0স্টাফ রিপোর্টার||
খুলনার দৌলতপুর থানার রায়েরমহল পশ্চিমপাড়া এলাকায় আদালতের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে বুঝিয়ে দেওয়া ২ একর ৫২ শতক সম্পত্তি পুনরায় গায়ের জোরে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিবাদী পক্ষ আদালতের আদেশ অমান্য করে ওই জমিতে প্রবেশ করে অবৈধভাবে সাইনবোর্ড টাঙাতে গেলে বাদীপক্ষের বাধায় এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।

নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে রায়েরমহল মৌজার সিএস ৮৫/৩, ৮৬; এসএ ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১২৯, ১৩০ এবং আরএস ১২০৭, ১৭১১ খতিয়ানের ৩৯১২, ৩৯১৩, ৩৯১৬, ৩৯১৭, ৩৯১৮ দাগের মোট ২.৫২ একর জমি নিয়ে দেওয়ানি মামলা (নং- ৬৮/১০) চলমান ছিল। মামলাটিতে বাদী মমতাজ গংদের পক্ষে বিগত ২৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে প্রাথমিক রায় এবং ৩১ জুলাই ২০২৫ তারিখে প্রাথমিক ডিগ্রি হয়। পরবর্তীতে আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে বিগত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে চূড়ান্ত রায় এবং ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে চূড়ান্ত ডিগ্রি প্রদান করে সম্পূর্ণ সম্পত্তি বাদীপক্ষের অনুকূলে রায় দেন।

আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পর গত ২০জুলাই ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ঢোল পিটিয়ে এবং লাল নিশানা টানিয়ে বাদীপক্ষকে (মূল ওয়ারিশ শেখ আসাদুজ্জামান মামুন কাজল গং) আনুষ্ঠানিকভাবে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, পতিত সরকারের শাসনামলে ‘বিশ্বাস প্রোপার্টিজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক শেখ আসাদুজ্জামান মামুনের পিতা মৃত বাবর আলীর ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া এই ২.৫২ একর জমি দখল করে নেয়। পরবর্তীতে তারা অবৈধভাবে প্লট আকারে বিক্রি করে এবং প্রকৃত মালিকদের বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলে।

জমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পাওয়ার পর বাদীপক্ষ উক্ত জমি থেকে ৫ শতক জমি বিক্রির বিষয়ে দেবব্রত মণ্ডল নামের এক ব্যক্তির সাথে মৌখিক চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী মোট ৪০ লাখ টাকার মধ্যে দেবব্রত রায় ১ লাখ টাকার একটি চেক এবং পরবর্তীতে আরও ১ লাখ টাকাসহ মোট ২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল।

তবে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় বুধবার ২৯ জুলাই বিবাদী পক্ষ ও দখলদার চক্রটি আদালতের আদেশ অমান্য করে জমিটি জবরদখল ও সেখানে সাইনবোর্ড টাঙানোর অপচেষ্টা চালায়। এতে মূল মালিকেরা বাঁধা দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়। ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের রায় বহাল রাখতে এবং দখলদারদের অপতৎপরতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ ও বিচার দাবি করেছেন।











































