আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং অন্তত ৬২৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন)। গত ২৫ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ১৮ সেনার মধ্যে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালে। বাকি চারজন ৭ জুলাই নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর নিহত হন।
আহত সেনাদের মধ্যে ৪১৭ জন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানের সময় আহত হয়েছেন। অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পর সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও ২০৭ জন।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। প্রায় ৪০ দিনের সামরিক অভিযান শেষে গত ৮ এপ্রিল উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে সেই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিরতির সময়ও মাঝেমধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যেই গত ৫ মে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্তির ঘোষণা দেন।
অভিযান শেষ হলেও ইরানের বিভিন্ন বন্দরের ওপর মার্কিন বাহিনীর অবরোধ বহাল থাকে। অন্যদিকে, যুদ্ধের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলের ওপর ইরান যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, সেটিও প্রত্যাহার করা হয়নি।
এমন অচলাবস্থার মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন ইসলামাবাদে একটি সমঝোতা স্মারক (ইসলামাবাদ এমওইউ) সই করে ওয়াশিংটন ও তেহরান। চুক্তি অনুযায়ী, উভয় দেশ ৬০ দিন একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সম্মত হয়। তবে ওই সমঝোতা বেশিদিন কার্যকর থাকেনি। ইরানের সামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলায় হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ৭ জুলাই থেকে আবারও দুই দেশের মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে। পরবর্তী ১৩ রাত ধরে উভয় পক্ষ একে অপরের অবস্থানে ধারাবাহিক হামলা ও পাল্টা হামলা চালায়।
সবশেষে গত ২৫ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।










































