Home আন্তর্জাতিক নিজের সাবেক জেনারেলের হাতেই কি নেতানিয়াহু যুগের অবসান?

নিজের সাবেক জেনারেলের হাতেই কি নেতানিয়াহু যুগের অবসান?

1


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

ইসরায়েলে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশটির ২৬তম সাধারণ নির্বাচন। ভেটের মাঠে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে লড়ছেন গাদি আইজেনকোট। তার সঙ্গে সাক্ষাৎকারের একটি বিশেষ প্রতিবেদন গত রবিবার প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রে টাইম ম্যাগাজিন। তেল আবিবে আইজেনকোটের অফিসে গিয়ে দেখা যায় দেয়ালে কোনো পদক বাহাদুরি নেই! বিদেশি গণ্যমান্য ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দিকপালদের সঙ্গে কোনো ছবি নেই। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফের পদে উন্নীত একজন সুসজ্জিত জেনারেলের পরিচিত কোনো অনুষঙ্গর তিল-ঠাঁই নেই সেখানে।

আইজেনকোট। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চিফ অফ জেনারেল স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অধীনে । তবে বর্তমানে তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। মরক্কো থেকে আসা ইহুদি অভিবাসী দম্পতির সন্তান হিসেবে তিবেরিয়াসে জন্ম আইজেনকোটের। বেড়ে ওঠেন দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ইলাতে । ইসরায়েলের মিজরাহি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত তিনি। যারা মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা ইহুদি বংশোদ্ভূত। এই সম্প্রদায় দীর্ঘকাল ধরে ইসরায়েলের প্রধানত আশকেনাজি (ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত ইহুদি) জনগোষ্ঠীর আধিপত্যশীল কাঠামোর পক্ষ থেকে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। নির্বাচিত হলে ইসরায়েলের প্রথম মিজরাহি প্রধানমন্ত্রী হবেন আইজেনকোট।

শহরতলির রামাত হা-শারোনের একটি বাণিজ্যিক ভবনে তার কার্যালয়। ডেস্কের পাশে রাখা শুধু তিনটি ছবি। একটি ছবি তার ছেলে গালের। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে( যুদ্ধ শুরুর দুই মাস পর) লড়াইরত অবস্থায় নিহত হয় গাজায় । আরেকটি বহু বছর আগে তোল ওয়াশিংটন ডি.সি. ভ্রমণের পারিবারিক ছবি। তৃতীয় ছবিটিতে গালকে দেখা যায় তার সামরিক ইউনিটের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধুর পাশে । গালের পাশাপাশি বন্ধুটিও নিহত হয় যুদ্ধে। আইজেনকোট সততা, দক্ষতা ও ব্যক্তিগত নৈতিকতার জন্য অর্জন করেছেন সুনাম। সম্ভবত তার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হলো তার ব্যক্তিগত জীবনের এই ‘মর্মান্তিক ক্ষতি’। ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবরের সেই ভয়াবহ ঘটনা এবং পরবর্তী যুদ্ধের ক্ষত বয়ে বেড়ানো ইসরায়েলে আইজেনকোটের এই শোক অসংখ্য ইসরায়েলির কাছে অত্যন্ত পরিচিত এক অনুভূতি। তার টিকে থাকার প্রচেষ্টা যেন পুরো জাতির সংগ্রামেরই প্রতিচ্ছবি। ‘ইসরায়েলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইহুদি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধই দেশটিকে ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছে,’ বলেছেন ইয়োসি ক্লেইন হালেভি। তিনি ইসরায়েলের একজন বহুল পঠিত লেখক এবং জেরুজালেমের শালোম হার্টম্যান ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো। তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘আমাদের এই জায়গাটিই মেরামত করার চেষ্টা করতে হবে। আর আইজেনকোট মূলত দেশটিকে ঠিক সেটিই প্রস্তাব করছেন।’

টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়,মধ্যপন্থী দল ইয়াশার-এর নেতা আইজেনকোটের সামনে চ্যালেঞ্জটি কেবল নেতানিয়াহুকে সরানো নয়; বরং ইসরায়েলকে সেই মানসিক আঘাত থেকে বের করে আনা। যা ৭ অক্টোবরের পর থেকে গ্রাস করে রেখেছে পুরো দেশকে । তিনি এমন এক ইসরায়েলকে দেখছেন, যেটি একদিকে নিজেদের সুরক্ষার তাগিদ এবং অন্যদিকে টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জাতীয় সংহতি ও আন্তর্জাতিক বৈধতা পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার মাঝে আটকা পড়েছে। আইজেনকোট বলেছেন, ‘আমার মনে হয় এটি একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব, ইসরায়েল রাষ্ট্রকে রক্ষা করা।’ এ কথা বলার সময় তিনি নিজের ছেলেসহ সেই সব মানুষের কথা স্মরণ করেন, যারা দেশ রক্ষায় প্রাণ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, ‘তারা যে আত্মত্যাগ করেছেন, তার যোগ্য হয়ে ওঠা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’