Home আন্তর্জাতিক অবরোধ করলে পারমাণবিক হামলা : ন্যাটোকে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

অবরোধ করলে পারমাণবিক হামলা : ন্যাটোকে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিটমহল কালিনিনগ্রাদকে ঘিরে রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পূর্ব ইউরোপে সামরিক তৎপরতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই মস্কো ও পশ্চিমা সামরিক জোটের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান সামনে এলো।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে রুশ সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে ন্যাটোর কয়েকটি সদস্য দেশ। এরই মধ্যে নিজেদের আকাশসীমায় রুশ বাহিনীর কথিত অনুপ্রবেশের কয়েকটি ঘটনার পর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পোল্যান্ড। বাল্টিক অঞ্চল ঘিরেও দেখা দিয়েছে নতুন উত্তেজনা।

ডেনমার্কের কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বাল্টিক সাগরের আকাশে একটি ডেনিশ সামরিক হেলিকপ্টারের কাছাকাছি রুশ একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে দুটি ফ্লেয়ার ছোড়া হয়। সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত এসব আলো সাধারণত সতর্কতা বা সংকেত দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়।

এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো এক কূটনৈতিক বার্তায় রাশিয়া অভিযোগ করে, কালিনিনগ্রাদকে লক্ষ্য করে আকাশ ও নৌ অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ন্যাটো। মস্কোর দাবি, এ বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটি বিচ্ছিন্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে রাশিয়া।

রুশ সতর্কবার্তার পর ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট। তিনি মস্কোকে পারমাণবিক হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। রুটের ভাষ্য, রাশিয়া ও ন্যাটোর সরাসরি সংঘাতের পরিণতি সম্পর্কে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অবগত আছেন।

বাল্টিক অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পেছনে ইউক্রেন যুদ্ধকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে।

এই পরিস্থিতিতে কালিনিনগ্রাদকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার নতুন সতর্কবার্তা এবং বাল্টিক অঞ্চলে সাম্প্রতিক সামরিক ঘটনাগুলো ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে।