Home স্বাস্থ্য কাজের ফাঁকে ৫ মিনিটের বিরতিই বাড়াতে পারে কর্মক্ষমতা

কাজের ফাঁকে ৫ মিনিটের বিরতিই বাড়াতে পারে কর্মক্ষমতা

3


মিলি রহমান।।

আজকাল বেশিরভাগ মানুষই অফিসে বসে কম্পিউটার বা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে সারাদিন কাজ করে। আবার পড়াশোনা বাড়ি থেকে কাজের ক্ষেত্রেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে কাটান। কাজের চাপ, ডেডলাইন এবং একের পর এক অনলাইন মিটিংয়ের কারণে অনেকেই কাজের ফাঁকে বিরতি নেওয়াকে সময় নষ্ট বলে মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে নিয়মিত ছোট বিরতি উৎপাদনশীলতা বাড়াতেই সাহায্য করে।

মনোবিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক দীর্ঘ সময় একই কাজে সমানভাবে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। সাধারণত ৪৫ থেকে ৬০ মিনিট পর মনোযোগ কমতে শুরু করে। সেই সময়ও একটানা কাজ চালিয়ে গেলে ভুলের সম্ভাবনা বাড়ে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায় এবং মানসিক ক্লান্তি দ্রুত গ্রাস করে। তাই প্রতি ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ মিনিটের বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ করার ফলে শুধু মানসিক নয়, শারীরিক সমস্যাও বাড়ছে। অধিকাংশেরই ঘাড় ও কোমরে ব্যথা দেখা দিচ্ছে। এছাড়া কাঁধ শক্ত হয়ে যাওয়া, কবজিতে অস্বস্তি এবং চোখে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা এখন খুবই সাধারণ। চিকিৎসকদের মতে, বিরতির সময় কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করা, হালকা স্ট্রেচিং করা কিংবা জানালার বাইরে তাকিয়ে চোখকে বিশ্রাম দিলে শরীরে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে। সেই সঙ্গে পেশির চাপ কমে। একটানা স্ক্রিনের সামনে থাকলে ডিজিটাল আই স্ট্রেন-এর সমস্যাও দেখা দেয়। এর ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা এবং চোখে জ্বালাভাব হতে পারে। এ কারণে চক্ষু বিশেষজ্ঞরা ‘২০-২০-২০’ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন। এর মানে হলো প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনও বস্তুর দিকে তাকালে চোখের চাপ অনেকটাই কমে।

বিশেষজ্ঞদের বলছেন, কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিরতি মানেই সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করা নয়। বরং ওই সময়ে এক গ্লাস পানি পান করা, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, কিছুটা হাঁটা, সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা অথবা কয়েক মিনিট প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকা মানসিক চাপ কমাতে অনেক বেশি কার্যকর।

অনেক কর্মী কাজের চাপে দুপুরের খাবারও এড়িয়ে যান। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়, ফলে ক্লান্তি, বিরক্তি এবং মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়। এ কারণে নির্দিষ্ট সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: কলকাতা ২৪