Home আঞ্চলিক সুন্দরবনের শামুক-ঝিনুক পাচারের নতুন কৌশল কুরিয়ার সার্ভিস

সুন্দরবনের শামুক-ঝিনুক পাচারের নতুন কৌশল কুরিয়ার সার্ভিস

1

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।।

সুন্দরবন থেকে সংগ্রহ নিষিদ্ধ শামুক-ঝিনুক পাচারে নতুন কৌশল হিসেবে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ শামুক উদ্ধার করেছে বন বিভাগ ও পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যামনগর পৌর সদরের নকিপুর বাজারে অবস্থিত ‘সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস’ থেকে এসব শামুক উদ্ধার করা হয়।

এসময় ৫০ বস্তা শামুক-ঝিনুক উদ্ধার করা হয়, যার ওজন প্রায় ২ হাজার ৫শ কেজি। উদ্ধারকৃত এসব শামুক কুরিয়ারের মাধ্যমে কক্সবাজারে পাঠানো হচ্ছিল।

সুন্দরবন কুরিয়ারের বুকিং ভাউচারের তথ্য অনুযায়ী, শ্যামনগরের হানজালা নামে এক ব্যক্তি চালানটি বুকিং করেন। ওই বুকিং ভাউচার সূত্রে জানা গেছে, চালানটি কক্সবাজারের নূর আলমের কাছে পাঠানো হচ্ছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র কুরিয়ার সার্ভিসের আড়ালে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করছে।

পাচারকারীরা শামুকগুলোকে সাধারণ পণ্যের মতো প্লাস্টিকের বস্তায় প্যাকেটজাত করে পাঠায়, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানো যায়। এ বিষয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শামুক-ঝিনুক পরিবহন নিষিদ্ধ এ তথ্য তাদের জানা ছিল না।

তবে যে ব্যক্তি বুকিং করেছিলেন, ‘অভিযানের সময় তাকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাকে ফোন করা হলেও তিনি ঘটনাস্থলে হাজির হননি।’

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ’সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে শামুকসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী আহরণ সরকারিভাবে নিষিদ্ধ। তবুও অসাধু চক্রগুলো গোপনে সংগ্রহ করে পাচার করে আসছে।’

অভিযান প্রসঙ্গে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, ’উদ্ধারকৃত শামুকের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত শামুকগুলো বন বিভাগের জিম্মায় নেওয়া হয়েছে।’

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ’পরিবেশবিধ্বংসী এ ধরনের অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের মতে, ’কুরিয়ার সার্ভিসকে ব্যবহার করে পাচারের এই নতুন কৌশল রোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং কঠোর নজরদারি জরুরি। অন্যথায় সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রের জন্য এটি বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।’