Home খেলাধুলা আশায় বুক বাঁধছেন বাশার

আশায় বুক বাঁধছেন বাশার

1


ক্রীড়া প্রতিবেদক।।

অস্ট্রেলিয়া শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তাদের বিপক্ষে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। তবে গুরুত্বপূর্ণ দুই সদস্য- লিটন দাস ও নাহিদ রানাকে ছাড়াই অস্ট্রেলিয়া সফর করতে হচ্ছে টাইগারদের। তারা ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করছেন। জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে চ্যালেঞ্জ দেখছেন। তবে প্রথম টেস্টের জন্য ঘোষিত দল নিয়ে তিনি দারুণ আশাবাদী। অস্ট্রেলিয়ার মাটি থেকে ‘রেসপেক্ট’ নিয়ে টাইগাররা দেশে ফিরবেন বলেই তার বিশ্বাস। গতকাল বাশার বলেন, ‘দ্রুত সুস্থ হয়ে কয়েকজন খেলোয়াড় প্রথম টেস্ট খেলার অবস্থায় ফিরবে, এই আশায় আমরা অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু সেটি আর হয়নি। ক্রিকেটে সব সময় সেরা একাদশ পাওয়া যায় না। যারা ফিট ও খেলার জন্য প্রস্তুত, তাদের মধ্যে থেকেই আমরা সেরা দল বেছে নিয়েছি। এ দল নিয়েই প্রথম টেস্টে আমরা ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী।’

সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে সফর করেছে বাংলাদেশ দল। সেখানে স্বাগতিকদের কাছে একমাত্র টেস্ট তারা হেরেছে আড়াই দিনে, ইনিংস ব্যবধানে। শক্তির বিচারে জিম্বাবুয়ে অনেক পিছিয়ে। তাদের কাছেই নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে টাইগার ব্যাটারদের। এবার তাদের সামনে অস্ট্রেলিয়া। এ সিরিজকে মোটেও হালকাভাবে নেয়নি তারা। কামিন্স, হ্যাজলউড, লায়নদের রেখে শক্তিশালী স্কোয়াড দিয়েছে। তাদের বিপক্ষে সফল হতে হলে কেমন ক্রিকেট খেলতে হবে তা জানাতে গিয়ে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা সব সময়ই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করে। অজিরা পাল্টা আক্রমণের সুযোগ নিয়ে থাকে। আমাদের ব্যাটাররা যদি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে পারে, তাহলে এই কৌশলটি আমাদের জন্য বেশ কার্যকর হতে পারে।’

অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে আছেন সৌম্য সরকার। দীর্ঘ ৫ বছর পর তাকে লাল বলের ক্রিকেটের জন্য বিবেচনা করেছেন জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটি। সৌম্যকে অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্টে ফেরানোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘সৌম্যকে নেওয়ার সময় আমাদের কয়েকটি বিষয় মাথায় ছিল। বর্তমানে টপ অর্ডারে প্রায় পাঁচজন বাঁহাতি ব্যাটার রয়েছে। যদি তানজিদ তামিম ও সাদমান ইসলাম ওপেন করে, তাহলে টানা চারজন বাঁহাতি ব্যাটার নেমে যাবে। আদর্শ পরিস্থিতিতে এটা ভালো নয়। আমরা অন্য ওপেনারদের বিষয়েও ভেবেছি। কিন্তু এ মুহূর্তে আমাদের ডানহাতি ওপেনাররা এখনও প্রস্তুত নয়। যাদের নিয়ে কাজ করছি, তারা একেবারেই নতুন। তাদের সরাসরি অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়া কঠিন হতো। সামনে হাই পারফরম্যান্স দলের সিরিজ রয়েছে। আশা করি, আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা একজন ডানহাতি ওপেনার তৈরি করতে পারব, যেটা আমাদের খুব প্রয়োজন।’ দলে ফেরানো হয়েছে উইকেটকিপার-ব্যাটার জাকের আলীকে। এ বিষয়ে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘জাকের আলী কিন্তু টেস্ট ম্যাচ যখন খেলছিল খারাপ খেলছিল না। যখন দল থেকে বের হয়ে গেছে ওই সময় ফর্ম নিয়ে লড়াই করছিল। আমাদের ইচ্ছা ছিল (হাই পারফরম্যান্সের) খেলাগুলো খেলে আবার ফিরে আসুক।’ অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে আছেন অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা পেসার মুশফিক হাসান। তাকে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখেই দলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাশার। কারণ সেখানকার উইকেটে তার গতি এবং লাইন লেংথ অনেক বেশি কার্যকর হবে। প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘মুশফিক এমন একজন, যে কিনা জোরে এসে হিট দ্য ডেক বল করে থাকে, যে ধরনের বোলারকে আমরা মনে করছি অস্ট্রেলিয়ায় উইকেট বেশি পেতে পারি। সেই চিন্তা করে থেকে আসলে মুশফিককে আনা হয়েছে।’ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নাহিদ রানার মতো গতিবাজ বোলার হতে পারতেন বাংলাদেশের জন্য তুরুপের তাস। তাকে না পাওয়ার আক্ষেপ ঝড়ছে প্রধান নির্বাচকের কণ্ঠে। বাশার বলেন, ‘নাহিদ রানা স্পেশাল বোলার। যে কোনো টেস্ট দলের কথা চিন্তা করলে সে সেনসেশনাল বোলার, স্পেশাল বোলার। তার না থাকার আক্ষেপটা তো থাকবেই।’ তবে পেসাররা যে কোনো সময়ই চোটে আক্রান্ত হতে পারেন। সে বাস্তবতাটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন বাশার। পাশাপাশি দলে যারা আছেন তাদের নিয়েই সামনে তাকাতে চান তিনি। বাশার বলেন, ‘আমাদের যারা আছেনÑ তাসকিন দুর্দান্ত বোলার, যদি ফিট থাকে, হাসান মাহমুদকে আপনারা সবাই দেখেছেন। যদি এ দুজন ফিট থাকে আর ভালো করে, পাশাপাশি খালেদও খারাপ করেনি, এবাদতও কিন্তু অতীতে ভালো করেছে। এই কজনকে নিয়েই আসলে আমাদের এগোতে হবে। আক্ষেপ তো থাকবেই, তবে সেটা নিয়ে আসলে আমরা এখন আর পড়ে থাকতে চাই না, সামনের দিকে তাকাতে চাই।’ ১৩ আগস্ট ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ, ম্যাকাইতে পরের ম্যাচ ২২ আগস্ট।