Home আলোচিত সংবাদ বহিষ্কৃত এমপির ভাগ্য এবং আইনের মুখোমুখি নীতি-নৈতিকতা

বহিষ্কৃত এমপির ভাগ্য এবং আইনের মুখোমুখি নীতি-নৈতিকতা

7


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামকে ‘নৈতিক স্খলনের’ অভিযোগে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণী ঘটিত স্পর্শকাতর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে সৃষ্টি হওয়া ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের মুখে দলটি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত তাদের গঠনতান্ত্রিক এখতিয়ারে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে দল থেকে বহিষ্কারের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছেÑগাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ কি বহাল থাকবে, নাকি শূন্য ঘোষিত হবে? আইন ও সংবিধানের মারপ্যাঁচে তার এই পদ শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে, নাকি বাতিল হবেÑতা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের ওপর।


সংসদ সদস্য পদ বাতিলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে। সংবিধানে ‘দল থেকে স্বইচ্ছায় পদত্যাগ’ এবং ‘দল থেকে বহিষ্কার’-এর মধ্যে সূক্ষ্ণ পার্থক্য রয়েছে। অতীত নজির বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাবেক এমপি লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কারের পর তার আসন শূন্য ঘোষণা করা হলেও, জাতীয় পার্টির এইচ এম গোলাম রেজাকে বহিষ্কারের পরও আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতায় মেয়াদের শেষ পর্যন্ত তিনি এমপি পদ ধরে রেখেছিলেন। সংবিধানের এই আইনি ফাঁকফোকর কিংবা ব্যাখ্যার ভিন্নতার সুযোগ নিয়ে যেন কোনো নৈতিক অপরাধী পার পেয়ে না যায়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি।


রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত মনোনীত কোনো ব্যক্তি যখন পদে থেকে ‘নৈতিক স্খলনে’ জড়ান, তখন কেবল বহিস্কারেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু তিনি দলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন, তাই দল থেকে বহিস্কৃত হলে তার প্রতিনিধিত্বের নৈতিক ভিত্তিও আর অবশিষ্ট থাকে না। তদুপরি, জালিয়াতি করে বিয়ের কাবিননামা তৈরি বা অন্যান্য আইনি ব্যত্যয়ের যে অভিযোগগুলো সামনে এসেছে, তার সঠিক ফৌজদারি তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন।


প্রতিনিধিত্বের পদটি ক্ষমতার নয়, বরং জনগণের আমানত। একজন জনপ্রতিনিধির চরিত্র ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। স্পিকারের কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনকে কোনো রাজনৈতিক আবেগ বা ধোঁয়াশার আশ্রয় না নিয়ে, আইন, সংবিধান এবং জনপ্রত্যাশার আলোকে অতি দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সাতক্ষীরা-৪ আসনের ভাগ্য নির্ধারণে জাতীয় সংসদ ও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্তই পারবে দেশের রাজনীতিতে নৈতিকতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে।