স্পোর্টস ডেস্ক।।
বিরাট কোহলি ও হ্যারি কেইনকে একসঙ্গে খুব বেশি দেখা না গেলেও তাদের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সুসম্পর্কের কথা অনেকেরই জানা। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতে দীর্ঘ ২৫ বছর পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই ব্যক্তিগত সম্মান অর্জন করেছেন কেইন। তার এই সাফল্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট তারকা কোহলি।
গত কয়েক বছরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগের তুলনায় কম সক্রিয় কোহলি। তবে কেইন ব্যালন ডি’অর জয়ের পর তাকে অভিনন্দন জানাতে দেরি করেননি এই ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি।
কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামালকে পেছনে ফেলে কেইনের এই জয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। তবে কোহলির চোখে বায়ার্ন মিউনিখের এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ই ছিলেন ‘যোগ্য বিজয়ী’।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে কোহলি লিখেছেন, ‘হ্যারি, আমার বন্ধু, এই পুরস্কারের প্রতিটি প্রাপ্য তুমি। বছরের পর বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফুটবল খেলার সময় যে ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম ও সততার সঙ্গে নিজেকে তুলে ধরেছ, তার জন্য এই স্বীকৃতি তোমার প্রাপ্য। তোমার জন্য আমি সত্যিই খুব খুশি। ঈশ্বর তোমাকে ও তোমার পরিবারকে আশীর্বাদ করুন। তারা নিশ্চয়ই তোমাকে নিয়ে খুব গর্বিত, যেমনটা তুমি তোমার নিজের এই পথচলা নিয়ে গর্বিত। সব সময় তোমার জন্য আমার শুভকামনা থাকবে। অভিনন্দন।’
ব্যালন ডি’অর জয়ের পর আবেগঘন বক্তব্যে নিজের ফুটবলজীবনের শুরুর দিকের কথা স্মরণ করেন কেইন। তরুণ বয়সে একাধিকবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর কীভাবে টটেনহ্যাম হটস্পারে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করার জন্য সতীর্থ, সমর্থক ও সাবেক কোচদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
কেইন বলেন, ‘ব্যালন ডি’অরের জন্য ফ্রান্স ফুটবলকে আবারও ধন্যবাদ। এমন চমৎকার আয়োজন করার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানাই। লন্ডনে এই পুরস্কার নিতে পারা মুহূর্তটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। আজকের দিনটি শুভ লক্ষণ নিয়ে এসেছিল বলে মনে হচ্ছে। এ জন্য অনেক ধন্যবাদ।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। এ বছর ভোট দেওয়া যে খুব কঠিন ছিল, তা আমি কল্পনা করতে পারি। কারণ, যেসব অসাধারণ খেলোয়াড়ের সঙ্গে আমাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে, তাদের অনেকেই আমার সতীর্থ এবং বিশ্বমানের খেলোয়াড়। আজ এখানে উপস্থিত সবাইকে অভিনন্দন জানাই, যারা পুরস্কার জিতেছেন এবং মনোনয়ন পেয়েছেন। এটি দেখিয়ে দিয়েছে, দৃঢ়সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কতটা অর্জন করা সম্ভব। সবাইকে অভিনন্দন।’
বায়ার্ন মিউনিখের সতীর্থদের অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন কেইন। তার ভাষায়, ‘আজ রাতে আমার কয়েকজন সতীর্থ এখানে উপস্থিত আছে। তোমাদের ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। তোমরা যেভাবে আমাকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করো এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে রাখো, তা আমাকে আরও ভালো খেলোয়াড় হতে সাহায্য করে। নিজেকে আরও উন্নত করার প্রেরণা জোগায়। এ জন্য তোমাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।’
সাবেক ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কেইন। ফুটবলার হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ক্লাবটির অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি।
কেইন বলেন, ‘টটেনহ্যাম হটস্পারকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। ক্লাবটি ছাড়া আজ আমি যেখানে আছি, সেখানে পৌঁছাতে পারতাম না। ১১ বছর বয়স থেকেই আমি সেখানে ছিলাম। সেখানকার দিকনির্দেশনা এবং কোচদের সহায়তা আমাকে নিজের স্বপ্ন বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছে। একসঙ্গে কাটানো সেই মুহূর্তগুলো, পথচলার উত্থান-পতন—সবকিছুই আমাকে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।’
সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বায়ার্ন মিউনিখ, ইংল্যান্ড ও টটেনহ্যামের সমর্থকসহ সারা বিশ্বের যারা আমাকে সমর্থন করেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। স্টেডিয়ামে কিংবা বিশ্বের যেখানেই তোমরা আমাকে সমর্থন করো না কেন, আমি তার প্রতিটি মুহূর্তের মূল্য দিই। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, আমিও একজন সমর্থক ছিলাম। ফুটবল খেলার সুযোগ পাওয়া একজন মানুষের কাছে কতটা অর্থবহ, তা আমি জানি। এটি ছিল আমার স্বপ্ন। তাই যখনই তোমাদের জন্য কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাই, সেটিকে আমি সত্যিই সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয় বলে মনে করি।’











































