স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনার ভৈরব সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু করোনা মহামারি এবং জমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতায় কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এর পরও কাজ শেষ হয়নি। সেতু নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ। এ অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ তৃতীয় দফায় আরও দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ফলে সেতুর জন্য খুলনাবাসীকে অন্তত আরও আড়াই বছর অপেক্ষা করতে হবে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর ভৈরব সেতু নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। সেতুর মোট দৈর্ঘ্য হবে ১ দশমিক ৩১৬ কিলোমিটার। ২০২০ সালের ২৭ জুলাই প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এর পর ২০২১ সালের ২৪ মে টেস্ট পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব সেতুর পিলার বসবে মোট ৩০টি। এর মধ্যে শহরাংশে কুলিবাগান থেকে রেলিগেট ভৈরব নদের তীর পর্যন্ত ১ থেকে ১৪ নম্বর পিলার এবং সেতুর দিঘলিয়া প্রান্তে ১৭ থেকে ২৮ নম্বর পিলার বসবে। সেতুর রেলিগেট প্রান্তে নদের পাড় থেকে ৪২ মিটার ভেতরে ১৫ নম্বর এবং দিঘলিয়া প্রান্তে নদের পাড় থেকে ১৮ মিটার ভেতরে ১৬ নম্বর পিলার বসবে। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র ৯টি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। দিঘলিয়া প্রান্তে কাজ চলমান থাকলেও অপর প্রান্ত রেলিগেট থেকে দৌলতপুর মুহসিন মোড় পর্যন্ত সেতুর শহরাংশে নির্মাণকাজ থমকে রয়েছে। এ প্রান্তে সেতু নির্মাণের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা অধিগ্রহণ করা হলেও স্থাপনা সরানো হয়নি। এখনও জায়গা বুঝে পায়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজে ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বলছেন, নদ পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক এস এম নাজমুল জানান, সেতুর দিঘলিয়া প্রান্তে ১৩টি পিলারের মধ্যে সাতটির কলাম ঢালাই ও ৯টির পাইল ক্যাপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সেতুর শহরাংশে জায়গা বুঝে না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, সেতুর শহরাংশে অধিগ্রহণ করা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর থেকে স্থাপনা অপসারণের দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। আর রেলওয়ের জায়গা লিজ নেওয়া ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণের ৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা অনুমোদনের জন্য আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে রেলের জায়গাও দ্রুত সময়ের মধ্যে পেয়ে যাব। তিনি আরও বলেন, সেতু নির্মাণকাজে ধীরগতির জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানেরও গাফিলতি রয়েছে। কাজের গতি বাড়াতে তাদের সতর্কীকরণ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়াতে ঢাকায় প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এখনও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়নি।










































