দৈনিক খুলনাঞ্চলে সংবাদ প্রকাশের পর অসহায় ভ্যানচালক শিশুর পাশে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব
জাহিদুর রহমান।।
একটি ভ্যানই ছিল ১২ বছরের সাকিবের পরিবারের বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন। সেই ভ্যানটি প্রতারণার মাধ্যমে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর নগরীর বয়রা বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল শিশুটি। তার কান্না আর অসহায়ত্ব ছুঁয়ে যায় স্থানীয় মানুষের হৃদয়। পরে বিষয়টি দৈনিক খুলনাঞ্চল অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত হলে সাকিবের পাশে দাঁড়ান খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইশতিয়াক আহমেদ ইসতি।
ঘটনাটি ঘটে ১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে। সাকিব ডুমুরিয়ার শাহপুর বাজার এলাকায় ভ্যান চালাচ্ছিল। এ সময় দুই ব্যক্তি তাকে ৬০০ টাকা ভাড়া দেওয়ার কথা বলে নগরীর ডাকবাংলায় যাওয়ার জন্য ভ্যানটি ভাড়া করে। তারা নিজেদের রাজীব পরিবহনের স্টাফ পরিচয় দিয়ে একটি ভিজিটিং কার্ডও দেখায়।
পথে বয়রা বাসস্ট্যান্ডের কাছে বন বিভাগের সামনে এসে তারা ভ্যান থামায়। এরপর বয়রা বাজারের ভেতর থেকে কিছু কাগজের কার্টন কেনার কথা বলে সাকিবকে সেখানে যেতে বলে। সরল বিশ্বাসে সাকিব তাদের কথামতো গেলে ফিরে এসে দেখ-তার ইঞ্জিনচালিত ভ্যানটি নেই।
মুহূর্তেই দিশেহারা হয়ে পড়ে শিশুটি। ভ্যান না পেয়ে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে সে। তার কান্না শুনে আশপাশে থাকা অন্য ইজিবাইক ও ভ্যানচালকেরা এগিয়ে আসেন। পরে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

বিষয়টি এক অটোচালক খুলনাঞ্চল প্রতিবেদককে বিষয়টি জানান। প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে গিয়ে সাকিবের অসহায়ত্বের বিষয়টি সরাসরি তুলে ধরেন। সেই খবর ও মানবিক আবেদন ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নজরে আসে খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইশতিয়াক আহমেদ ইসতির। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সাকিবের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন।
একটি ভ্যান হারিয়ে শুধু একটি শিশুর কর্মসংস্থানই থেমে যায়নি-তার পরিবারের আয়ের পথও যেন হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। এমন বাস্তবতায় ইসতির এগিয়ে আসাকে স্থানীয়রা মানবিক ও অনুকরণীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
জানা গেছে, সাকিব খুলনার ১ নম্বর ধামালিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত বেল্লাল মজুমদারের ছেলে। মাত্র ১২ বছর বয়সেই পরিবারের প্রয়োজনে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছিল সে।
সাকিবের চোখের জল হয়তো একটি শিশুর ব্যক্তিগত কষ্টের গল্প। কিন্তু সেই কান্নার পাশে দাঁড়ানো মানুষের হাতটি আমাদের সমাজের জন্য একটি বড় বার্তা-বিপদে একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
প্রতারণার মাধ্যমে ভ্যান নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সাকিবের হারানো ভ্যানটি উদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, শিশুটির মুখে আবার হাসি ফিরবে এবং তার পরিবারের জীবিকার পথটিও ফিরে আসবে।
একটি সংবাদ যদি একজন অসহায় মানুষের পাশে একজন মানুষকে দাঁড় করাতে পারে—তাহলেই সাংবাদিকতার মানবিক দায়বদ্ধতা সার্থক। আর সাকিবের কান্নার মুহূর্তে ইসতির এই এগিয়ে আসা হয়ে থাকুক আরও অনেক মানুষের জন্য অনুকরণের দৃষ্টান্ত।











































