কয়রা প্রতিনিধি
বিশাল গাব, কাঁঠাল আর বাঁশঝাড়ের ঘন ছায়ায় ঢাকা কয়রার বড়বাড়ি গ্রাম। চারদিকে এক শান্ত-নীরব পরিবেশ, আর তার আড়ালেই লুকিয়ে আছে কয়েকশত বছরের প্রাচীন ইতিহাস। খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের এই ঐতিহ্যবাহী ‘বুরুজপোতা ঢিবি’ স্থানীয়ভাবে রাজা প্রতাপাদিত্যের দুর্গের অংশ বলেই পরিচিত। যা মাটির নিচে চেপে রাখা ইতিহাস নিয়ে আজও নীরবে দাঁড়িয়ে আছে।
রাস্তার সমতল থেকে এখনও প্রায় ১০-১২ ফুট উঁচু এই ঢিবি। ঢিবির প্রাচীন গাছের শিকড়ের ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে পুরোনো ইটের অংশ। শুধু ঢিবিই নয়, আশপাশের বসতবাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় বা ফসলি জমিতে এখনও মিলছে প্রাচীন ছোট ইট, নকশা করা পাথর ও প্রাচীন স্থাপনার ভগ্নাংশ। গবেষকদের মতে, আনুমানিক ১৫৮৭ থেকে ১৫৯৫ সালের মধ্যে বারভূঁইয়াদের অন্যতম শাসক রাজা প্রতাপাদিত্য এখানে দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। এই ‘বুরুজপোতা ঢিবি’ ছিল সেই দুর্গেরই অন্যতম প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যেখান থেকে সৈন্যরা নজরদারি করতেন এবং সংকেত পাঠাতেন। এমনকি ২০০৯ সালের ভয়াল ঘূর্ণিঝড় আইলার সময় চারপাশ প্লাবিত হলেও উঁচু এই ঢিবিটি পানির নিচে তলিয়ে যায়নি; যা তৎকালীন সময়ে বহু মানুষের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল।
তবে কালের বিবর্তনে মাটির ক্ষয় ও মানুষের মাটি কাটার কারণে ঐতিহ্যের এই অংশটি নিচু হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সম্প্রতি ঢিবিটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ নিলেও দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা। খুলনার আঞ্চলিক প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢিবিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অবস্থিত এবং জমির মালিকেরা সম্মতি না দেওয়ায় সংরক্ষণ প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
ঐতিহাসিক ও স্থানিয়দের মতে, সরকারি উদ্যোগ ও বৈজ্ঞানিক খনন কাজ চালানো হলে এই ঢিবির নিচ থেকেই হয়তো বেরিয়ে আসবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইতিহাসের বহু অজানা ও উন্মোচিত অধ্যায়।










































