপসী পান্নু। তার মতে এমন কিছু হতেই পারে না। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাপসী বলেন, অনুরাগের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে তার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। শনিবার একটি ট্যুইটে পায়েল লেখেন, অনুরাগ কাশ্যপ আমাকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন। নরেন্দ্র মোদিজি এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করুন এবং দেশকে দেখান যে এমন একজন সৃজনশীল মানুষ আসলে কতটা শয়তান। আমি জানি এরপর আমার নিরাপত্তায় টান পড়বে। দয়া করে সাহায্য করুন। এই অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পরই জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা ট্যুইট করেন। সেখানে পায়েলের ট্যুইটকে রেখে তাকে বিস্তারিত অভিযোগ জানানোর আবেদন করেন তিনি। একইসঙ্গে জাতীয় মহিলা কমিশনকে পদক্ষেপ করার কথাও বলেছেন। যদিও অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পরিচালক। তাপসী বলেন, যদি অনুরাগের দোষ প্রমাণ হয় তাহলে আমিই প্রথম ব্যক্তি হিসাবে ওর সঙ্গে আজীবনের জন্য সম্পর্ক ছিন্ন করব। কিন্তু তদন্তটা নিরপেক্ষ হতে হবে এবং শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে। তা হলে মিটু আন্দোলনের পবিত্রতাটাও রক্ষা করা কি সম্ভবপর হবে? তা না হলে বাস্তবেই হেনস্থার শিকার অনেকে সুবিচার পাবে না। মেয়েদের কখনই উচিত নয় এই আন্দোলনটা দিকভ্রষ্ট করে দেওয়া। কাউকে নিগ্রহ করবার ক্ষমতাটা আসলে লিঙ্গ নির্দিষ্ট হয় না। অনুরাগের পাশে দাঁড়িয়ে তাপসী বলেন, মহিলাদের প্রতি প্রচুর শ্রদ্ধা আছে অনুরাগের। তাকে কখনো খারাপ কথা বলতে শুনিনি। এমনকি যে ওর সঙ্গে প্রকাশ্যে খারাপ আচরণ করেছে, তাদের সঙ্গেও নয়। বিরল কয়েকটি ক্ষেত্রের মধ্যে তিনিও পড়েন, যার পুরুষ ও মহিলা ক্রু-এর সংখ্যা সমান। যদি কেউ হেনস্থা হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত হোক। প্রকৃত সামনে আসুক। শুধু তাপসীই নন, এই মামলায় অনুরাগের পাশে দাঁড়িয়েছেন তার দুই প্রাক্তন পতœী আরতি এবং কালকি কোয়েচলিনও। দুজনেই অনুরাগের সমর্থনে দীর্ঘ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন- মেয়েদের সম্মান দিতে খুব ভালোভাবে জানেন অনুরাগ। তিনি নিজে একজন নারীবাদী। এছাড়াও বলিউড অভিনেত্রী হুমা কুরেশি, স্বরা ভাস্কর, টিসকা চোপড়ারাও এই মামলায় অনুরাগের সমর্থনে সুর চড়িয়েছেন।

শতভাগ উপজেলা বিদ্যুতায়নের পথে, রইলো বাকি এক

সঞ্চিতা সীতু

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ভৌগলিক এলাকায় ৪৬২টি উপজেলার মধ্যে ৪৬১টির শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন করেছে। রইলো বাকি এক উপজেলা। নতুন করে আরও ১৭৩ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ করার পর আরইবি এই তথ্য জানিয়েছে। তবে উপজেলাগুলোকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে আরও ২৮৮টি উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে আরইবির সদস্য (পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন) অঞ্জন কান্তি দাশ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৪৬২টি উপজেলার মধ্যে ৪৬১টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন করতে পেরেছি। তবে এই বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে অনগ্রিড অর্থাৎ তার টানা যায় এমন এলাকায়। এখন বাকি আছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা। সেখানে সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে বলে আশা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন জেলার চরগুলোতে এক হাজার ৫৯টি গ্রাম আছে। সেখানে আগে সৌরবিদ্যুৎ হওয়ার কথা ছিল। স্রেডাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেখানে সোলার করার। কিন্তু তারা পারেনি। এখন দায়িত্ব নিয়ে সাবধানে মেরিন ক্যাবল দিয়ে অনগ্রিড বিদ্যুৎ দেওয়া হবে সেখানে। বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৮৫টি নদী আমাদের অতিক্রম করতে হবে। জামালপুর, ভোলা, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধাসহ বেশ কিছু উপজেলায় পড়েছে এসব গ্রাম। ফলে বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। তারপরও মুজিববর্ষের মধ্যেই এই কাজ শেষ করতে পারবো বলে আশা করছি।’ আরইবি সূত্র বলছে, তারা আরও ১৭৩ উপজেলায় ১০০ ভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে। তবে এখনও সেগুলো উদ্বোধন হয়নি। এসব উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসেবে ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে আরইবি। তারা জানায়, আরইবির ভৌগলিক এলাকার এক হাজার ৫৯টি গ্রাম রয়েছে। অফগ্রিড এলাকায় এসব গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়াই তাদের কাছে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিন ধাপে এসব গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবে আরইবি। প্রথম ধাপে ৬৪৬টি গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে আরইবি। এসব গ্রামকে চলমান কার্যক্রমের আওতায়ই বিদ্যুতায়িত করা সম্ভব। চলতি মাসের মধ্যেই গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। তবে ২৯টি অতি দুর্গম গ্রাম ছাড়া বাকি ৩৮৪টি গ্রামে আগামী অক্টোবরের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে। তবে ২৯টি অতি দুর্গম গ্রামের বেশিরভাগই পাহাড়ি এলাকায় হওয়াতে এসব গ্রামে চলতি বছরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবে আরইবি। সরকারের শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আরইবি এই কাজ করছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তাদের অধীন এলাকার সব মানুষকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট প্রথম ছয়টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেন। সব শেষ গত ২৭ আগস্ট তিনি আরও ২৭ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত হিসেবে ঘোষণা দেন।

আরও ২৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৫৪০

ঢাকা অফিস

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৭২ জনের মৃত্যু হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৫৪০ জন। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৩৮৪ জন শনাক্ত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১৩৯ জন, এখন পর্যন্ত সুস্থ ২ লাখ ৬৫ হাজার ৯২ জন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১২ হাজার ৩৮২টি, নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৯০০টি। এখন পর্যন্ত ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৫৪০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং এখন পর্যন্ত ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৩ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ২১ জন পুরুষ এবং ৭ জন নারী। এখন পর্যন্ত পুরুষ ৩ হাজার ৯৩৫ জন এবং নারী মৃত্যুবরণ করেছেন এক হাজার ১৩৭ জন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃতদের মধ্যে ৬০ ঊর্ধ্ব ১৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। বিভাগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ জন, খুলনা বিভাগে ২ জন এবং রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। ২৮ জনই হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ২৪৩ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৫ হাজার ৯৮৬ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৪৩৮ জন, এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৭৩ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশন করা হয়েছে ৮০ হাজার ৫৯ জনকে। প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ৯১২ জনকে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়া পেয়েছেন এক হাজার ২৮৩ জন, এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৪ লাখ ৮২ হাজার ১৩০ জন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ৫ লাখ ২৮ হাজার ২৯৭ জনকে। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৬ হাজার ১৬৭ জন।

কোথাও কিছু ঘটছে: রিজভী

ঢাকা অফিস

‘কোথাও কিছু ঘটছে’ বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ওয়েব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রীদের হঠাৎ করে বক্তব্য রহস্য ঘেরা। সরকারি তথ্য মতেও তো আমরা দেখছি, প্রতিদিন করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমছে। করোনা টেস্ট অর্ধেকে নামিয়ে দিয়েছে সরকার। অফিস-আদালতসহ সব কিছু খুলে দেওয়া হয়েছে। এমন অবস্থায় সরকারের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে-কোথাও কিছু ঘটছে।’ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভিডিও কনফারেন্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, ‘শেক্সপিয়র রচিত হ্যামলেট নাটকের একটি বিখ্যাত উক্তির কথা মনে পড়ছে-“সামথিং ইজ রটেন, ইন দি স্টেট অব ডেনমার্ক।” সরকার জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে ফেরাতে চায়। দেশজুড়ে বড় কিছু ঘটনা আড়াল করতেই করোনা ধেয়ে আসার জিগির তোলা হচ্ছে। মিথ্যা, অসত্য, অবৈধ সত্ত্বার পতন অবশ্যম্ভাবী।’

চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে নির্যাতন!

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরায় সুপারি চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে নির্যাতন শেষে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে তালা উপজেলায়। ২৩ সেপ্টেম্বর ভোর ৩টার দিকে ওই দুই কিশোরকে আটক করা হয়। এরপর তাদের হাত পিছমোড়া দিয়ে বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়। এলাকাবাসী জানায়, কয়েকদিন আগে উপজেলার একজন কাচামাল ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ভ্যান, সাইকেল ও টর্চ লাইট চুরি হয়। এ ঘটনায় ওই ব্যবসায়ী পাটকেলঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ভ্যান, সাইকেল ও টর্চ লাইট চুরির ঘটনায় আটক দুই কিশোরকে নির্যাতন চালিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়। বাড়ির পিলার ও মেহগনি গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের পর কিশোরদ্বয় সুপারি চুরির কথা স্বীকার করে। তবে ভ্যান, সাইকেল ও টর্চ লাইট চুরির কথা অস্বীকার করে। এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদে। সেখানে হাজির করলে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় এলাকাবাসী তাদের ভ্যানে করে গ্রাম ঘুরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পাটকেলঘাটা থানার বিট অফিসার এসআই সুব্রত বলেন, ‘বাদীর অভিযোগ না থাকায় এবং ধৃতরা কিশোর হওয়ায় তাদের অভিভাবকদের ডেকে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।’

খুলনায় ৫৩ হাসপাতালকে রেড সিগন্যাল

স্টাফ রিপোর্টার

খুলনা জেলার ৫৩টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে রেড সিগন্যাল দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এগুলোর মালিককে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরে নবায়নের কাগজপত্র জমা না দিলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি পাঠিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা জানান, গত জুলাই মাসে খুলনা মহানগরীতে অবস্থিত কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে যে সব কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন নবায়ন নেই বা কোনও আবেদন করেনি, তাদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরে নবায়নের জন্য সময়সীমা বেঁধে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর কেউ ব্যর্থ হলে স্ব-স্ব কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিককে চিঠির মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হবে বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর ও খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুলাই থেকে অনিবন্ধিত হাসপাতাল-কিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিযানে খুলনা জেলায় ১৯ বেসরকারি হাসপাতাল ও ৩৪ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নবায়ন নেই বলে জানা যায়। এছাড়া খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন খুলনা মহানগরীতে ২৩২টি কিনিকের মধ্যে নবায়ন রয়েছে ৭০টি। লাইসেন্স নেই ৩৯টি কিনিকের। লাইসেন্স আছে কিন্তু নবায়নের জন্য অনলাইনে আবেদন করেনি এমন সংখ্যা রয়েছে ১৪টি। এছাড়া ৪৫টি কিনিক আবদন পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে। খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনার ৯ উপজেলায় লাইসেন্স নবায়নের আবেদন না করা ১৯টি কিনিকের মধ্যে রয়েছে- দিঘলিয়া উপজেলার মধ্যে ফুলবাড়ীগেটে অবস্থিত মৈত্রি নার্সিং হোম, পেসেন্ট নার্সিং হোম, তেরখাদা উপজেলার মধ্যে ইন্দুরহাটী এলাকার পাতলা কমিউনিটি হাসপাতাল, সাচিয়াদাহে কমিউনিটি হাসপাতাল, কাটেঙ্গা বাজার এলাকায় স্বপ্ন সিঁড়ি প্রাইভেট হাসপাতাল লিমিটেড অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রূপসা উপজেলার তিলক এলাকায় রেভা. আব্দুল ওয়াদুদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল (১০০ শয্যা), জাবুসা চৌরাস্তায় নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতাল, ডুমুরিয়া উপজেলার মিকশিল রোডে জনসেবা কিনিক, চুকনগর বাজার এলাকায় চুকনগর সার্জিক্যাল কিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, বটিয়াঘাটা উপজেলার জিরো পয়েন্টে সুন্দরবন কিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোম, এম আর সেন্ট্রাল হাসপাতাল, হাটবাঢী এলাকায় সোনালী কিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পাইকগাছা উপজেলার সরল এলাকায় (নতুন) পলক কিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাকা বাজার এলাকায় আশালতা কিনিক অ্যান্ড তুলি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এম মনোয়ারা হাসাপাতাল, মনোয়ারা কিনিক, কয়রা উপজেলার আমাদী এলাকায় পাইলট সার্জিক্যাল হাসপাতাল, মদিনাবাদ ১ নম্বর কয়রা এলাকায় সাগর নার্সিং হোম ও রায় কিনিক।

খুলনা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, খুলনা জেলায় অবস্থিত যেসব কিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নবায়ন নেই তাদের ৩০ সেপ্টেম্বর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কারও কাগজপত্র জমা না হলে সেই প্রতিষ্ঠান চিঠির মাধ্যমে বন্ধ ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস সংক্রমণকালে রিজেন্ট হাসপাতালের নানা অনিয়মের খবর প্রকাশ হওয়ার পর লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা। অভিযানে বেসরকারি হাসপাতাল, কিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বড় অংশেরই নিবন্ধন না থাকার তথ্য প্রমাণ মেলে। আবার লাইসেন্স নবায়ন না করারও তথ্য পাওয়া যায়। এ সব প্রতিষ্ঠানের লাগাম টানতে লাইসেন্স নবায়ন ও নিবন্ধনের জন্য গত ৮ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত হাই পাওয়ার টাস্কফোর্সের সভায় সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনায় অভিযান শুরু হয়। ১৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া অভিযানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও কাগজপত্র না থাকায় নগরীর খানজাহান আলী রোডের মীম নার্সিং হোম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বেনাপোল দিয়ে আমদানি বন্ধ, ওপারে ট্রাকেই নষ্ট হচ্ছে পেঁয়াজ

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়ায় টানা ১১ দিন ধরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ। ফলে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় বিভিন্ন বেসরকারি পার্কিং আর সড়কে বেশকিছু পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক এখনও দাঁড়িয়ে আছে। এসব পেঁয়াজের বেশির ভাগ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত এসব ট্রাক ছাড় করাতে না পারলে আবারও নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়বেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। এদিকে বাংলাদেশি আমদানিকারকরা তাদের ভারতীয় রফতানিকারক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পুরোনো এলসির আটকেপড়া পেঁয়াজ ছাড়করণে বার বার আবেদন জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বেনাপোল বন্দরের স্থানীয় বাজারে সঙ্কট দেখা দেয়ায় পেয়াঁজের দাম আবারও বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাইকারি বাজারে ৬০-৬৫ টাকা আর খুচরা বাজারে ৭৫-৮০ টাকা দরে প্রতি কেজি পেয়াঁজ বিক্রি হয়েছে। ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ অর্ধেক নষ্ট হওয়ায় দাম বেড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। পেঁয়াজ আমদানিকারক শেখ ট্রেডার্সের শেখ মাহাবুব জানান, প্রতি বছর পেঁয়াজ নিয়ে লঙ্কাকা- হয়। ভারত কখনও উৎপাদন সঙ্কট কখনও রফতানি মূল্য তিনগুণ বাড়িয়ে আমদানি বন্ধ করতে বাধ্য করে। এ ক্ষেত্রে সঙ্কট মোকাবিলায় ভারত ছাড়াও বাইরের কিছু দেশের সঙ্গে সরকারের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা দরকার।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক আনু জানান, তারা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে এ পথে আমদানি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পেঁয়াজ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম রয়েল বলেন, বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের ওপারের বিভিন্ন পার্কিংয়ে তাদের বেশকিছু ট্রাক পেঁয়াজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক ট্রাকের পেঁয়াজে পচন ধরেছে। নিষেধাজ্ঞার আগেই এসব ট্রাক বন্দর এলাকায় পৌঁছেছিল। দ্রুত এসব ট্রাক না ছাড়লে আবারও নতুন করে তারা লোকসানের মুখে পড়বেন। বেনাপোল বন্দরের পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা শুকর আলী জানান, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি কম হচ্ছে, যা আসছে তার অর্ধেক বস্তা পচা পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাজারে দাম কমছে না। বাইরে থেকে আমদানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ রকম বাজার অস্থিতিশীল থাকবে বলে মনে হচ্ছে। বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সঙ্কট দেখিয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। এ পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজের ট্রাক দেয়নি ভারত। দেবে কি-না তাও নিশ্চিত জানাতে পারেনি। এ পথে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে অন্যান্য পণ্যের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য স্বাভাবিক রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০ দিনে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে দুই হাজার ৫৪৪ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে কোনো পেঁয়াজের ট্রাক ছিল না। একই সময়ে ভারতে এক হাজার ২৭ ট্রাক বাংলাদেশি পণ্য রফতানি হয়েছে। এসব রফতানি পণ্যের মধ্যে ৬৭ ট্রাক পদ্মার ইলিশ ছিল।

বদ্ধ ঘরে শিক্ষক পদোন্নতি, খুলছে দ্বার

>> ২৬ বছর পর প্রাথমিকের শিক্ষক পদোন্নতির বদ্ধ দ্বার খুলছে

>> ৮০ শতাংশ প্রধান শিক্ষক পদ থেকে ‘এটিও’ হওয়ার সুযোগ

>> ‘বিভাগীয় প্রার্থী’ হিসেবে সুযোগ পাবেন না সহকারী শিক্ষকরা

বিশেষ প্রতিনিধি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থেকে পরবর্তী পদে পদোন্নতির বদ্ধ দ্বার যেন খুলছে। ১৯৯৪ সালে পদোন্নতির এই সিঁড়ি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ২৬ বছর পর আবারও প্রধান শিক্ষকদের সরাসরি পদোন্নতি দেয়ার কাজ শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ৮০ শতাংশ প্রধান শিক্ষক পদ থেকে উপজেলা/থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) পদে পদোন্নতি দেয়া হলেও বাকি ২০ শতাংশ বাইরে থেকে উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে একটি সমন্বিত নিয়োগ বিধিমালার খসড়াও তৈরি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জানা গেছে, সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা বর্তমানে দুটি শর্ত পূরণ করে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে ‘উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার’ পদে পরীক্ষা দিতে পারেন। শর্ত দুটি হলো- শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর এবং বয়স ৪৫ বছরের মধ্যে। এভাবে অতীতে অনেক শিক্ষকই সুযোগ পেয়েছেন কর্মকর্তা হওয়ার। ১৯৮৫ সালের নিয়োগবিধি অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক, পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ ছিল। ১৯৯৪ সালে নিয়োগবিধি সংশোধনের পর শিক্ষকদের এভাবে কর্মকর্তা হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে ‘সমন্বিত নিয়োগবিধিমালা-২০২০’। এতে প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে শুধু প্রধান শিক্ষকদের জন্য এ সুযোগ রাখা হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে ‘উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার’ পদে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। খসড়া নিয়োগবিধি অনুযায়ী, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের দুই হাজার ৫৮৯টি পদে নিয়োগে ৮০ শতাংশ বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ২০ শতাংশ পদ উন্মুক্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণযোগ্য। বিভাগীয় প্রার্থী বলতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বোঝাবে। বিভাগীয় প্রার্থীদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে ন্যূনতম তিন বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত পদে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে পদগুলো উন্মুক্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণ করা হবে। সরাসরি নিয়োগে বয়স অনূর্ধ্ব ৩০ বছর। বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৪৫ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। অন্যদিকে উপজেলা/থানা রিসোর্স সেন্টারের ‘ইনস্ট্রাক্টরের ৫০৫টি পদে নিয়োগে মোট পদের ৩৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ৬৫ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। পদোন্নতিযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার কথা রয়েছে। পদোন্নতির জন্য উপজেলা/থানা রিসোর্স সেন্টারের (ইউআরসি) সহকারী ইনস্ট্রাক্টর/পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে ন্যূনতম সাত বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা দ্বিতীয় শ্রেণির বিএডসহ দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রি চাওয়া হয়েছে। সরাসরি নিয়োগে বয়স ৩০ বছর, তবে বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো সীমা উল্লেখ নেই। ইউআরসি সহকারী ইনস্ট্রাক্টরের ৫০৫টি পদের নিয়োগও একই নিয়মে হবে। এখানে বিভাগীয় প্রার্থী বলতে শুধু প্রধান শিক্ষকদের বোঝানো হয়েছে। দেশের ৬৭টি প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) ইনস্ট্রাক্টর সাধারণ ও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ইনস্ট্রাক্টর পদেও প্রাথমিক শিক্ষকদের বিভাগীয় পদোন্নতির সুযোগ রাখা হয়নি। কর্মকর্তাদের অন্যান্য পদ, যেমন- ইউইও, টিইও, এডিপিইও, ডিপিইও পদে শতভাগ পদোন্নতির কথা প্রণীত খসড়ায় বলা হয়েছে। খসড়ার বিষয়ে সহকারী শিক্ষকরা বলছেন, এতদিন ‘উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার’ পদে পরীক্ষার সুযোগ দেয়া হলেও পিটিআই ইনস্ট্রাক্টর ও সহকারী ইনস্ট্রাক্টর পদে তাদের বিভাগীয় পরীক্ষার সুযোগ দেয়া হতো না। নতুন বিধিমালায় সব ধরনের কর্মকর্তার পদ থেকে সহকারী শিক্ষকদের বঞ্চিত করা হলো। বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক এবং পরবর্তীতে পদোন্নতি দিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। আগের নিয়োগবিধিতে সে সুযোগ থাকলেও বর্তমানে তা বাতিল করায় অধিকাংশ সহকারী শিক্ষক একই পদে থেকে অবসর গ্রহণ করবেন। চাকরি জীবনে তিনি কোনো পদোন্নতি পাবেন না। সম্প্রতি সহকারী শিক্ষক থেকে শতভাগ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী সব পদে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করলে আমাদের মধ্যে তৈরি হওয়া হতাশা কেটে যাবে। সকলে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করবেন।’ অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারি প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগে প্রধান শিক্ষকদের সব পদে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও নিয়োগবিধি সংশোধন করায় সেই পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। ফলে একই পদে থেকে চাকরিজীবন শেষ করতে হবে। প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির জন্য ৪৫ বছর জুড়ে দেয়ায় থানা শিক্ষা কর্মকর্তা হওয়ার পর তাদের অবসরে চলে যেতে হবে। এটা খুবই দুঃখজনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক থেকে শতভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক, একইভাবে প্রধান শিক্ষকের পরবর্তী পদগুলোতে শতভাগ পদোন্নতি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। এর বাইরে শিক্ষকদের মধ্য থেকে বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতি দিতে হবে। বাইরে থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হলে তারা আমাদের কাজকর্ম সেভাবে বুঝবেন না। ফলে তাদের সঙ্গে শিক্ষকদের কাজ করাটা জটিল হয়ে পড়বে।’ জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম আল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক থেকে পরবর্তী পদে পদোন্নতির সুযোগ থাকলেও ১৯৯৪ সাল থেকে এটি বন্ধ করে দেয়া হয়। কেন বন্ধ করা হয়, তার কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে সেটি আবার চালু হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘পদোন্নতির রাস্তা খুলতে কাজ শুরু হয়েছে। একটি সমন্বিত চাকরিবিধিমালা তৈরির মাধ্যমে আবারও সেটি চালু করা হবে। এক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকদের ৮০ শতাংশ জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি এবং ২০ শতাংশ সরাসরি প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দিতে একটি খসড়া বিধিমালা তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে এটি যাবে। সেখানে খুঁটিনাটি বিস্তারিত আলোচনা হবে। পরবর্তীতে এটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।’

সহকারী শিক্ষকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে কি-না, জানতে চাইলে আকরাম আল হোসেন বলেন, শিক্ষকদের বঞ্চিত করার কোনো প্রশ্নই আসে না। বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিয়ে নয়, পদোন্নতি পেয়েই প্রধান শিক্ষকরা ভবিষ্যতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (এটিও) হবেন। কেউ কোনো ব্লক পোস্টে আটকে থাকুক, সেটি চাই না। এতে কোনো প্রণোদনা থাকে না। শিক্ষকরাও ধাপে ধাপে উপরের পদে পদোন্নতি পাবেন। এজন্য পদোন্নতির সোপান তৈরি করা হচ্ছে।

এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর প্রস্তুতি নেবে শিক্ষা বোর্ড

ঢাকা অফিস

স্বাস্থ্যবিধি মেনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করবে শিক্ষা বোর্ডগুলো। মন্ত্রণালয় থেকে পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত হলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু করতে চান শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ডের সভায় উপস্থিত হয়ে বোর্ড চেয়ারম্যানরা এমন সিদ্ধান্ত নেন। সভা শেষে যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধাপক মো. আব্দুল আলীম জাগো নিউজকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কী কী পদ্ধতিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পরীক্ষা নেয়ার জন্য প্রশ্ন ও উত্তরপত্র প্রস্তুত রয়েছে। কবে পরীক্ষা নেয়া হবে সরকার সিদ্ধান্ত ঘোষণা দিলে আমরা পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করতে পারবো। তিনি আরও বলেন, এখন পাবলিক পরীক্ষা আগের মতো নেয়া সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক বেঞ্চে একজন বা দুজন করে পরীক্ষার্থী বসানো হবে। পরীক্ষা কেন্দ্র স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। সব শিক্ষা বোর্ডগুলোকে পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এদিকে সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউক হক বলেন, জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হলেও পরবর্তী কাসে কীভাবে উত্তীর্ণ করা হবে সে বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় পরবর্তী কাসে উন্নীত করবে। এটি করতে যাতে কোনো সমস্যা না হয় এ জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করা হবে। সেটি অনুসরণ করে পরবর্তী কাসে উন্নীত করা হবে। তিনি বলেন, স্কুলগুলোতে গত মার্চ মাস পর্যন্ত কাস হয়েছে। সংসদ টিভিতে পড়ালেখা করছে, অনলাইন কাস হচ্ছে। তার ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা হবে। নভেম্বরে স্কুল খোলা সম্ভব হলে একভাবে, আর কাস করানো সম্ভব না হলে সেখানে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এজন্য কিছু সময় লাগবে। যতটুকু পড়ানো হবে তার ওপর মূল্যায়ন করা হবে। ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, যদি নভেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব না হয়, তাহলে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরবর্তী কাসে তোলা হলেও পরবর্তী কাসের সিলেবাসের সঙ্গে বাদ পড়া অতি প্রয়োজনীয় নবম শ্রেণির জন্য কিছু বিষয় যুক্ত করা হবে। তবে সেটি বাড়তি চাপ তৈরি করা হবে না। মূল্যায়ন কেমন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূল্যায়ন যদি ‘ফেস টু ফেস’ করা সম্ভব হয় তবে সেটা এক রকম হবে, তা সম্ভব না হলে যতটুকু কাস করা হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে হবে। এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি আমরা নিশ্চিত করতে পারছি না, পরিস্থিতি ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। অটো প্রমোশন বলে কিছু নেই, সবকিছু হবে মূল্যায়নের ভিত্তিতে। নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ৬ষ্ঠ, ৭ম স্তরের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী কাসে উন্নীতের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর ও জাতীয় পাঠ্যক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ড থেকে নির্দেশনা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

মসজিদে বিস্ফোরণ : হতাহত ৩৫ জনের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান

ঢাকা অফিস

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ও আহত ৩৫ জনের পরিবার ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বমোট এক কোটি ৭৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগামী রোববার বা সোমবার ওই ৩৫ পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেয়া হবে। প্রসঙ্গত, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজের সময় ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে ৩৭ জনকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আমাদের এত ভারতপ্রীতি কেন, প্রশ্ন ডা. জাফরুল্লাহর

ঢাকা অফিস

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা তৈরি করেছে ভারত। কেননা চীনের সাথে বাংলাদেশের একটা চুক্তি হয়েছিল। এ চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বেইজিংয়ের সাথে দূরত্ব অনেক কমে যেত। আমরা চুক্তি করেও শেষ মুহূর্তে ভারতের কারণে পিছিয়ে এসেছি। আমাদের এত ভারতপ্রীতি কেন? ভারতের সাথে কীসের বন্ধুত্ব? তাকে আর কত দেব?’ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল মিলনায়তনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন পেশাজীবীসহ অন্যদের গ্রেফতার, হয়রানি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে মামলা ও সমসাময়িক বিষয় ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যখন প্রথম এসেছিল তখন তুরস্কের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী এসেছিলেন। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া সব মুসলমান রাষ্ট্র এসেছিল। তখন আমরা বলেছি ‘বাই লিটারেলি’ (আক্ষরিক অর্থে) করবো। ব্রাহ্মণ আর নমসুদ্রের মধ্যে ‘বাই লিটারেল’ হয় না। ভারত হচ্ছে একটা ব্রাহ্মণ নবাব, তারা অন্য কাউকে মানতে নারাজ। তারা মানতে পারে না যে, অন্য কেউ তাদের সমকক্ষ।’ তিনি আরও বলেন, তাদের আমরা ‘বাই লিটারেলে’র কথা বলে রোহিঙ্গারা আজকে আমাদের ঘাড়ে এসে পৌঁছেছে। আজকে আবার কী ভুল করছি, তাদের ভাসানচরে দিচ্ছিৃ। এদের রিলোকেট (স্থানান্তরিত) করতে হলে সিলেটে আসাম বর্ডারে বসাতে হবে। নুরুল হক নুরের বিষয়ে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমি খুব বেদনায় আছি যে, আমাদের ভিপি নুর, সে যদি অন্যায় করে থাকে তাহলে তার বিচার হবে। তাই বলে হয়রানি করা যাবে না। তাকে আপনি বের হতে দেবেন না, এটা হয় না। জনগণকে বের হতে দিচ্ছেন না এজন্য দেশে নৈরাজ্য চলছে।’

প্রবাসীদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের ঠাট-বাট, স্যুট-প্যান্ট, কোটৃ প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ দিয়েই আমরা চলমান আছি। আজকে তাদের যে ভোগান্তিৃ করোনার আসার সময়ও বলেছি আমাদের এক কোটি শ্রমিক ভাই বিদেশে আছেন। সরকারকেই তাদের চাকরি নিশ্চিত করতে বলেছি। এতদিন তারা আমাদের টাকা পাঠিয়েছে, এখন সরকারের উচিত কয়েক কোটি ডলার তাদের পাঠানো। ওসব দেশের সাথে সরকারকে সমঝোতা করতে হবে।’ গণস্বাস্থ্যের কীটের গবেষণা স্থগিত হয়ে গেছে কি-না জানতে চাইলে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘স্থগিত হয়ে যায়নি, তবে শ্লথ হয়ে গেছে। এ গবেষণাটা যদি জনসাধারণের কাছে না পৌঁছাতে পারি তাহলে কার জন্য এটা? আমার তো পেপারে নাম ছাপিয়ে লাভ নেই! আমাদের দরকার হলো, যেন জনগণের স্বার্থটা রক্ষা করতে পারি। সরকার অনুমোদন দিলে আমরা প্রত্যেকটা কীট বের করে ফেলতাম। ইভেন করেছি, শুধু বাজারজাত করাটা বাকি ছিল।’ তিনি বলেন, ‘হয়রানি কাকে বলে… ড. বিজন কুমার শীলকে ওখানে (সিঙ্গাপুরে) গিয়ে দরখাস্ত করতে হবে। আজকে ভারতীয় পাঁচ লাখ লোক বাংলাদেশে কাজ করে। ড. বিজন বাংলাদেশের লোক হয়েও কাজ করতে পারবে না। তার ওয়ার্ক পারমিটের জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়ে দরখাস্ত করতে হবে। এটার নাম হচ্ছে হয়রানি। দেবে না যে তা নয়। এখন তাকে পয়সা খরচ করতে হবে। তিনি চাকরি-বাকরি ছেড়ে দিয়ে এসেছিলেন। এ খরচটা কে দেবে?’ ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘সরকার কেন আমাদের এত হয়রানি করছে? আমরা একটি চ্যারিটেবল ট্রাস্ট। আমার সরকারের একটা রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে, ল্যাবরেটরির একটা রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে, এক্স-রে ডিপার্টমেন্টের নিতে হবে, ডেন্টালের নিতে হবে। বছরে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে আমাদের। তারপরও রেজিস্ট্রেশন হয় না।’

তিনি বলেন, ‘এখন এ আমলাতান্ত্রিকতার অবসান না হলে দেশের পাবলিককে শুধু হয়রানি করা হবে। আমাদের কীটে অনুমোদন না দেয়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে, আমরা কোনো জায়গায় টাকা দিইনি।’

হতাশ বিএনপির তৃণমূল

খালিদ হোসেন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির পর থেকে দলটির তৃণমূলে চরম হতাশা বিরাজ করছে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি। নির্বাচিত কয়েকজনের শপথ না নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পরও শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়া, পরবর্তী সময়ে কয়েকটি আসনে উপ-নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকাবস্থায় তার মুক্তির দাবিতে কোনো জোরদার আন্দোলন করতে না পারা এবং সরকারের কৃপায় খালেদা জিয়ার মুক্তির পর তারও নীরবতা, সেই হতাশা আরও ফিকে করেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের।

ক্ষুব্ধ কর্মীরা বলছেন, বিএনপি টানা ১২ বছর ক্ষমতার বাইরে। এমনিতে হতাশার শেষ নেই নেতাকর্মীদের মধ্যে, এর ওপর আবার হাইকমান্ড কোনো যুৎসই সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বা সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারেনি। বরং তারা দলের তৃণমূলের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করে যাচ্ছে নানাভাবে। তৃণমূল পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পরপরই অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচন বর্জন করলেও পরবর্তী সব উপ-নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। মূল নির্বাচনে মাঠ ছেড়ে দিয়ে উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণের এই দ্বিমুখী সিদ্ধান্ত তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রচ-ভাবে হতাশায় ফেলেছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশ সরকারের সঙ্গে আঁতাত করেছে। সরকারের মেয়াদ পূর্ণ করার জন্যই তারা এ ধরনের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

তৃণমূলের অনেক নেতা মনে করেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যানের পর নির্বাচিত চারজনের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিএনপি তার নৈতিক অবস্থান ও রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। নির্বাচিতদের যদি শপথই করতে বলা হবে, তাহলে বিএনপি নির্বাচন কেন বর্জন করল, সে প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছেন অনেকে। আবার নির্বাচিত পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে সংসদে পাঠিয়ে কেবল মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কেন শপথ করতে দেয়া হলো না, সে প্রশ্নের জবাবও খুঁজছেন অনেকে। কারও কারও মতে, নির্বাচিতদের শপথের মাধ্যমে সংসদে পাঠিয়ে মূলত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে বৈধতা দিয়ে দেয়া হয়েছে।

বিএনপির মধ্যম পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একাদশ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করলেও পরবর্তী যে ক’টি আসনে উপ-নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে কেবল মির্জা ফখরুলের ছেড়ে দেয়া আসন (বগুড়া-৬) ছাড়া আর কোনোটিতে কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি বিএনপি। হতাশ নেতাকর্মী ও ভোটারদের তারা ভোটকেন্দ্রমুখীও করতে পারেনি। মূল নির্বাচনে ভরাডুবির হতাশা আরও চেপে ধরছে এসব উপ-নির্বাচনের নেতিবাচক ফলাফল। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকলেও তার মুক্তির দাবিতে সারাদেশে কোনো কর্মসূচি পালন করতে না পারা, করোনা সঙ্কটকালে সরকারের অনুকম্পায় খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং পরবর্তীকালে তার নীরবতা দেখে তৃণমূলের কর্মীরা বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

উপ-নির্বাচন ঘিরে অসন্তোষ-অভিযোগ:

গত ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমাদের বরাবরই সিদ্ধান্ত ছিল নির্বাচনে অংশ নেয়ার। শুধু করোনার কারণে আমরা গত দুটি উপ-নির্বাচনে (যশোর ও বগুড়া) যোগ দিয়েও পরবর্তীতে প্রচারণায় যাইনি, সরে দাঁড়িয়েছি। আগামীতে আমরা উপজেলা নির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণ করব, সেই সিদ্ধান্তই আছে।

এদিকে উপ-নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, এসব উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণের আড়ালে মনোনয়ন বাণিজ্য চলছে, যা দলের জন্য আত্মঘাতী। এতে দলের চরম ক্ষতি হচ্ছে। যা থেকে বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানোর আশা আরও ক্ষীণ হচ্ছে। উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন সংক্রান্ত সর্বশেষ বৈঠক চলাকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনা নিয়েও তৃণমূলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মনোনয়ন গ্রহণকালে শোডাউনের সময় কর্মী-সমর্থকদের দেখা গেলেও আন্দোলনের মাঠে কেন তাদের পাওয়া যায় না, সে প্রশ্ন যেমন উঠেছে; তেমনি অনেকের প্রশ্ন, এই শোডাউনবাজদের মনোনয়ন দিয়ে দলের কী লাভ হবে? এ প্রসঙ্গে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণেই নির্বাচন এলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বেড়ে যায়। কখনও কখনও তা রূপ নেয় সংঘর্ষে। সুষ্ঠু রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখতে অনৈতিক পথ থেকে বের হয়ে আসতে হবে বিএনপিকে।’

‘অর্থের বিনিময়ে প্রার্থিতা দেয়ার সংস্কৃতি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে’ মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘যা রটে তার কিছু তো বটে। কিছু না হলে এটা রটবে কেন? গণতন্ত্রের চর্চা না থাকার কারণে এটা হচ্ছে।’ অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কমিশনার নবী উল্লাহ নবী একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসন থেকে নির্বাচন করেন। ঢাকায় বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশি ভোট পান। তবে ওই আসনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান মোল্লা। সম্প্রতি তার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া এ আসনে আসন্ন উপ-নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাননি নবী। সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমদকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে বিএনপি। মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার তিনদিন পর নিজের ফেসবুক পোস্টে নবী উল্লাহ উল্লেখ করেন, ‘বিএনপির বড় সারির অনেক নেতা সরকারি এজেন্টদের ফাঁদে এমনভাবে পা দিয়েছেন, মনে হচ্ছে বিএনপির এসব এজেন্টের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কারণ একের পর এক সরকারের এজেন্ডা বিএনপিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে। তাহলে কি এটা দেখার কেউ নেই?’ তিনি আক্ষেপ করে আরও লেখেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের এত পরিশ্রম, জেল, জুলুম, নির্যাতন, হত্যা, গুম, ত্যাগ কি বৃথা যাবে? তাহলে কি আমরা বিএনপির বিজয় দেখে যেতে পারব না? হয়তো একদিন সরকারি এজেন্টদের পতন হবে, একদিন বিএনপির বিজয় হবে। ততদিনে আমরা অনেকেই বেঁচে নাও থাকতে পারি।’ অপরদিকে ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী এস এম জাহাঙ্গীরকে নিয়েও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। ওই এলাকা থেকে যারা বিএনপির হয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন এমন আটজন জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন না দেয়ার জন্য দলীয় হাইকমান্ডের কাছে লিখিত আবেদন করেন। এর কিছুদিন আগে ছাত্রদলের কর্মীরা জাহাঙ্গীরকে লাঞ্ছিতও করেন। অবশ্য, জাহাঙ্গীরের জন্য মনোনয়ন চেয়ে তারাও দলীয় হাইকমান্ডের কাছে আবেদন করেন।

চার বছর ধরে সরকারি চাল চুরি, চেয়ারম্যান-আ.লীগ নেতাসহ কারাগারে ৪

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

সরকারি চাল আত্মসাতের ঘটনায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাসসহ চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (দ্বিতীয়) আদালতের বিচারক মো. মহসিন হাসান। তারা হলেন- গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দবির উদ্দিন বিশ্বাস, একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মারুফুল ইসলাম, চালের ডিলার মন্টু হোসেন এবং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সরোয়ার হোসেন। আদালত সূত্র জানায়, দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাস তার সহযোগীদের নিয়ে চার বছর ধরে সরকারের ১০ টাকা কেজি দরের চাল উত্তোলন করে দুস্থদের না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। এরপর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত। মামলা দায়েরের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এসে যুবক ধরা

মাগুরা প্রতিনিধি

পরকীয়ার টানে রাতের আঁধারে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এসে গ্রামবাসীর হাতে ধরা খেলেন জিহাদ (২৮) নামের এক যুবক। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামে বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরকীয়া প্রেমিক জিহাদ মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা গ্রামের ফেলু মোল্যার ছেলে। স্থানীয়রা জানান, জিহাদ বুধবার দিবাগত রাতে তার পরকীয়া প্রেমিকা চৌবাড়িয়া গ্রামের হাসানের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এ সময় স্থানীয়রা টের পেয়ে জিহাদকে আটকে রাখে। এ ব্যাপারে হাসানের স্ত্রী বলেন, জিহাদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছে। গত ২৩ তারিখ রাতে জিহাদ তাকে তার স্বামীর খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়াতে বলে এবং একপ্রকার চাপে পড়েই তিনি কাজটি করতে বাধ্য হন বলে জানিয়েছেন।

মহম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিহাদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। জিহাদ নাগড়া বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ঢাবির সেই ছাত্রীর আরেক মামলা

ঢাকা অফিস

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ এনে নয়জনের নাম উল্লেখ আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সেই ছাত্রী। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগ থানায় ডিজিটাল অ্যাক্টে মামলাটি দায়ের করা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান জানান, ভূক্তভোগী ছাত্রী সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ৯ টি ইউজার নেইম উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ৯ নামের পেছনে কয়জন আসামি রয়েছে তা তদন্ত করে দেখবে পুলিশের সাইবার ক্রাইম এক্সপার্ট টিম। মামলাটি তদন্তের জন্য তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তথ্যমতে, মামলার অভিযুক্ত ফেসবুক ব্যবহারকারীরা হলেন, তামান্না ফেরদৌস শিখা, তামান্না আকতার, তাজুল ইমলাম আকাশ, শারমিন রিজিয়া, এইচ এম হোসাইন বিন নুর, মো. তুহিন মোল্লা হৃদয়, মেহেদী হাসান সুজন, রেজাউল করিম কাজল ও ফেসবুক গ্রুপ স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মামলায় ওই ছাত্রী অভিযোগ করেন, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরসহ ছাত্র অধিকার পরিষদের ৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর থেকে ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি এবং গ্রুপে আমার নামে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী মিথ্যা সংলাপ পাবলিক পোস্ট, কমেন্ট ও শেয়ারের মাধ্যমে প্রচার করে আমার ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদাহানি করে আসছে। এই ঘটনায় আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছি। এই ব্যাপারে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ শাস্তির দাবি জানান ওই ছাত্রী। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ধর্ষণের মামলা করার পর বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব থেকে হাসান আল মামুনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়ে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। বুধবার বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তদন্ত কমিটিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পরিষদের দুজন যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক রহমান ও রাফিয়া সুলতানাকে রাখা হয়েছে। তাদেরকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুপারিশসহ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগঠনের নির্বাহী পরিষদের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ছাত্র অধিকার পরিষদ গণমানুষের যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে। নারীর প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়ন দমন এবং নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ছাত্র অধিকার সব সময়ই সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে এবং সুষ্ঠু ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে ঐ ছাত্রী লালবাগ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে ও কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেন। অপহরণ, ধর্ষণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরিত্র হননের অভিযোগে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়েছে। গত সোমবার রাতে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন এক ছাত্রী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ঐ ছাত্রী এর আগে লালবাগ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেছিলেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, লালবাগ থানায় যে শিক্ষার্থী মামলা করেছিলেন, কোতোয়ালি থানার মামলাটি তিনিই করেছেন। তবে ঘটনা দুটি ভিন্ন। তিনি বলেন, কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরিত্র হননের অভিযোগ আনা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফরম বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগকে (২৮) এ মামলার ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে করা হয়েছে মামলার ২ নম্বর আসামি, যাকে লালবাগের মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে। আর লালবাগের মতো কোতোয়ালির মামলায়ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নাম এসেছে আসামির তালিকার ৩ নম্বরে। নুরও ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক। অন্য তিন আসামি হলেন পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইফুল ইসলাম (২৮), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি নাজমুল হুদা (২৫) এবং কর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল্লাহ হিল বাকি (২৩)।

লালবাগ থানায় মামলার এজাহারে বাদী বলেছেন, একই বিভাগে পড়া এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের কাজে থাকার কারণে হাসান আল মামুনের সঙ্গে তার ‘প্রেমের সম্পর্ক’ গড়ে ওঠে। এর সুযোগ নিয়ে মামুন চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি তার লালবাগের বাসায় নিয়ে তাকে ‘ধর্ষণ’ করেন। আর কোতোয়ালি থানার মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনার পর ঐ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে সোহাগ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সুস্থ হওয়ার পর মামুনকে বিয়ের জন্য চাপ দেন ঐ তরুণী। তখন সোহাগ তাকে ‘সহযোগিতার আশ্বাস’ দেন এবং মামুনের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে সদরঘাট হয়ে লঞ্চে করে চাঁদপুরে নিয়ে যান। কিন্তু চাঁদপুরে মামুনকে না পেয়ে ঐ ছাত্রীর সন্দেহ হয়। সেখান থেকে ফেরার পথে লঞ্চে সোহাগ তাকে ‘ধর্ষণ’ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরো বলা হয়েছে, এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ঐ তরুণী নুরের সঙ্গে দেখা করেন। নুর তাকে প্রথমে ‘মীমাংসা’ করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে ‘বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানী করার’ হুমকি দেন। এরই মধ্যে মামলার বাকি তিন আসামি নানাভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঐ তরুণীর বিরুদ্ধে ‘কুত্সা’ রটাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়। লালবাগ থানায় ধর্ষণের মামলা হওয়ার পর তা ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে সোমবার রাতে বিক্ষোভ করছিল নুরের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। পুলিশ সেখান থেকে নুর ও তার সাত সহযোগীকে ধরে নিয়ে গেলেও পরে ছেড়ে দেয়। এ সময় নুরসহ অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কিছু ব্যক্তির নির্যাতনে আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

কোতোয়ালি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নারী নির্যাতন দমন আইনে নুরসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৩ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছে আদালত। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মামলার এজাহার আদালতে এলে তা গ্রহণ করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মাহমুদা আক্তার। এরপর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) নুর আলমকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এবার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস

চাকরির বাজার বিবেচনা করে দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ডিজিটালে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনের সাইডলাইনে ‘ডিজিটাল সহযোগিতা: ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অ্যাকশন টুডে’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট উদীয়মান চাকরির বাজার বিবেচনা করে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ডিজিটাল একাডেমি এবং সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে চান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে ডিজিটাল সহযোগিতায় বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের অপেক্ষায় রয়েছি।’ পূর্বে ধারণকৃত ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, কোভিড-১৯ মহামারি ডিজিটাল পরিসেবার শক্তিকে উন্মোচিত করেছে এবং ডিজিটাল বিভাজনকেও প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, দেশে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০৩ দশমিক ৪৮ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। আমাদের ডিজিটালাইজেশন জনগণকে পরিবর্তন-নির্মাতা হওয়ার বিশাল সুযোগ এনে দিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘ডিজিটাল কানেকটিভিটির ওপর আমাদের আলোকপাত অর্থনৈতিক বিকাশকে সহজতর করেছে এবং নারীর ক্ষমতায়নসহ সামাজিক পরিবর্তনকে অনুঘটক করেছে। এটি এসডিজিগুলোকে বাস্তবায়ন এবং কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করছে।’ তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা বাংলাদেশকে ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, কাজেই আমরা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে এই রূপান্তরিত যাত্রার কেন্দ্রে রাখতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট উদীয়মান চাকরির বাজার বিবেচনা করে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ডিজিটাল একাডেমি এবং সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে চান।

সম্পাদকীয়=======

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অশনিসংকেত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বাড়ছেই। মিয়ানমারে তাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসন না হওয়ায় রোহিঙ্গারা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এর সর্বশেষ প্রমাণ পাওয়া গেল বুধবার। ‘‘কক্সবাজারের টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অস্ত্রসহ মো: রবিউল ইসলাম (২৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে আর্মড ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্যরা। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ) ভোর রাতে টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের আই ব্লকের পশ্চিমে পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ এ যুবককে আটক করা হয়। একপর্যায়ে আসামি রবিউল ইসলামের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি সাটারগান ও ৩৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। সে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী খালেক বাহিনীর সদস্য বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। রবিউল দীর্ঘদিন ধরে অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে পাহাড়ে অবস্থান করে ডাকাতি অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত রয়েছে।’’এ খবর নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য শঙ্কার। আমরা শুরু থেকেই এ বিষয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে আসছি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হলে স্বাভাবিকভাবেই সন্ত্রাসবাদের উত্থান হবে, যা কখনোই কাম্য নয়। আর এ সন্ত্রাসবাদের শিকার শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়াসহ পুরো বিশ্বই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্রের ঝনঝনানি এ অশনিসংকেতের বার্তা বহন করে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও গুরুত্ব সহকারে নজর দিতে হবে। কারণ, এ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বিশ্বের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। আমরা বরাবরের মতো আবারও বলতে চাই, রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমারের সৃষ্টি, এর সমাধানও মিয়ানমারকে করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানবিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার খেসারত বাংলাদেশের পক্ষে বছরের পর বহন করা সম্ভব নয়। বিশ্বব্যাপী এ ইস্যুকে সামনে রেখে সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আগেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

উপ-সম্পাদকীয়===========

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন

-পরীক্ষিৎ চৌধূরী

বাংলাদেশ পর্যটকদের মন কেড়েছে বহুকাল আগে থেকে। এদেশের প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসুদের মনের খোরাক মেটায়। কক্সবাজার, খাগড়াছড়ির সাজেক ভ্যালি, বান্দরবান,  কুয়াকাটা, সিলেট, সেন্টমার্টিন, সুন্দরবনে সারাবছর পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে। কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের হাওর সম্প্রতি সবার মনোমুগ্ধকর ভ্রমণ স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে, একটি গৌরবজ্জ্বল ইতিহাস আছে, আমাদের বিপুল জনবলও আছে। ট্যুরিজমের জন্য প্রয়োজনীয় এই তিনটি জিনিসই আমাদের আছে। জনবল তো ট্যুরিজমের প্রাণ। নি:সন্দেহে বলা যায়, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। ধীরগতিতে হলেও এ শিল্পের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার কারণে পর্যটন শিল্পের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কমপিটিটিভনেস রিপোর্টে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম দেখানো হয়েছে। যা ২০১৭ সালে ছিল ১২৫তম। পর্যটন বাংলাদেশের জিডিপিতে ২০১৯ সালে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থাৎ ৭৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকার অবদান রেখেছে, পর্যটন রপ্তানির মাধ্যমে একই বছর ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার সমমানের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে এবং এই সেক্টরে বর্তমানে নিয়োজিত আছে প্রায় ৪০ লাখ কর্মী। এই কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে হোটেল ও বিমান মিলে ১০ শতাংশ ব্যবসায়ী কর্পোরেট শ্রেণির, মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ৮০ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ প্রান্তিক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এখানে আমি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করতে চাই। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ভেতরে বিশ্বব্যাপী ৩০ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে ট্যুরিজম খাতে। বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় পর্যটন শিল্পের সংযোজন শুধু আর্থিক সফলতা বয়ে আনছে না, সেই সাথে স্থানীয়দের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে এর সুফল ছড়িয়ে দিচ্ছে। একথা অনস্বীকার্য, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে পর্যটন শিল্প বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠতে পারে অন্যতম হাতিয়ার হিসাবে। সরকার ২০০৯ সালে ট্যুরিজম সেক্টরকে এসএমই এবং পুনঃঅর্থায়নযোগ্য খাত হিসেবে নির্ধারণ করেছে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক সেবা ও অগ্রাধিকার খাত হিসেবে নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২৪টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এসএমই খাতের মধ্যে পর্যটনকে ৫ম স্থানে রেখেছে।। ২০১৮ সালের ওআইসির আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ঢাকাকে ওআইসি পর্যটন শহর-২০১৯ হিসেবে ঘোষণা হয়েছিল। এতে মুসলিম দেশগুলোর অনেক পর্যটকের কাছে বাংলাদেশ নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করেছে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে এবছর স্থবির হয়ে পড়ে আমাদের পর্যটন শিল্প। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হচ্ছে, এ খাতে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪০ লাখ জনবল বেকার হয়ে পড়েছিল। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বেশির ভাগ হোটেলে অতিথির সংখ্যা নেমে এসেছে ২ থেকে ৩ শতাংশে। এটি স্মরণকালের মধ্যে সর্বনিম্ন। ‘৩০ জুন প্রকাশিত বিশ্ব ব্যাংকের ‘কোভিড-১৯ ও দক্ষিণ এশিয়ায় পর্যটন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, মহামারীতে পর্যটন খাতের ক্ষতির কারণে জিডিপি থেকে ২০৩ কোটি ডলার (প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা) হারাতে পারে বাংলাদেশ। এর ফলে সরাসরি ৪ লাখ ২০ হাজার কর্মসংস্থান ও খাতের সঙ্গে জড়িত প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কোভিডরোগের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার আলোকে  সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। যেমন, দেশের পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থানগুলোতে কেবল বিদেশিদের জন্য স্বতন্ত্র পর্যটন এলাকা স্থাপন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখে ইকো-ট্যুরিজম পার্ক, দ্বীপভিত্তিক পর্যটন পার্ক ও হোটেল নির্মাণ এবং পর্যটকদের বিনোদনসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। সম্প্রতি পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ায় আবার সবাই কর্মচঞ্চল হয়ে পড়েছে। ফলে পর্যটননির্ভর অর্থনীতি আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। একে আরো গতিশীল করতে এবারের বাজেটে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে ৩ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যেসব পণ্য পর্যটনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট, তাদের ওপর থেকে শুঙ্ক ও কর মওকুফ করে পর্যটন পুনরুদ্ধারে সরকার দৃঢ় প্রত্যয়ী। সঙ্কট  মোকাবিলার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে ১৪ সদস্যের ‘পর্যটন শিল্পের সংকট ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠন করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত উত্তরণের লক্ষ্যে সরকার একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যতিক্রমী এই সেবার নাম ‘হোম স্টে’।ভ্রমণে গেরে হোটেল, মোটেল কিংবা রিসোর্ট নয়, পারিবারিক পরিবেশে দিন-রাত যাপন করার সুযোগ পাবেন পর্যটক। কোভিড-১৯ পরবর্তী প্রেক্ষাপটে নিউ নরমাল অবস্থায় পর্যটকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ স্বল্প খরচে পর্যটন এলাকায় অবকাশ যাপনের জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সারাদেশে এই ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন খাতে স্থানীয়দের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে সামাজিক ইকোট্যুরিজমভিত্তিক এই উদ্যোগ ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করছে।। অধিকন্তু কমিউনিটি ট্যুরিজম-এর বিকাশ ঘটায় জনগণের সম্পৃক্ততাও অধিতহারে বাড়বে।

-২-

ট্যুরিজম বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট পর্যটন স্পট রয়েছে। একই এলাকায় একাধিক স্পটও রয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকায়ও রয়েছে পর্যটন স্পট। একাধিক পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে একটি ‘হোম স্টে’ সার্ভিস চালু করলে উদ্যোক্তারা করোনা পরিস্থিতি খুব দ্রুত সামাল দিতে পারবেন। পাশাপাশি পর্যটনে আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে মানুষের মধ্যে আস্থা গড়ে তোলারও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আস্থা পেলেই মানুষ নিশ্চিন্তে পর্যটনে আসবে। এ ক্ষেত্রে কান্ট্রি ব্র্যান্ডিং বড় মাপের ভূমিকা রাখতে পারে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পর্যটন নিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে সামাজিক মাধ্যমে প্রমোশন বাড়ানোর কাজও শুরু করা হয়েছে। যথাযথ ব্র্যান্ডিংই পারে বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে বিশ্বের সামনে নতুন করে তুলে ধরতে। ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য সরকার বেশ আগেই ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। সরকার প্রতি বছর পর্যটন মেলার আয়োজন করছে এই লক্ষ্য নিয়েই। পাশাপাশি জেলাভভিত্তিক ব্র্যান্ডিংও চলছে। দেশের সবকয়টি জেলার নানান দর্শনীয়, ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থানগুলোর বিবরণসহ ভ্রমণের সুযোগ-সুবিধা এই ব্র্যান্ডিং-এর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের জন্য সরকার এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে পর্যটনের ব্র্যান্ডিং বাড়ানোর পদক্ষেপও সরকার নিয়েছে। ঢেলে সাজানো হচ্ছে সরকারি ওয়েবসাইটগুলোকেও। দেশের পর্যটন শিল্পের জন্য আইকন তৈরি করে তার ব্র্যান্ডিং করা যেতে পারে। এই উদ্যোগকে নতুন গতি ও অভিনবত্ব যোগ করলে করোনা পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণ সম্ভব হবে। দেশের দর্শনীয় স্থানগুলো নিয়ে গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রচারণাও চলছে, টেলিভিশনে প্রচার হচ্ছে ট্র্যাভেল শো। দেশের বাইরে দূতাবাসগুলো থেকেও পর্যটন বিষয়ক তথ্য পাওয়ার সুযোগ বেড়ে গেছে। সমগ্র বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের বিশ্বপর্যটন সংস্থা (টঘডঞঙ) এর উদ্যোগে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২০ যথাযোগ্য মর্যাদা ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘ঞড়ঁৎরংস ধহফ জঁৎধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ’ অর্থাৎ ‘গ্রামীণ উন্নয়নে পর্যটন’ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে পর্যটন শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। জাতিসংঘের মতে, বিশ্বজুড়ে পর্যটক সংখ্যা ১৯৫০ এর দশকে  ছিল ২৫ মিলিয়ন। তা আজ বেড়ে ২ বিলিয়নে পৌঁছৈছৈ।  পর্যটনকেন্দ্রগুলোর দ্বারা উপার্জিত আয় ৫০ এর দশকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০১৫ সালে ১২ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

গত কয়েক বছরে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন বৈপ্লবিক নীতির সুবাদে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় পর্যটনের মতো বৈচিত্র্যময় কাজে অংশ নেয়ার সুযোগও অনেক বেড়ে গেছে।

পর্যটন একটি বহুমাত্রিক এবং শ্রমঘন শিল্প। এ শিল্পে  সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়াও পরোক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। দেশের প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রের আশেপাশে বসবাসরত জনগোষ্ঠী তাদের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে উৎপাদিত পণ্য, তৈরি খাবার, বাড়িতে চাষ করা ফল বা সবজি পর্যটকদের নিকট বিক্রয় করছে, এ দৃশ্য অতি পরিচিত। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এর বিভিন্ন ইউনিটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণের  উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ডিউটি ফ্রি শপেও হস্ত ও কুটির শিল্পের বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় হয়। হোটেল ও মোটেলগুলোতে রিসিপশন, হাউজ কিপিং, কিচেন, এমনকি হোটেল ব্যবস্থাপক হিসেবেও বিপুল জনসংখ্যা কাজ করছেন। পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাকে বাস্তবে অনূদিত করতে বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে উৎসাহ যোগানোর ক্ষেত্রে সরকার  সক্রিয় রয়েছে। করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কাজটি সরকার ভালোভাবেই করছে। দেশের পর্যটন কেন্দ্রে প্রতি বছর ভ্রমণ করছে প্রায় ৯০-৯৫ লাখ পর্যটক। এই শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে জাতীয় হোটেল ও পর্যটন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ অব্যাহত আছে। এখানে বছরব্যাপী পর্যটন বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির কম্প্রিহেনসিভ প্রাইভেট সেক্টর অ্যাসেসমেন্ট (সিপিএসএ) শীর্ষক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিয়ে আসে বিদেশিদের মাত্র পাঁচ শতাংশ।

অপার সম্ভবনাময় আমাদের এই বাংলাদেশ হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার একটি আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র, যা অর্থনৈতিক চাকাকে সচল করবে। সেই সাথে বিশ্ব পরিম-লে বাংলাদেশর ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে সাহায্য করবে। পর্যটন পুলিশের তথ্যমতে, বাংলাদেশে ছোট-বড় প্রায় ৮০০শ’র বেশি পর্যটন স্থান রয়েছে। এসব স্থানকে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যটনের সাথে যুক্ত করা গেলে তা এই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে।-  পিআইডি ফিচার

নওয়াপাড়া পৌর ছাত্র লীগের উদ্দ্যেগে বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি-

প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে যশোর অভয়নগরের নওয়াপাড়া পৌর ছাত্র লীগের উদ্দ্যেগে বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধায় নওয়াপাড়া পৌর সভার ৪,৫,৬ ও ৭ নং ওয়ার্ড বাসির মাঝে তিন শতাধিক ফলদ, বনজ ও ঔষধী গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধনি অনুষ্ঠানের উপন্থিত ছিলেন, উপজেলা যুবলীগ নেতা আব্দুল মুকিত মোল্ল্যা, নুর ইসলাম মনি, মনির হোসেন, আজিম চেšধরী, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহম্মেদ শান্ত, ছাত্রলীগ নেতা আল মামুন আকাশ, শরিফুল ইসলাম, শান্ত শেখ, মুরাদ হোসেন, রাব্বি খান, জয় হলদার, হাসিবুল, আল আমিন, জীবন, ইমন সাকিব প্রমুখ। বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির আওতায় অভয়নগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও নওয়াপাড়া পৌর সভার ৯টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে গাছের চারা রোপন ও বিতরণ করা হবে।

দেবহাটা প্রেসকাব কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে ১৬ জন প্রার্থী রিটার্নিং অফিসারের কাছে তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা (সাতক্ষীরা)

দেবহাটা প্রেসকাব কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে ১৩টি পদের বিপরীতে ১৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বৃহষ্পতিবার উৎসব মুখর পরিবেশে দেবহাটা প্রেসকাব ভবনে উপস্থিত হয়ে রিটার্নিং অফিসার সরকারী খানবাহাদুর আহছানউল্লা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের কাছে মনোনয়ণপত্র দাখিল করেন প্রার্থীরা। উল্লেখ্য, আহ্বায়ক কমিটি ঘোষিত নির্বাচনী তফশিল মোতাবেক ২৫ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের দাখিলকৃত মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। ওই দিনই আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে দাখিলকৃত মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই এবং ২৬ সেপ্টেম্বর প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের প্রতিক বরাদ্দ করবে নির্বাচন কমিশন। সর্বশেষ ১লা অক্টোবর উৎসব মুখর পরিবেশে প্রেসকাব ভবনে কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আশাশুনিতে ইউনিসেফ সিপি প্রজেক্টের অবহিতকরণ সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনিতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আশাশুনি এপি’র ইউনিসেফ সিপি প্রজেক্টের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০.৩০ টায় এতিম ছেলেমেয়েদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মিলনায়তনে এ অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসবিআর ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আশাশুনি এপি’র ইউনিসেফ সিপি প্রজেক্টের অয়োজনে সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা। সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদের অংশ গ্রহনে সভায় মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রজেক্টের পরিচিতি ও কার্যক্রম সম্পর্কে মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন, এপি’র প্রজেক্ট অফিসার স্বপন ডেভিট সাহা। সিপি প্রজেক্ট অফিসার সুজিত হালদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার রফিকুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম, বুধহাটা ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ আ ব ম মোছাদ্দেক, কাদাকাটি ইউপি চেয়ারম্যান দীপঙ্কর কুমার সরকার দীপ, সদর প্যানেল চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম শাহীন, শিক্ষক মঞ্জুরুল আমিন শেখর প্রমুখ। আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের নিয়ে প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন প্রকার কাজ করা হবে। ৬ মাসের জন্য ইউনিসেফ ওয়ার্ল্ড ভিশনের সাথে এ প্রজেক্ট নিয়ে উপজেলার ৬ ইউনিয়নে কাজ করবে।

আশাশুনিতে অপুষ্ট বাচ্চাদের অর্থ সহায়তা প্রদান

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনিত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া অপুষ্ট বাচ্চাদের পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানোয় সহায়তার জন্য অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আশাশুনি হাসপাতালে এ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। ইউনিসেফের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ৫ জন বাচ্চাকে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেয়। এসব বাচ্চাকে যখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তখন পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানো নিশ্চিত করতে প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। যেদিন ব্চ্চাাদের রিলিজ দেওয়া হয়েছিল সেদিন প্রত্যেককে আবার ১০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। রিলিজের পর ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানোর জন্য আবারও ১০০০ টাকা করে প্রদানের নিয়ম থাকায় বৃহস্পতিবার এমন ৫ জনকে ১০০০ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। নগদ টাকা প্রদান করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুদেষ্ণা সরকার। এসময় সিনিঃ স্টাফ নার্স কল্পনা রানী মন্ডল, সিনিঃ স্টাফ নার্স রমা সেন, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ মাহবুবর রহমান ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোক্তারুজ্জামান স্বপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আশাশুনিতে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনিতে জাতীয় ভিটামিন এ+ ক্যাম্পেইন- ২০২০ উপলক্ষে অবগিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুদেষ্ণা সরকারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ দীপন বিশ^াস, সেনেটারী ইন্সপেক্টর জি এম গোলাম মোস্তফা ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান। সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোক্তারুজ্জামান স্বপনের সঞ্চালনায় সভায় উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ইনামুল হক, স্বাস্থ্য পরিদর্শক রমেশ চন্দ্র মন্ডল প্রমুখ আলোচনা রাখেন। সভায় আগামী ৪ঠা অক্টোবর হতে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৬ মাস বয়স হতে ৫৯ মাস বয়স পর্যন্ত সকল শিশুকে একটি করে ভিটামিন এ+ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ কার্যক্রম সফল করতে সভায় গৃহীত কার্যক্রম অবহিত করা হয় এবং পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়।

হাড়ীভাঙ্গা নাটানা বাজার কমিটি থেকে পদত্যাগ

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনি উপজেলার হাড়ীভাঙ্গা নাটানা বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি থেকে ৩ জন পদত্যাগ করেছেন। বাজারের ব্যবসায়ী নূর ইসলাম সরদার, আতিয়ার রহমান গাজী ও মহাসিন গাজী লিখিত ভাবে জানান, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠনের পক্ষে তারা। কমিটি গঠনের দিন অধিকাংশ ব্যবসায়ীর অনুপস্থিতিতে কমিটি গঠন করা হয়। তারা নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু নির্বাচন না করে সকল ব্যবসায়ীকে না নিয়ে গঠিত কমিটিতে তাদের মতামত ছাড়াই অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ফলে তারা কমিটি থেকে পদত্যাগ করছেন এবং নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবী জানিয়েছেন।

দরগাহপুরে বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক করে ঠকানোর অভিযোগে থানায় অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুরের হাফিজুলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ঠকানোর অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পাইকগাছার দেবদুয়ার গ্রামের মহসিন মিস্ত্রীর কন্যা সিরিনা খাতুন থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগে ও সাংবাদিকদের কাছে জানান, দরগাহপুরের রামনগর গ্রামের আলীম উদ্দীন গাজীর পুত্র হাফিজুল একই গ্রামের লতিফের পুত্র লাচ্চুর মাধ্যমে পরিচিত হন। এরপর থেকে মোবাইলে তাদের মধ্যে যোগাযোগের এক পর্যায়ে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে কাছে পেতে চকুরতার আশ্রয় নেয় হাফিজুল। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হাফিজুল তাকে দরগাহপুর বসাস্ট্যন্ডে ডেকে নিয়ে সেখান থেকে যশোরে রওয়ানা হয় এবং খাজুরায় তার পরিচিত জনৈক হক এর বাড়িতে নিয়ে ওঠে। সেখানে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। তিন দিন সেখানে থাকার পর হাফিজুলের ভাই নূর ইসলাম ও লাচ্চু মোবাইলে কথা বলে বাড়ি ফিরতে বলে। তিনদিন পর তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়ে দরগাহপুরে আসলে ভাই ও লাচ্চুর কুপরামর্শে নিজের বাড়িতে না নিয়ে লাচ্চুর বাড়িতে নিয়ে তোলে। এরপর তারা ষড়যন্ত্র করে খুব শীঘ্রই বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে ওয়াদা করে সিরিনাকে তার পিতার বাড়িতে পাঠায়। কিন্তু পরে আর তার ফোন না ধরাসহ যোগাযোগ না রাখায় অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সিরিনা। বাধ্য হয়ে সিরিনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এব্যাপারে বিবাদী হাফিজুলসহ তার সহায়তাকারীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী অভিযুক্ত হাফিজুলসহ তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের জোর দাবি জানিয়েছেন।

কাদাকাটি প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বিভাগীয় মামলায় শাস্তি

আশাশুনি প্রতিনিধি

আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম কামরুল ইসলামকে বিভাগীয় মামলায় শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। স্কুল ছাত্রীকে নির্মম ভাবে বেত্রাঘাত করার অপরাধে তাকে শাস্তি প্রদান করা হয়। প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম স্কুলের শিক্ষার্থী জিবাকে নির্মমভাবে বেত্রাঘাত করেন। এছাড়া আরও অনেককে বেত্রাঘাত ও শিক্ষক সুলভ বহির্ভূত আচরণ করেন। শিশু শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করার দায়ে সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ ্এর বিধি ৩ এর (খ) ধারা অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে ২৮ জুলাই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু পূর্বক কারণ দর্শানো নোটিশ জারী করা হয়। প্রধান শিক্ষক ১২ আগষ্ট লিখিত জবাব এবং ১৬  সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত শুনানীতে লিখিত জবাবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ফলে তাকে লঘু দন্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত হয় এবং বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৪ এর উপবিধি (২) (খ) অনুযায়ী একটি বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি স্থগিত করা হয়। ২১ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা খুলনার উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) নাসরিন সুলতানা স্বাক্ষরিত পত্রে এ আদেশ প্রদান করা হয়। ভুক্তভোগিরা শাস্তির কথা জানতে পেরে লঘু শাস্তিতে খুশি না হলেও শাস্তি প্রদান করায় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন এবং ভবিষ্যতে তার আচার আচরণে পরিবর্তন আসবে সে প্রত্যাশা করেছেন। 

কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে কৃষক লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

আলমগীর হোসেন, কেশবপুর প্রতিনিধি

কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে কৃষক লীগের বর্ধিত সভা বৃহস্পতিবার আবু শরাফ সাদেক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৈয়দ নাসির হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রমেশচন্দ্র দত্তের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষক লীগের খুলনা বিভাগীয সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোঃ নাজমুল ইসলাম পানু। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমিন।  বিশেষ অতিথি হিসেবে  বক্তব্য দেন যশোর জেলা কৃষকলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ শামসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আমির হোসেন,ও পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম।

তালায় ৩৭ জন মহিলার মাঝে ক্ষুদ্র ঋণের চেক বিতরণ

ইলিয়াস হোসেন,তালাঃ

জাতীয় মহিলা সংস্থা তালা উপজেলা শাখার উদ্যোগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৩৭ জন মহিলার মাঝে ক্ষুদ্র ঋণের চেক বিতরণ করা হয়ছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসের কক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় মহিলা সংস্থা পরিচালিত মহিলাদের আতœকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের চেক বিতরণ করেন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকবাল হোসেন। এ সময় জাতীয় মহিলা সংস্থা তালা উপজেলা শাখার চেয়ারম্যান প্রভাষক সুতপা রাহা, জাতীয় মহিলা সংস্থা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান উপস্থিত ছিলেন।

তালায় শিশু পাচার প্রতিরোধ ও সুরক্ষায় কর্মশালা অনুষ্ঠিত

তালা প্রতিনিধি

তালায় শিশু পাচার প্রতিরোধ ও সুরক্ষায় এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা নিরসনে শিশু অধিকার ও মানবাধিকার নেটওয়ার্কভূক্ত এনজিও প্রতিনিধিদের সাথে কৌশলগত পরিকল্পনা ও যৌথ কার্যক্রম বিষয়ক দুইদিনব্যাপী উপজেলা পর্যায়ের কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তালা উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে ইনসিডিন বাংলাদেশ আয়োজিত উক্ত কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন তালা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার। ইনসিডিন বাংলাদেশ এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মোঃ সাকিবুর রহমানের পরিচালনায় কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের  সাতক্ষীরা জেলার উপ-পরিচালক মোঃ রোকনুজ্জামান। এ সময় তালা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুরশিদা পারভীন পাঁপড়ী, তালা থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শেখ আব্দুল আউয়াল, তালা প্রেসকাবের সভাপতি প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন কমান্ডার মোঃ মফিজ উদ্দীন, তালা থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি এ ময়নুল ইসলাম, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অচিন্ত্য সাহা, উপজেলা মহিলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক সুতপা রাহা টুম্পা, সাংবাদিক গাজী জাহিদুর রহমান, বিএম জুলফিকার রায়হান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক স্মরণে প্রার্থনা সভা

খবর বিজ্ঞপ্তি

 সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক সুনীল কুমার চক্রবর্তী স্মরণে শোক ও  প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাজার কালিবাড়ি মন্দিরে এর আয়োজন করা হয়। সভাপতিত্ব করেন উজ্জল ব্যানার্জী। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সুব্রত হালদার তপা ও সুশান্ত ব্যানার্জী। এ সময় মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েত শিবচন্দ্র ব্যানার্জী, নগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল হালদার, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুন্ডু, ভোলানাথ ভট্টচার্য, গোপী কিষান মুন্ধাড়া, প্রশান্ত ব্যানার্জী, আশোক চক্রবর্তী, বিকাশ সাহা মদন, তোতন হালদার, রতন দেবনাথ, তপন সাহা, আকাশ চক্রবর্তী, কিংকর সাহা, শংকর ঘোষ, স্বপন সরকার, মনোজ রায়, বাবলু বিশ্বাস, ইন্দ্রজিৎ কুন্ডু গোপাল, বিশ্বরুপ সরকার, ভবেশ সাহা, অনিক ব্যানার্জী, বাবলু রায়, প্রদীপ সাহা, তরুন রায় শিবু , সৌরভ হাজরা ও বিধান রায়সহ ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কেশবপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বেকারির মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

কেশবপুর প্রতিনিধি

কেশবপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আমেনা ফুডস্ এন্ড তৃপ্তি হোমমেড বেকারির মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর পৌর শহরের উপজেলা বিআরডিপি অফিসের পেছনে অবস্থিত আমেনা ফুডস্ এন্ড তৃপ্তি হোমমেড বেকারির কারখানায় বুধবার বিকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আমেনা ফুডস্ এন্ড তৃপ্তি হোমমেড বেকারির কারখানার শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসম্মত পোশাক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট না থাকায় এবং খাদ্যদ্রব্যের প্যাকেটে নির্দিষ্ট তারিখ না থাকার অপরাধে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার ইমাম হুসাইনকে ভোক্তা সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারা মোতাবেক ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ সময় এক মাসের মধ্যে সকল প্রকার বৈধ কাগজপত্র ও স্বাস্থ্য বিধি মেনেই খাদ্য সামগ্রী তৈরির নির্দেশ দেন।

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নবনির্বাচিত দুই নেতাকে অভয়নগর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের ফুলেল শুভেচ্ছা

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সংসদের সদ্য ঘোষিত কমিটির নবনির্বাচিত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার সেলিম অগ্নী ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক   মোঃ রবিউল ইসলাম কে অভয়নগর থানা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। গতকাল বুধবার যশোর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে উক্ত ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাঃ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সাল,  সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্মল কুমার বিট, সাংগঠনিক সম্পাদক আলি হায়দার রানা, যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ও অভয়নগর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মোল্যা হাবিবুর রহমান (হাবিব), নওয়াপাড়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহবায়ক রিয়াজ উদ্দিন মিঠু, সিদ্ধিপাশা ইউনিয়ন কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রেজোয়ান হোসেন, চলিশিয়া ইউনিয়ন কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ সাগর শেখ, প্রেমবাগ ইউনিয়ন কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ সোহাগ হোসেন সহ  জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

বাগেরহাটে বাঁধনের উদ্যোগে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন

বাগেরহাট  প্রতিনিধি                        

করোনা পরিস্থিতে বাগেরহাটে বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে। একশন এইড এর সহযোগীতায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় দশানীস্থ বাঁধনের অফিস চত্বরে এ খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসাবে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মোঃ কামরুল ইসলাম এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন ,বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোছাব্বেরুল ইসলাম। বাগেরহাট সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীন এর সভাপতিতে, বক্তব্য রাখেন ষাটগম্বুজ ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা  শেখ আক্তারুজ্জামান বাচ্চ,কাড়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা  শেখ বশিরুল ইসলাম, শহর সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ নাজমুস সাকিব। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাঁধনের নির্বাহী পরিচালক মঞ্জুরুল হাসান মিলন। পরিচালনা করেন বাঁধনের এফোরআই প্রকল্পের সমন্বয়কারী খোন্দকার মুশফিকুল ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বাঁধনের বিভিন্ন ইয়ূথ গ্রুপের ২০জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

বাঁধনের এফোরআই প্রকল্পের সমন্বয়কারী খোন্দকার মুশফিকুল ইসলাম বলেন, দাতা সংস্থা একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগীতায় ও বাঁধনের বাস্তবায়নে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাগেরহাট সদর ও ফকিরহাট উপজেলার ২৭৫টি পরিবারের মাঝে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন করা হচ্ছে। আমরা প্রতিটি পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল, ডাল, আলু, লবন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, স্যানিটারী ন্যাপকিনসহ নানা সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। এ মাসের মধ্যেই আমরা করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ৩৫০টি পরিবারে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হবে।

কালিগঞ্জে নবযাত্রা প্রকল্পের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

খবর বিজ্ঞািপ্ত

কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এর আয়োজনে ’ইউএসএআইডি’ এর” খাদ্য নিরাপত্তা উন্নয়ন কার্যক্রম” নবযাত্রা প্রকল্প, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ত্রৈমাসিক সমন্বয় অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর সভাপতিত্ত্বে সভায় সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, সকল ইউপি সচিবগন, কালিগঞ্জ প্রেসকাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি;র কালিগঞ্জ শাখার সভাপতি ও ইউপি সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তৃতায় সভাপতি বলেন  ”নবযাত্রা” প্রকল্প একটি বিশাল কাজের কেন্দ্র বিন্দু যার কাজের ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি এবং প্রকল্পটি কালিগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। ”নবযাত্রা” প্রকল্পকে আমাদের সংযুক্ত রেখে প্রকল্পের গৃহিত কাজগুলোকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, নবযাত্রা প্রকল্প এর ফিল্ড অফিস ম্যানেজার প্রকল্পের ছয়টি কম্পোনেন্ট যথা প্রকল্পের মা ও শিশু স্বাস্থ্য, ওয়াস, দূর্যোগ, কৃষি, জেন্ডার এবং সুশাসন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা এর বিগত পাঁচ বছরের অগ্রগতি এবং সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয় তুলে ধরেন এবং সকল অংশগ্রহনকারীগন আলোচনায় অংশগ্রকন করে প্রকল্পের কাজের প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য যে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর অনুরোধে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, নবযাত্রা প্রকল্প আগামী মাসে বারটি ইউনিয়ন পরিষদ এর সচিব এবং উদোক্তাগণকে দক্ষতা উন্নয়ণ এর জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করতে কারিগরী সহায়তা প্রদান করবে। সরকারী সকল দপ্তর তাদের সহযোগিতা অব্যহত রাখবেন মর্মে একমত পোষণ করেন।

মানসম্মত পুষ্টি সেবা প্রদান করতে কিশোর-কিশোরীদের সম্পৃক্তকরণে জেলা পর্যায়ে কিশোর-কিশোরী ফোরাম গঠন সভা

খবর বিজ্ঞপ্তি

বৃহস্পতিবার বাগেরহাটের ধানসিঁড়ি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কিশোর-কিশোরীদের সমন্বয়ে মানসম্মত পুষ্টি সেবা প্রদানের জন্য সরকার, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের সম্পৃক্তকরণ এবং তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জেলা পর্যায়ে কিশোর-কিশোরী ফোরাম গঠন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ হাফিজ আল-আসাদ। প্রধান অতিথি তার ভাষণে বলেন, আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ হলো কিশোর-কিশোরী। তাদেরকে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করা জরুরী। তাদের মাধমে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পুষ্টির সার্বিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। কিশোর-কিশোরীরাই বর্তমান সমাজে চেঞ্জমেকার হিসেবে কাজ করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর অর্থায়নে পুষ্টি উন্নয়নে অংশগ্রহণমূলক সমন্বিত প্রকল্প-(ক্রেইন) এর আওতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তর অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের নেতৃত্বে এবং ওয়াটার এইড-এর কারিগরী সহায়তায়, বাগেরহাটের কচুয়া, মোংলা, মোল্লাহাট ও শরণখোলা উপজেলায় রূপান্তর ও জেজেএস পুষ্টি উন্নয়নে প্রকল্পের অন্যান্য সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর- উপ-পরিচালক এর  উপ-পরিচালক হাসনা হেনা, বাগেরহাট জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা শেখ আসাদুর রহমান, বাগেরহাট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভিন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড, বাগেরহাট-এর পুষ্টি সমন্বয়কারী হোসনেয়ারা বেগম, রূপান্তর-এর ক্রেইন প্রকল্প সমন্বয়কারী খালেদা হোসেন মুন, মনিটরিং অফিসার, ত্রিদ্বীপ বিশ^াস। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলা সিএসও মোবিলাইজার শরিফুল বাসার।

শরণখোলায় বসত ঘর সহ কৃষকের সম্পত্তি দখল

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এক কৃষকের বসত ঘর সহ তার ভোগদখলীয় প্রায় দশ লাখ টাকার সম্পত্তি জবর দখল করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের ধানসাগর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আশ্রাব আলী মাতুব্বরের ছেলে কৃষক মোঃ ফরিদ হোসেন মাতুব্বর এমন অভিযোগ করেন। অভিযোগে ফরিদ দাবী করেন, ২নং ধানসাগর মৌজার প্রায় ৩৩ শতক সম্পত্তি তিনি কবলা সুত্রে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ বছর ধরে শান্তি পুর্ন ভাবে ভোগ দখল করে আসছিলেন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা মোকসেদ শেখ সহ একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধোনে একই এলাকার বাসিন্দা প্রতিপক্ষ মোঃ আবুল হোসেন তালুকদার নিজেকে ভুমিহীন দাবি করে (বুধবার) সকালে কৃষক ফরিদের ভোগ দখলীয় ওই সম্পত্তি সহ তার মধ্যে তুলে রাখা ঘরটি ও উক্ত জমি জোর পুর্বক দখল করে নেয়। এ সময় ফরিদ সহ তার পরিবারের সদস্যরা তাতে বাঁধা দিলে আবুল ও তার সহযোগীরা ফরিদ (৩৮) ও তার স্ত্রী রুনু বেগম (৩২) কে মারধর করে আহত করেন।  আহতদের মধ্যে রুনু বেগমকে (বৃহস্পতিবার)  সকালে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ফরিদ আরো বলেন,  জমি দখলের পর শরনণখালা থানায় অভিযোগ করেছি কিন্তু কোন ফল পাইনি। এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েক জন বাসিন্দা জানান, আবুল হোসেনের এলাকায় ৩টি বাড়ী রয়েছে। ভুমিহীন দাবী করার বিষয়টি সঠিক নয় । তবে, এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ আবুল হোসেন তালুকদার বলেন, ফরিদের কোন জমি আমি দখল করি নাই। উক্ত জমি আমি চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান দুলালের আমলে ভুমিহীন হিসেবে পেয়ে ছিলাম। কয়েক বছর আমি এলাকায় না থাকায় ফরিদরা ওই জমিতে একটি ঘর তুলেছিল।  এখন পরিবার পরিজন নিয়ে সেই ঘরে আমি আশ্রয় নিয়েছি। এছাড়া মাপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি।  ওরা আমাকে জব্দ করার জন্য নাটক সাজিয়েছে। এ ব্যাপারে শরনখোলা থানার (ওসি) এস কে আব্দুল্লাহ আল সাইদ জানান, উভয় পক্ষকের কাগজ পত্র দেখে আইনী ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

শরণখোলায় বসত ঘর সহ কৃষকের সম্পত্তি দখল

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এক কৃষকের বসত ঘর সহ তার ভোগদখলীয় প্রায় দশ লাখ টাকার সম্পত্তি জবর দখল করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের ধানসাগর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আশ্রাব আলী মাতুব্বরের ছেলে কৃষক মোঃ ফরিদ হোসেন মাতুব্বর এমন অভিযোগ করেন। অভিযোগে ফরিদ দাবী করেন, ২নং ধানসাগর মৌজার প্রায় ৩৩ শতক সম্পত্তি তিনি কবলা সুত্রে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ বছর ধরে শান্তি পুর্ন ভাবে ভোগ দখল করে আসছিলেন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা মোকসেদ শেখ সহ একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধোনে একই এলাকার বাসিন্দা প্রতিপক্ষ মোঃ আবুল হোসেন তালুকদার নিজেকে ভুমিহীন দাবি করে (বুধবার) সকালে কৃষক ফরিদের ভোগ দখলীয় ওই সম্পত্তি সহ তার মধ্যে তুলে রাখা ঘরটি ও উক্ত জমি জোর পুর্বক দখল করে নেয়। এ সময় ফরিদ সহ তার পরিবারের সদস্যরা তাতে বাঁধা দিলে আবুল ও তার সহযোগীরা ফরিদ (৩৮) ও তার স্ত্রী রুনু বেগম (৩২) কে মারধর করে আহত করেন।  আহতদের মধ্যে রুনু বেগমকে (বৃহস্পতিবার)  সকালে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ফরিদ আরো বলেন,  জমি দখলের পর শরনণখালা থানায় অভিযোগ করেছি কিন্তু কোন ফল পাইনি। এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েক জন বাসিন্দা জানান, আবুল হোসেনের এলাকায় ৩টি বাড়ী রয়েছে। ভুমিহীন দাবী করার বিষয়টি সঠিক নয় । তবে, এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ আবুল হোসেন তালুকদার বলেন, ফরিদের কোন জমি আমি দখল করি নাই। উক্ত জমি আমি চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান দুলালের আমলে ভুমিহীন হিসেবে পেয়ে ছিলাম। কয়েক বছর আমি এলাকায় না থাকায় ফরিদরা ওই জমিতে একটি ঘর তুলেছিল।  এখন পরিবার পরিজন নিয়ে সেই ঘরে আমি আশ্রয় নিয়েছি। এছাড়া মাপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি।  ওরা আমাকে জব্দ করার জন্য নাটক সাজিয়েছে। এ ব্যাপারে শরনখোলা থানার (ওসি) এস কে আব্দুল্লাহ আল সাইদ জানান, উভয় পক্ষকের কাগজ পত্র দেখে আইনী ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

যশোরের ধর্মতলা কাঁচা বাজারে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা: আটক ৩

যশোর অফিস

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার কারণে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা বুধবার সন্ধ্যারাতে শহরতলী ধর্মতলা কাঁচা বাজার এলাকায় পরপর শক্তিশালী কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে থানায়। পুলিশ বোমা বিস্ফোরনের সাথে জড়িত অভিযোগে এজাহার নামীয় তিন আসামীকে গ্রেফতার দেখিয়েছে। তাদেরকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করেছে। পুলিশ  ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত বোমার সরাঞ্জাম আলামত হিসেবে উদ্ধার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে,যশোর শহরতলী ধর্মতলা গাজীপাড়ার রবিউল ইসলামের ছেলে রাসেল,সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা ব্রাক অফিসের পিছনে দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে রেদোয়ান ওরফে রেজোয়ান  হোসেন ওরফে নাহিদ ও ধর্মতলা গাজীপাড়ার আব্দুল আলীম ওরফে বোবা আলীমের ছেলে সুজন ওরফে জিসান।

যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা গাজীপাড়ার মনির আহম্মেদ এর ছেলে তারেক হাসান বুধবার দিবাগত গভীর রাতে চিহ্নিত ৯ সন্ত্রাসীর নাম ও অজ্ঞাতনামা ৪/৫জন উল্লেখ করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামীরা হচ্ছে,ধর্মতলা গাজীপাড়ার রবিউল ইসলামের ছেলে রাসেল,ধর্মতলা খ্রিষ্টান কবরস্থানের পাশের্^ তবিবরের ছেলে সোহেল, লিটনের ছেলে আরাফাত রাজু,

খোলাডাঙ্গা ব্রাক অফিসের পিছনে রেজোয়ান ওরফে রেদোয়ান হোসেন নাহিদ,ধর্মতলা গাজী পাড়ার আব্দুল আলীম ওরফে বোমা আলীমের ছেলে জিসান, বারান্দী মোল্যাপাড়ার শুভ,সুজলপুরের মোতাচ্ছিন হাওলাদারের ছেলে সজল, কারবালা পুকুরের উত্তর পাড়ের সোলাব ও ধর্মতলা কাঁচাবাজার এলাকার আসারের ছেলে আব্দুল্লাহআল- মামুনসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫জন।

এামলায় বাদি তারেক হাসান মামলায় উল্লেখ করেন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার সংক্রান্তে আসামীদের সাথে তার পূর্ব শত্রুতা চলে আসছিল। তারা বাদীসহ তার আত্মীয়স্বজনদে খুন জখমের হুমকী দিয়ে আসছিল। গত বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬ বেজে ২০ মিনিটের সময় তারেক হাসানসহ প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম, হাসান কবির সাগর,আব্দুল্লাহ  আল মামুন, শাকিল গাজী টগর শেখ ধর্মতলা কাঁচা বাজারস্থ আজিম ফার্মেসীর সামনে ফাঁকা স্থানে দাঁড়িয়ে কথা বার্তা বলছিল। ওই সময় আসামীরা স্থানীয় আধিপত্য  ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরিয়া পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তারেক হাসানসহ সেখানে থাকা সকলকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে সোহেলের নেতৃত্বে ও হুকুমে উক্ত আসামীরা পরপর ৩/৪টি  হাত বোমা নিক্ষেপ করে। বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এলাকায় আতংক বিরাজ করে। বোমার স্প্রিন্টারে ২/৩ জন আহতর খবর পাওয়া যায়। বোমা বিস্ফোরণের পর স্থানীয় জনগন বোমা বিস্ফোরণকারীদের মধ্যে রাসেল নামে এক সন্ত্রাসীকের ধরে গণপিটুনী দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ রাতে রাসেলের স্বীকারোক্তি মোতাবেক সহযোগী রেদোয়ান ওরফে রেজোয়ান হোসেন ওরফে নাহিদ ও সুজন ওরফে জিসানকে গ্রেফতার করে।

যশোরে ছোট বোনকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ

যশোর অফিস

বড় বোনের কাছে ধারের ও সুদের টাকা না পেয়ে ছোট বোনের কাছে দাবি করলে দিতে অপারগতা প্রকাশ  করলে জোরপূর্বক মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা চালানোও ঠেকাতে এসে স্বামীকে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার কোতয়ালি মডেল থানায় আসামীদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হচ্ছে, বালিয়া ডাঙ্গা পূর্ব পাড়ার সোহাগের স্ত্রী পারুল,হাফিজুর রহমানের ছেলে সোহাগ, সোহাগ ও হাফিজুর রহমানের ছেলে অন্তুুসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩জন।

যশোর সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা পূর্ব পাড়ার মৃত এলাহী বক্সের ছেলে রফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার কোতয়ালি মডেল থানায় উক্ত আসামীদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগে বলেছেন,তার স্ত্রী মোছাঃ লিপি বেগমের বড় বোন সায়েমের স্ত্রী মোছাঃ মুন্নী উক্ত আসামীদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার স্বরুপ গ্রহন করে। মুন্নী তার স্বামীর সাথে গোলযোগ করে তার বাড়ি হতে পুলিশ লাইন টালী খোলাস্থ তার পিতার বাড়িতে চলে যায়। উক্ত আসামীরা তাদের পাওনা টাকা নিতে এসে মুন্নীকে না পেয়ে উক্ত টাকা পরিশোধের জন্য রফিকুল ইসলামের  উপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬ টায়  উক্ত আসামীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রফিকুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে স্ত্রী  লিপি বেগমকে টাকা পরিশোধ করতে বলে। লিপি বেগম উক্ত টাকার বিষয়ে কিছুই জানেনা বলে জানান। এমনকি লিপি বেগম জানান যে টাকা নিয়েছে তার কাছে গিয়ে চাইতে বলিলে আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে লিপি বেগমকে এলোপাতাড়ীভাবে মারপিট করলে পড়ে যায়। পরে তার মুখের মধ্যে বিষয় ঢেলে হত্যার চেষ্টা চালায়। রফিকুল ইসলাম বাইরে থেকে ঘরে ঢুকে স্ত্রীর অবস্থা দেখে উদ্ধারের চেষ্টা করলে আসামীরা লিপি বেগমে ছেড়ে দিয়ে রফিকুল ইসলামকে এলোপাতাড়ীভাবে মারপিট করে জখম করে। স্বামীর স্ত্রীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা উক্ত টাকা পরিশোধ না করলে হত্যার হুমকী দিয়ে চলে যায়। মূমূর্ষ অবস্থায় লিপি বেগমকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। রফিকুল ইসলাম নিজেও প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন করে। পরে কিছুটা সুস্থ্য হয়ে কোতয়ালি মডেল থানায় আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ তদন্তে নেমেছেন কোতয়ালি মডেল থানার এসআই ফজলুর রহমান বলে জানা গেছে।

যশোর উপশহরে গাঁজাসহ বিক্রেতা আটক

যশোর অফিস

গাঁজা বিক্রির সময় সুমন হোসেন নামে এক গাঁজা বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে যশোর সদর উপজেলার বড় হৈবতপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে। উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা বুধবার রাতে উপশহর ট্রাকস্ট্যান্ডের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

উপশহর পুলিশ ক্যাম্প সূত্রে জানাগেছে,উক্ত ক্যাম্পে কর্মরত একজন এএসআই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক পৌনে ৯ টায় ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনে গাঁজা বিক্রিকালে সুমন হোসেনকে গ্রেফতার করে। পরে তার দখল হতে ২শ’ গ্রাম ওজনের গাঁজা উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে রাতেই মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সুমন হোসেনকে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।