দাকোপ প্রতিনিধি
দাকোপ উপজেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং চলতি বর্ষা মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। জনদুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো থেকে অবৈধ জাল, বাঁধ ও পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা অপসারণের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে দাকোপ ইউনিয়নের দাকোপী খাল, কাটা কাটা খাল, পশ্চিম বাজুয়া খাল, সিটিবুনিয়া খাল ও কাঁকড়াবুনিয়া খালে যৌথ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৪টি চায়না দুয়ারী জাল, ১০টি রিং জাল, ৮৫টি পাটা, ১৫টি নেটজাল, ২৩টি মশারি জাল, ৫০টি চাই এবং বিপুল পরিমাণ বাঁশের খুঁটি অপসারণ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন দাকোপ উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দিক। এ সময় দাকোপ থানার এসআই প্রসেনজিৎ কুমারের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি পুলিশ দল উপস্থিত থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করে।
এর আগে গত ২১ জুলাই পানখালী মমতাজ স্কুল সড়ক সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ খালে উচ্ছেদ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দিক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে অবৈধ জাল, বাঁধ ও পাটা স্থাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চিংড়ি চাষের নামে কিছু অসাধু ঘের মালিকের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে হাজারো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়ছেন। এ ধরনের কার্যক্রম জনস্বার্থবিরোধী এবং প্রচলিত আইনের পরিপন্থী।
তারা স্থানীয় ঘের মালিক ও দখলদারদের প্রতি স্বেচ্ছায় খালের মধ্যকার সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা, জাল ও পাটা অপসারণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ এই উচ্ছেদ অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে। ভবিষ্যতে কেউ পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কর্মকর্তারা আরও বলেন, খাল উদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কোনো একদিনের উদ্যোগ নয়; এটি নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। জনস্বার্থে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রশাসনের এ সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা আশা প্রকাশ করেন, কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপ উপেক্ষা করে নিয়মিত তদারকি ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে দাকোপের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।










































