স্পোর্টস ডেস্ক।।
আজ ২৮ অক্টোবর বিশ্ব জুডো দিবস। জাপানে জন্ম নেওয়া এই মার্শাল আর্ট এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় একটি খেলা।
আত্মনিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সম্মানের শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখে জুডো। দিবসটি প্রতিবছর জুডোর প্রতিষ্ঠাতা জিগোরো কানোর জন্মদিন উপলক্ষে পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘বিলংগিং’, যার অর্থ কোনো গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের অংশ হওয়ার অনুভূতি।
যেভাবে শুরু হলো জুডো
জুডোর উৎপত্তি জাপানে। উনিশ শতকের শেষ দিকে জিগোরো কানো ঐতিহ্যবাহী জাপানি মার্শাল আর্ট জুজুৎসুর বিভিন্ন কৌশল থেকে জুডো গড়ে তোলেন। ১৮৮২ সালে তিনি কোডোকান প্রতিষ্ঠা করেন, যা জুডোর বিকাশ ও প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। জাপানি শব্দ ‘জুডো’র অর্থ ‘মৃদু পথ’ বা ‘কোমলতার পথ’। এই খেলায় শুধু শারীরিক শক্তির ওপর নির্ভর করা হয় না; বরং প্রতিপক্ষের ভারসাম্য, নিজের কৌশল ও নিয়ন্ত্রিত নড়াচড়াকে কাজে লাগানো হয়। পরবর্তী সময়ে জুডো আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে জায়গা করে নেয় এবং অলিম্পিকের অন্যতম খেলায় পরিণত হয়।
জুডো খেলার উপকারিতা কী
জুডো নিয়মিত অনুশীলন করলে শরীর ও মন—দুই ক্ষেত্রেই উপকার পাওয়া যেতে পারে। এর উল্লেখযোগ্য কিছু দিক হলো—
১. শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায় : জুডোর অনুশীলনে শরীরের বিভিন্ন পেশি সক্রিয় থাকে। এতে শক্তি, সহনশীলতা ও সামগ্রিক ফিটনেস উন্নত হতে পারে।
২. ভারসাম্য ও সমন্বয় শেখায় : প্রতিপক্ষের নড়াচড়া বুঝে নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে হয় বলে শরীরের ভারসাম্য ও নড়াচড়ার সমন্বয় অনুশীলন করা যায়।
৩. আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে : নতুন কৌশল শেখা, নিয়মিত অনুশীলন এবং ধাপে ধাপে দক্ষতা অর্জন আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
৪. শৃঙ্খলা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখায় : প্রশিক্ষকের নির্দেশনা মানা, নিয়ম মেনে অনুশীলন এবং প্রতিপক্ষকে সম্মান করার মাধ্যমে শৃঙ্খলাবোধ গড়ে ওঠে।
৫. সামাজিক যোগাযোগ বাড়ায় : দলগত অনুশীলনের মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে সহযোগিতা, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সম্মানবোধ তৈরি হতে পারে।
তবে জুডো একটি শারীরিক খেলা। তাই প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে সঠিক কৌশল শেখা, নিরাপত্তার নিয়ম মানা এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অনুশীলন করা জরুরি।
বাংলাদেশে কোথায় শেখা যায় জুডো
বাংলাদেশে জুডো শেখার বিষয়ে বাংলাদেশ জুডো ও কারাতে ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কমনওয়েলথ জুডোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেশনের ঠিকানা ঢাকার পল্টনে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম। সেখানে প্রশিক্ষণকেন্দ্র, ক্লাব ও ভর্তিসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য জেনে নেওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া ঢাকার সাভারের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও (বিকেএসপি) জুডোসহ বিভিন্ন খেলার প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া কার্যক্রম রয়েছে। তবে ভর্তির বয়স, যোগ্যতা এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে।
এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘বিলংগিং’
আন্তর্জাতিক জুডো ফেডারেশন (আইজেএফ) ২০২৬ সালের বিশ্ব জুডো দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘বিলংগিং’। এর মাধ্যমে জুডোর পরিবেশে প্রত্যেকের গ্রহণযোগ্যতা, সম্মান ও অন্তর্ভুক্তির অনুভূতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিশু, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কিংবা ভিন্ন সামাজিক পটভূমি থেকে আসা মানুষ—সবাই যেন জুডো চর্চায় নিজেদের জায়গা খুঁজে পান, সেই বার্তাই তুলে ধরা হচ্ছে।
শুধু প্রতিযোগিতা বা পদক জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় জুডো। শারীরিক অনুশীলনের পাশাপাশি আত্মনিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সম্মান শেখার সুযোগও তৈরি করে এই খেলা। বিশ্ব জুডো দিবসে সেই মূল্যবোধের চর্চা ও খেলাটির প্রসারে গুরুত্ব দিচ্ছে আন্তর্জাতিক জুডো সম্প্রদায়।










































