Home খেলাধুলা রিয়ালে আসছেন রোনালদোর ভক্ত ‘নতুন মেসি’

রিয়ালে আসছেন রোনালদোর ভক্ত ‘নতুন মেসি’

1


স্পোর্টস ডেস্ক।।

প্রিয় তারকার আসল জার্সি কেনার সামর্থ্যও ছিল না। তাই কালো মার্কার দিয়ে সাধারণ একটি টি-শার্টের পেছনে লিখেছিলেন ‘রোনালদো ৭’। পরে স্প্যানিশ ক্লাব লেগানেসে প্রথম অনুশীলন দেখেই এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, ‘আমরা নতুন মেসিকে পেয়ে গেছি।’ রোনালদোর ভক্ত থেকে ‘নতুন মেসি’ তকমা পাওয়া সেই আইভরি কোস্টের উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দেই এখন রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ফুটবলার হতে যাচ্ছেন।

সংবাদ মাধ্যম ইএসপিএন জানিয়েছে, আইভরি কোস্টের এই উইঙ্গারের সঙ্গে স্প্যানিশ জায়ান্টদের ব্যক্তিগত সমঝোতা হয়ে গেছে। আজকালের মধ্যেই জার্মান ক্লাব লাইপজিগ থেকে বার্নাব্যুতে যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা সারতে পারেন তিনি।

একটি সূত্র থেকে ইএসপিএন জেনেছে, সময়ের অন্যতম সেরা এ প্রতিভাকে ১৩৫ মিলিয়ন ইউরোতে দলে নিচ্ছে রিয়াল। এর মধ্যে ১১৫ থেকে ১২০ মিলিয়ন ইউরো মূল ট্রান্সফার ফি, বাকিটা এড-ওন্স। যদি ১৩৫ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে দিওমান্দেকে দলে নেওয়া হয়, তাহলে সেটা হবে রিয়ালের রেকর্ড। রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফিতে কেনা খেলোয়াড় হলেন এইডেন হ্যাজার্ড। ২০১৯ সালে ১১৫ মিলিয়ন ইউরোতে চেলসি থেকে রিয়ালে গিয়েছিলেন বেলজিয়ান এ প্লেমেকার। ২০২৩ সালে ১০৩ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে কেনা জুড বেলিংহাম আছেন দ্বিতীয় স্থানে। ১০১ মিলিয়ন ইউরোতে কেনা গ্যারেথ বেল আছেন তৃতীয় স্থানে। একই সঙ্গে রিয়ালের হয়ে খেলা প্রথম আইভরিয়ান ফুটবলারও হবেন দিওমান্দে।

মাত্র দেড় বছর আগেও দিওমান্দে ছিলেন প্রায় অচেনা এক ফুটবলার। ২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চোট নিয়ে স্পেনে এসে লেগানেসের রিজার্ভ দলে যোগ দেন তিনি। যোগ দেওয়ার তিন দিনের মধ্যেই তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হন ক্লাবের কোচিং স্টাফ। লেগানেসের তৎকালীন কোচ বোর্হা হিমেনেস বলেন, ‘প্রথম আক্রমণেই সে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে শট নেয়। এরপর একের পর এক ড্রিবল আর গতিতে সবাইকে অবাক করে দেয়। শেষ পর্যন্ত চোটের শঙ্কায় আমি তাকে মাঠ থেকে তুলে নিই।’

এর কিছুদিন পরই লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে অভিষেক হয় তার। ম্যাচ শেষে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে জার্সি বদলও করেন তিনি। লেগানেস অবনমিত হলেও দিওমান্দের পারফরম্যান্স নজর কাড়ে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর। ২০২৫ সালের জুনে ২০ মিলিয়ন ইউরোয় তাকে দলে নেয় আরবি লাইপজিগ। জার্মান ক্লাবটিতে প্রথম মৌসুমেই সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৬ ম্যাচে ১৫ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করেন তিনি। জিতে নেন বুন্দেসলিগার সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কারও। এরপর লিভারপুল ও পিএসজিসহ কয়েকটি ক্লাব আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত রেকর্ড অঙ্কের প্রস্তাব দিয়ে দৌড়ে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।

মাঠের সাফল্যের আড়ালে রয়েছে দিওমান্দের ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অধ্যায়। তার ১৫ বছর বয়সী বোন রোকসান এক পার্টিতে বিষাক্ত কিছু মিশ্রিত পানীয় পান করার পর মারা যান। বিশ্বকাপের আগে দ্য প্লেয়ার্স ট্রিবিউন-এ লেখা এক খোলা চিঠিতে দিওমান্দে লিখেছিলেন, ‘আজও জানি না কেন এমন হলো। হয়তো হিংসা, হয়তো আমাদের দেশের বাস্তবতা। অনেক সময় মনে হয়, যদি তোমাকে রক্ষা করতে পারতাম।’

২০২৬ বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের হয়ে ইকুয়েডরের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে ১৯ বছর ২১২ দিন বয়সে মাঠে নেমে দেশের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ ফুটবলার হন দিওমান্দে। ওই ম্যাচেই জেতেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। এরপর কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ২-০ জয়ের ম্যাচে অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের সর্বকনিষ্ঠ অ্যাসিস্টদাতার রেকর্ডও গড়েন।

শৈশবে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন দিওমান্দে। একসময় খাবারের জন্য আলুও চুরি করতে হয়েছিল তাকে। একই চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘টাকার কারণে মানুষ বদলে যায়, পরিবারও বদলে যায়। লেগানেসে যা আয় করেছি, প্রায় সবই বাড়িতে পাঠিয়েছি। আমার নিজের কোনো ফ্ল্যাট ছিল না। অনুশীলন কেন্দ্রের ছোট্ট একটি ঘরে টিভি ছাড়াই থাকতাম। শুধু ফুটবল আর ঘুম, এটাই ছিল আমার জীবন। আমি আর ধনী হতে চাই না।’

মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে দারিদ্র্য, ব্যক্তিগত শোক ও সংগ্রাম পেরিয়ে ইউরোপের অন্যতম আলোচিত তরুণ ফুটবলার হয়ে উঠেছেন দিওমান্দে। রিয়ালে তার সম্ভাব্য যোগদান সেই উত্থানেরই নতুন অধ্যায়।