স্টাফ রিপোর্টার।।
অর্থের অভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারছেন না বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী সরদার আসাদুজ্জামান (২৮)। ছোটবেলায় হারিয়েছেন মাকে। আর ২০২১ সালে মারা যায় বাবা। মা মারা যাওয়ার পর থেকে বড় বোনের কাছে থেকে বেড়ে উঠেছেন আসাদুজ্জামান। হাত-পা ও চোখের সমস্যা নিয়ে চালিয়ে গেছেন লেখাপড়া। এইচএসসি পাশ করে ভর্তি হয়েছেন ডিগ্রিতে।
প্রথম বর্ষ কোনোরকম পার করলেও অর্থের অভাবে লেখাপড়া আটকে যায় দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের সময়। বর্তমানে অর্থের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আসাদুজ্জামান। সমাজের বোঝা হয়ে নয়, চাকরি করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। এজন্য সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রীর।
সরদার আসাদুজ্জামান জানান, ১৯৯৬ সালে তার জন্ম। জন্মগতভাবেই তিনি বহুমাত্রিক শারীরিক প্রতিবন্ধী। চশমা ছাড়া ভালোভাবে চোখে দেখতে পারেন না। শুধু চোখেরই সমস্যা আছে তা নয়, দুই পা খাটো এবং বাঁকানো। ডান পায়ের হাঁটু কোমরের কাছাকাছি। আবার ডান হাতে তেমন শক্তি পান না। বৃদ্ধাঙ্গুলি সোজা বা নাড়াতে পারেন না। এমনকি স্পষ্টভাবে কথাও বলতে পারেন না।
তিনি বলেন, দুই বোনের একমাত্র ভাই আমি। তাদের ছোট আমি। ২০০৬ সালে মায়ের মৃত্যুর পর খুলনা নগরীর নিরালায় বড় বোনের কাছে থেকেই বেড়ে উঠেছি। বাবা ২০২১ সালে মারা যান। এখন আমি পুরোপুরি এতিম। নানামুখী সমস্যায় আছি। সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজ থেকে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করি। পরে ডিগ্রিতেও ভর্তি হই। তবে টাকার অভাবে দ্বিতীয় বর্ষের রেজিস্ট্রেশন করতে পারিনি।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও রাষ্ট্রের বোঝা হতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, যার বাবা-মা নেই, তার কিছুই নেই। আমি রাষ্ট্র, সমাজের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। আমি কাজ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। যাতে কেউ আমাকে আড়চোখে দেখতে না পারে। আমার এই সমস্যার একজনই সমাধান দিতে পারেন, তিনি হলেন মানবতার মা, আমার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি জানি তিনি খুব দয়ালু। তিনি আমাকে আমার যোগ্যতা অনুসারে যেকোনো একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে টেলিফোন অপারেটর পদে চাকরি দিলে আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকবো। আমি চাকরি পেলে নিজের লেখাপড়াও চালিয়ে যেতে পারবো।
আসাদুজ্জামানের পৈতৃক বাড়ি বাগেরহাট সদর থানার আফরা যাত্রাপুর এলাকায়। তার প্রতিবন্ধী কার্ড রয়েছে। তবে নিজেকে কখনো প্রতিবন্ধী মনে করেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি গলায় ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়ান। বর্তমানে তিনি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য কাজের সন্ধানে ঘুরছেন। ইতোমধ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করা বা চাকরি পাওয়া তার জন্য দুরূহ।











































