Home স্বাস্থ্য ভারী খাবারের পর পেট ফাঁপা এড়াবেন যেভাবে

ভারী খাবারের পর পেট ফাঁপা এড়াবেন যেভাবে

5

মিলি রহমান।।

অনেকেই ভারী বা অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার পর পেট ফাঁপা অনুভব করেন। পেট ভরা বা ভারি বোধ হওয়া, পেটে টান ধরা বা অতিরিক্ত গ্যাসের মতো অস্বস্তিকর অনুভূতি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে অতিরিক্ত খাওয়া, খুব দ্রুত খাওয়া, গ্যাস তৈরি করে এমন খাবার খাওয়া অথবা সংবেদনশীল পরিপাকতন্ত্র থাকা উল্লেখযোগ্য। যদিও মাঝেমধ্যে পেট ফাঁপা সাধারণত ক্ষতিকর নয়, তবুও এটি দৈনন্দিন কাজকর্মকে প্রভাবিত করতে পারে।

চর্বিযুক্ত, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বা লবণাক্ত খাবার পরিপাকতন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। যখন পাকস্থলী ও অন্ত্রকে একসাথে প্রচুর পরিমাণ খাবার প্রক্রিয়াজাত করতে হয়, তখন হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে; এর ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস ও বদহজমের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এ কারণে খাবার খাওয়ার আগে, চলাকালীন এবং পরে হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে কিছু পরামর্শ মেনে চলতে পারেন। যেমন-

হালকা ও হজমে সহায়ক খাবার দিয়ে শুরু করুন
ভারী খাবারের আগে অল্প পরিমাণে আঁশযুক্ত (ফাইবার-সমৃদ্ধ) সবজি, এক বাটি স্যুপ বা সালাদ খেলে তা পরিপাকতন্ত্রকে প্রস্তুত করতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খাবারগুলো পরিপাককারী এনজাইমকে উদ্দীপিত করে এবং মানুষকে খুব দ্রুত বা অতিরিক্ত পরিমাণে ভারী খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখে।

ধীরে ধীরে খান এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খান
পেট ফাঁপা কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায় হলো ধীরে ধীরে খাওয়া। ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে খাবার ছোট ছোট টুকরোয় পরিণত হয়, ফলে পরিপাককারী এনজাইমগুলো আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারে। ধীরে খেলে বাতাস গিলে ফেলার পরিমাণও কমে। এতে গ্যাস ও পেটের অস্বস্তির সমস্যা কমে।

কার্বোনেটেড পানীয় বা গ্যাসযুক্ত পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকুন
কার্বোনেটেড পানীয় পরিপাকতন্ত্রে অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি করে, যা পেট ফাঁপার সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই খাওয়ার সময় একবারে প্রচুর তরল বা গ্যাসযুক্ত পানীয় পান করার পরিবর্তে অল্প অল্প করে পানি পান করা ভালো।

খাওয়ার পর কিছুক্ষণ ধীরে হাঁটুন
ভারী খাবারের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটলে তা হজমে দারুণভাবে সহায়তা করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হালকা শারীরিক কার্যকলাপ অন্ত্রের নড়াচড়া বা গতিশীলতাকে উদ্দীপ্ত করে; এর ফলে পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে খাবার সহজে ও সুষ্ঠুভাবে চলাচল করতে পারে। এতে গ্যাস জমা হওয়া বা পেট ফাঁপার ঝুঁকি কমে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস