স্পোর্টস ডেস্ক
জোমেল ওয়ারিকানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে দ্বিতীয় দিনেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। বাঁহাতি স্পিনার ওয়ারিকান ৫৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের ইনিংস থামিয়ে দিয়েছেন ২৭২ রানে। মধ্যাহ্নবিরতির আট মিনিট আগে টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে নিজের চতুর্থবারের মতো টেস্টে ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন তিনি।
প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২১৩ রান। সেখান থেকে দ্বিতীয় দিনে শেষ সাত উইকেট হারাতে দলটি যোগ করতে পেরেছে মাত্র ৫৯ রান। শেষ পাঁচ উইকেটের পতন হয়েছে মাত্র ১৯ রানের মধ্যে। ৩৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন লিটন দাস।
ওয়ারিকানের ৫ উইকেটের পাশাপাশি অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরেক বাঁহাতি স্পিনার জশুয়া বিশপ নিয়েছেন দুটি উইকেট। শামার জোসেফের শিকারও দুটি।
আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা সাদমান ইসলাম দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় বলেই পৌঁছে যান টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতকে। লেগ সাইডে বল ঠেলে দুই রান নিয়ে শতক পূর্ণ করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা ব্যাটারদের পরদিন শতক পূরণের ধারাবাহিকতাও অক্ষুণ্ণ রাখেন সাদমান।
এরপর ওয়ারিকানকে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে এসে একটি চার মারলেও শেষ পর্যন্ত বিশপের শিকার হন সাদমান। বাঁহাতি স্পিনারের বল সামনে এসে খেলতে গিয়ে ব্যাট-প্যাডের সামনে বলের ঘূর্ণি সামলাতে পারেননি তিনি। ২৩৪ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ১০৫ রান করেন সাদমান। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেও বাঁচতে পারেননি তিনি। বিশপের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট হন এই ওপেনার।
এরপর বিশপের ফুল লেংথের বল মিস করে উইকেট হারান তাওহিদ হৃদয়। প্রথম দিন সন্ধ্যায় পেশিতে টান লাগায় মাঠ ছেড়ে যাওয়া হৃদয় দ্বিতীয় সকালে ব্যাটিংয়ে ফিরলেও মাত্র দুই বল টিকতে পেরেছেন। পা না সরিয়েই শট খেলতে গিয়ে আগের দিনের ৪২ রানেই থামতে হয় তাকে।
মেহেদী হাসান মিরাজ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে বিশপকে দুটি চার মারেন। এর মধ্যে জেডেন সিলসের একটি বল লিটনের কনুইয়ে আঘাত হানে। অন্যদিকে মেহেদীকে ফেরান ওয়ারিকান। তার ঘূর্ণি বল ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক গলে স্টাম্পের দিকে চলে যায়।
এরপর জোসেফের আঘাতে আরও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৫ রানে ফেরেন নাঈম হাসান। পরে ৬ রান করা হাসান মাহমুদকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন জোসেফ। এরপর টানা দুই বলে তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন ওয়ারিকান।
প্রথম দিনের খেলা সংক্ষিপ্ত হলেও বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় শুরু হয়েছিল তখনই। দ্রুত ফিরে যান তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর শাদমান ও হৃদয় মিলে ৮৮ রানের জুটি গড়েন। পরে পেশিতে টান লাগায় অবসর নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হৃদয়কে। দ্বিতীয় দিনে তার ফেরার পরও অবশ্য বাংলাদেশের ইনিংসকে বড় করতে পারেনি ব্যাটাররা।











































