Home Lead অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’: সাগর উত্তাল, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’: সাগর উত্তাল, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

7


খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।

ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার বেগের ঝোড়ো বাতাস নিয়ে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। আজ বুধবার দুপুর নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি আঘাত হানার শঙ্কা কম থাকলেও এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। আজ বুধবার দেশের আট বিভাগেই কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। সে সময় ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের টানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল। সাগর উত্তাল থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করার সময় বাতাসের টানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ সময় অন্ধ্রপ্রদেশের নিচু এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ মিটার বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারতের উড়িষ্যার বিভিন্ন অংশে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রাজ্যটির পুরী, গজপতি, গঞ্জাম, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরি জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করেছে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব এলাকায় ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া উড়িষ্যার বালাসোর, ভদ্রক, জাজপুর, কেন্দ্রপাড়া, কটক, কেওনঝার, ময়ূরভঞ্জ, কান্ধমাল, কালাহান্ডি, নবরঙ্গপুর, খুরদা, নয়াগড়, জগৎসিংহপুর, নুয়াপাড়া ও বালাঙ্গির জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা ও উড়িষ্যার দক্ষিণাঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রখর জৈন জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার গতিতে এগোচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে এটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ ও পণ্ডিচেরির ইয়ানাম উপকূলের কাছাকাছি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বহু ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের কিছু এলাকায় টানা তিন দিন ভারী বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাজ্যটির সব জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকাতেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে। মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রাজ্যটির বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। আজ বুধবার ভারী বৃষ্টিরও শঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সমুদ্রে মাছ ধরার ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বাংলাদেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও এর আগে মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামের আমবাগানে, ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ঢাকা ছাড়াও খুলনা বিভাগের আট জেলা এবং চাঁদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ভোলা, সিলেট, মৌলভীবাজার, ফেনী ও ময়মনসিংহে তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, আজ বুধবার ঢাকা ও উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের আগে বাতাস সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় স্থলভাগে ঠান্ডা বাতাসের প্রবাহ কমে যায়। এতে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়। বৃষ্টির পর তাপমাত্রা কমতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতি থেকে শনিবার পর্যন্ত রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ঢাকা, খুলনা, বরিশালসহ অন্যান্য বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসতে পারে।