০ মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মোংলায় বুধবার নতুন করে আরো ২৩ জন করোনা সনাক্ত হয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এদিন ৩৪ জন করোনা পরীক্ষা করান। তারমধ্যে ২৩ জনের করোনা পজেটিভ হয়েছে। বুধবার মোংলায় করোনা সনাক্তের হার ছিল প্রায় ৬৮ ভাগ। এর আগে মঙ্গলবারের হার ছিল ৬১ ভাগ। চলমান কঠোর বিধি নিষেধের মধ্যেও উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে সংক্রমণ ও সনাক্তের হার। তাই চলমান করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া বৃহস্পতিবার ভোর ৬ টা থেকে বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়ে নতুন করে অধিক কঠোরতর বিধি নিষেধ জারি করেছে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ আজিজুর রহমান বুধবার দুপুরে জানান, মোংলার করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা, মুদি, মাছ ও মাংসের দোকানপাট বৃহস্পতিবার থেকে সকাল ৮ টা হতে বিকেল ৩টা পর্যন খোলা থাকবে। এ সকল পণ্যের দোকানপাটগুলো সরিয়ে খোলা মাঠে নেয়ার পাশাপাশি সেখানে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া পৌর শহরের সকল দোকানপাট, হোটেল, বেকারী, নদী পারাপার বন্ধ থাকবে। শহরতলীর পশুর হাটগুলো বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অধিক কঠোরতর এ বিধি নিষেধ বাস্তবায়নে মাঠে থাকছে ভ্রাম্যমান মোবাইল টিম, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, আনসার, স্বেচ্ছাসেবকেরা।
হঠাৎ করে করোনা সংক্রমণ ও সনাক্ত বাড়তে থাকায় প্রথম দফায় গত ৩০ মে থেকে ৮দিনের কঠোর বিধি নিষেধ জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় আরো এক সপ্তাহের বিধি নিষেধ জারি করা হয়। দ্বিতীয় সপ্তাহের কঠোর বিধি নিষেধ চলার মধ্যেই বুধবার সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত আরো অধিক কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করে জেলা প্রশাসন।
এদিকে চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠানামা, পরিবহণ ও অফিসিয়াল কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বন্দরের দুই কর্মকর্তাসহ ১০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। বন্দরে চাকুরীরত পুরাতন মোংলা এলাকার বাসিন্দাদের কর্মস্থলে না গিয়ে নিজ বাসায় অবস্থান করে অনলাইনের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অপরদিকে জ্বর, সর্দি ও কাশির মত করোনা উপসর্গ নিয়ে বুধবার সকাল ৯টার দিকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন আম্বিয়া বেগম (৪৫) নামে এক নারী। করোনার র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের জন্য এদিন তিনি রেজিষ্ট্রেশনও করান। কিন্তু পরীক্ষার জন্য অপেক্ষার পালায় বাধ সাধে মৃত্যু! হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডেই সাড়ে ১১ টায় আম্বিয়া বেগম মারা যান। কর্তব্যরত ডাঃ দেবব্রত সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তিনি করোনায় মারা গেলেন কিনা, সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি এ চিকিৎসক। তবে তিনি ধারণা করছেন যেহেতু উপসর্গ ছিলো এবং টেস্ট করাতে এসেছিলেন তাই করোনা আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। মৃত আম্বিয়া বেগম উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি গ্রামের মোঃ জাহাঙ্গীর খাঁর স্ত্রী বলে জানা গেছে।











































