মিলি রহমান।।
অনেকে মনে করেন সকালের নাশতা বাদ দিলে ওজন কমে যাবে। সকালে না খেলে নাকি দিনের মোট খাবারের পরিমাণ কমবে, ফলে শরীরের মেদও কমবে। কিন্তু নাশতা বাদ দিলেই কি ওজন কমে?
গবেষণা বলছে, সকালে নাশতা খাওয়া বা না খাওয়ার সঙ্গে সরাসরি ওজন কমার সম্পর্ক নেই। ২০১৯ সালে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত একটি গবেষণায় এ বিষয়ে ১৩টি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, নাশতা বাদ দেওয়া ব্যক্তিদের ওজন সামান্য বেশি কমেছিল। তবে গবেষণাগুলোর সময়কাল ছিল কম এবং প্রমাণের মানও সীমিত। তাই শুধু নাশতা বাদ দিলেই দীর্ঘ মেয়াদে ওজন কমবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
আসল বিষয় সারা দিনের খাবার
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সারাদিনের মোট গ্রহণ করা ক্যালরির সাথে খরচ করা ক্যালরির পার্থক্য। খাবারের মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে কম ক্যালরি গ্রহণ করলে ধীরে ধীরে ওজন কমতে পারে।
ধরা যাক, কেউ সকালে নাশতা বাদ দিলেন। এতে তার দৈনিক ক্যালরি গ্রহণ কমতে পারে। কিন্তু দুপুরে বা রাতে অতিরিক্ত খেয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করে ফেললে ওজন কমার সম্ভাবনা কমে যাবে। আবার নাশতা খেয়েও যদি সারা দিনের খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তাহলেও ওজন কমানো সম্ভব।
সকালে না খেলে কারও কারও ক্ষুধা বেড়ে যেতে পারে। ফলে দিনের পরের ভাগে বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। অন্যদিকে, যাঁদের সকালে ক্ষুধা লাগে না এবং পরে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও নেই, তাঁদের জন্য নাশতা দেরিতে করা সুবিধাজনক হতে পারে।
তাহলে কোন অভ্যাস ভালো?
ওজন কমাতে সবার জন্য একই নিয়ম কার্যকর নয়। কারও জন্য সকালে পুষ্টিকর নাশতা খাওয়া সুবিধাজনক, আবার কেউ কিছুটা দেরিতে প্রথম খাবার খেয়েও সুস্থ খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে পারেন।
নাশতা বাদ দেওয়ার আরেকটি দিক হলো, সকালে কাজ করার জন্য শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পাচ্ছে কি না। যারা সকালে ব্যায়াম করেন, শারীরিক পরিশ্রম করেন কিংবা দীর্ঘ সময় মনোযোগ দিয়ে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে খাবারের সময় ও ধরন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নাশতা খেলে যদি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং পরে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে, তবে তা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে
নাশতায় ডিম, দুধ বা দই, ওটস, আটার রুটি কিংবা ফল রাখা যায়। মূল কথা, নাশতা খাওয়া বা বাদ দেওয়ার চেয়ে নিজের ক্ষুধা, দৈনন্দিন কাজ এবং সারা দিনের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানানসই পরিকল্পনা বেছে নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ওজন কমাতে সারা দিনের খাবারের মান ও পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। খাবারে শাকসবজি, ফল, ডাল, ডিম, মাছ এবং অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান রাখা ভালো। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধারাবাহিক খাদ্যাভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
ডায়াবেটিস থাকলে, রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকলে কিংবা নিয়মিত ওষুধ খেতে হলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, সকালে নাশতা বাদ দেওয়া ওজন কমানোর কোনো জাদুকরি উপায় নয়। যে খাদ্যাভ্যাসে পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় না এবং দীর্ঘদিন নিয়মিত থাকা যায়, সেটিই ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশি কার্যকর।
সূত্র: ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল (বিএমজে), ইটিং ওয়েল











































