Home সম্পাদকীয় করোনা সঙ্কট মোকাবেলা

করোনা সঙ্কট মোকাবেলা

8


নিত্য বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। বৈশ্বিক আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় অগ্রগামী তালিকায় আসছে বাংলাদেশের নাম। সংক্রমণের দিক থেকে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৮তম। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় চীনকে টপকে গেছে বাংলাদেশ। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে ইতোমধ্যে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকেই ভর্তি হতে পারছেন না। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ডরমেটরিকে হাসপাতাল করার চিন্তা করা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। এই হলো বাস্তবতা। করোনা পরিস্থিতি চূড়ান্ত মন্দ অবস্থার দিকে যাত্রা করেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সোমবার জনকণ্ঠের প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে দ্বিমতের অবকাশ নেই। প্রতিবেদনে রয়েছে, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, সংক্রমণের মাত্রা যদি ১০ ভাগে নেমে আসে তাহলে বোঝা যাবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। এই বিবেচনায় সবকিছু শিথিলের পথে হাঁটতে পারে যে কোন দেশ। তাছাড়া সংক্রমণ বাড়তি থাকলে কোন অবস্থায় লকডাউন শিথিল করা যাবে না। যদিও বিপরীত পথে হেঁটেছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ।’ এটা সত্য যে, ঈদের পরে লকডাউন ওঠার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ঘরোয়াভাবে ঈদ উদযাপনের আহ্বান ছিল নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার স্বার্থেই। সে আহ্বান যে অনেকাংশেই রক্ষিত হয়নি সেটি বলাইবাহুল্য। গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারেননি বহু মানুষ। যারা ঢাকা শহর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদ করতে যান তাদের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। একইভাবে তারা যখন আবার ঢাকায় ফিরে আসেন সে সময়ও ভাইরাস বহন এবং প্রত্যাবর্তনের পর কমিউনিটিতে ছড়িয়ে দেয়ার শঙ্কার কথা বলা হয়েছে। এই শঙ্কা যে একেবারে অমূলক ছিল না সেটি এখন পরিষ্কার। ঈদের পর সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মেয়াদ শেষ হয়। ওই সময়টাতেই অধিকতর সতর্কতা ও সচেতনতা ছিল কাম্য। কেননা, বেশি সংখ্যক মানুষ ঘরের বাইরে গেছেন এ সময়। কাজ শেষে তারাই আবার ঘরে ফিরে এসেছেন নিজ পরিবারের সদস্যদের কাছে, যারা দিনমান ঘরেই অবস্থান করছিলেন। তাই বাইরে যাওয়া ব্যক্তির ওপর স্বাভাবিকভাবেই এসে পড়েছিল অতিরিক্ত দায়। এই দায়িত্ব পালনে সামান্যতম গাফিলতি তার পুরো পরিবারকেই ফেলে দিতে পারে ভয়ঙ্কর ঝুঁকির মধ্যে। বাস্তবে ঘটেছেও তাই। টেস্টের সংখ্যা আগের চেয়ে কিছুটা বাড়লেও তা সন্তোষজনক নয় বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এখন করণীয় কী? সরকার সম্পূর্ণ সচেতন এবং পরিস্থিতির উন্নয়নে আন্তরিক। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রতিটি নাগরিকের মাস্ক ব্যবহার করার ওপর জোর দিয়েছেন। তার আহ্বান যাদের মাস্ক নেই তাদের অন্তত দুটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য মাস্ক পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হোক। দুস্থ ও গরিব লোকেরা এতে উপকৃতই হবেন। এই সম্পাদকীয় রচনার দিন প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যে দেখা যাচ্ছে আক্রান্তের ঘনত্ব বিচারে সরকার অঞ্চলভিত্তিক কঠোর লকডাউনের জরুরী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটিই ছিল প্রত্যাশিত। সংক্রমণ ছড়ানো এ থেকে অনেকখানিই রোধ করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে যারা আক্রান্ত হয়ে গুরুতর স্বাস্থ্য সঙ্কটের ভেতর পতিত হয়েছেন তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জন্য যে কোন মূল্যে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বাড়াতে হবে কোভিড টেস্টের হার। চিকিৎসাসেবায় তরুণ-নবীন চিকিৎসকদের সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কোন পদক্ষেপ কি গ্রহণ করা হয়েছে? প্রয়োজনে মেডিক্যাল কলেজের সিনিয়র শিক্ষার্থীদেরও সহায়তা নিতে হবে। নার্সদের ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য। বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র চিকিৎসকদের কাছে আমাদের অনুরোধ, আপনারা যারা এখনও চিকিৎসাসেবা থেকে সাময়িক দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন তারা জাতির এই সঙ্কটময় মুহূর্তে মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান এবং মরণাপন্ন রোগীদের বাঁচান।