Home Uncategorized খুবির হলরোডে মাদক সরবরাহের সময় যুবক গ্রেপ্তার

খুবির হলরোডে মাদক সরবরাহের সময় যুবক গ্রেপ্তার

0

স্টাফ রিপোর্টার।।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) সংলগ্ন ইসলামনগর (হলরোড) সড়কে বেলাল নামে এক যুবককে ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২৬ এপ্রিল) হলরোড এলাকা এই ঘটনা ঘটে।

বেলাল মোহাম্মদনগর এলাকার মো. কাশেমের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলরোড এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় উঠতি বয়সী তরুণদের কাছে মরণঘাতী মাদকদ্রব্য ইয়াবা ও গাঁজা সরবরাহ করে আসছিল।

ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা, একটি স্টিলের ছুরি, একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ প্রায় সাত হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

ঘটনাস্থলে স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কয়েকজনের নাম উঠে আসে। সে জানায়, রেজাউল নামের এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে সে কাজ করে। ওই ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন কাস্টমার ঠিক করে দেয়, এবং সে তাদের কাছে গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে।

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষার্থীর কাছেও সে মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে থাকে। তাদের নম্বর সাংকেতিক নামে সেভ করে দেয় রেজাউল নামের ওই ব্যক্তি। তাদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই; সে শুধু সরবরাহের কাজ করে।

এই ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে— কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এ ধরনের কার্যকলাপ চলতে পারছে।

এ বিষয়ে ইংলিশ ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রুহুল আমিন মুন্না বলেন, “মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার আজ আমাদের সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি। বিশেষ করে তরুণ সমাজ এর প্রধান শিকার, যা আমাদের ভবিষ্যৎকে গভীর সংকটে ফেলছে। বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে জ্ঞান, গবেষণা ও মুক্তচিন্তার কেন্দ্র হওয়ার কথা, সেখানে মাদকের বিস্তার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মাদকের সহজলভ্যতা শুধু শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে না, বরং চুরি, সহিংসতা ও সামাজিক অবক্ষয়ও বাড়িয়ে তুলছে। তাই এখনই সময় সম্মিলিতভাবে এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার। প্রশাসনের উচিত অতিদ্রুত ক্যাম্পাসে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করা, ভর্তি ও আবাসন প্রক্রিয়ায় ডোপ টেস্ট চালু করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া। ক্যাম্পাস হোক জ্ঞান ও সৃজনশীলতার, মাদকের নয়।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বরত পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “অভিযুক্ত বেলালকে গতকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল) আমরা হলরোড এলাকা থেকে পুলিশি হেফাজতে নিয়েছি এবং তাকে হরিণটানা থানায় নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, তারা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান সর্বদা জিরো টলারেন্স।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরোড থেকে পুলিশ কর্তৃক একজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পুলিশি তদন্তে ওই ব্যক্তির মোবাইল ফোনে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষার্থীর যোগাযোগ নম্বর পাওয়া গেছে।

বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং আমরা এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছি।তদন্তে যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর মাদক সেবন বা বিক্রয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। মাদকের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট; আমরা আগেও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে ছিলাম, এখনও আছি। ক্যাম্পাসে মাদকমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা কোনো প্রকার আপস করব না।”