খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে মন্তব্য করে এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তার বক্তব্যের পক্ষে-বিপক্ষে হচ্ছে আলোচনা-সমালোচনা। কেউ কথা বলছেন তার পক্ষে, কেউ বিপক্ষে। সরকারের ভেতরেও দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিভিন্ন মহলে গুঞ্জনও উঠেছে, সরিয়ে দেওয়া হতে পারে পুলিশের এই মহাপরিদর্শকে। তার স্থলাভিষিক্ত হতে এরই মধ্যে তদবির শুরু হয়েছে বলেও ‘খবর’ ছড়াচ্ছে পুলিশ বাহিনীর ভেতর থেকেই।
গত সোমবার আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ঢাকার এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। এরপরই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। পুলিশপ্রধানের এমন বক্তব্যকে সংবিধান ও প্রচলিত আইনের চরম লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও সাংবাদিক সংগঠন।
তবে বক্তব্যের পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ব্যাখ্যা দিয়ে দাবি করা হয়, ‘আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে এমন মন্তব্য করা হয়।’ আইজিপির এমন বক্তব্যের পক্ষে সাফাই গেয়েছে পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনও। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও দাবি করেছিলেন, ‘আইজিপির বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল আইনের কঠোরতা বোঝানো। তবে এ ধরনের শব্দ উচ্চারণ করা তার ঠিক হয়নি।’
অবশ্য গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘জাপান সফর শেষে ২৯ অক্টোবর (আজ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। তিনি দেশে ফিরলে আইজিপিকে সরিয়ে দেওয়ার যে দাবি উঠেছে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন। আইজিপি পদে পরিবর্তন বা নতুন নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সরকারপ্রধানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা যদি হয়, তবে তো রাষ্ট্র থাকে না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তা হতে পারে না। সরকার ক্রসফায়ার চাইতে পারে না। এটা পুলিশও করতে পারে না। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কোনো বেআইনি কাজ করতে বাধ্য নন।’
পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, ‘আইজিপির মন্তব্যে বাহিনীর ভেতরেও অনেকে বিব্রত। এ ধরনের বক্তব্য বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি করে দেয়।’
বিতর্কিত মন্তব্যের পর পুলিশপ্রধান পদে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শীর্ষ এই পদের জন্য কে যোগ্যতাসম্পন্ন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের ১৫তম বিসিএসের চার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম বিবেচনায় রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন। তারা হলেন- আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হাসিব আজিজ, অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবিব পলাশ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই চার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য-সংবলিত নথিও তলব করেছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র সমন্বয়কারী ও মানবাধিকারকর্মী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির জানিয়েছেন, পুলিশের পেশাগত দায়িত্ব পালনের অধিকার অবশ্যই আছে। কিন্তু সেই অধিকার কি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা তৈরি করে- এমন বক্তব্যকে বৈধতা দেওয়ার যুক্তি হতে পারে? বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক বিবৃতি এই প্রশ্নটিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। তথ্য সূত্র: আগামীর সময়










































