Home স্বাস্থ্য শীতের আগেই নিজের যত্ন

শীতের আগেই নিজের যত্ন

2


মিলি রহমান।।

শীতের হিমেল পরশ আসতে এখনও খানিকটা দেরি, তবে প্রস্তুতি শুরু করার সময়টা কিন্তু এখনই। অক্টোবরের শেষ থেকেই ত্বক, হাত-পা ও চুলের যতেœ বাড়তি মনোযোগ দিলে শীতের রুক্ষতা সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যায়। ঋতু বদলের সঙ্গে সৌন্দর্যে যেন ভাটা না পড়ে, তাই শীতের আগেই শুরু হোক নিজের যতেœর ছোট্ট আয়োজন।

শীত আসতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। কিন্তু শীতের শুষ্কতা, রুক্ষতা কিংবা ত্বক ও চুলের নানা সমস্যা দেখা দেওয়ার পর পরিচর্যা শুরু করলে অনেক সময় কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যায় না। বরং অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকেই যদি ত্বক, হাত-পা ও চুলের যতেœ একটু বাড়তি মনোযোগ দেওয়া যায়, তাহলে শীতের পুরো সময় সৌন্দর্য ও স্বস্তি দুটিই ধরে রাখা সম্ভব। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়টায় বাতাসে আর্দ্রতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ফলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, ঠোঁট ও হাত-পা শুষ্ক হয়ে যায়, চুল হয়ে ওঠে রুক্ষ ও প্রাণহীন। তাই শীতকে স্বাগত জানানোর সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি হতে পারে শীত আসার আগেই নিয়মিত পরিচর্যার অভ্যাস তৈরি করা।

ত্বকের যতেœ আগে থেকেই প্রস্তুতি

শীতের সময় ত্বক সবচেয়ে বেশি যে সমস্যার মুখোমুখি হয়, তা হলো শুষ্কতা। তবে শীত পুরোপুরি নামার আগেই ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার অভ্যাস তৈরি করা গেলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকেই ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার শুরু করা ভালো। যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তারা খুব ভারী ক্রিমের বদলে হালকা, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে পারেন। অন্যদিকে শুষ্ক ত্বকের জন্য একটু ঘন ময়েশ্চারাইজার বেশি কার্যকর হতে পারে।

মুখ পরিষ্কারের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সাবান বা শক্তিশালী ক্লিনজার ব্যবহার না করাই ভালো। এমন ক্লিনজার বেছে নিতে হবে, যা ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা পুরোপুরি শুষে নেয় না। মুখ ধোয়ার পর ত্বক সামান্য স্যাঁতসেঁতে থাকা অবস্থাতেই ময়েশ্চারাইজার লাগালে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়। শীত এলেই অনেকে সানস্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করে দেন, যা একেবারেই ঠিক নয়। শীতকালেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই দিনের বেলায় বাইরে বের হলে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।

শীত এলেই হাত-পায়ের ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া, গোড়ালি ফেটে যাওয়া কিংবা আঙুলের চারপাশের ত্বক শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা অনেকেরই হয়। কিন্তু এর জন্য শীত পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। বরং অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকেই হাত-পায়ের নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং শুরু করা উচিত। প্রতিবার হাত ধোয়ার পর ভালো একটি হ্যান্ড ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার অভ্যাস করা যায়। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে হাত ও পায়ে একটু ঘন ময়েশ্চারাইজার লাগানো বেশ কার্যকর। খুব শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজারের ওপর অল্প পরিমাণ পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করলে আর্দ্রতা আটকে রাখতে সাহায্য করতে পারে। পায়ের গোড়ালি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। সপ্তাহে এক দিন হালকা গরম পানিতে কিছুক্ষণ পা ভিজিয়ে রেখে নরম তোয়ালে দিয়ে পরিষ্কার করা যেতে পারে। এরপর ভালোভাবে শুকিয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। তবে অতিরিক্ত শক্তভাবে ঘষে মৃত চামড়া তুলে ফেলার চেষ্টা করা ঠিক নয়। এতে ত্বকে ক্ষত বা জ্বালাপোড়া তৈরি হতে পারে। শীতের আগে হাত-পায়ের নখ ও কিউটিকলের দিকেও নজর দেওয়া দরকার। নখের চারপাশে অল্প ময়েশ্চারাইজার বা কিউটিকল অয়েল ব্যবহার করলে শুষ্কতা ও ফাটার প্রবণতা কমে। একই সঙ্গে বাইরে বের হওয়ার সময় হাত ঢেকে রাখা এবং খুব গরম পানিতে বারবার হাত-পা না ধোয়ার অভ্যাস করাও জরুরি।

শীতের শুষ্ক বাতাস শুধু ত্বক নয়, চুলের ওপরও প্রভাব ফেলে। চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গেলে চুল রুক্ষ, শুষ্ক ও ফ্রিজি হয়ে যেতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে স্কাল্পে শুষ্কতা ও খুশকির সমস্যাও বেড়ে যায়। তাই শীতের আগেই চুলের যতেœর রুটিনে কিছু পরিবর্তন আনা ভালো।

প্রথমেই চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার বেছে নিতে হবে। প্রতিদিন শ্যাম্পু করার প্রয়োজন নেই, যদি না বিশেষ কোনো কারণে তা প্রয়োজন হয়। চুল ধোয়ার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। খুব শুষ্ক চুল হলে সপ্তাহে এক দিন গভীর কন্ডিশনিং বা হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। নিজের স্কাল্প ও চুলের ধরন অনুযায়ী তেল ব্যবহার করাই ভালো। খুশকি বা স্কাল্পে কোনো সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।