স্টাফ রিপোর্টার
তিন বিঘা জমিতে চিংড়ি ঘের আছে আশিষ কুমারের| গত বছর ৩০ হাজার গলদা চিংড়ির পোনা ছাড়েন| এসব মজুত ছিল ঘেরে| কিন্তু চলতি মৌসুমের অনাবৃষ্টি, ডিজেল-বিদ্যুৎ সংকটে পানি দিতে না পারায় তাঁর ঘেরের বিশাল এলাকা শুকিয়ে গেছে|
এ কারণে প্রায় অর্ধেক মাছই মারা গেছে বলে জানান খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার এই মাছচাষি| সব মিলিয়ে তাঁর ক্ষতি হয়েছে দেড় লক্ষাধিক টাকার| শুধু এটি ডুমুরিয়াই নয়, জেলার পাইকগাছা, কয়রা, দাকোপ এবং বাগেরহাট, সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে মৎস্যঘেরে মড়ক লেগেছে|
সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তথ্যমতে, ডুমুরিয়া উপজেলায় প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ চিংড়ি ও কার্প-জাতীয় মাছ চাষে যুক্ত| ১৪টি ইউনিয়নের ২২ হাজার ১৮৪ হেক্টর জমিতে মাছ চাষ হয়| এর মধ্যে বাগদা চিংড়ির ঘের আছে ছয় হাজার ৭৮১ হেক্টর জমিতে| গলদা চিংড়ির ঘেরের আয়তন ১১ হাজার ১৪৬ হেক্টর| আর চার হাজার ২৫৭ হেক্টর জমিতে চাষ হয় কার্প-জাতীয় মাছের| গত মৌসুমে ডুমুরিয়ার ১১ হাজার ১৪৬টি ঘেরে উৎপাদিত হয় সাত হাজার ৫৭৮ টন গলদা চিংড়ি| বিক্রি হয় ৬০৬ কোটি ২৪ লাখ টাকায়| ছয় হাজার ৭৮১টি ঘেরে বাগদা চিংড়ি উৎপাদিত হয়েছে দুই হাজার ৬১২ টন| বিক্রি হয়েছিল ২৩৫ কোটি আট লাখ টাকায়| এ ছাড়া হরিণা (ছোট চিংড়ি) ১৪ কোটি ৫০ লাখ, কার্প-জাতীয় মাছ ৪০৫ কোটি ৫০ লাখ ও অন্যান্য মাছ বিক্রি হয়েছে ৭৫ কোটি টাকায়|
চলতি ˆবশাখের তীব্র তাপদাহে উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার ঘেরের গলদা ও কার্প-জাতীয় মাছ মারা গেছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা| চলতি মৌসুমে একই জমিতে তারা মাছ চাষের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন| কিন্তু পানি সংকটে বিপাকে পড়েছেন তারা| ডিজেল সংকটের কারণে সেচও দিতে পারছেন না| এতে করে এই মৌসুমে কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতি হবে|
উপজেলার শিবপুর গ্রামের আরজান আলী শেখের চার বিঘার ঘের| সেখানে এরই মধ্যে ১১ হাজার গলদা চিংড়ি মারা গেছে| এ কারণে তাঁর প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে| ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের কাঁটাখালী গ্রামের মো. মফিজুল ইসলাম মোল্লা, আব্দুল খালেক, মো. হাফিজ শেখ ও রবিউল সরদারের ঘেরের চিংড়িও তীব্র গরমে মারা গেছে| মাছ রক্ষায় ঘেরের পানির ওপর মাচা বানিয়েছেন| এতেও মাছ বাঁচানো যাচ্ছে না|
কুলবাড়িয়া গ্রামের প্রদীপ কুমার মণ্ডল ও বান্দা গ্রামের সজীব কুমার বিশ্বাস জানান, চাষিরা ভারতীয় ও দেশীয় হ্যাচারির ভাইরাসমুক্ত রেণুর প্রতি ঝুঁকেছেন| প্রতি হাজার রেণু কিনতে তাদের গুনতে হয় দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকা| দেশীয় চিংড়ির খাবার ভারতীয় চিংড়ির জন্য উপযুক্ত নয়| দুই জাতের চিংড়ির আলাদা খাবার লাগে| এবার খাবারের দাম খুবই চড়া| তার ওপর চলতি ˆবশাখে বৃষ্টির দেখা মিলছে না| ফলে খালবিলও গেছে শুকিয়ে| ঘেরে চিংড়ির পোনা ছাড়া যাচ্ছে না| গত বছরের মজুত মাছও মারা যাচ্ছে| সবজিচাষিরাও একই দুর্ভোগে পড়েছেন| এসব চাষি এনজিও থেকে ঋণ বা চড়া সুদে টাকা নিয়ে আবাদ করেন| এবার ঋণ শোধ নিয়েই সবার দুশ্চিন্তা|
উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সোয়েল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, তাপদাহে ঘেরের মাছ মারা যাচ্ছে, এমন খবর চাষিরা জানাননি| তবে খোঁজখবর নেবেন| তিনি বলেন, মাছের ঘেরে অন্তত তিন ফুট পানি থাকতে হবে| না হলে পানি গরম হয়ে অক্সিজেন সংকট দেখা দেয়| এতে মাছ মারা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি|











































