Home আঞ্চলিক আড়ংঘাটার ইজিবাইক চালক হত্যা মামলায় দু’আসামীর আদালতে স্বীকারোক্তি

আড়ংঘাটার ইজিবাইক চালক হত্যা মামলায় দু’আসামীর আদালতে স্বীকারোক্তি

7

স্টাফ রিপোর্টার ।।

নগরীর আড়ংঘাটা থানা এলাকার তেলিগাতী বরইতলা ঘাটের পাশে রাজাপুরে রিপনের মাছের ঘের থেকে রশিদ ঢালী (৪৫) নামের এক ইজিবাইক চালকের গলা কাটা লাশ উদ্ধারের মামলার দু’আসামী আদালতে স্বীকারেক্তিকমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।  

সোমবার (২৫ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রফিক গ্রেপ্তার দু’আসামীকে আদঅরতে হাজির করেন। এসময় তাদের দেয়া ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আহমেদ রেকর্ড করেছেন। আসামীরা হলেন নিহত রশিদ ঢালীর জামাই রাশেদ শেখ ও তার ছোট ভাই রকিবুল শেখ। তারা দৌলতপুর থানা এলাকার তোজাম শেখের ছেলে। জবানবন্দি শেষে তাদের দু’জনকে  জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। রশিদ ঢালী নগরীর বয়রা ঢালী বাড়ির মাহাতাব ঢালীর ছেলে। সে যাগিপোল ইউনিয়নের জাব্দিপুরে ভাড়াবাড়িতে বসবাস করে ইজিবাইক চালাতেন। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রফিক জানান, জামাইয়ের হাতে খুন হয়েছেন ইজিবাইক চালক রশিদ ঢালী। মাদক ব্যবসা করবেন না বলে জামাই তাকে একটি ইজিবাইকও কিনে দেন। কিন্তু পূর্বের পেশার কারণে রশিদ সে ইজিবাইকটিও বিক্রি করে দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ হয়্। আর বিরোধের জের ধরেই খুন করা হয় রশিদকে। হত্যাকান্ডের পর নিহতের স্ত্রী ফারজানা বেগম রবিবার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর সন্দেহ বাড়তে থাকে তদন্ত কর্মকর্তার। একপর্যায়ে তার জামাতাকে খুঁজতে থাকেন পুলিশ। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে রকিবুলকে দৌলতপুর কবিরের বটতলা ও রাশেদ শেখকে খানজাহান আলী থানার জাবদিপুর থেকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আটকের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকন্ডে কারণ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাইলে বিকেলে আদালতে উপস্থিত করা হয়। এর আগে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি তাদের দু’ভাইয়ের দেখানো স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। ছুরিটি তারা দৌলতপুর বাজারের একটি দোকান থেকে কিনেছিল।

আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. আনিসুজ্জামান জানান, রশিদ ঢালী একজন মাদক ব্যবসায়ী। মাদকদের একটি মামলায় তার দু’বছরের সাজাও হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ফেরার জীবন যাপন করছিলেন। মাদক ব্যবসা না করার জন্য জামাই রাশেদ শেখ তাকে একটি ইজিবাইক কিনে দেন। কিছুদিন চালানোর পর রাশিদ ঢালী ওই ইজিবাইকটি বিক্রি করে দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাধে। ইচ্ছা ছিল তাকে শাসিয়ে ছেড়ে দেওয়ার। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের দু’ভায়ের সাথে রশিদ গোলযোগ করার কারণে ছুরির আঘাতে তার মৃত্যু হয়।