মিলি রহমান।।
আমরা মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগি, যেসবের লক্ষণ কখনও মৃদু , কখনও আবার তীব্র হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা অসুস্থ হলে ওষুধ কিনে খাই অথবা লক্ষণগুলো নিজে থেকেই চলে যাওয়ার অপেক্ষা করি। কিন্তু আপনি কি জানেন যে, পানির মাধ্যমে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান করা সম্ভব? এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করলে শারীরিক অনেক অস্বস্তি দ্রুতই দূর হয়। যেমন-
গোলাপ জল
একজিমা বা ব্রণের প্রকোপের কারণে ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে মুখ লাল হয়ে ফুলে যেতে পারে। যদিও ফোলা ভাব কমানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের মলম পাওয়া যায়, তবে গোলাপ জল এমন একটি প্রাকৃতিক প্রতিকার যা দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করতে পারে। এটি তৈরির জন্য কিছু তাজা গোলাপ ফুল সংগ্রহ করে তার পাপড়িগুলো আলাদা করে নিন। একটি সসপ্যানে পাপড়িগুলো রেখে তাতে পানি ঢালুন। পাত্রটি ঢেকে দিন এবং মৃদু আঁচে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এরপর একটি ছাঁকনির সাহায্যে পাপড়িগুলো আলাদা করে পানিটুকু একটি পাত্রে সংগ্রহ করুন। একটি তুলোর বল এই পানিতে ভিজিয়ে পুরো মুখে লাগালে ব্রণ বা ত্বকের অন্যান্য সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া, চুলে বাড়তি উজ্জ্বলতা আনতে আপনি চুলে গোলাপ জল স্প্রে করতে পারেন।
লেবু পানি
লেবু পানি বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি প্রতিকার। যারা ওজন কমাতে চান, তারা সাধারণত এটি পান করেন; কারণ এটি শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান (টক্সিন) বের করে দিতে সাহায্য করে। লেবু পানির আরেকটি বড় সুবিধা হলো, এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা আপনাকে বিভিন্ন অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি হজমশক্তি উন্নত করে, ফলে শরীর পুষ্টি উপাদানগুলো আরও ভালোভাবে শোষণ করতে পারে।
পুদিনা পানি
পুদিনা পানিও একটি কার্যকর প্রতিকার। পুদিনা পাতা ক্ষুধা বাড়াতে এবং বদহজম রোধ করতে সাহায্য করে। যদি আপনি পেটের সমস্যায় ভোগেন, তাহলে পুদিনা পানি পান করলে পেটের অস্বস্তি কমতে পারে। এটি তৈরির জন্য একটি পাত্রে পানি নিন এবং তাতে লেবুর টুকরো ও কিছু পুদিনা পাতা যোগ করুন। মিশ্রণটি ভালোভাবে নেড়ে ফ্রিজে রেখে দিন। প্রতিদিন পান করার আগে একবার নেড়ে নিন। এটি ২ থেকে ৩ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। পেটের সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন এক বা দুই গ্লাস পুদিনা পানি পান করতে পারেন।
আদার পানি
পিরিয়ডের সময় তলপেটে ব্যথা অস্বস্তির কারণ হতে পারে; এমনকি ব্যথা অসহনীয় হয়ে উঠলে তা দৈনন্দিন কাজকর্মেও বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এক্ষেত্রে আদার পানি পান করা এই সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া আদার পানি বমি ভাব, বমি হওয়া এবং পেটে গ্যাস জমার মতো সমস্যা দূর করতেও কার্যকর। একটি সসপ্যানে পানি ও সামান্য আদা নিয়ে উচ্চ তাপে ফুটিয়ে নিন। এরপর চুলার আঁচ কমিয়ে দিন এবং আরও ১৫ মিনিট মৃদু আঁচে ফুটতে দিন। মিশ্রণটি ছেঁকে নিন এবং ঠান্ডা হতে দিন। সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে এই পানি পান করুন।
মধু মিশ্রিত পানি
কখনও কখনও সবচেয়ে সহজ সমাধানগুলোই সবচেয়ে কার্যকর হয়। আপনি যদি ওজন কমাতে চান, তবে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মধু মিশ্রিত পানি পান করা একটি ভালো অভ্যাস হতে পারে। অতিরিক্ত ওজন কমানোর পাশাপাশি, মধু মিশ্রিত পানি অ্যালার্জি কমাতে, গলা ব্যথা সারাতে এবং শরীরের প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করে। প্রথমে পানি ফুটিয়ে নিন এবং একটি কাপে ঢেলে কয়েক মিনিট ঠান্ডা হতে দিন। এরপর এতে এক থেকে দুই টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন। সবশেষে এই পানীয়টি পান করুন। সূত্র: হেলদিবিল্ডার্জড











































