Home আঞ্চলিক চিতলমারীতে বালু উত্তোলনে ধসে গেল সড়ক

চিতলমারীতে বালু উত্তোলনে ধসে গেল সড়ক

13


বাগেরহাট প্রতিনিধি


বাগেরহাটের চিতলমারীতে খাল থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নালুয়া-ভোলা সড়কের কয়েকশ ফুট সড়ক ধসে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক। চিতলমারী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক ধসে যাওয়ায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। এ খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন এরইমধ্যে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার জব্দ করেছে।

বুধবার ( ১৬ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নালুয়া- ভোলা সড়কটির ৪ কিলোমিটারের পাশে রয়েছে ৩০ থেকে ৪০ ফুট চওড়া হক ক্যানেল (কাটাখাল)। এ ক্যানেলের বিভিন্ন জায়গায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। বালু উত্তোলনের ফলে ক্যানেলের গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়কের বড়বাড়িয়া মোহাম্মাদ আলীর বাড়ির সামনের রাস্তার প্রায় দেড়শ থেকে দু‘শ ফুট ক্যানেলের পাশ থেকে ধসে গেছে। গত শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বড় আকারে ধসে যায় সড়কটি। এতে ওই স্থান দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে প্রায় আরো এক কিলোমিটার সড়ক। যা যেকোন সময় ধসে পড়তে পারে। অন্যদিকে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড খালটি স্কাভেটর দিয়ে খনন করেছে। সড়কের কোল ঘেষে স্কাভেটর চালনা করে খাল খননেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি। স্থানীয়দের দাবি যেকোন মূল্যে সড়কটিকে চলাচলের উপযোগী করা হোক।

এদিকে, স্থানীয়দের দাবি ইউনিয়ন পরিষদ-ইউপি চেয়ারম্যান সরদার মাসুদুর রহমানের ছত্রছায়ায় হক ক্যানেল থেকে বালু উত্তোলনের ফলে সড়কের এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি বালু উত্তোলনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

স্থানীয় পারুল বেগম, মো. আল আমিন খান, লিটন শেখ, বুলবুল শিকদারসহ কয়েক জন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান সরদার মাসুদুর রহমান এ খালে ড্রেজার বসিয়ে বালু উঠিয়ে বিভিন্ন লোক ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেছেন। চেয়ারম্যানকে বারবার মানা করা হলেও তিনি কোন তোয়াক্কা করেননি। এখন জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি খালে বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ধসের ফলে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। ভ্যান ও অটো চললেও এক ধরণের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। যত দ্রুত সম্ভব এ সড়কটিকে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তারা।

চিতলমারী উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলেনা পারভীন বলেন, রাস্তাটি ধসের ফলে জনগণ মারাত্মকভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন। যাদের বালু উত্তোলনের ফলে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
চিতলমারী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাবেরা কামাল স্বপ্না বলেন, আমরা সড়কটি পরিদর্শন করেছি। এখানে চলাচলে মানুষের দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

বালু উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান সরদার মাসুদুর রহমান বলেন, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হওয়ায় আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এই ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমি বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত না। যারা বালু উত্তোলন করেছেন তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফুল আলম বলেন, বিভিন্ন সময় স্থানীয় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন ও খাল খননের ফলে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি সড়কটি পরিদর্শন করেছি। ঘটনাস্থল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত স্থানীয়ভাবে তৈরি দুটি ড্রেজার মেশিন ও আনুসঙ্গিক মালামাল জব্দ করা হয়েছে। কিন্তু ওই ড্রেজার মেশিনের কোন মালিক পাওয়া যায়নি। জব্দ করার পরে কেউ ড্রেজারের মালিকানাও দাবি করেননি। সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে আমরা এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলেছি। যত দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্ভব সড়কটিকে চলাচলের উপযোগী করা হবে। তদন্ত কমিটি করে সড়কটি ধসের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।