Home জাতীয় বিয়েতে অতিরিক্ত ফি নেওয়া ঠেকাতে নজরদারির সুপারিশ

বিয়েতে অতিরিক্ত ফি নেওয়া ঠেকাতে নজরদারির সুপারিশ

8

ঢাকা অফিস।।

বিয়ে এবং তালাক নিবন্ধনে কাজিদের বাড়তি টাকা আদায় ঠেকাতে মন্ত্রণালয়কে নজরদারি বাড়াতে বলেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সোমবার (২১ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন এবং বিধিমালা নিয়ে আলোচনায় এ সুপারিশ করা হয়।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বলছে, বিয়ের নিবন্ধকেরা আলাদা ‘দুই ধরনের’ খাতা রেখে সরকারকে অসত্য তথ্য দেন। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। সরকার ফি নির্ধারণ করার পরেও তারা যে বেশি টাকা নিচ্ছে সে জন্য তাদেরকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের কাছে অনেক সময় এই বেশি ফি আদায় নিয়ে অভিযোগ আসে। আমরা নিজেরাও দেখছি সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে গিয়ে কাজি সাহেবরা টাকা নেন। তারা খাতা রাখে দুই রকমের। মন্ত্রণালয়কে এজন্য এ ব্যাপারে নজদারি বাড়াতে বলা হয়েছে।’

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষে জানানো হয়, নানান অনিয়মের অভিযোগে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৯ জন নিবন্ধককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুজনের সনদ বাতিল করা হয়। ২০১৯-২১ সাল পর্যন্ত মোট সাত কোটি ৮৫ হাজার ৪৫৮ টাকা নিকাহ রেজিস্ট্রার সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন।

মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা ২০০৯ এ বলা আছে, একজন নিকাহ নিবন্ধক চার লাখ টাকা পর্যন্ত দেনমোহরের ক্ষেত্রে প্রতি এক হাজার টাকার জন্য সাড়ে ১২ টাকা ফি নিতে পারবেন। দেনমোহার চার লাখের বেশি হলে প্রতি এক লাখ বা অংশ বিশেষের জন্য ১০০ টাকা নিবন্ধন ফি নিতে পারবেন। সর্বনিম্ন ফি হবে ২০০ টাকা। তালাক নিবন্ধনের ফি ৫০০ টাকা। একজন নিবন্ধক প্রতি বছর সরকারি কোষাগারে ১০ হাজার টাকা নিবন্ধন ফি এবং নবায়নের জন্য পাঁচ হাজার টাকা জমা দেন। তালাক নিবন্ধনের নকল সংগ্রহ করার জন্য নিবন্ধকরা টাকা আদায় করেন উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি বলেন, এর জন্য টাকার দরকার নেই। তবুও নেওয়া হচ্ছে।

শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল মজিদ খান এবং রুমিন ফারহানা অংশগ্রহণ করেন।