স্টাফ রিপোর্টার।।
কৃষকরা পাঁচ থেকে সাত দিন আগে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ধানের পিতৃ (ফাদার) ও মাতৃ (মাদার) জাত নির্বাচন করে টব বা বালতিতে চারা তুলে প্রস্তুত রাখেন। এবার প্রশিক্ষণের প্রথম দিন বুধবার ধানের ব্রিডিং বা সংকরায়ন বিষয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা শোনেন। পরে বিকেলে নির্বাচিত ধানের শীষে ইমাসকুলেশন বা পুংকেশর অপসারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার সকালে পলিনেশন বা পরাগায়ন কার্যক্রম হাতে-কলমে শেখেন ও বাস্তবায়ন করেন। ইমাসকুলেশন ও পরাগায়ন সম্পন্ন করা শীষগুলোকে বাইরের অনাকাঙ্ক্ষিত পরাগায়ন থেকে সুরক্ষিত রাখতে ট্রেসিং পেপারের ক্যাপ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। সংবাদদেখুন
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গঙ্গারামপুর গ্রামে কৃষকদের অংশগ্রহণে নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী হাতে-কলমে ব্রিডিং প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই প্রশিক্ষণে এই ধাপ অণুসরণ করে হাতে কলমে শেখেন কৃষকেরা। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লোকজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে এলাকার আগ্রহী কৃষকরা অংশ নেন।
প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনে কৃষকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং কৃষকদের মধ্যে সম্মিলিত উদ্যোগ ও ঐকমত্য গড়ে তোলা।
প্রশিক্ষণটি সম্পূর্ণ হাতে-কলমে পরিচালিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা ধানের নতুন লাইন উদ্ভাবনের বিভিন্ন ধাপ সরাসরি অনুশীলন করেন। চলতি আমন মৌসুমে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কৃষিবিদ সিরাজুল হক। এ সময় লোকজের সমন্বয়কারী পলাশ দাশ, কর্মসূচি কর্মকর্তা মিলন কান্তি মণ্ডল ও দিপংকর কবিরাজ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
প্রশিক্ষণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পরাগায়নের পরবর্তী ২৮ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে এ প্রক্রিয়ায় সংকর বীজ সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বীজ থেকে উৎপন্ন পরবর্তী প্রজন্মের গাছ চাষ, জাত নির্বাচন ও পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। সংবাদদেখুন
তাঁরা আরও জানান, নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণাপ্রক্রিয়া। এ জন্য প্রায় ১০টি মৌসুম ধরে মাঠপর্যায়ে চাষ, পর্যবেক্ষণ ও বাছাই কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজন হতে পারে। ধারাবাহিক এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষকদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ধানের জাত উদ্ভাবনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কৃষকদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণাধর্মী কৃষিচর্চা বাড়াবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের নিজস্ব উদ্যোগে ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনের সক্ষমতা তৈরি এবং কৃষিতে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।











































