মিলি রহমান।।
স্তনে কোনও লাম্প, মাংসপিণ্ড বা টিউমার হওয়া স্তন ক্যান্সারের অন্যতম লক্ষণ। তবে এটিই স্তন ক্যানসারের একমাত্র উপসর্গ নয়। অনেক ক্ষেত্রে স্তন, স্তনবৃন্ত বা তার আশপাশের ত্বকে সূক্ষ্ম কিছু পরিবর্তনও এই অসুখের ইঙ্গিত দিতে পারে বলে জানানো হয়েছে নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে। তাই স্তনের আশপাশে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ
স্তনের ত্বকে পরিবর্তন: স্তনের ত্বকে টোল পড়া, কুঁচকে যাওয়া, লালচে ভাব, ত্বক পুরু হয়ে যাওয়া কিংবা কমলালেবুর খোসার মতো হয়ে যাওয়া স্তন ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে।
স্তনবৃন্তের চেহারায় পরিবর্তন: হঠাৎ স্তনবৃন্ত ভিতরের দিকে ঢুকে যাওয়া, অস্বাভাবিক তরল বের হওয়া, বিশেষ করে রক্তমিশ্রিত তরল অথবা স্তনবৃন্তের চারপাশে দীর্ঘদিন ধরে খোসা ওঠার মতো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
স্তনের আকার বা আকৃতিতে পরিবর্তন: কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই স্তন ফুলে যাওয়া কিংবা একটি স্তনের আকার, আকৃতি বা চেহারায় লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা দিলে সতর্ক হন।
স্তন বা বাহুমূলের কাছে দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি: স্তনে ব্যথা হলেই যে ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ব্যথা বা অস্বস্তি থাকলে, বিশেষত তার সঙ্গে অন্য কোনও পরিবর্তন দেখা দিলে, অবহেলা করবেন না। কারণ এটি হতে পারে স্তন ক্যান্সারের সংকেত।
বাহুমূল বা কলারবোনের কাছে ফোলা: বাহুমূল বা কলারবোনের কাছে নতুন করে কোনও মাংসপিণ্ড তৈরি হওয়া কিংবা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়ার কারণে হতে পারে। সতর্ক হন।
দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট বা হাড়ে ব্যথা: স্তন ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে একটানা কাশি, অকারণে শ্বাসকষ্ট কিংবা হাড়, পিঠ বা কোমরে একটানা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা বা স্নায়ুজনিত নতুন কোনও সমস্যা দেখা দিলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পেট ফুলে যাওয়া ও জন্ডিস: কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই পেটে পানি জমে পেট ফুলে যাওয়া, কিংবা ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে গেলে সাবধান হতে হবে। এগুলো জন্ডিস লিভারের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। আগে ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন, এমন কারও ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলো কখনও কখনও লিভারে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তবে এই উপসর্গগুলো অন্য অনেক রোগের কারণেও দেখা দিতে পারে। তাই এই লক্ষণগুলোর কোনও একটি দেখা দিলেই যে ক্যানসার হয়েছে বা ক্যানসার ফিরে এসেছে, এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
কী করবেন?
এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে নিয়মিত ব্রেস্ট ক্যানসার স্ক্রিনিং করানো জরুরি। যাঁরা আগে ব্রেস্ট ক্যানসারের চিকিৎসা করিয়েছেন, তাঁদেরও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলো-আপ করানো উচিত। ব্রেস্ট ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা মানে শুধু স্তনে লাম্প খুঁজে দেখা নয়। স্তনের বিভিন্ন পরিবর্তন সম্পর্কে জানা এবং ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে কী কী উপসর্গ দেখা দিতে পারে, তা জেনে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।











































