ক্রীড়া ডেস্ক।।
টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছে ফ্রান্স। হ্যাটট্রিক ফাইনালে ওঠার হাতছানি ছিল তাদের সামনে। কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়। ফ্রান্স বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর এবার নীরবতা ভাঙলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি ভক্তদের উদ্দেশ করে তিনি বললেন, দলের ব্যর্থতা ছাপিয়ে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে তারা গর্বিত।
পুরো টুর্নামেন্টে ফ্রান্সকে অকুণ্ঠ সমর্থন দেওয়ার কারণে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানালেন ফরাসি অধিনায়ক। লম্বা বার্তায় তিনি বিশ্বকাপ থেকে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির কথা তুলে ধরেন, যা গতকাল সোমবার বিভিন্ন আউটলেটে প্রকাশিত হয়েছে।
এমবাপ্পে লিখেছেন, ‘আপনাদের ধন্যবাদ। আবেগে ভরা একটি মাস, যেখানে আমরা আমাদের ক্ষমতার শেষ সীমা পর্যন্ত চেষ্টা করেছি। ফ্রান্সের জার্সি পরার গর্বের একটি মাস, যা আমাদের মাঠে এবং আপনাদের পর্দার সামনে ও গ্যালারিতে চালিত করার আবেগে পরিপূর্ণ ছিল।’
বর্তমানে ছুটিতে আছেন এমবাপ্পে। পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহোর অধীনে অনুশীলনে ফেরার অপেক্ষায় রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। নিজের কষ্টের কথা লুকাননি তিনি, ‘আমরা দলগত এই শিরোপা জিততে পারিনি। এটা বেদনাদায়ক এবং আরও কিছু সময় সেই ব্যথা থাকবে। এটা নিয়ে আপনাদের মিথ্যা বলব না। হয়তো আমাদের কাছে আরও ভালো শেষ চেয়েছিলেন আপনারা। তবে গল্প কীভাবে শেষ হবে তা আমরা সবসময় বেছে নিতে পারি না; বরং আমরা এতে কী নিবেদন করছি তা বেছে নিই এবং আমরা আমাদের যথাসাধ্য সবকিছু উজাড় করে দিই।’
টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট পরা ২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার তার সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন আশপাশের সবাইকে। ১০ গোল করে জিতেছেন গোল্ডেন বুট। এই ব্যক্তিগত পুরস্কার ‘আমার যতটা, দলেরও ঠিক ততটাই,’ জোর দিয়ে বলেন তিনি। তার কথা, ‘তাদের কঠোর পরিশ্রম, তাদের মুভমেন্ট, তাদের পাস এবং প্রথম ম্যাচ থেকে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত আমাদের বয়ে নিয়ে যাওয়া দলীয় মনোভাব না থাকলে আমি এতগুলো গোল করতে পারতাম না।’
গর্ব নিয়ে তৃতীয়বার বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এমবাপ্পে। তিনি বললেন, ‘ছোটবেলায় আমি অন্তত একটা হলেও বিশ্বকাপে খেলতে চেয়েছিলাম। আমি খেললাম তিনটি বিশ্বকাপ, একটি জিতেছি এবং এই বছর অধিনায়ক হিসেবে খেলার সম্মাননা পেয়েছি। আমি এটা কখনো ভুলব না।’
সময়ের পার্থক্যের কারণে ফ্রান্সের অনেককে গভীর রাতে খেলা দেখতে হয়েছে। এই বিষয়টি উল্লেখ করে ভক্তদের বিশেষ ধন্যবাদ জানালেন এমবাপ্পে, ‘আপনারা ঘরে, ক্যাফেতে, আপনাদের পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে পুরো ফ্রান্স এবং এর বাইরে একত্রিত হয়েছেন।
তিনি বলে গেলেন, ‘উজ্জ্বল চোখে শিশু, সব ব্যাকগ্রাউন্ড ও প্রজন্মের নারী-পুরুষ, সবাই একটি আনন্দে একত্রিত হয়েছেন: অংশগ্রহণের আনন্দ।’ তার আরও কথা, ‘এটিই এই খেলার শক্তি। এবং আপনারা কখনোই আমাদের হতাশ করেননি, এমনকি সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তেও যখন আমরা সবচেয়ে কম যোগ্য ছিলাম তখনও।’
প্রধান কোচ দিদিয়ার দেশম এবং তার ব্যাকরুম টিমও এমবাপ্পের কৃতজ্ঞতা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তার এবং তার সব স্টাফদের ধন্যবাদ: ফিজিওথেরাপিস্ট, শেফ, কোচ, ড্রাইভার, এসব মানুষ যাদের কেউ দেখে না এবং যাদের ছাড়া এর কোনোটিই সম্ভব হতো না।’
শেষ করার আগে ফুটবলের ওপর আলোকপাত করে এমবাপ্পে বললেন, ফুটবল ‘এমন একটি খেলা হিসেবেই রয়ে যায়, যা আমরা গুরুত্ব সহকারে নিই, এমন একটি খেলা যা আয়ত্ত করার জন্য আমরা সারা জীবন কাজ করি। তবুও এটি তার সহজ নিয়মকানুনের একটি খেলা যা আমরা খেলা শুরু করার পর থেকে পরিবর্তিত হয়নি: বল, গোল এবং গোল করার ইচ্ছা।’
আশাবাদী কথায় শেষ করলেন এমবাপ্পে, ‘বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট শেষ। কিন্তু গল্প চলবে। আরও ম্যাচ, আরও গ্রীষ্ম কিংবা শীতের সন্ধ্যা আসবে, যেখানে আমরা আবার এই একই খেলার সামনে নিজেদের খুঁজে পাব, একই অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে। আমরা একসঙ্গে খেলা শেষ করিনি। সবকিছুর জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’










































